Sunday, September 27, 2015

সিলিকন মোদি

সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতে মেয়েরা ৩৪-২৪-৩৪ পারফেক্ট বডিতে এত বিশ্বাসী- যেসব মেয়েদের পকেটে টাকা নেই-বুবস জব -মানে স্তনের সিলিকন সার্জারিতে অসমর্থ -তারা প্রায় গর্ব করে ফার্স্ট ডেটে বয়ফ্রেন্ডকে বলে বাট আম নো সিলিকন! সিলিকন বেব মানে যে মেয়েটি সিলিকন পুশ করে স্তনের সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে।

 মোদির সিলিকন ভ্যালী সফর ঘিরে উত্তেজনা, সাফল্য স্পট লাইট এবং তজ্জন্য বামেদের হতাশা দেখে ক্যালিফোর্নিয়ায় ফ্ল্যাট বেব মানে যেসব মেয়েদের স্তন ছোট তাদের ফার্স্ট ডেটের কথা মনে পড়ল - হ্যাঁ, আমারটা ছোট-বাট হানি, আম নো সিলিকন!! আমারটা রিয়াল। ওদের, যাদের সুগোল স্তন দেখে তোমরা হুহা করে ওঠো-সেটা কিন্ত সিলিকন!! কৃত্রিম!

 মোদিকে খিস্তি মেরে কি লাভ আছে? এথেন্সের সময় থেকেই গণতন্ত্রে রাজনীতি হচ্ছে নাট্যমঞ্চ। অভিনয়ে স্টেজ, লাইট, ডায়ালোগ সবকিছুই গুরুত্ব পূর্ন। মোদিকে দেখুন। স্টেজ সিলিকন ভ্যালী, লাইম লাইট গুগল ফেসবুক আপল-ডায়ালোগ ডিজিটাল ইন্ডিয়া।

 এখন প্রশ্ন হচ্ছে এপল, গুগল, ফেসবুক ভারতে তাদের ইনভেস্টমেন্ট বাড়াবে কি না। কিছু চাকরি আসলে ভালোই ত। গুগল বলছে তারা ভারতের ৫০০ স্টেশনে ফ্রি ওয়াই ফাই দেবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে ফেসবুক সাহায্য করবে। আপল ফ্যাক্টরি গড়বে! ভালোই ত।

 বামেরা অন্ধ মোদি বিরোধিতার পথে রাজনৈতিক আত্মহত্যা করছে। মোদির সফরে যদি কিছু চাকরি ভারতে আসে, সেটাকে স্বাগতম জানানো উচিত। সাথে সাথে মোদির হনুরা ভারতে যেসব হিন্দুত্ববাদি অত্যাচার শুরু করেছে, তার বিরোধিতাও চলুক। ইস্যু ভিত্তিক বিরোধিতা না করলে, মোদি বিরোধি রাজনীতি ক্রেডিবিলিটি হারাবে।

  এই জন্যেই আমি লিখেছিলাম, মোদিকে টক্কর দিতে গেলে, আরভিন্দ কেজরিওয়াল ছাড়া আর কেউ নেই। মোদির মেইড ইন ইন্ডিয়ার স্লোগানের অন্তঃসার শুন্যতা বোঝাতে এ কে একটাই বাক্য ছেড়েছেন-" আগে ভারতে যেসব জিনিস আমরা ব্যবহার করি সেগুলো ভারতে বানান..." -ছোট বাক্য। মানেটা সহজ। ভারতের বাজারে উত্তোরোত্তর চীনা মালে ভরে যাচ্ছে। ভারতের ম্যানুফাকচারিং বেস নষ্ট হচ্ছে।  সেটা আটকানোর জন্যে মোদি কিছুই করেন নি! চটকল, তেলকল, উত্তর প্রদেশের পটারী, পাঞ্জাবের ইলেক্ত্রিকাল শিল্পের মাথায় হাত সস্তার চীনা মালের জন্য। সেসব আটকাতে মোদি কিছুই করেন নি-এদিকে ধুয়ো তুলেছেন, মেইড ইন ইন্ডিয়া। কেজরিওয়াল মাত্র একটা বাক্যে বিঁধেছেন।

কিন্ত মোদি যখন ডিজিটাল ইন্ডিয়া, সচ্ছ ভারতের কথা বলেন-আপনি কি ম্যানুয়াল ইন্ডিয়া, নোংরা ভারতের জন্য আন্দোলনে নামবেন? বামেদের মতিগতি দেখে তাই মনে হয়। সেইজন্যেই তারা আজ ন্যাশানাল খোরাক। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে মোদির ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্বচ্ছ ভারতের স্লোগানকে আরো শক্ত করা।  এবং দেখা সত্যিই কৃষকের হাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি এল কি না। যদি না আসে মোদির সমালোচনা করুন। সেখানে মোদি বধ করুন। কিন্ত একটা ভালো প্রচেষ্টার বিরোধিতা হাস্যকর লাগবে। যেখানে পৃথিবীর বর্তমান, অতীত এবং ভবিষ্যত খুব পরিস্কার। প্রযুক্তি বিপ্পবই একমাত্র সামাজিক বিপ্লব আনতে সক্ষম।  এই দুর্নীতি, এত অভাব, এত আত্মহত্যা, এত সাম্প্রদায়িকতা- এর বিরুদ্ধে একটাই সমাধান-প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান।  অবশ্য বৈদিক বিজ্ঞান এবং বৈদিক প্রযুক্তির মতন ধোঁকাবাজি মারাতে এলে, বাজে কথা বলতেই হবে। কিন্ত মোদি মিথ্যে ত কিছু বলে নি-সত্যিই প্রতি মুহুর্তে আমাকেও ভাবতে হয়, বর্তমানে আমাদের সিস্টেম এন্ড্রয়েডে চালাচ্ছি-ভবিষ্যতে কি আই ও এস বা উইন্ডোজে যেতে হবে?

সমাজে প্রগতি, আধুনিকতা আসবে বিজ্ঞান প্রযুক্তির জন্য। দর্শন শাস্ত্র বা রাজনীতির জন্যে না।  রাজনীতিবিদ মানে অভিনেতা। স্টেজ লাইট অভিনয় ডায়ালোগ-সব কিছুতেই মোদি অন্যদের অনেক পেছনে ফেলেছেন। একমাত্র একজন মোদিকে সব বিভাগেই হারাতে পারেন-তিনি আরভিন্দ কেজরিওয়াল। যদ্দিন না মোদি বিরোধিরা এই ব্যপারটা বুঝতে অসমর্থ হবেন-তারা হেরো পার্টি হয়েই ডিগবাজি খাবেন। পশ্চিম বঙ্গ বা তামিল নাডু বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতন মোদি বিরোধি থাকবে-কারন এখানে মমতা বা জয়ললিতা, অভিনয়ে মোদির থেকে খুব বেশী পিছিয়ে নেই।

 এতেব বামবৃন্দ। অভিনেতা খুঁজুন। বিজ্ঞাপন দিন।

 

   

No comments: