Saturday, June 24, 2017

বাঙালী ব্যবসা বিমুখ-দায়ী রবীন্দ্রনাথ ?

বাঙালী ব্যবসা বিমুখ।  সমস্যাটা সবাই স্বীকার করে-বিবাদ এর কারন নির্নয়ে। কে দায়ী?

       প্রবাসী এবং এলিট বাঙালীদের মধ্যে একটা চালু ধারনা ( মানে ওই উইকেন্ড প্রবাসী পার্টি ) -বাঙালীর ব্যবসার গুষ্টি উদ্ধার করেছেন দুজন- রবীন্দ্রনাথ এবং কার্ল মার্ক্স!

      প্রথমজন বাঙালীকে এমন ভাবে গান, কবিতায় মজিয়েছেন -তার থেকে বাঙালী জাতির উদ্ধার নেই! অনেকেই আমাকে বলেন যদ্দিন ওই দাড়িওয়ালা বাঙালীর দ্বিতীয় ঈশ্বর, এই জাতিকে উদ্ধার করা প্রথম ঈশ্বরের পক্ষেও অসম্ভব।

       দ্বিতীয় জন "নাকি" শিখাইয়াছে  পুঁজি এবং ব্যবসা চৌর্য্যবৃত্তি!  বাঙালীর বামমনোবৃত্তিতে লক্ষ্মী চঞ্চলা।

  অধিকাংশ পার্টিতেই  ব্যবসার জগতে বাঙালীর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচন হয়- মূল নির্যাস- এই দুজন বাঙালীর জীবনে আফিং এবং হিরোইন!! এর থেকে নাকি উদ্ধার নেই!

        মুশকিল হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ এবং মার্ক্সকে বুঝতে ব্যর্থ হওয়াটা বাঙালীর জীবনের সব থেকে বড় ঐতিহাসিক ট্রাজেডি।

    প্রথমে রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে আসি।

    রবীন্দ্রচর্চা কি ব্যবসা চর্চার অন্তরায়?
 
     আমি মনে করি উল্টোটা।  ব্যাবসার সব থেকে গুরুত্বপূর্ন ফাংশান মার্কেটিং। যেখানে একটা গুছিয়ে গল্প বলতে হয়।  গুছিয়ে গল্প বলার ক্ষমতা না থাকলে, কারুর ব্যবসাতে আসাই উচিত না। ক্লায়েন্টের মাথার মধ্যে গল্পের মাধ্যমে ঢুকতে, বেশ ভালোই কমিউনিকেশন লাগে।  সাহিত্যচর্চা সেই কাজের সহায়ক। অন্তরায় কেন হবে?

    আসলে বাঙালীর সমস্যা দুটো ক্ষেত্রে।
   
    প্রথমে তারা দেখে সফল ব্যবসায়ী মানেই মারোয়াড়ি। যাদের রবীন্দ্রসংগীত নেই, কবিতা নেই। এতে অনেক বাঙালীর বদ্ধমূল ভূল ধারনা ব্যবসায়ী হতে গেলে সংস্কৃতি বিরোধি হনুমান চল্লিশা হতে হইবে।

খুব ভুল ধারনা। ব্যবসা দু ধরনের-ডিস্ট্রিবিউটশন বা ট্রেডং এবং প্রোডাউসার বা যারা কোন প্রোডাক্ট বানায়।  যারা শাড়ি তৈরী করছে, বা কিছু তৈরী করছে-তারা সবাই শিল্পী। ডিজাইন সেখানে মুখ্য। প্রযুক্তি জাস্ট একটা টুল।  শিল্প সংস্কৃতি যা বাঙালীর রক্তে, তা ব্যবসার সহায়ক। ভুলে গেলে চলবে একদা বাঙলার মসলিন গোটা পৃথিবীতে যেত।

  পেশার প্রয়োজনেই আমেরিকাতে মাঝারি বা ছোট ব্যবসায়ীদের সাথে আমার ওঠাবসা বেশি। তাদের অধিকাংশই বেশ ভাল লেখক-এবং তাদের শিল্প চেতনাও উন্নতমানের।

  সাহিত্য, শিল্পচর্চার সাথে ব্যবসার বিরোধ নেই।

  আসলে প্রিন্স দ্বারকানাথের নাতিপুতিরা ব্যবসায় ব্যর্থ হওয়ার কারন নির্নয় করতে গিয়ে অনেকেই বলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ  একদিকে ব্যবসা অন্যদিকে নাটক করতে গিয়ে ব্যবসা ডুবিয়েছেন।  এটাও ভুল। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের আসলে জাহাজ ব্যবসায় আসাটাই উচিত ছিল না।  হ্যা, এই প্রশ্ন উঠবেই যে যে ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাপুরুষ ভারতের প্রথম আন্তারপ্রেনার প্রিন্স দ্বারকানাথ, সেই ঠাকুর ফ্যামিলি টাটা হাউস না হয়ে ঠাকুরবাড়ি কেন হল ? দেবেন্দ্রনাথের কোন ছেলে কেন জামসেদজি টাটা হল না?

  এর উত্তর দেবেন্দ্রনাথ নিজে। প্রিন্স দ্বারকানাথ যেখানে ভারতে আধুনিক ব্যবসার সূচনা করেছেন। প্রথম কয়লাখনি, স্টীমার এমন কি স্টিম ইঞ্জিন তৈরীর ফ্যাক্টরী করছেন হাওড়াতে, দেবেন্দ্রনাথ যেকোন কারনেই হৌক আধ্যাত্মিক মোহে চালিত হয়ে বাবার স্পিরিট পান নি।  সংসার তাকে টানে নি। ফলে দ্বারকানাথের কোন নাতির মধ্যেই, তার ব্যবসায়িক দূরদৃষ্টি ছিল না। থাকলে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ জাহাজ ব্যবসায় নামতেন না। সেই সময় স্টিল, টেক্সটাইল, জুট্মিল আস্তে আস্তে প্রসার লাভ করছিল। আচার্য্য প্রফুল্ল রায় প্রায় বিনা সম্বলে বাড়ির বারান্দায় বেঙ্গল কেমিক্যাল দাঁড় করিয়েছেন তখন।  জ্যোরিরিন্দ্রনাথের যদি দেবেন্দ্রনাথের মতন ব্যবসায়িক বুদ্ধি থাকত, উনি ব্যবসাটা ঠিক ঠাক নির্বাচন করতেন।

   এবার আসি মার্ক্স প্রসঙ্গে।

   মার্ক্সবাদের চর্চা কি বাঙালীর ব্যবসার সব থেকে বড় কালাপাহাড়? যাদবপুরে কাছে আজকে যেখানে সাউথ সিটি মল-একদা সেখানে ছিল উষামার্টিন। তার চারপাশে ছিল আরো চারটে বিখ্যাত ফ্যাক্টরী। যার মধ্যে ছিল সুলেখা কালি।  জ্যোতিবসুর সিটুর শ্রমিক আন্দোলনের দাপটে ওই এলাকার সব ফ্যাক্টরীর গঙ্গাপ্রাপ্তি হয় ১৯৯০ সালের আগেই!

  সুতরাং মনে হতেই পারে কার্লমার্ক্সই সেই কালাপাহাড় যার চর্চা  বাঙালীর শিল্প, ব্যবসাকে ধ্বংস করেছে!!

  আসল সমস্যাটা মার্ক্সবাদ চর্চার না-মার্ক্সের লেখার বদ হজমে। বাঙালী কমরেডদের মার্ক্স পড়ার মতন বিদ্যা পেটে নাই।  মার্ক্সের লেখা সবটাই ধনতন্ত্রের বিশ্লেষনে-মার্কেটের বিশ্লেষনে-পুঁজির বিশ্লেষনে। বরং মার্ক্স পড়লে ব্যবসা এবং মার্কেট কিভাবে চলে, তা আরো ভাল করে বোঝা উচিত। সেটা ব্যবসা বুঝতেই সাহায্য করে।

  বদহজম হলে অবশ্য অন্যকথা। কমিনিউজম বলতে যা বাজারে চলে, তা লেনিনবাদ-যিনি অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ন ক্ষেত্রে মার্ক্সের একশো ডিগ্রি বিপরীতেই ছিলেন। সব থেকে বড় কথা তার লেখায় দ্বান্দিক বস্তুবাদ, বা মার্ক্সিয় বিশ্লেষন কিছুই পাওয়া যায় না। হ্যা তার লেখার মধ্যে মার্ক্স এবং দ্বান্দিক বস্তুবাদের প্রচুর জার্গন পাবেন- কিন্ত পদ্ধতিটা পাবেনা। পাতি ইন্টেলেকচুয়াল ডিজহনেস্টি।

 যার জন্য আমেরিকার একাডেমিক সার্কলে  লেনিনকে কেউই মার্ক্সিয় রাজনীতির ধারক বলে মনে করেন না। বরং চমস্কি সরাসরিই লিখেছেন লেনিন বামপন্থী আন্দোলনের কলঙ্ক।  আরেক ধরনের ফ্যাসিবাদ।

সুতরাং মার্ক্সীয়চর্চা না, মার্ক্স চর্চার অভাবের কারনেই বঙ্গজ বামেরা লেনিনবাদের খপ্পরে পরে ব্যবসা বিরোধি অবস্থান নেয়।  মার্ক্স ও মালিক শ্রেনীর বিরোধি ছিলেন-ধর্মঘটের পক্ষেও ছিলেন। কিন্ত সেই মার্ক্স এক্টিভিস্ট মার্ক্স-যিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তার এই এক্টিভিস্ট পজিশন, তার বিশ্লেষনের সাথে খাপ খায় না। এক্টিভিস্ট মার্ক্স নিজেই স্বীকার করতেন-তিনি মার্ক্সবাদি নন!!  কমিউনিস্ট এক্টিভিস্ট মার্ক্সকে তার সমাজবিজ্ঞানএর সাথে মেশালে ঐতিহাসিক মুশকিল আছে-মার্ক্সের ভূত তাতে সায় দেবে না।


কিন্ত মার্ক্সবাদের অন্যধারাও আছে ইউরোপে। যাদের কাউন্সিল কমিনিউস্ট বলে। এরা কিন্ত কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবসার কথা বলেন, যেখানে ফ্যাক্টরি কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার কথা বলা হয়। চীনের অনেক বড় বড় ব্যবসা ফ্যাক্টরি কাউন্সিল অর্থাৎ ইলেক্টেড শ্রমিক মেম্বারদের দিয়েই চলে।
 
 মোদ্দা কথা ফ্যাক্টরী অচল করে দিলে যে শ্রমিক শ্রেনীই টিকবে না-এই টুকু বাচ্চাদের বুদ্ধিও যাদের মাথায় নেই, তাদের যদি দেওয়া হয় রাজার রোল -তাহলে কি দুর্দশা হতে পারে-সেটা পশ্চিম বঙ্গ দেখেছে ৩৪ বছর।

 সারবক্তা। আসলে অলসতাই মূল কারন ব্যবসাতে না আসার ।


























 
             

না বোঝার বোঝা !

ভারতীয় সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে আমেরিকানদের সব থেকে বড় হতাশা- হ্যা বনাম না এর ধোঁয়াশা। বেচারারা কি আর করবে-স্কুলে পড়া মুখস্থ করে না আসলে বেঞ্চে কান ধরে দাঁড়ানোর অভ্যেস-বা বুঝতে না পারলে একটা শেমিং ছোটবেলা থেকেই এদের ব্রেইনে ঢুকিয়েছে। ফলে না বুঝলে, লজ্জায় কেউ স্বীকার করতে চায় না-এটা বোঝে নি। পাছে লোকে তাকে ব্যাকবেঞ্চার ভাবে।
বড় হয়ে এই সব গুডি গুডি ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের যাই বল না কেন-সব কিছুতেই হ্যা। প্রথম প্রথম কোন আমেরিকান, যারা ভারতীয় সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার দেখে নি-খুব লাফাতে থাকে-বা কিসুন্দর পোলাপান-যা বোঝালাম মুহুর্তের মধ্যে ঘার আর ল্যাজ নাড়তে নাড়তে সব বুঝে গেল। দুদিন বাদেই তাদের মোহভঙ্গ হয় ডেলিভারির সময়। যখন শিবের বদলে বানর ডেলিভারি হয়। তখন হায় হায় রব ওঠে। বুঝিস নস ত আগে বল-তাহলে সময় নষ্ট হয় না!!
কিস্যু করার নেই।
স্কুল থেকে দেখে আসছি কেউ বলে না-বোঝার প্রথম ধাপ- পরিস্কার ভাবে বোঝা-এটা বুঝি নি। এই যে বুঝছি না বা বুঝিনি-এটা পরিস্কারভাবে বুঝতে পারলেই, কেল্লা ফতে।
ভারতে ছোটবেলা থেকেই "না বোঝা" মানেই লজ্জার-এর ঘেলু কম ইত্যাদি। ফলে না বুঝলেও বোদ্ধার ভান করাটাই সংস্কৃতি।
এতে ক্ষতি হচ্ছে বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোর। পরিস্কার ভাবে না বোঝাই যে গভীর ভাবে বোঝার প্রথম ধাপ-এটা অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরাই শেখে না। আমার ছাত্রজীবনে দেখেছি-সব থেকে সফল ছাত্রছাত্রীদের প্রথম এবং অন্যতম গুন-যেটা বোঝে না-সেটা খুব পরিস্কার ভাবে বোঝে। বোঝার ভান এবং ভনিতা না করা। তাতে প্রচুর ক্ষতি।
ভারতে সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের গড় মান বেশ কম। এদের স্কিল শিক্ষা সবই আছে। বেশীই আছে। কিন্ত চিন্তাশক্তি এবং বোধ শক্তির অভাবে অনেক পিছিয়ে আছে।
একদম স্কুল লেভেল থেকে বোদ্ধার ভান করার কুঅভ্যেসগুলো না ছাঁটলে, আখেরে খারাপই হচ্ছে।

ইতিহাসের মোহ বনাম প্রযুক্তির ধান্দা


যে জাতি যত পিছিয়ে, সে তত তার অতীতের গৌরবের মন্থনে মগ্ন। বাঙালী যেভাবে নেতাজি, বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথ , গান্ধীজি-ইত্যাদি নিয়ে মারামারি, হানাহানি করে- তার থেকে একটা সত্যই প্রমানিত। এরা সামনে দিকে তাকাতে শেখেনি, ফলে আজকে সব থেকে পিছিয়ে পড়া একটা জাতিগোষ্ঠিতে পরিনত।
আমেরিকাতে কখনোই দেখিনি, জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, এন্ড্রি জ্যাকসন বা আব্রাহাম লিঙ্কনদের নিয়ে তাদের জনগন " এত" চিন্তিত। থমাস জেফারসন, এন্ডি জ্যাকসনকে নিয়ে প্রচুর একাডেমিক বিতর্ক আছে-কিন্ত সাধারন জনসাধারনের শ্রদ্ধাবিলাস নেই।
অতীত খুব সাংঘাতিক জিনিস। আমাদের যখন ইতিহাস পড়ানো হত, কেউ বলে নি, কেউ শেখায় নি-ইতিহাস হচ্ছে উপন্যাস। এক থেকে পাঁচ পার্সেন্ট সত্য তাতে থাকলে থাকতে পারে-বাকী্টা সত্যমিশ্রিত উপন্যাস। এটা বুঝতে আমার অনেকদিন সময় লেগেছে। উইল ডুরান্টের "সভ্যতার ইতিহাস" বলে একটা এপিক গ্রন্থ আছে-তার মুখবন্ধে উনি পরিস্কার লিখেছিলেন-ইতিহাস হচ্ছে উপন্যাস। তবে পার্থক্য এবং সমস্যাএই যে উপন্যাসিককে শাসক শ্রেনীর মন যুগিয়ে লিখতে হয়। নিরেপেক্ষ ইতিহাস বলে কিছু হয় না। মোদ্দা কথা ইতিহাস হচ্ছে সেই রূপকথা যা স্কুলে বাচ্চাদের পড়িয়ে একটা জাতির ব্রেইন ওয়াশ করা হয় ছোটবেলা থেকে।
ফলত সব দেশের অতীতই কল্পনাআশ্রিত উপন্যাস-যার নির্মান হয়েছে শাসক শ্রেনীর সুবিধার্থে। অধিকাংশ হিন্দুরা বিশ্বাস করে বৈদিক যুগ ছিল স্বর্গরাজ্য। গুপ্ত রাজ বংশের সময় ভারতের স্বর্ণযুগ চলেছে! মুসলমানরাও বিশ্বাস করে হজরত মহম্মদের সময়ে যে শাসন ব্যবস্থা ছিল-সেটাই পার্ফেক্ট। কারন ইতিহাস ওইভাবেই লেখা হয়েছে। শুধু অদ্দুর কেন। নভেম্বর বিপ্লব বলে আরেকটি আষাঢ়ে গল্পকেও ইতিহাস বলে চালানো হয়েছে-দুনিয়া কাঁপানো দশদিন টাইপের গল্পের বই ইতিহাস হয়ে গেছে। সোভিয়েত বলতে যে স্বর্গরাজ্যের কথা ভেবে কত ছেলেমেয়ে কমিউনিজমের আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিল বিপ্লবের আশায়-সেসব যে সবই গল্প-এটা সোভিয়েত ভাঙার পরে আমরা সবাই জেনেছি, আসলেই সেটাছিল এক নরকবাস!
এর কুফল দুটো। প্রতমত এই ধরনের রূপকথায় বিশ্বাস করে উগ্রপন্থী রাজনৈতিক দল তৈরী হচ্ছে। যাদের থেকে উগ্রপন্থী সন্ত্রাসবাদের জন্ম ।
দ্বিতীয়টা এই যে প্রযুক্তি মানুষের সামনে যে সুযোগ এনে দিচ্ছে সেটা এরা নিতে পারছে না। ভুল রাজনীতির পাঁকে নিজেদের আটকে ফেলেছে।
উদাহরন চান ? ভারতে গত দুই বছরে স্টার্টাপে বিনিয়োগ হয়েছে দুই বিলিয়ান ডলার ( বারো হাজার কোটি টাকা) । এই ম্যাপে কলকাতা নেই। যা হয়েছে সবটাই ব্যাঙ্গালোর, দিল্লী এবং পুনেতে। কোলকাতায় বাঙালীদের মধ্যে সেই চেতনাটাই এখন আসে নি-যে প্রযুক্তি এক বিপুল ব্যবসার সম্ভাবনা এনে দিয়েছে শিক্ষিত যুবক যুবকীদের মধ্যে। ব্যাঙ্গালোর বা পুনেতে এক বিপুল সংখক ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ার কিছু না কিছু ন তুন ব্যবসা করার চেষ্টা করছেন- প্রযুক্তির এই দান, লুফে নিয়ে অনেক মধ্যবিত্তের সন্তান সেখানে কোটি কোটি টাকার নতুন আই টি ব্যবসা শুরু করেছে। সেখানে কলকাতার ছেলেমেয়েদের এইসব ব্যাপারে ইন্টারেস্ট নেই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। বাকীরা জুতোর সুখতলা খুইয়ে চাকরির সন্ধানে।
আবার এরাই নিজেদের বুদ্ধিচর্চা নিয়ে গর্ব করে।
ভৃত্যের বুদ্ধিচর্চায় কেউ গুরুত্ব দেয় না-এদের কে বোঝাবে?
অর্থনৈতিক উন্নতি এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না এলে-এই ধরনের বুদ্ধিচর্চার কোন দাম নেই।

Sunday, June 18, 2017

ব্লক চেইন- প্রযুক্তির মাধ্যমে কি মানবসাম্য সম্ভব?

( আমি আগের লেখা গুলোতে দেখিয়েছি কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তির গতি আসাম্যের অস্থিরতা ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে। আজকে লিখছি আরেকটা যুগান্তকারী প্রযুক্তি- ব্লকচেন নিয়ে-যা এই মানব অসাম্য দূর করার ক্ষমতা রাখে। সুতরাং টানেলের শেষে কিছু আলো এখনো অবশিষ্ট আছে )

(১)

ধনের ধর্মই অসাম্য। প্রযুক্তি যেহেতু বর্তমানে ধনের সৃষ্টিকর্ত্তা, খুব স্বাভাবিকভাবেই উন্নত প্রযুক্তির আগমনের সাথে সাথে ধনী দরিদ্রের পার্থক্যও ক্রমবর্ধমান। বর্তমান বিশ্বে রাজনৈতিক  অস্থিরতার সেটাই মূলকারন। ১% লোকের হাতে বিশ্বের ৫৬% সম্পত্তি।

      ইসলামিক বা মাওবাদি সন্ত্রাসবাদও উপোরক্ত ন্যারেটিভের বাইরে নেই। ইসলাম সহ প্রায় সব ধর্মের উত্থান সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি আন্দোলন হিসাবে।  বর্তমান রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ সর্বত্র এতই অসন্তুষ্ট-সে বাস্তবতার থেকে  রূপকথার কল্পরাজ্যে বাস করতে চাইছে!  কখনো ইসলামি খিলাফত, কখনো বিংশ শতাব্দির লুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ান-কখনো বা বৈদিক সমাজের ফেরিয়াওয়ালাদের কথায় সে আজ আকৃষ্ট!  যুবসমাজের মধ্যে অসাম্য এবং তজ্জনিত রাজনৈতিক হতাশাই জন্ম দিচ্ছে চরমপন্থী রাজনীতির ।  সন্ত্রাসবাদি বোমার আঘাতে আপনার বা আমার ভবলীলা ফুটে যাওয়াটা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আমরা বারুদের ওপর বসে-শুধু অন্ধ হয়ে কালবৈশাখীর ঝড়ের আগমন বার্তাকে উপেক্ষা করছি মূর্খের মতন।

   আমি বহুদিন থেকে দেখেছি, নিধার্মিক লোকেরা একটা প্যারাডক্সের উত্তর দিতে ব্যর্থ।  সেটা এই যে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে দ্রুত। সুতরাং আরো  দ্রুত এবং ব্যপকভাবে লোকেদের বোঝা উচিত ধর্ম এবং তাদের অবতাররা রূপকথার চরিত্র।  আমেরিকা এবং ইউরোপে এমনটা হলেও-বাকী বিশ্বে ফল উলটো।  লোকজনের ধর্মচর্চা বেড়েই চলেছে। এই প্যারাডক্সের সমাধান কি?  আমার মনে হয় এর মূল কারন - জীবনে নিরাপত্তার অভাব! আর এটা বেড়েই চলেছে। হটাৎ দেখি চারিদিকে বাবা লোকনাথের রমরমা।

      কারন?  এই লোকনাথ বাবা একদম বুলস আইতে হিট করেছেন-নিরাপত্তা, নিরাপত্তা, নিরাপত্তা। মানুষ যখন বাস্তবে রাজনৈতিক সিস্টেমের কাছে নিরাপদ আশ্রয় পেতে ব্যার্থ-অগত্যা ভরসা সেই অলীক ধর্মীয় আশা-সরকারের পুলিশ না বাঁচালেও বাবা লোকনাথ বাঁচাইবেন!

ভাবছেন ব্লকচেন প্রযুক্তির আলোচনায়, কেন বাবা লোকনাথকে নিয়ে টানছি?

  ব্লক চেইন প্রযুক্তির কার্যকারিতা বুঝতে প্রথমে    জীবনে নিরাপত্তার ভূমিকা নিয়ে   একটা গ্রাউন্ড রিয়ালাইজেশন দরকার-  "নিরাপত্তা" এবং "বিশ্বাস"-এই দুটি আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মনীতি সবকিছুর ভিত্তিভূমি।

 রাষ্ট্রের উদ্ভব, রাজার উদ্ভব-সব কিছুর পেছনে বাণিজ্যের নিরাপত্তা।  পৃথিবীর প্রথম রাষ্ট্র এবং রাজার জন্ম মেসোপটেমিয়া সভ্যতায়। তামার খনি থেকে তামার কারিগরদের কাছে কাঁচামাল আসত ২০০ মাইলের পাহাড়ি রাস্তা ধরে। তার নিরাপত্তা দিতে প্রথম রাষ্ট্রের সূচনা হয় পৃথিবীতে প্রায় চার হাজার বছর আগে।

 উলটো দিক দিয়ে ভাবুন। ধরুন পৃথিবীর সব লোক সৎ। আপনি যার সাথে যা চুক্তি করছেন, ঠকে যাওয়ার কোন ভয় নেই! চুরি ডাকাতি রাহাজানির ভয় নেই। সেই পৃথিবীতে কি গর্ভমেন্টের দরকার হত ? দরকার হত ব্যঙ্কের? পুলিশ বা মিলিটারির? উকিল আদালতের?  ভারত পাকিস্তানের? ধর্মের?

 এই ব্যপারটা বোঝা দরকার। আমাদের জীবনে নিরাপত্তার অভাব-কারন মানুষ সম্পূর্ন ভাবে সৎ না। ফলে সরকার, ব্যঙ্ক, আদালত -ইত্যাদি থার্ড পার্টি বা  ইন্সটিটিউশনাল মিডলম্যান ( সংগঠিত দালাল) দরকার । সরকার এক অর্থে বৃহত্তম দালাল-যে একটা বিরাট ট্যাক্স নেওয়ার বিনিময়ে আইন, ইনফ্রাস্টাকচারের নিরাপত্তা দেয়।  বাবা লোকনাথ এবং সরকারের টিকি -একজায়গায় বাঁধা।

নিরাপত্তার সন্ধানে উদ্ভ্রান্ত মানব।

(২)

  এবার ধরুন আমদের ট্রান্সজাকশনগুলো যখন ডিজিট্যাল হচ্ছে-তখন এমন কিছু করা সম্ভব যে থার্ড পার্টি-ওই সে সরকার বা পেটিএমকে হঠিয়ে আপনার এবং আমার মধ্যে যা ডিল হচ্ছে তাতে দালাল থাকবে না? আমি আপনাকে যখন পেটিএম দিয়ে ১০০০ টাকা পে করছি-সেখানেও কিন্ত থার্ড পার্টি দালাল আছে। সে হচ্ছে পেটিএম। প্রতিটা ট্রান্সাকশনে একটা টাকা খাচ্ছে।  সে কমিশন খাক। সেটা সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে এই যে আপনার আমার মধ্যে ফাইন্যান্সিয়াল ট্রান্সজাকশনের জন্য একটি থার্ড পার্টি লাগছে-এর মানে গর্ভমেন্ট ও ইনভল্ভড।

 অথচ দেখুন ডিমনেটাইজেশনের যুগে গ্রামে আদিম বিনিময় অর্থনীতি ফিরে এসেছিল । অনেক গ্রামেই টাকার অভাবে চালের বদলে তেল বিনিময় হয়েছে। সেই বিনিময়ে কিন্ত কোন "থার্ড পার্টি"  সরকার বাহাদুর নেই। এই বিনিময় অর্থনীতি বদলে যখন টাকা দিয়ে আপনারা দুজন জিনিস কিনছেন তখন কিন্ত সরকার বাহাদুর হাজির! কারন টাকা ছাপায় সরকার বাহাদুর! আপনারা দুজনেই বিশ্বাস করছেন "টাকার ভ্যালুকে"-টাকার নিরাপত্তাকে। কারন টাকার মালিক সরকার!

 সুতরাং সরকার, ব্যাঙ্ক, পেটিএম, আদালত ইত্যাদি থার্ড পার্টি বিলুপ্ত করতে প্রথমেই যে প্রশ্নটা করা দরকার-এমন কিছু প্রযুক্তি সম্ভব-যা শুধু মাত্র নিজেদের মধ্যে বিনিময় অথচ--১০০% নিরাপদ?

  ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় পৃথিবীর সব বড় বড় ব্যাঙ্কগুলিও প্রায় ফেইল করতে বসেছিল।  অর্থাৎ থার্ড পার্টির নিরাপত্তাও খুব কাজে আসছিল না। থার্ড পার্টিকেও যখন বিশ্বাস করা কঠিন-এমন অবস্থায় জাপানের এক কম্পুউটার বিজ্ঞানী সাকাসি নাকামোতো একটি পেপারে দেখালেন-ডিজিটাল কারেন্সি সম্ভব "ব্লক চেইন" বলে একধরনের ক্রিপ্টগ্রাফিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। ২০০৯ সালে কিছু সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়াররা তৈরী করে ফেললেন পৃথিবীর প্রথম ক্রিপ্টোগ্রাফিক কারেন্সি বিটকয়েন। যা কোন সরকারের না। দেশের বাউন্ডারী মানে না। এর ভ্যালুয়েশন যারা ব্যবহার করছে এই কারেন্সি-তাদের কাছেই।

 বিটকয়েনের থেকেও গুরুত্বপূর্ন এর প্রযুক্তি ব্লকচেইন।  যা শুধু কারেন্সি না-আইডেন্টি, রিয়াল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন, গান, পেটেন্ট, সিনেমার কপিরাইট-মোদ্দা কথা "ওনারশিপ" বা মালিকানা বলতে যা বোঝায়, তাতে কাজে লাগানো যায়।

 আমি ব্লক চেইন কিভাবে কাজ করে সেই প্রযুক্তিগত জটিলতায় ঢুকলাম না, শুধু এর স্যোশাল ইম্প্যাক্ট নিয়েই লিখছি।

  প্রশ্ন হচ্ছে এতে নতুন কি?  আগে রাষ্ট্র নিশ্চিত করত ধনী লোকেদের মালিকানা-এখন তা নিশ্চিত হচ্ছে ব্লক-চেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে!  এতে সাম্যের গন্ধ লাগালেই ত হল না?

  এই খানে আরেকটু গভীরে ভাবতে হবে। আমি তত্ত্বে না গিয়ে বাস্তবের একটা উদাহরন দিই।  আমি যে শ্রম দিই-তার মালিক এবং বিক্রেতা যদি আমি হই, তাহলেই ধনী দরিদ্রের পার্থক্যের অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মেই ঘুচে যাবে। যেমন ধরুন যে গায়ক।  হেমন্ত, জর্জবিশ্বাসের যুগে এরা একেকটা এলবামের জন্য তখনকার দিনেও দশ বিশ হাজার টাকা পেতেন। রেকর্ড কোম্পানী রয়াল্টি বাবদ দিত। বর্তমানে কোন রেকর্ড কোম্পানী তাদের কত দিত? এক টাকাও না। কারন গান বেড়োলেই পাইরেটেড হয়ে ইউটিউবে চলে আসবে।  ব্লকচেইন সিস্টেমে গান রিলিজ করলে এটি হবে না-গান বেচা থেকে গানটি যাতে কেউ কপি করে ইউটিউবে না তুলে দিতে পারে, তার সব সুরক্ষা ব্লক চেইনে হাজির।

 এতে লাভ সেই গায়কের ( যে আসলেই নিজেই নিজের প্রডিউসার)। সে নিজেই নিজের প্রডাকশন কোম্পানী চালাতে সক্ষম-কারন বিক্রি, থেকে বেচার নিরাপত্তা-সবটাই ব্লক চেইনে সে পাবে। এই ব্যপারটা যে কোম্পানীর একজন সাধারন কর্মী-তার জন্যেও সম্ভব। এখন একজন সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার মাইনে পাচ্ছে। ব্লক চেইনের যুগে যে যতটুকু সফটোয়ার লিখবে তা এক বা একাধিক কোম্পানিকে বিক্রি করতে সক্ষম হবে ব্লক চেইন সিস্টেমে-কেউ ঠকাতে পারবে না।

 তবে হ্যা-মধ্যে খানে যে ব্যপারটা অব্যক্ত থাকল-তা হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। এই সিস্টেমে যারা দক্ষ, উচ্চশিক্ষিত-তারা সবাই নিজেদের ব্যবসা খুলে ফেলবে। কিন্ত বাকিদের কি হবে? এই জন্যে আমি বারবার করে বলছি নিজের ছেলে মেয়েদের টিউটরের কাছে না পাঠিয়ে মোবাইল এপ, আর্ট ডিজাইন, কোডিং, কবিতা, গান ইত্যাদি শিখতে পাঠান।


 কমিনিউস্ট বিপ্লব নামক গণহত্যা, রক্তপাত ছাড়াই, একজন শ্রমিক তার শ্রমের মালিক হবে। ব্লক চেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে তা ভাল ভাবেই সম্ভব। সেই দিন ও সমাগত।














Saturday, June 17, 2017

প্রযুক্তি এখন কল্পবিজ্ঞানকেও হার মানায়

মানুষ আঁকতে শুরু করেছে সম্ভবত কুড়ি হাজার বছর আগে। দশহাজার বছর আগে কৃষিকাজের শুরু। ভাষার উৎপত্তি পাঁচ হাজার বছর। স্টিম ইঞ্জিন, যন্ত্র সভ্যতা -আড়াইশো বছর। ইলেক্ট্রিসিটি টেলিকম, জাস্ট একশো বছর। কম্পিউটার, সিলিকন চিপ- পঞ্চাশ বছর। ইন্টারনেট পঁচিশ বছর। স্মার্টফোন, স্যোশাল মিডিয়া , দশ বছর!
প্রযুক্তিই, প্রযুক্তির গতিকে ত্বরান্বিত করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সস্তার সিলিকন চিপের যুগলবন্দি যেসব প্রযুক্তির জন্ম দিতে পারে-যে ভাবে বদলে দিতে পারে আমাদের দৈনন্দিন জীবন-তার সম্ভাবনা কল্পবিজ্ঞান কে হার মানাবে!
ইনফ্যাক্ট আজকাল অবস্থা এমন-কেউ যদি ২০৫০ সালের জন্য কোন কল্পবিজ্ঞান লেখে, ২০৫০ সালের সভ্যতা আজকের কল্পবিজ্ঞানের থেকে অনেক এগিয়ে থাকবে!
স্মার্টফোন, স্যোশাল মিডিয়া আমদের জীবনযাত্রা যেটুকু বদলেছে-তা বলতে গেলে কিছুই না! ধরুন কৃত্রিম গর্ভ প্রায় চলেই এল ( হয়ত, আর কুড়ি বছর! )- সেক্ষেত্রে বিবাহ, সংসার এগুলো কি টিকবে? সমাজ বিজ্ঞানের নিয়মেই উচিত না। কারন প্রতিটা মানুষ সেক্ষেত্রে প্রজননের ক্ষেত্রে স্বয়ংভূ। ভাবুন একশো বছর বাদে বাবা মা -সন্তান এই সব কিছুই অবান্তর ঐতিহাসিক শব্দ! ভাবা যায়?
এই বছরের শেষে সার্গেও ক্যানেভারো প্রথম মানুষের মাথার ট্রান্সপ্ল্যান্ট অপারেশন করবেন। অর্থাৎ একজনের মাথা কেটে অন্যের দেহে বসিয়ে দেবেন! সফল কদ্দুর হবেন জানা নেই-কিন্ত এটা বোঝা যাচ্ছে, সেদিন আর দেরী নেই মানুষ অমরত্বের কাছাকাছি। বয়স বাড়লে মাথাটা কেটে অন্যের যুবক যুবতীর দেহে বসিয়ে দিলেই হল!
অন্যদিকে ডিন এন এতে এজিং জিন বা যা বয়স বাড়ায়, তা ধরে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা। সেই জীনটাকে টুক করে বাদ দিলে, অনন্ত যৌবন হাতের মুঠোয়। শুধু তাই না-সাথে সাথে ধর্মের ও ইতি। কারন মানুষের ধর্মকর্মের পেছনে সব থেকে বড় কারন অমরত্বের আশা-যে মরিলেও আত্মা বাঁচিবে। হয় পুনঃজন্ম বা স্বর্গে ভাসিবে! এই সব গাঁজাখুরি মানুষে বিশ্বাস করে কারন পৃথিবীর এই সত্তর আশি বছরের জীবনটা বড্ড ছোট। ফলে ধর্মে বিশ্বাস করে, মানুষ একটু শান্তি পায়। এখন অনন্ত যৌবন যদি হাতের মুঠোয় চলে আসে-কে আর অলীক অমরত্ব, আত্মা বা স্বর্গের সন্ধানে ধর্মকম্মো করবে?
মোদ্দা কথা-পৃথিবীর পরিবর্তন হতে চলেছে দ্রুত। এত দ্রুত, আমরা তৈরী না।

কেন বাচ্চারা কবিতা লেখা শিখবে?

দীর্ঘদিন থেকেই লিখছি, প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে, অথছ সেই অনুপাতে শিশুশিক্ষা বা স্কুল কলেজের পরিকাঠামো বা সিলেবাস কিছুই এগোচ্ছে না। এই মুহুর্তে পৃথিবীর প্রায় সব চাকরিই -জ্ঞান বা স্কিল ভিত্তিক। কিন্ত আমরা দ্রুত সেই দিনের দিকে এগিয়ে চলেছি, যেখানে "জ্ঞানের" জন্য না, কল্পনাশক্তির জন্যই মানুষের জীবিকা টিকে থাকবে। একটা ছোট সিঙ্গলবোর্ড কম্পিউটার রাসবেরীপাই এর মধ্যেই প্রায় গোটা উইকিপেডিয়া ঢুকিয়ে দেওয়া যায়!
জ্ঞানে কম্পিউটারকে হারানো অসম্ভব-কিন্ত কল্পনাশক্তি?
মানুষের যা নিজস্ব-সেটা তার কল্পনাশক্তি-যার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ কবিতা, গান, সাহিত্য, আঁকাতে। তাত্ত্বিক বিজ্ঞানে-যেখানে শ্রেফ লিফটে মানুষের ওঠা নামা দেখে আইনস্টাইন স্পেস-টাইমের বক্রতা অনুমান করতে পারেন । এই যে এত হাজার হাজার মোবাইল এপ প্রতিদিন বাজারে আসছে-এর মধ্যে শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েকটিই টিকে যায়। দেখা যাবে শুধু সেইগুলিই টিকছে, যেগুলির ডিজাইন খুব সুন্দর এবং সহজ। ইঞ্জিনিয়ারিং শুধু মাত্র টুলস। লোকে কিন্ত কেনে সেই ভাল ডিজাইনটাই-অর্থাৎ মানুষের কল্পনা।
খুব কম বাচ্চাই আজকাল কবিতা লেখে-কি আমেরিকাতে , কি ভারতে! কবিরা চিরকালই ঝোলাআউলা অকাজের ফেরিওয়ালা--্যেহেতু তাহা পেশা না, কবিতা শেখানোর কোন স্কুল নেই !!
স্কুলে বাচ্চাদের এইসব সৃজনশীল কাজে উৎসাহী করার বদলে বাবা-মায়েরা আটজন নজন করে টিউটরের কাছে পাঠাচ্ছে! যদি কোন রকমে জয়েন্টে একটা রাঙ্ক লাগিয়ে, প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কোন রকমে বিটেক ডিগ্রি নিয়ে-আইটিতে ঢুকে পরলেই মধ্যবিত্ত স্বপ্নের আলাদিনের প্রদীপ হাজির!!
মুশকিল এই যে, ওই ক্লার্ক গোত্রীয় ইঞ্জিনিয়ারদের সুদিন শেষ-না তাদের আর কোন চাকরি নেই। এই নয় যে ইঞ্জিনিয়ারিং এ চাকরি নেই- আছে, অনেক আছে। তবে যারা সৃজনশীল। যারা কল্পনায় ডানা মেলে উড়ে যেতে পারে বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের কল্পরাজ্যে।
আমি কবিতা বা সাহিত্যের প্রশ্ন কেন তুললাম? সার্থক কবিতা বা সার্থক সাহিত্যের প্রথম লক্ষণ, শব্দের "নন-কনটেক্সুয়াল" ব্যবহার। অর্থাৎ ধরুন গোলমরিচ আমজনতার কাছে-শুধু ঝাল মশলা। কিন্ত একজন কবি যখন লেখেন " গোলমরিচ রোদ" -শুধু একটা শব্দের অপ্রচলিত ব্যবহারে নতুন দৃশ্যকল্প তৈরী-যা আমাদের নতুন একটা অনুভূতির জন্ম দিতে সক্ষম।
এটা কম্পিউটার পারবে না-কারন সে শুধু শব্দের কনটেক্সট মিনিংটাই জানে।
শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই নির্মম সত্য-আগামি দিনে চাহিদা থাকবে তাদের-যারা এই "নন-কনটেক্সসুয়াল" কল্পনায় এগিয়ে। আমি শুধু কবিতার উদাহরন দিলাম-কিন্ত এই আউট অব বক্স চিন্তা পদার্থবিদ্যা, কেমিস্ট্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং সর্বত্রই লাগে। ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটা দিক বিজ্ঞান, অন্যদিকটা কিন্ত আর্টস।
অথচ, বর্তমানের শিক্ষা ব্যবস্থায়, শিশুমনের যে অসাধারন কল্পনা শক্তি-তাকে কবরে পাঠানোর সব আয়োজন পূর্ণ! বাচ্চাদের আরো বেশী করে কবিতার রাজ্যে, ঠাকুরমার ঝুলির রাজ্যে পাঠানোর বদলে, তাদেরকে বলা হচ্ছে যাও আলিপুর জেলে টিউটরের কাছে দুঘন্টা পাথর ভেঙে এস !
তবে সব রাষ্ট্রই মুর্খ না। ফিনল্যান্ড প্রথাগত শিক্ষার দুর্বলতা সবার আগে বুঝেছে। ওখানে এখন বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষা মানে সৃজনশীলতার পিকনিক। সিলেবাস তারা তুলে দিয়েছে। আমার হাসি পায় এই ভেবে যে বাংলা বা ইংরেজির ক্লাসে কোন গল্প বা কবিতা থেকে "প্রশ্ন" দেওয়া হত। প্রশ্ন উত্তর সবকিছুই ধরাবাঁধা! এখনো তাই চলছে!! তাহলে ছেলেমেয়েরা সাহিত্যের রসটাই বা পাবে কি করে-বা সাহিত্যের যে একটা বড় কাজ, মস্তিস্কের সৃজনশীলতা, কল্পনা বা অনূভূতিগুলোকে বাড়ানো- সেটাও হচ্ছে না। অথচ এটাই আগামীদিনের কেরিয়ারের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা।
এটাকে আমার আষাঢ়ে চিন্তা ভাববেন না। চীনের সরকার দুই দশক আগে সমীক্ষা করে- আমেরিকার সমতুল্য হতে গেলে, আমেরিকার মতন আবিস্কার ভিত্তিক সমাজ হতে গেলে, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কি পরিবর্তন দরকার?
সেই সৃজনশীলতা আসবে কোত্থেকে? চীন সরকার তাদের বিজ্ঞান, অঙ্ক বা ভূগোলের কোর্স বাড়ায় নি। তারা তাদের সাহিত্য শিক্ষাকে সম্পূর্ন অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে। যাতে একদম ছোটবেলা থেকে, প্রাইমারী স্কুল থেকেই বাচ্চারা আউট অব কনটেক্স ভাবতে পারে। ইনফ্যাক্ট চীনারা এমনিতেই কবিতা ভালবাসে, কবিতার মধ্যে দিয়েই তারা বাচ্চাদের সৃজনশীলতার প্রসারে নেমেছে।
বাংলায় কবির অভাব নেই-কিন্ত কবিদের অভাব আছে। প্রাইভেট টিউটরের বদলে, আপনার সন্তানকে কবিদের কাছে পাঠালে-আখেরে কেরিয়ারের ক্ষেত্রেও কিন্ত আপনার সন্তানের লাভই বেশী।

Wednesday, June 14, 2017

রাজনৈতিক হিংসা এবং অটোমেশন

রাজনৈতিক হিংসা, শুধু রাজনীতির কারনে খুনোখুনি ভারতে জলভাত, কিন্ত আমেরিকাতে "কিছুটা" বিরল। আজ সকালে এক বার্নির এক চরমপন্থী ভক্ত, রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানদের বেসবল প্রাক্টিসে গুলি চালায়। গুলি চালানোর সময় সে জিজ্ঞেস করছিল-রিপাবলিকান না ডেমোক্রাট? গুলিতে অনেকেই আহত, রিপাবলিক্যান কংগ্রেসম্যান স্টিভ স্ক্যালিজ গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুমুখে। রাজনৈতিক খুনোখুনি সত্তরদশকের আগে এখানে ভালোই ছিল-কিন্ত আস্তে আস্তে আমেরিকার রাজনীতি গুন্ডামোমুক্ত হয় সত্তরের দশক থেকে।
আমি আমেরিকাতে আসি ২০০১ সালে। আমাকে ড্রাইভিং শেখাত এক বেকার আইনজীবি। নিউজার্সিতে সেই ভদ্রলোক, রাজ্যের গর্ভনরের নাম পর্যন্ত জানত না। অধিকাংশ আমেরিকানদের সেই সময় রাজনীতিতে কোন উৎসাহ ছিল বলে দেখি নি।
আমেরিকাতে জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশা যত বেড়েছে, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এদেশেও রাজনীতি ততই উত্তপ্ত হতে দেখেছি। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময়, আমেরিকাতে প্রথম রাজনৈতিক জনজাগরনের সাক্ষী হই-ওবামাকে ভোট দিতে সেইদিন রেকর্ড সংখ্যক লোকেরা বুথে হাজির হয়। ওইদিন বুথে বুথে গিয়ে অনেক ভিডিও তুলে ছিলাম। রাত আটটার সময় ও অনেক বুথে লোক উপচে পড়ছিল।
ওবামার শপথ গ্রহণের দিন ওয়াশিংটন ডিসিতে পা দেওয়ার জায়গা ছিল না-নিমন্ত্রন পত্র থাকা সত্ত্বেও ত্রিশ লাখ লোকের ভীরে ক্যাপিটল এরেনাতে ঢুকতেই পারি নি। সেই দিন শপথ গ্রহনের পরে, বাড়ি ফিরছিলাম মেট্রো ধরে। স্টেশনে ঢুকতেই পারছি না। পাশে মিসিসিপি থেকে আসা এক স্কুল শিক্ষক । সাথে বছর দশকের যমজ ভাইবোন। ওবামা না জিতলে সে নাকি আমেরিকা ছেড়ে কানাডায় চলে যেত!! আমেরিকাতে এই ধরনের তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরন কিছুদিন আগেও অপ্রত্যাশিত ছিল।
ওবামার আট বছরে রাজনৈতিক মেরুকরন কিছু কমে নি। বেড়েছে। কারন জনগণের দুর্দশাও বেড়েছে। একদিকে অটোমেশন, অন্যদিকে ভারত এবং চীনে আউটসোর্সিং এর যুগ্ম যাঁতাকলে আমেরিকাতে ভাল চাকরির সুযোগ কমেছে উল্লেখযোগ্য ভাবে-ফলে এখানের শিক্ষিত শ্রেনী রাগে ফুঁসছিল। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট করে , আসলেই তারা দেশের পলিটিক্যাল ক্লাসকে সজোড়ে থাপ্পর মারে। জনগনের অর্থনৈতিক দুর্দশার কারনে বার্নির নেতৃত্বে বামপন্থী উগ্রপন্থা এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বে দক্ষিনপন্থার উত্থানের সাক্ষী হয় ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্টিয়াল ইলেকশন।
আমেরিকাতে কিন্ত মোটেও অর্থনৈতিক মন্দা নেই। বরং আমেরিকান কর্পরেট-আমাজন, গুগল, ফেসবুক, আপল, নেটফ্লিক্সের মুনাফা রেকর্ড হারে বেড়েছে। এর মূল কারন অবশ্য মোটেও শ্রমিকদের ওপর শোষন না- এই সমস্ত কোম্পানীগুলিই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুগান্তকারী কাজ করেই মুনাফার পাহাড় গড়েছে। সমস্যা হচ্ছে সেই যে আমাজনের জন্য আমেরিকাতে অন্তত লাখে লাখে ছোট ব্যবসা লাটে উঠেছে। এবার আমাজনের যে মুনাফা সেটা যাচ্ছে কোথায়? আমাজন সেটা আরো উন্নত প্রযুক্তি তৈরীতে ঢালছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করে তাদের মাইনে বেড়েছে সাংঘাতিক- কিন্ত সাধারন জনগনের ইনকামের পথ রুদ্ধ।
এর ফলে আমেরিকাতে মধ্যবিত্ত শ্রেনী আস্তে আস্তে বিলুপ্তির পথে- যারা বুদ্ধিমান তাদের ইনকাম বেড়েই চলেছে, যারা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে, তারা একই সাথে তিনটে চাকরি করেও সংসার চালাতে পারছে না। সোমবার নিউজার্সিতে এক ভদ্রমহিলা ছিল আমার উবের ড্রাইভার। সে ভোর পাঁচটা থেকে দুপুড় বারোটা পর্যন্ত উবেরের ড্রাইভার। দুপুর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বার্ন্স ন্ড নোবেলে কাজ করে। উইকেন্ডে আরেকটা কাজ করে। শুধুমাত্র মা আর মেয়ের সংসার চালাতে তাকে তিনটে কাজ করতে হয়! এত কিছু করার পরেও ভদ্রমহিলার দুঃখ মেয়েকে ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবার সামর্থ্য নেই! এটাই আসল আমেরিকা!!
সাধারন জনগনের এই দুর্দশা থেকেই ট্রাম্প এবং বার্নির দক্ষিনপন্থী এবং বামপন্থী পপুলিস্ট মুভমেন্টের উদ্ভব। দুজনার কাছেই কোন সমাধান নেই-আছে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। যাতে আসল সমস্যার কোন সমাধান নেই। মূল সমস্যা অটোমেশন এবং প্রযুক্তি। অথচ ট্রাম্প গালিগালাজ দিচ্ছেন চাকরি খাচ্ছে ভারতে এবং চীনে। আর বার্নি দুষছেন কর্পরেটকে। যেখানেই যুক্তির অভাব, আবেগ বেশী সেখানেই উগ্র সমর্থক তৈরী হবেই। এবং আজকে যে বার্নি সমর্থক ( জেমস হার্ডকিন্স ) গুলি চালালো , সেও আসলেই ব্রেইন ওয়াশড। অটোমশন হচ্ছে অলীক শব্দ-রাজনীতির বাজারে খাবে না। বরং ভারতীয়, মেক্সিকান, চৈনিক, কর্পরেট এদের দেখা যায়। এদের এনিমি লাইনে দাঁড় করলে ভোট বাক্স ভাসে!!
আমি আগেও বহুদিন থেকে লিখছি, প্রযুক্তি অগ্রগতির সাথে সাথে ধণবৈষম্য তীব্র আকার নিচ্ছে। উদ্ভ্রান্ত জনগন কখনো খ্রীষ্ঠান, কখনো মুসলমান, কখনো হিন্দু কখনো বাম সন্ত্রাসবাদি।
যুধিষ্ঠির ইন্দ্রপ্রস্থের নতুন প্রাসাদে সেদিন কুরুবংশের সবাই আমন্ত্রিত। কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে বল্লেন, যাও বিদুরের কাছ থেকে রাজনীতির পাঠ নাও। বিদুর ইন্দ্রপ্রস্থ থেকে বিদায় কালে যুধিষ্ঠিরকে প্রথম যে রাজনৈতিক শিক্ষা দেন- রাজার সর্বপ্রথম কাজ প্রজাদের মধ্যে যেন ধনের প্রবল অসাম্য তৈরী না হয়। কারন ধনের অসাম্য থেকেই প্রজাবিদ্রোহ হয় এবং তা রাজা ও রাজবংশকে ধ্বংশ করে। এতেব হে রাজন, সর্বপ্রথম যে রাজকর্তব্য, তা হচ্ছে ট্যাক্স চাপিয়ে, দান করে ধনবৈষম্য কম করা। মহাভারতের যুগেও এইটুকু রাজনৈতিক জ্ঞান ছিল যে অসম ধনবৈষম্যে কোন রাজত্বই টেকে না।

Tuesday, June 6, 2017

প্রযুক্তি, অটোমেশন এবং সাম্প্রদায়িকতার ভবিষ্যত


   ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদিদের উত্থানে সবাই আতঙ্কিত। দেখেশুনে মনে হতেই পারে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কোথায় ধর্ম সম্প্রদায় উবে যাবে-কিন্ত বাস্তবে হচ্ছে উলটো। সাম্প্রদায়িকতা, জাতিবিদ্বেশ কমার লক্ষন নেই-বরং ফেসবুকের মাধ্যমে ফেক নিউজ ছড়িয়ে আরো বেশী করে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে।

  প্রশ্ন হচ্ছে এমনই চলবে? নাকি আরো বিশ বছর বাদে ভালো কিছুর আশা আছে?

 না কোন আশাবাদ না, একদম নির্মোহ দৃষ্টিকোন থেকে যদ্দূর অদূর ভবিষ্যত দেখা যায়-তাতে পরিস্কার দেখছি, এই ধর্ম এবং সাম্প্রদায়িকতার জঞ্জাল দূর হল বলে।  প্রযুক্তিই একমাত্র সমাজ বদলাতে সক্ষম- সেই মার্ক্সীয় মোক্ষম বাণী এখানে না খাটার কোন কারন নেই।


  মূলত তিনটে কারনে ভবিষ্যতে ধর্মীয় পরিচয় এবং সাম্প্রদায়িকতা লোপ পাবে।

 প্রথম কারন নতুন প্রযুক্তির সামনে মিথ বা ধর্মভিত্তিক রূপকথার অবসান।  প্রতিটা ধর্মের ভিত্তিই রূপকথা ।  মহম্মদ, কৃষ্ণ, যীশু এরা সবাই রূপকথার চরিত্র। যদিও যীশু এবং মহম্মদকে তাদের ধর্মের লোকেরা ঐতিহাসিক  চরিত্র বলে মানে, ঐতিহাসিকরা কিন্ত মানেন না-কারন সত্যিকারের ঐতিহাসিক প্রমান বলতে যা বোঝায়, তা নেই। না দয়া করে আকাশ থেকে পড়বেন না-গুগলে হিস্ট্রিসিটি অব জেসাস বা মহম্মদ বলে সার্চ দিলেই সব তথ্য পেয়ে যাবেন, কতটা রূপকথা গুলে খাওয়ালে ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের জন্ম হয়। শুধু ইসলাম বা খ্রীষ্ঠান ধর্ম না। কমিনিউস্ট সম্প্রদায় ও সোভিয়েত বিপ্লব নামক এক রূপকথা প্রসবের মাধ্যমেই প্রচুর বাচ্চা এবং যুবার মাথা খেয়েছে।  প্রশ্ন হচ্ছে এসব সত্য না রূপকথা,  ইন্টারনেট জমানায় এখনই তা পাওয়া যায়। তাহলে বর্তমানে কেন নিধার্মিকদের সংখ্যা বাড়ছে না? বরং হিজাব, বোরখা, দাড়ি, শনির মন্দির সবই বাড়ন্ত!

 আসলে একটা নিঃশব্দ বিপ্লব এসেছে ইন্টারনেটের হাত ধরে -সেটা ভারতে এখনো না এলেও পাশ্চাত্যে খুব ভাল ভাবেই এসেছে। ইউরোপে অনেক উন্নত দেশেই নাস্তিকদের সংখ্যা বর্তমানে খৃষ্ঠানদের থেকে বেশী। আমেরিকাতে ১৯৮০ সালে নাস্তিকদের সংখ্যা ছিল মোটে ৮%।  বর্তমানে আমেরিকাতে ২০ বছরের নীচে নাস্তিকদের সংখ্যা ৪০% বা তার বেশী। অর্থাৎ যে জেনারেশন ইউটিউব, গুগল, উইকি দেখে ছোটবেলা থেকে বড় হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই উন্নত বিশ্বে নির্ধামিক। ইনফ্যাক্ট সবথেকে গোঁড়া ধার্মিক বলে পরিচিত আমেরিকান মুসলিমদের ছেলে মেয়েদের মধ্যেও সংখ্যাধিকই নাস্তিক বা আজ্ঞেয়বাদি বা মানবতাবাদি।  ভারতে এই ব্যপারটা আসে নি দুটো কারনে। এক, এখানে ছেলেমেয়েদের স্বাধীন চিন্তা করার অবকাশ কম। দুই,  এখানে ছেলেমেয়েদের ওপর তাদের বাবা মায়ের খবরদারি বেশী। ফলে ভয়ে অনেকেই উলটো দিকে হাঁটে না।

দ্বিতীয় বড় কারন সাম্প্রদায়িকতার চালিকা শক্তি-রাজনীতির ভোলবদল হতে চলেছে।  সবাই "কেজো" নেতাকে দেখতে চাইছে।  নরেন্দ্রমোদি বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের মধ্যে লিব্যারালরা সাম্প্রদায়িকতার ধাবার গন্ধ পেলেও বাস্তব এটাই এদের লোকে ভোট দিয়েছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আশায়। যাতে ধান্দা, চাকরি বাকরি ভাল হয়।  যদ্দিন লিব্যারালরা নরেন্দ্রমোদিকে সাম্প্রদায়িক, ট্রাম্পকে রেশিস্ট বলে গালাগাল দেবেন -কিস্যু হবে না। এরা জিততেই থাকবেন। ইনফ্যাক্ট কংগ্রেসের সোল্কড সংখ্যালঘু তোষনের রাজনীতিই অনেক বেশী সাম্প্রদায়িকতার জন্মদাত্রী।  মমতা ব্যার্নাজির জেতার মূল কারন তার কাজ, সাম্প্রদায়িক তোষন না। লিব্যারাল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম যদি "কেজো" নেতার জন্ম দিত, তারাই জিতত।  গোটা বিশ্ব জুরে আজ যাদের নেতৃত্ব-পুতিন, ট্রাম্প, মোদি-এদের লিব্যারালরা ঘৃণা করেন বটে-কিন্ত বাস্তব হচ্ছে এরা কাজের লোক। এবং অটোমেশনের দৌলতে যত চাকরির সংস্থান কমবে, ততই জনগন সেই ধরনের নেতা চাইবেন যারা চাকরি সৃষ্টিতে সক্ষম। ভাল অর্থনীতি দিতে সক্ষম।  লিব্যারাল প্ল্যাটফর্ম যদি সেই আশা দিতে পারে, তারাই জিতবেন। মুশকিল হচ্ছে এই ধরনের নেতারা জাতিয়তাবাদি প্ল্যাটফর্ম থেকেই আসছেন-ফলে জাতিবিদ্বেশের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।  কিন্ত এটা যতটা জাতিয়তাবাদি রাজনীতির সাফল্য, তার থেকে বেশী লিব্যারাল রাজনীতির ব্যররথতা-তারা জনগনের পালস বুঝতে ব্যর্থ।  আমার ধারনা লিব্যারাল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলি দ্রুতই বুঝবে, তাদের রাজনীতি আর লোকে খাচ্ছে না-এবার কাজের গপ্পো লোকে শুনতে চাইছে-তারাও বদলাবেন।

তৃতীয় কারন-অর্থনৈতিক । অর্থাৎ একজন ধার্মিক ব্যক্তি অর্থনৈতিক ভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন। ভবিষ্যতে। খেয়াল রাখতে হবে, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বা টিকিয়ে রাখতেই অধিকাংশ লোক ধর্মকম্ম দেখান। উন্নত বিশ্বে আমরা ধার্মিক লোকেদের পেশাদারি ক্ষেত্রে এখুনি এড়িয়ে চলি। কারন সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে অসুবিধা। আউটলুক মেলে না।  পেশাদারি ক্ষেত্রে আস্তে আস্তে ধার্মিক লোকেদের গ্রহনযোগ্যতা কমবে। ইনফ্যাক্ট কাজের ক্ষেত্রে সবাই "গর্বিত ধার্মিক" দের ভয় পায়। আমি কত বড় হিন্দু বা মুসলমান-এই বিজাতীয় আইডেন্টি ক্রাইসিসে ভোগা মানসিক রুগীরা, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাতিল হলে-সেটা দেশ এবং দশের মঙ্গল।

অবশ্য এর মানে এই না, যা মানুষের সার্বিক খোঁজ, বা নিজের প্রতি নিজের অনুসন্ধান-সেটা আধ্যাত্মিকতাই বলুন বা বিশ্বমানব মাঝে নিজের সন্ধানই বলুন-সেটা বদলাবে। আমি কি বা আমার জীবনের উদ্দেশ্য কি সেই চিরন্তন প্রশ্ন থেকেই যাবে। শুধু এইসব প্রশ্নের "মেইড ইজি উত্তর" আছে মার্কা গুরু এবং ধর্মগুলোর উৎপাত কমবে।  তবে সেটাও ভারতে নতুন কিছু না। চন্দ্রগুপ্ত মোর্য্য বিয়াল্লিশ বছর বয়সে জৈন ধর্মে সন্ন্যাস নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন জীবনের উত্তর খুঁজতে। সেই অতীতে কোন ধর্ম, দর্শন, গুরুবাবারা জীবনের এইসব গুরুতর প্রশ্নের উত্তর দিত না। প্রত্যেকটা লোককে তার নিজের মতন করে উত্তরটা খুঁজতে হত সারাজীবন। গীতা, কোরান, বাইবেলের মেইড ইজি সেখানে পাওয়া যেত না।  সেইখানেই আমরা ফিরছি দ্রুত।





         

Friday, June 2, 2017

অটোমেশন এবং চাকরিতে ছাঁটাই ঃ সত্যিই কি চিন্তার কোন কারন আছে?

(১)
অটোমেশন ১৯৬১ সাল থেকেই উন্নতবিশ্বে "লো ওয়েজ" চাকরি রিপ্লেস করে চলেছে। ইনফ্যাক্ট ১৯৯০ সালে আমেরিকাতে ফ্যাক্টরিতে যত লোক কাজ কর‍ত এখন তার ১০% ও নেই। অথচ ইন্ডাস্ট্রিয়াল আউটিপুট এই ত্রিশ বছরে বেড়েছে প্রায় আড়াইগুন।  তাহলে এই ৯০% লোক গেল কোথায়?  ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অটোমেশনের দৌলতে বহুদিন থেকেই আস্তে আস্তে এখন শিল্প শ্রমিক বলতে যা বোঝায়, সেই ওহেনরীর হাতুড়ি ধরা টাইপ-আজকে আর নেই আমেরিকাতে।  আমি পেশার প্রয়োজনেই  প্রচুর ফ্যাক্টরি ভিজিট করি আমেরিকাতে।  অনেক ফ্যাক্টরীই এত অটোমেটেটড সেখানে কোন শ্রমিকই থাকে না-সেখানে ভারতে সমমাপের ফ্যাক্টরীতে ফ্লোরে শ্রমিক গিজগিজ করছে!!

    অটোমেশনের জন্য চাকরি ছাঁটাইএর সাথে আমেরিকানরা অভ্যস্থ থাকলেও ভারতীয়দের অভিজ্ঞতা হচ্ছে সম্ভবত এই প্রথম। কারন এই বছর খুব সম্ভবত দুই লাখ সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার ছাঁটাই হবে ভারতের সেরা আইটি কোম্পানীগুলো থেকেই। আগামী পাঁচ বছরে সেই ট্রেইন্ড আরো দ্রুত বাড়বে। আমি অবাক হব না যদি শুনি ২০১৮ সালে ছাঁটাই এর সংখ্যা ২ লাখ থেকে বেড়ে পাঁচ লাখ হয়েছে।  আগামী পাঁচ বছরে সম্ভবত ভারতের অর্ধেক সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরিই যাবে-অর্থাৎ কুড়ি লাখের মতন। তবে নতুনদের ভয় নেই।  তাদের জন্য নতুন চাকরিও তৈরী হবে!

এটা শুধু সফটোয়ার না-সব ক্ষেত্রেই আসবে। সরকারি চাকরি, শিক্ষকতা, উকিল, ডাক্তার, গবেষনা-ইনফ্যাক্ট সবকিছুই সফটোয়ার মানুষের থেকে অনেক ভাল পারবে।  সারা জীবনে আপনি কজন ভাল শিক্ষক দেখেছেন? সারা জীবন কটা ভাল ডাক্তার দেখেছেন? একটা ছোট তথ্য দিই। আমেরিকাতে শুধু ভুল চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর মারা যায় চার লাখ লোক। সেখানে আই বি এমের ওয়াটসন এখনই দেখাচ্ছে, তাদের ডায়াগোনিসের ভুল মানব ডাক্তাদের ১%!   ল ক্লার্কদের একটা বড় কাজ কনট্রাক্ট রিভিউ করা- এটা এখন প্রমানিত সফটোয়ার ওই কাজ অনেক ভাল পারে এবং আমেরিকার বড় বড় কোম্পানীগুলো এখন আর আগের মতন উকিল নিচ্ছে না।  সফটোয়ার দিয়েই রিভিউ করাচ্ছে। সরকারি চাকরি অটোমেট করা সব থেকে সহজ-তাতে দুর্নীতি অনেক কমে। কিন্ত রাজনৈতিক কারনে সেটা করা হয় না।

 আপনি হয়ত ভাবছেন তাহলে এই যে এত এত প্রোগ্রামিং করতে হবে, কম্পিউটার সায়েন্টিস্টদের চাকরি অন্তত থাকবে? সেগুড়ে বালি সেখানেও। গুগলের ডীপ ব্ল  বা আধুনিক ডিপ লার্নিং সিস্টেম নিজেই নিজের কোড লিখে নেবে!!



(২)
 মোদ্দা কথা আপনার পেশা যাইহোক না কেন, ৫০ বছরের মধ্যে "চাকরি" বস্তুটির অস্তিত্ব থাকবে না। আপনি যতই বকুন না কেন, যখন দেখবেন আপনার প্রতিবেশীর ছেলে একটি আধুনিক ই-লার্নিং সিস্টেমে অঙ্ক শিখে, অঙ্কে তুখোর হচ্ছে, আপনি টিউটরের কাছে না পাঠিয়ে, তার থেকেও কম খরচে, ছেলেকে ইলার্নিং সিস্টেমেই দেবেন। মার্কেটই ঠিক করে দেবে, "ভুলে ভর্তি মানুষের" চাকরি নেই!! যেমন আমেরিকাতে উকিলরা চাকরি পাচ্ছে না কর্পরেট-কারন আইবিএম ওয়াটসন অনেক কম খরচে তাদের কাজ করে দিচ্ছে-এবং তা নির্ভুল ও বটে।

তাহলে মানুষ কি করবে? চাকরি না করলে খাবে কি?

কোন সন্দেহ নেই আমাদের রাজনৈতিক সিস্টেম বদলাবে। আলরেডি উন্নত দেশগুলিতে উনিভার্সাল বেসিক ইনকামের দাবী তীব্র হচ্ছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র সবাইকে প্রতিমাসে একটা মাসোহারা দেবে যাতে সবাই খেতে পড়তে পারে।  থমাস পাইন বহুদিন আগে এমন হবে ভেবেছিলেন। গত ত্রিশ বছরে, এই নিয়ে সোশ্যাল সায়েন্সে অনেক গবেষনা এবং নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রেজাল্ট পজিটিভ।  তবে এটাকে কমিউনিজম ভাবার কোন কারন নেই-যদিও আল্টিমেটলি সুপার অটোমেটেড সোসাইটিতে কমিনিউজমের ধারনা গুলো এমনিতেই আসবে। কোন আন্দোলন লাগবে না। কারন এই মুহুর্তে ফ্রীডম্যানের মতন ক্যাপিটালিস্ট ইকনমিস্টরাই উনিভার্সাল সোশ্যাল ইনকামের কথা বলছেন।

 ব্যপারটা সিম্পল। মানুষকে চাকরি করতে হবে কেন?  চাকরি করা ত দাসত্ব! ড্রাজারি। মানুষ কবিতা লিখবে, গান বাঁধবে, ছবি আঁকবে, প্রেম করবে। এসব বাদ দিয়ে দাসত্ব করবে কেন মানুষ? চাকরি করা ত সিস্টেমের দ্বাসত্ব।  চাকরি করবে মেশিন-রোবট।  পৃথিবীর অধিকাংশ লোকই চাকরি করে পেটের দায়ে। সংসার চালানোর দায়ে।

 তবে আগামী পঞ্চাশ বছরে সবার চাকরি যাচ্ছে না। যারা অঙ্ক বিজ্ঞান ভাল করে শিখেছেন তারা আরো কিছুদিন টিকবেন-কারন পৃথিবীতে প্রচুর সমস্যা-সুতরাং গবেষনার কাজে এখনো অনেক অনেক লোক লাগবে।

 চাকরি টিকবে শুধু এন্টারটেইনারদের। কবি, গায়ক, নায়ক, খেলোয়াড়রা টিকে গেলেন। কারন মানুষের হাতে প্রচুর সময় থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে সিনেমা, খেলা গানের চর্চা আরো বাড়বে, কমবে না।  সাহিত্যর ব্যপারে সিউর না। কারন আস্তে আস্তে  সব কিছুই অডিওভিস্যুয়ার হয়ে যাচ্ছে। পাঠ ভিত্তিক ফিকশনের পাঠক থাকবে কি না সন্দেহ আছে-কিন্ত  কালজয়ী সাহিত্য ছাড়া, কালজয়ী সিনেমা হয় না। ফলে ভাল সিনেমার জন্য ভাল সাহিত্য টিকে যাবে হয়ত। অসম্ভব না। আজকাল নিউয়ার্ক বা লস এঞ্জেলেসের ভবঘুরে লেখক সঙ্ঘের প্রায় সবাই দেখি নিজের পান্ডুলিপিএর জন্য প্রযোজক খোঁজে-বেস্ট সেলার হতে চাইছে না কেউ। সবাই জানে টাকা সিনেমাটিক  এডোপশনেই।



 সুতরাং চাকরি চলে যাবে বলে আতঙ্কিত হওয়ার কারন নেই। বরং আনন্দ করুন। মানব দাসত্বের দিন শেষ হতে চলেছে।  এবার প্রান খুলে কবিতা লিখুন, গান শুনুন-খেলাধূলো করুন। মানবমুক্তির সেই সুদিন খুব শীঘ্রই আসিতেছে।



























Monday, March 13, 2017

বামজনতা কহিলা বিষাদে!

(১)

বলছিলাম–
না, থাক্ গে!
কী আসে যায় হাতে নাতে
প্রমাণ এবং সাক্ষ্যে।

মোড়লেরা ব্যস্ত বেজায়
যে যার কোলে ঝোল টানতে।
সারটা দেশ হাপিত্যেশে,
পান্তা ফুরোয় নুন আনতে। ( সুভাষ মুখোপাধ্যায়)


 আমেরিকাতে ট্রাম্প, ভারতে মোদি। লিব্যারালদের এবড় কঠিন সময়, গভীর দুঃখের দিন। 

 বামজনতা, লিব্যারাল জনতার এমন করুণ অবস্থা কেন-সেটা বিশ্লেষন করা জরুরী।

 উদাহরন দিয়ে শুরু করি। 

 দুদিন আগে মোদি কোন একটা জনসভায় বলেছিলেন, হার্ভাডের ডিগ্রির থেকে হার্ড ওয়ার্ক জরুরী। ভারতের অর্থনীতির দিক ঘোরাতে, বুঝতে। যথারীতি এলিট শ্রেনী কটাক্ষ শুরু করে।  মোদির উদ্দেশ্য ছিল অমর্ত্যসেনের বক্তব্যর বিরুদ্ধে।  অমর্ত্য সেন সহ অনেক অর্থনীতিবিদই মন্তব্য করেছিলেন ডিমনেটাইজেশনের ফলে ভারতের অর্থনীতির ক্ষতি হবে।

 অমর্ত্যসেন তার বক্তব্য রাখতেই পারেন। সমস্যা হচ্ছে এই যে অর্থনীতি গণিতের দৃষ্টিতে একটি জটিল সিস্টেম-এবং অর্থনীতির ভবিষ্যতবানী হাজারটা নোবেল লরিয়েট একসাথে বসে অঙ্ক করলেও বলতে পারবে না।  ভারতের মতন এমন জটিল একটা অর্থনীতির দেশে ওই ভাবে কোন ভবিষ্যতবানী কি করে উনি করলেন, কেন করলেন জানি না। উনি বলতেই পারতেন এই এই কারনে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হবে-কিন্ত এই এই কারনে উলটে লাভ ও হতে পারে।  আমি এই জন্যেই এটা লিখছি যে একটা জটিল সিস্টেম কি ভাবে এগোবে-তার একটা না অনেক পথ থাকতে পারে। উনার মতন একজন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ যখন ক্রিটিক্যাল দৃষ্টীভঙ্গী বাদ দিয়ে, সরাসরি ডিমনেটাইজেশনকে দুশলেন -সেটা মোটেও একাডেমিক সুল্ভ কোন বক্তব্য ছিল না। সেটা রাজনৈতিক দৃষ্টীভঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।

 কারন ব্ল্যাকমানি ভারতের প্রগতির জন্য বিরাট সমস্যা। কোলকাতা সহ সব মেট্রোতেই হাজারে হাজারে ফ্ল্যাট উঠছে - ফ্ল্যাটের দাম একটা শহরের মধ্যবিত্তদের মিডিয়ান ইনকামের ত্রিশ গুন ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে হওয়া উচিত পাঁচ গুনের কাছাকাছি।  একটা ফ্ল্যাট ভাড়া দিলে যা পাওয়া যায়, তা ফ্ল্যাটের দা্মের দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ। ভারতের যা ইন্টারেস্ট রেট, তাতে এটা হওয়া উচিত বারো শতাংশের ওপরে ( আমেরিকাতে আট )।  অর্থাৎ সবটাই ফাটকা মার্কেট।  ভারতের রিয়াল এস্টেট অন্তত চার থেকে পাঁচগুন বেশী ইনফ্লেটেড। জমির দাম ও তাই। পশ্চিম বঙ্গে বড় রাস্তার কাছে জমি চোদ্দ থেকে কুড়ি লাখ টাকা বিঘে যাচ্ছে। সেই টাকার সুদ দুলাখ ত হবেই। এদিকে বছরে তিনবার ধান চাষ করলে সেই জমি থেকে হার্ডলি ষাট হাজার টাকার ফসল আসে। নীট লাভ কুড়ি।  সব্জি কলা চাষ হলে সেটা চল্লিশ পঞ্চাশ হয়। দু লাখ হয় না। তাহলে এই ফাটকা দাম আসে কোত্থেকে?

 ইনফ্যাক্ট মোদি ডিমনেটাইজেশন করে বেলুনটা ডিফ্লেট না করলে ভারতের অর্থনীতি বিরাট ক্রাশ করতে পারত।  নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুধু কোলকাতার রাজারহাটেই জমির দাম কমেছে ৪০%। আরো অনেক কমবে।  মহারাষ্ট্রের ফ্ল্যাট বিক্রি কমেছে ৫০%। 

ব্ল্যাকমানির কুফল অনেক-সেসব কূটকাচালিতে যাচ্ছি না। শুধু দুটো পয়েন্ট বলি কি ভাবে এই ব্ল্যাক মানি ভিত্তিক রিয়াল এস্টেটের জন্য ভারতের ব্যবসা বাণিজ্যর সাংঘাতিক ক্ষতি হচ্ছিল। যার ফলে লং টার্মে ভারতের ব্যবসার বিশাল ক্ষতি হত। 

 কোলকাতায় রাস্তার ধারে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ স্কোয়ারফুট দোকান কিনতে লাগে প্রায় আশি থেকে নব্বই লাখ টাকার সেলামী ( ভদ্র জায়গায়)।  সুতরাং মালিককে প্রায় মাসে ষাট হাজারটাকা লাভ রাখতে হবে রিয়াল এস্টেটের দাম মেটাতে। ফলে কোলকাতা ব্যঙ্গালোর সর্বত্রই ভদ্র ভাবে বসে খাওয়ার রেস্টূরেন্টগুলোর সাংঘাতিক দাম। যে দামের ৭০% যাচ্ছে রিয়াল এস্টেটের দায় মেটাতে। ফলে দাম এখন আমেরিকার  থেকে বেশী। সেক্টর ফাইভে বালীগঞ্জ প্লেসে থালির দাম প্রায় ছশোটাকা বা নয় ডলার।  এদিকে আমি আমেরিকাতে আমার বাল্টীমোর অফিসের কাছে মাত্র ছ ডলারে ওর থেকে ভাল চাইনিজ খাই।  এর ফলে যেখানে ১০০ টা রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে পারত -করছে হয়ত মোটে পাঁচটা।

 ভারতের সব ব্যবসাতেই জমি বা রিয়াল এস্টেট একটা বড় সমস্যা। ওপারেটিং ইনকামের একটা বড় অংশ শুষে নিচ্ছে রিয়াল এস্টেট। 

 দ্বিতীয় সমস্যাটা আরো গভীরে।  ভারতের সব পুঁজি ছুটছে জমির পেছনে।  আমি ডিসেম্বর মাসে পুনের এক ফ্যাক্টরি মালিকের সাথে বসে কথা বলছিলাম। সেকন্ড জেনারেশন মারোয়াড়ি, আমেরিকাতে শিক্ষিত।  নতুন টেকনোলজিতে প্রচুর উৎসাহ।  এদিকে ফ্যাক্টরিটার দিকে তাকালে বোঝা যায় ফ্যাক্টরিটা জীর্ন-কিন্ত প্রচুর উৎপাদন দিচ্ছে। আমি বলেই ফেললাম, আপনি ফ্যাক্টরিতে যথেষ্ঠ রিইনভেস্ট করেন?

 উনি বল্লেন, ইচ্ছা ত থাকে কিন্ত কেন করবো বলুনত ?  ফ্যাক্টরি থেকে যে ইনকাম হয়, তা জমিতে ঢালা অনেক বেশী লাভজনক। ফ্যাক্টরিতে দুকোটি টাকা ইনভেস্ট করলে মার্কেটে বিক্রি হলে তবে পাঁচ বছরে হয়ত চারকোটি  উঠবে।  যদি ভাগ্যভাল থাকে। সেখানে ঠিক ঠাক জমিতে ইনভেস্ট করলে দুকোটি থেকে দশকোটি হবেই কয়েক বছরে। গ্যারান্টিড!    

ইনফ্যাক্ট গোটা ভারত জুরে এক অবস্থা। ব্যবসা, ম্যানুফাকচারিং এর সব লাভের  টাকা শুষে নিচ্ছিল রিয়াল এস্টেট। এমনিতেই চীনের উৎপাদিত পন্যের সামনে ত্রাহি ত্রাহি রব-সেখানে ম্যানুফাকচারিং এ ইনভেস্ট না করে ভারতীয় মালিকরা জমি বাড়ি কিনে গেছে। এটা বন্ধ করতে না পারলে, ভারতের অর্থনীতি লাটে উঠত। নেহাত ১৫০ বিলিয়ানের আই টি আউটসোর্সিং আছে বলে এই দৈন্যদশা বোঝা যায় না। কিন্ত আউটসোর্সিং এ বাঁশ দিলে, যা ট্রাম্প সবে দেওয়া শুরু করেছেন, কঙ্কালের ওপরে যে রাজার আলখাল্লা আছে, তা খসে একদিনে কঙ্কালটা বেড়িয়ে যাবে!

 মোদি এই অবস্থা ঠেকাতে দুটো জিনিস করলেন। এক কালো টাকার ওপর সার্জিকাল স্ট্রাইক। দুই মেইড ইন ইন্ডিয়া।  ডিমনেটাইজেশনের ফলে কোলকাতায় ফ্ল্যাটের দাম জমির দাম এত দ্রুত কমছে এদের মারোয়ারী মালিকরা প্রচুর সস্থায় বিক্রি করতে  এখন বাধ্য হচ্ছেন। যাতে লস ঠেকাতে পারেন। আর যাইহোক আগামী দশ বছরে ফ্যাক্টরি মালিকরা জমি বাড়ির ওপর ইনভেস্ট করবেন না এটা নিশ্চিত।  এর সাথে মেইড ইন্ডিয়া ক্যাম্পেনের জন্য ভারতের মিলিটারি থেকে অনেক জায়গাতেই দেশী  যন্ত্রাংশ চাওয়া হচ্ছে। ফলে ম্যানুফাকচারিং শিল্পে যদিও ভাঁটার টান ( এবং এখনো ডিক্লাইনিং), কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। 

 প্রশ্ন হচ্ছে, অমর্ত্য সেন ডিমনেটাইজেশনের খারাপ দিকগুলোই বলে গেলেন। ভালদিকটা ত বল্লেন না।  না কি অর্থনীতি সাবজেক্টটাই এমন জালি, তার নোবেল লরিয়েট ও জালিই হবে?  আমার ত বরাবরই মনে হয় পানের দোকানের মালিকের মাথায় যেটুক কমন সেন্স আছে, অধিকাংশ অর্থনীতির অধ্যাপকের মাথায় সেটুকুও নেই।  অমর্ত্য সেন জালি লোক নন।  তার পান্ডিত্য প্রশ্নতীত। কিন্ত  ডিমনেটাইজেশন নিয়ে তার বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রানোদিত, একাডেমিক না। 

     আমার বরাবরই মনে হয় বাম রাজনীতির সব থেকে দুর্বল দিক এই সব জালি সাবজেক্টের অধ্যাপকগুলোকে বেশী পাত্তা দেওয়া।  একজন রাস্তার ব্যবসায়ীও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে যেটুকু বোঝে এই সব বোদ্ধা অর্থনীতির পাবলিকগুলো সেটুকুও বোঝে না। 

 (২)
  ধর্ম নিয়েও লিব্যারাল সেকু মাকুদের রিএসেমেন্ট দরকার।

 ল্যাটিন আমেরিকার বাম নেতারা কেউ মার্ক্স লেনিনের নাম মুখে আনে না। হুগো শাভেজ থেকে ইভো মরালেস-তার বামপন্থাকে যীশুর পদর্শিত বামপন্থা বলেন।  তাদের প্রো পুওর রাজনীতিকেই যীশুর পথ বলে দাবী করেন বাইবেল থেকে।  ইভো মরালেস একটা ইন্টারভিঊতে পরিস্কার বলে ছিলেন, লেনিন স্টালিনের যে বামপন্থা তা আমাদের না-কারন তা হিংস্র, খুনে। কোটি কোটি মানুষ সেই কাল্টে খুন হয়েছে। আমাদের পথ যীশুর দেখানো ভালোবাসার বামপন্থা। অথচ আমাদের বামপন্থীরা শ্রী চৈতন্যের মধ্যে সেই ভালোবাসার বামপন্থা খুঁজে পেলেন না! 

 ভারতের বামপন্থিরা গণবিচ্ছিন্ন। শাক্যজিত দেখলাম মোদির জয়ে কান্ডজ্ঞান হা্রিয়ে লিখেছে,  প্রতিষ্ঠানিক হিন্দু ধর্ম নাকি কোনদিন প্রতিষ্ঠান বিরোধি না। 

      প্রথমত কোন "প্রতিষ্ঠানিক" ধর্ম বা রাজনীতি কখনো প্রতিষ্ঠান বিরোধি হয়? এগুলো গাঁজা খেয়ে লেখা না?

     দ্বিতীয়ত সমস্ত প্রতষ্ঠান বিরোধি আন্দোলন সে ধর্ম বা রাজনীতি যাইহোক না কেন, ক্ষমতা পেলে তা প্রতিক্রিয়াশীল হয়। ইসলাম, বৌদ্ধ খীষ্ঠান সব ধর্মের শুরু প্রতিবাদি হিসাবে-কিন্ত আস্তে আস্তে তা সাম্রাজ্যবাদি প্রতিক্রিয়াশীল হয়েছে।

  তৃতীয়ত শাক্য কি শ্রীচৈতন্যের নাম শোনে নি? উনি জাতপাতের বেড়া ভাঙেন নি? গরীব ধনীর পার্থক্য ঘোচান নি?  ট্যাক্স কালেক্টরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন নি? 
   
 মহাভারতের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠানিক, প্রতিবাদি দুই চরিত্রই আছে।  বিদুর যুধিষ্ঠীরকে রাজ্য চালনার প্রথম ধাপ হিসাবে কি বলেছিলেন?

   "ধনের অসাম্যেই মূলত রাজনৈতিক অশোন্তোষ তৈরী হয়। এতেব এ রাজন, তোমার প্রথম কর্তব্য ধনীদের থেকে বেশী ট্যাক্স কালেক্ট করে, সেই টাকায় জনকল্যান মূলক কাজ কর "

  এই স্যোশ্যালিস্ট রাষ্ট্রের ধারনা ত মহাভারত বহুদিন আগেই দিয়েছে। অথচ ভারতের বামেরা ভারতের সংস্কৃতি এবং দর্শনকে বামপন্থার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে! 

  কারন শাক্যজিত ভারতীয় বামপন্থার কোন বিচ্ছিন্ন ব্যামো না-এদের বাপ ঠাকুর্দারাও আসলেই কোনদিন ভারতীয় দর্শনকে গভীর ভাবে জানার চেষ্টা করে নি। ফলে গুন্ডাগর্দি করে পশ্চিম বঙ্গের অলস বাঙালীর মধ্যে ৩৪ বছর টিকেছিল বটে-কিন্ত জনগণের মধ্যে এদের ভিত যে কত দুর্বল ছিল, সেটা ক্ষমতা থেকে সরার পরে বোঝা যাচ্ছে। 

 ইভো মরালেস এবং হুগো শাভেজ থেকে আরো দুটো জিনিস শেখার আছে। এরা ওইসব জালি অর্থনীতিবিদদের হেগো পোঁদ চেটে আঁতলামো করে নি।  ইভো মরালেস বিকল্প অর্থনীতি, কোয়াপরেটিভ অর্থনীতির ওপরে জোর দিয়েছিলেন বেশী। তার পার্টির সবাই কোয়াপরোটিভের সাথে জড়িত। কেরালায় বামপন্থীদের সাফল্যের পেছনে মূলত কোয়াপরেটিভ।  সেখানে সিপিএম, কংগ্রেস আপ -এদের ত কোন বিকল্প অর্থনীতি নেই । শুধু  সামাজিক প্রকল্পর মাধ্যমে লোককে ঘুঁশ দেওয়ার ধান্দা। তাতে আমার আপত্তি নেই। ওটা ধনের বন্টন। কিন্ত লোকেদের ব্যবসা বানিজ্যর সুবিধা করে দেওয়ার কোন রূপরেখা সেখানে নেই।      বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্থার দিশা না থাকলে লোকে এদের বিশ্বাস করবে কেন?

      (৩)

  তৃতীয় সমস্যা ইসলাম নিয়ে অবস্থানে।  আজকে চীন, জাপান, রাশিয়া, আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স-সবাই জিহাদিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ইসলামিক মৌলবাদের বিরুদ্ধে যেখানে গোটা বিশ্ব অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে সেখানে ভারতের সেকু মাকুরা ইসলামের বিরুদ্ধে বলতে ভয় পাচ্ছে। ভোট হারানোর ভয়।   ইসলাম কোন ধর্ম না। ইসলাম আধ্যাত্মিক-রাজনৈতিক মতবাদ।  তাতে আলাদা রাষ্ট্রনীতি, আইন সব কিছুই রয়েছে। যা আধুনিক রাষ্ট্রের পরিপন্থী।  সুতরাং ইসলাম আধুনিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সব থেকে বড় হুমকি। এগুলো কি চাপা সম্ভব? সুতরাং আমি ইসলামি তামাকু সেবন ও করব, আবার মোদিকে লিব্যারালিজম শেখাতে যাব, সেটাত জনগন মানবে না।  ইসলাম নিয়ে সঠিক অবস্থান না নিতে পারলে হিন্দু ভোট একত্রিত হবেই।  আজ উত্তর প্রদেশে যা হয়েছে, কাল পশ্চিম বঙ্গেও হবে। শুধু নেতার অপেক্ষা।  এবং ধর্মীয় আবেগে এটা হচ্ছে না। শ্রেফ নিজেদের জমি জায়গা ব্যবসা বাঁচানোর জন্য এটা হবে। কারন সামনে রয়েছে বাংলাদেশ। কোন দেশে বা রাজ্যে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু হলে কি হয় তার জন্য পাকিস্তানে যেতে হবে না, কাশ্মিরে যেতে হবে না, হাতের সামনে রয়েছে বাংলাদেশ।  যেখানে হিন্দুদের জমি ব্যবসা সব থেকে বেশী লুঠপাট করে কোন ইসলামিস্ট পার্টি না-তাদের মধ্যেকার তথাকথিত মডারেট পার্টি।  এটুকু বোঝার ক্ষমতা সাধারন হিন্দুর রয়েছে। বাম-সেকু বিগ্রেডের নেই। এরা যদি ইসলামিক মৌলবাদ আটকাতে মাঠে না নামে, হিন্দু ভোট কনসলিডেশনের সামনে শ্রেফ ভ্যানিশ হয়ে যাবে । যা হয়েছে আসামে এবং উত্তর প্রদেশে।




























     








Sunday, January 15, 2017

দিদির বাংলা যেমন দেখলাম

                                                                                   (১)    
যদিও কোলকাতায় আসি বছরে বেশ কয়েকবার, কাজের চাপে, গ্রাম বাংলা বা কোলকাতা কোনটাই ঘোরা হয়ে ওঠে না।  বহুবছর বাদে, এবার বেশ প্ল্যান করেই এসেছিলাম-ক্রিসমাসের সময়টা গ্রাম মফঃশহরে ঘুরবো। তৃনমূল জমানায়, বাংলার লোকজন কেমন আছে, জানার চেষ্টা করব।

 শীতের ওই দিনগুলো এমনিতেই উৎসবের পালা পর্বন। তারপরে দিদির নির্দেশে এই সময়টাতে ব্লকে ব্লকে উৎসব। পিঠেপুলি, ভ্রমন, চুনোমাছ। দিদি আক্ষরিক অর্থেই বাংলাকে উৎসবমুখর করেছেন। রাস্তায় যেতে যেতে কতশত উৎসবের পোষ্টার, ফেস্টুন। এর মধ্যে কালনার পর্যটন উৎসবে নিজে গেলাম একরাত। রাত বারোটার সময়ও দশহাজার ছেলেমেয়েরা নিরাপদে উৎসবের ইমেজে গানবাজনা উপভোগ করছে। মোদ্দা কথা দিদির বাংলায় ছেলেপুলেরাযে উৎসবের আমেজে আছে সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্ত শব্দদূষনের সমস্যা আছে। যত্রতত্র যখনখুশি পিকনিক হচ্ছে। সেটা আনন্দের কথা। কিন্ত ইদানিং পিকনিকের সাথে জেনারেটর চালিয়ে হাজার ওয়াটের স্পিকার বসিয়ে নাচাগানা হয় সর্বত্র।  এই একটা দৃশ্য কালনা, করিমপুর, ফলতা সর্বত্র চোখে এল। লোকজন বিরক্ত । রাতে শোয়া দায়। কিন্ত কারুর সাহস নেই এদের বিরুদ্ধে বলার। তৃনমূলের নেতা বিধায়কদেরএই দ্বায়িত্বটাও নিতে হবে।  উৎসব অবশ্যই ভাল-কিন্ত তার জন্য হাজার ওয়াটের স্পিকার বসিয়ে লোকজনকে উত্তক্ত করার মানে হয় কি?

 পাশাপাশি সব শহরেই দেখলাম নাট্যউৎসব চলছে।  সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল এখন অনেক মুক্ত।  সেইসব উৎসবে লোকও হচ্ছে অনেক।


                                                          (২)

 রাস্তাঘাটের অবস্থা গ্রামের দিকে বেশ ভাল। রাজ্য সরকগুলির এখন তখন ( সিপিএম জমানা) মনে করলে, স্বর্গ নরকের তুলনা হয়।  করিমপুর কৃষ্ণনগর, কৃষ্ণনগর কালনার রাস্তাগুলোতে অনায়াসে এখন একশো কিলোমিটার স্পিডে গাড়ি চালানো যায়। তবে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা এবং ট্রাকের সংখ্যা এখন অনেক অনেক বেশী। ফলে রাস্তা ভাল থাকা স্বত্বেও রাত ছাড়া স্পীডে চালানো যায় না।  এবং ছোট ছোট শহরগুলোতে টোটোর এত দৌড়াত্ব, এই শহরগুলোতে বাইপাস না থাকলে, একটা ছোট শহর ক্রস করতেও গাড়ীগুলো আধঘন্টা টোটো ট্রাফিকে আটকাচ্ছে। এই সরকারের নেক্সট স্টেপ হওয়া উচিত, বড় বড় শহরগুলোতে বাইপাস বা ওভারব্রিজের ব্যবস্থা করা-যাতে এক্সপ্রেস ট্রাফিক শহরের বাইরে দিয়ে চলে যেতে পারে। আমেরিকাতে এটা বহুদিন ধরে আছে।  এক্সপ্রেস ট্রাফিক শহরের বাইরে দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকারে বার করে দেওয়া হয়। আশা করব, দিদি যখন এতটাই করেছেন, এই নেক্সট স্টেপটাও আগামী দশ বছরে আসতে চলছে।

 এবার আসি টোটোর কথায়। গ্রাম এবং জেলাশহরগুলিতে এখন টোটো হচ্ছে ডিফল্ট ট্রান্সপোর্টেশন। ব্যাটারি চালিত রিক্সা। ফলে শব্দ দূষন, বায়ুদূষন নেই। অনেক বেকাররা করে খাচ্ছে। সিম্পল টারিফ সিস্টেম-চড়লেই দশটাকা-যেকোন দুটো পয়েন্টের মধ্যে।  টোটোগুলো সারাদিনে ৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করছে। ব্যাটারি মেইন্টেনেন্সের দরকার ছমাসে একবার।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকই মালিক। মাসে দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকা রোজগার।

কিন্ত সমস্যা হচ্ছে টোটোর সংখ্যা বেড়েছে অসম্ভব।  রাস্তায় হাঁটা দায়।  কোন রেগুলেটরি অথোরিটি নেই। তবে দূষনমুক্ত এই নিঃশব্দ বিপ্লবকে স্বাগত। আমি  মনে করি প্রযুক্তিই মুক্তির আসল উপায়। কিন্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা দরকার।


                                                                              (৩)

সিপিমের ভবিষ্যত পশ্চিম বঙ্গে শুন্য। অধিকাংশ পার্টি অফিস খুলছেই না। তালাবন্ধ।  শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ, কঅর্ডিনেশন কমিটি সব মৃত।  নেতার মুখ বন্ধ করে বসে আছেন-কারন মুখ খুললেই ট্রান্সফার হবে আরামের শহর থেকে অনেক দূরে।  জনগণ এদের বহুদিন আগেই রিজেক্ট করেছিল-শুধু  হার্মাদদের দিয়ে ভোট করিয়ে ভাবত জনগন এদের সাথে। এখন পরিস্কার জনগন খুব পরিস্কার ভাবেই বুঝেছে, সিপিএম আদতে কর্মনন্য নেতাদের আখরা। সিপিএমের নেতারা তুলনামূলক ভাবে সৎ হতে পারে কিন্ত সিপিএমের আমলে আডমিনিস্ট্রেশনকে যেভাবে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল, তার ফল দেখেছে রাজ্যবাসী।

 প্রথমে স্কুলের কথা আসি। আমি দুজনের সাথে কথা বল্লাম। একজন হাইস্কুলের হেডমাস্টার, অন্যজন প্রাইমারী স্কুলের। জন্ম ইস্তক এদের দেখে আসছি। সিপিএম ফ্যামিলি। ডিএ নিয়ে খুশী না হলেও শিক্ষার জন্য, তৃনমূল যা করছে, তার জন্য তারা খুশী।

 প্রথমে প্রাইমারী স্কুলের কথায় আসি। আগে সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা বারোভূতে খেত। এখন ঠিক ঠাক খরচ হচ্ছে।  আমি যে গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে পড়তাম, সেখানে ছিল তিনটে ঘর, বাকি গাছের তলায় আমাদের পড়াশোনা হত। সিপিএম আমলে শিক্ষকদের বেতন বাড়ছিল, কিন্ত স্কুলের কোন উন্নতি হয় নি। ফলে গ্রামের দিকেও প্রাইমারী স্কুলে ছেলে মেয়েদের না পাঠিয়ে প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের রমরমা শুরু হয় সিপিএম জমানাতে। এখন আস্তে আস্তে সেটা বদলাচ্ছে। প্রাইমারি স্কুলগুলোতে সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাতে টাইলস বসানো বাথরুম। পানীয় জলের ব্যবস্থা।  পর্যাপ্ত ঘর, চেয়ার টেবল সব কিছুই হয়েছে। এগুলো নিজের চোখেই দেখলাম। সরকার পাঠ্যপুস্তকগুলোও অনেক ভাল করেছে। রিপোর্টিং কম্পুটারাইজড । ফলে আস্তে ইংলিশ মিডিয়াম থেকে আবার সরকারি প্রাইমারী স্কুলের ওপরে ভরসা বাড়ছে।  সিপিএম সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ন ধ্বংস করে দিয়েছিল। শুধু শিক্ষকদের মাইনে বাড়িয়ে স্কুলগুলো বাঁচানো যেত না। দরকার ছিল পরিকাঠামো। সেই খাতে সিপিএম একদম খরচ করে নি। মমতা ব্যার্নার্জি আস্তে আস্তে সরকারি স্কুলগুলোকে পথে আনছেন।

 হাইস্কুলের অবস্থা এখন অনেক ভাল।  সিপিএমের আমলে গ্রামের স্কুলের শহরের শিক্ষকরা সপ্তাহে দুদিনের বেশী স্কুলে যেতেন না। শিক্ষিকারা আবার আসতেনই না প্রায়! এবিটিএর কাছে নাকখঁত করা হেডমাস্টারমশাইরা কিছু বলার সাহসই পেতেন না। এখন স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সপ্তাহে ছদিনই দেখা যাচ্ছে। কারন স্কুল কমিটিগুলোই এখন স্কুল চালাচ্ছে-যেখানে অভিভাবকদের কথাই শেষ। হতে পারে তারা তৃনমূলের লোক। কিন্ত অভিভাবক ত  বটে। সিপিএম আমলে পিটিএ বা স্কুল পরিচালন পর্ষদ ছিল ছুঁচোজগন্নাথ। শিক্ষকরা এবিটিএর শিল্ডিং পেত। এখন তা আর নেই। তৃনমূলের লোকজনের চাপেই এটা হয়েছে। অনেকেই বলছেন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। কিন্ত কি লাভ হত শিক্ষক নিয়ে যারা স্কুলেই আসতেন না? বা স্কুল বিল্ডিং এর এত দূরাবস্থা ছিল, সবাই ইংলিশ মিডিয়ামে পাঠাত ছাত্রদের ?  স্কুল পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ না করে, শিক্ষক নিয়োগ করে কিই বা লাভ হয় জনগনের যেসব শিক্ষকরা স্কুলেই আসেন না?  এছাড়া এখন সব বই সরকার দিচ্ছে। ফলে পাঠ্যপুস্তক নিয়ে সিপিএম আমলে যে বিশাল ব্যবসা হত, তা বন্ধ এখন।

 স্কুল ছাত্রদের সাইকেল নিয়ে অনেক কথা শুনেছিলাম ফেসবুকে। অনেক ছাত্র ছাত্রীদের সাথে দেখা হল। নাহ, সেসব সাইকেল চলে এবং ছেলেমেয়েরা সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। ভেঙে যাচ্ছে না মোটেও । স্কুল ছাত্রছাত্রীদের সাইকেলটা একটা নিঃশব্দ বিপ্লব।

 বিডিও এবং ব্লক পরিচালন অফিসারদের ও এখন চেয়ারে পাওয়া  যায় ঠিক সময়ে। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে একটা নিয়মানুবর্তিতা এসেছে-যা আগে ছিল অনুপস্থিত। কলকাতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েও কাজ করানো কঠিন। পশ্চিম বঙ্গের ওয়ার্ক কালচার এতটাই খারাপ করে ছেড়েছিল সিপিএম।  সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা মমতা ব্যানার্জির সব থেকে বড় সাফল্য। কোলকাতায় লোকজনদের দিয়ে কাজ করানো কি কঠিন-সেটা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি। সেখানে মমতা ব্যানার্জি সরকারি কর্মচারিদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন-সেটাযে কত কঠিন কাজ তা আন্দাজ করতে পারি।

 মোদ্দা কথা যা দেখলাম, তাতে পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আশা করা যায়। যা সিপিএম আমলে প্রায় সম্পূর্ন ধ্বংসের পথে ছিল।



                                                                          (৩)

 তবে বাচ্চাদের অবস্থা খারাপ। সেটা অবশ্য পরিকাঠামোর জন্য। বাচ্চদের খেলার গা ঘামানোর জায়গা নেই।  খাচ্চে দাচ্ছে, মোটা হচ্ছে, পাঁচটা সাতটা করে প্রাইভেট টিঊটর। খেলাধূলা না করার জন্য সামান্য পড়াশোনার চাপও নিতে পারছে না। অনেকের সাথেই দেখা হল, মাধ্যমিক দেওয়ার আগেই নার্ভাস ব্রেকডাউনে।  আগামি দিনের নাগরিকরা শৈশবেই মানসিক বৈকল্যের কবলে পড়লে,  আগামী প্রজন্মের কি হবে?

 ছোটবেলায় যেখানে সেখানে একছটাক মাঠ ছিল-এখন সেখানে বহুতল। গোটা ভারত জুরেই প্রায় এক অবস্থা। একমাত্র যারা ধনী-ক্লাবের মেম্বার-তাদের জন্য টেনিস, ব্যাডমিন্টন কোর্ট আছে।  জায়গার অভাবে নিদেন পক্ষে যোগ ব্যায়াম অন্তত চলুক।

  কোলকাতায় একমাত্র সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউন এরিয়া প্ল্যান্ড সিটি। সেখানে মোটামুটি ভাল পার্ক, হাঁটার জায়গা আছে।  সাউথ কোলকাতায় লেকের ধারে ছাড়া হাঁটার জায়গা কোথাও নেই।

এর সাথে জুড়ুন মাত্রারিক্ত শব্দ এবং বায়ুদূষন।  উবের ওলার দৌলতে ইয়োলো টাক্সির সংখ্যা কিছু কমেছে। সেটা ভালর দিক। কোলকাতায় অটোবন্ধ করে ইলেক্টিক অটো বা টোটো চলুক। বাসগুলোও ইলেক্ট্রিকবাস হোক আস্তে আস্তে। জ্বালানী পোড়ানো বন্ধহৌক।  সবার রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে নিশ্চয় হবে।

 কোলকাতা এখন রাতে অনেক সুন্দর। রাস্তার দুধারে মায়াবী নীল আলোতে সুন্দরী কলকাতা যেন সত্তরের দশকের বলিউডি হেলেন।   এটলিস্ট একটা ভদ্র আধুনিক শহর বলে মনে হয়।  সাথে সাথে যদি পরিবেশটাও পরিস্কার রাখা যায়, কোলকাতা এগোবে আরো বেশী।

                                             (৪)

সাম্প্রদায়িকতা বিশাক্ত সাপের মতন ফনা তুলছে। প্রতিটা হিন্দু ফ্যামিলিতে ধূলাগড় নিয়ে আলোচনা। কতশত লাশ নাকি রাস্তায় পড়ে আছে। অবশ্য এক্সাক্টলি কি করে কেউ এসব জানল, সেটা নিতে প্রশ্ন করলে, উত্তর নেই।  সাম্প্রদায়িক গুজবের ফানুস বাতাসে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র আবেগে তৃণমূল সিপিএম বিজেপি ভেদাভেদ নেই। মুসলমান বিরোধিতার ভোটটা শুধু বিজেপির বাক্সে পড়ছে না-কারন বিজেপির নেতা নেই। তাছাড়া ওটা এখনো উত্তরভারতীয় গোবলয়ের পার্টি বাঙালীদের কাছে।  ফলে বিজেপি এখনো মমতার কাছে সেই অর্থে কোন থ্রেট না। কিন্ত বিজেপির উত্থানের সব মশালা প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু ভাল নেতার। "স" মার্কা দিলীপ ঘোষ মার্কা নেতা দিয়ে বঙ্গ বিজয় হবে না। অন্তত একজন ভাল বাঙালী নেতার দরকার বিজেপিতে-যা তাদের নেই এই মুহুর্তে।

  মমতা ব্যানার্জির সব ভাল কাজ জলে যাবে যদি না তিনি সাম্প্রদায়িকতাকে কড়া হাতে দমন করতে ব্যর্থ হন। অপারেশন বর্গার ফলে অনেক সম্পন্ন হিন্দু পরিবার মুসলমান ভাগচাষিদের কাছে জমি বেচতে বাধ্য হয়েছিল। সেই রাগটা ছিলই। এখন নানান গুজবে, প্রচারে সাম্প্রদায়িকতার বিশাক্ত সাপ ফোঁস ফোঁস করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার যা চিরকাল ধরেই হয়ে এসেছে-ফেসবুকের কল্যানে এখন তা ঘরে ঘরে। এর সাথে মুসলমা জঙ্গি, আইসিসিস ইত্যাদির হাত ধরে পোলারাইজেশন খুব বাজে জায়গায়। আগে হিন্দুদের একটা অংশ মুসলমানদের দেখতে পারত না।  সাম্প্রদায়িকতা  বিরোধি প্রচুর হিন্দু ছিল। যাদের অধিকাংশই ছিল সিপিএম।  এখন প্রায় পুরো অংশটাই মুসলমান বিরোধি। এদের অনেকেই আদি সিপিএম। বিজেপির খাতায় নাম লেখাতে বাকী আছে শুধু।

সিপিএমের ভাঙন অব্যহত থাকলে হিন্দু ভোট আস্তে আস্তে বিজেপিতে জড় হবে-যদিও সেটা কঠিন করে তুলেছে, বিজেপি নিজেই-যাদের ক্যাডাররা ভীষন ভাবেই অসন্তুষ্ট দিল্লীর ওপরে।

 এই পোলারাইজেশনটা আজ না হলে কাল হতই। এখন বেশ দাঙ্গার আবহে বিরাট আকার নিয়েছে, যদিও এই ধরনের হিন্দুরা ভোট টা এখনো মমতা ব্যানার্জিকেই দিচ্ছেন। কারন আর যাইহোক দিদি কাজ করবেন এই আস্থাটা এখনো আছে। কিন্ত সিপিএম সম্পূর্ন ধ্বংশ হলে আখেরে লাভ বেশী বিজেপির, ক্ষতি তৃনমূলের।

 সিপিএম যে সম্পূর্ন অপদার্থ ছিল, সেটা দিদি হাতে নাতে করে দেখিয়েছেন। কিন্তু সেটাই না আবার তৃণমূলের কাল হয়। কারন সিপিএম ধ্বংশ হলে, সেই ভোট টার অধিকাংশ যাবে বিজেপিতে।  আমি শুনলাম সেটা নাকি তৃনমূল বুঝেছে। তাই তারাই তাগদা দিচ্ছে সিপিএমের লোকেদের পার্টি অফিস খুলতে। অহ, এই দিনটা আসতই।