Monday, March 13, 2017

বামজনতা কহিলা বিষাদে!

(১)

বলছিলাম–
না, থাক্ গে!
কী আসে যায় হাতে নাতে
প্রমাণ এবং সাক্ষ্যে।

মোড়লেরা ব্যস্ত বেজায়
যে যার কোলে ঝোল টানতে।
সারটা দেশ হাপিত্যেশে,
পান্তা ফুরোয় নুন আনতে। ( সুভাষ মুখোপাধ্যায়)


 আমেরিকাতে ট্রাম্প, ভারতে মোদি। লিব্যারালদের এবড় কঠিন সময়, গভীর দুঃখের দিন। 

 বামজনতা, লিব্যারাল জনতার এমন করুণ অবস্থা কেন-সেটা বিশ্লেষন করা জরুরী।

 উদাহরন দিয়ে শুরু করি। 

 দুদিন আগে মোদি কোন একটা জনসভায় বলেছিলেন, হার্ভাডের ডিগ্রির থেকে হার্ড ওয়ার্ক জরুরী। ভারতের অর্থনীতির দিক ঘোরাতে, বুঝতে। যথারীতি এলিট শ্রেনী কটাক্ষ শুরু করে।  মোদির উদ্দেশ্য ছিল অমর্ত্যসেনের বক্তব্যর বিরুদ্ধে।  অমর্ত্য সেন সহ অনেক অর্থনীতিবিদই মন্তব্য করেছিলেন ডিমনেটাইজেশনের ফলে ভারতের অর্থনীতির ক্ষতি হবে।

 অমর্ত্যসেন তার বক্তব্য রাখতেই পারেন। সমস্যা হচ্ছে এই যে অর্থনীতি গণিতের দৃষ্টিতে একটি জটিল সিস্টেম-এবং অর্থনীতির ভবিষ্যতবানী হাজারটা নোবেল লরিয়েট একসাথে বসে অঙ্ক করলেও বলতে পারবে না।  ভারতের মতন এমন জটিল একটা অর্থনীতির দেশে ওই ভাবে কোন ভবিষ্যতবানী কি করে উনি করলেন, কেন করলেন জানি না। উনি বলতেই পারতেন এই এই কারনে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হবে-কিন্ত এই এই কারনে উলটে লাভ ও হতে পারে।  আমি এই জন্যেই এটা লিখছি যে একটা জটিল সিস্টেম কি ভাবে এগোবে-তার একটা না অনেক পথ থাকতে পারে। উনার মতন একজন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ যখন ক্রিটিক্যাল দৃষ্টীভঙ্গী বাদ দিয়ে, সরাসরি ডিমনেটাইজেশনকে দুশলেন -সেটা মোটেও একাডেমিক সুল্ভ কোন বক্তব্য ছিল না। সেটা রাজনৈতিক দৃষ্টীভঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।

 কারন ব্ল্যাকমানি ভারতের প্রগতির জন্য বিরাট সমস্যা। কোলকাতা সহ সব মেট্রোতেই হাজারে হাজারে ফ্ল্যাট উঠছে - ফ্ল্যাটের দাম একটা শহরের মধ্যবিত্তদের মিডিয়ান ইনকামের ত্রিশ গুন ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে হওয়া উচিত পাঁচ গুনের কাছাকাছি।  একটা ফ্ল্যাট ভাড়া দিলে যা পাওয়া যায়, তা ফ্ল্যাটের দা্মের দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ। ভারতের যা ইন্টারেস্ট রেট, তাতে এটা হওয়া উচিত বারো শতাংশের ওপরে ( আমেরিকাতে আট )।  অর্থাৎ সবটাই ফাটকা মার্কেট।  ভারতের রিয়াল এস্টেট অন্তত চার থেকে পাঁচগুন বেশী ইনফ্লেটেড। জমির দাম ও তাই। পশ্চিম বঙ্গে বড় রাস্তার কাছে জমি চোদ্দ থেকে কুড়ি লাখ টাকা বিঘে যাচ্ছে। সেই টাকার সুদ দুলাখ ত হবেই। এদিকে বছরে তিনবার ধান চাষ করলে সেই জমি থেকে হার্ডলি ষাট হাজার টাকার ফসল আসে। নীট লাভ কুড়ি।  সব্জি কলা চাষ হলে সেটা চল্লিশ পঞ্চাশ হয়। দু লাখ হয় না। তাহলে এই ফাটকা দাম আসে কোত্থেকে?

 ইনফ্যাক্ট মোদি ডিমনেটাইজেশন করে বেলুনটা ডিফ্লেট না করলে ভারতের অর্থনীতি বিরাট ক্রাশ করতে পারত।  নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুধু কোলকাতার রাজারহাটেই জমির দাম কমেছে ৪০%। আরো অনেক কমবে।  মহারাষ্ট্রের ফ্ল্যাট বিক্রি কমেছে ৫০%। 

ব্ল্যাকমানির কুফল অনেক-সেসব কূটকাচালিতে যাচ্ছি না। শুধু দুটো পয়েন্ট বলি কি ভাবে এই ব্ল্যাক মানি ভিত্তিক রিয়াল এস্টেটের জন্য ভারতের ব্যবসা বাণিজ্যর সাংঘাতিক ক্ষতি হচ্ছিল। যার ফলে লং টার্মে ভারতের ব্যবসার বিশাল ক্ষতি হত। 

 কোলকাতায় রাস্তার ধারে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ স্কোয়ারফুট দোকান কিনতে লাগে প্রায় আশি থেকে নব্বই লাখ টাকার সেলামী ( ভদ্র জায়গায়)।  সুতরাং মালিককে প্রায় মাসে ষাট হাজারটাকা লাভ রাখতে হবে রিয়াল এস্টেটের দাম মেটাতে। ফলে কোলকাতা ব্যঙ্গালোর সর্বত্রই ভদ্র ভাবে বসে খাওয়ার রেস্টূরেন্টগুলোর সাংঘাতিক দাম। যে দামের ৭০% যাচ্ছে রিয়াল এস্টেটের দায় মেটাতে। ফলে দাম এখন আমেরিকার  থেকে বেশী। সেক্টর ফাইভে বালীগঞ্জ প্লেসে থালির দাম প্রায় ছশোটাকা বা নয় ডলার।  এদিকে আমি আমেরিকাতে আমার বাল্টীমোর অফিসের কাছে মাত্র ছ ডলারে ওর থেকে ভাল চাইনিজ খাই।  এর ফলে যেখানে ১০০ টা রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে পারত -করছে হয়ত মোটে পাঁচটা।

 ভারতের সব ব্যবসাতেই জমি বা রিয়াল এস্টেট একটা বড় সমস্যা। ওপারেটিং ইনকামের একটা বড় অংশ শুষে নিচ্ছে রিয়াল এস্টেট। 

 দ্বিতীয় সমস্যাটা আরো গভীরে।  ভারতের সব পুঁজি ছুটছে জমির পেছনে।  আমি ডিসেম্বর মাসে পুনের এক ফ্যাক্টরি মালিকের সাথে বসে কথা বলছিলাম। সেকন্ড জেনারেশন মারোয়াড়ি, আমেরিকাতে শিক্ষিত।  নতুন টেকনোলজিতে প্রচুর উৎসাহ।  এদিকে ফ্যাক্টরিটার দিকে তাকালে বোঝা যায় ফ্যাক্টরিটা জীর্ন-কিন্ত প্রচুর উৎপাদন দিচ্ছে। আমি বলেই ফেললাম, আপনি ফ্যাক্টরিতে যথেষ্ঠ রিইনভেস্ট করেন?

 উনি বল্লেন, ইচ্ছা ত থাকে কিন্ত কেন করবো বলুনত ?  ফ্যাক্টরি থেকে যে ইনকাম হয়, তা জমিতে ঢালা অনেক বেশী লাভজনক। ফ্যাক্টরিতে দুকোটি টাকা ইনভেস্ট করলে মার্কেটে বিক্রি হলে তবে পাঁচ বছরে হয়ত চারকোটি  উঠবে।  যদি ভাগ্যভাল থাকে। সেখানে ঠিক ঠাক জমিতে ইনভেস্ট করলে দুকোটি থেকে দশকোটি হবেই কয়েক বছরে। গ্যারান্টিড!    

ইনফ্যাক্ট গোটা ভারত জুরে এক অবস্থা। ব্যবসা, ম্যানুফাকচারিং এর সব লাভের  টাকা শুষে নিচ্ছিল রিয়াল এস্টেট। এমনিতেই চীনের উৎপাদিত পন্যের সামনে ত্রাহি ত্রাহি রব-সেখানে ম্যানুফাকচারিং এ ইনভেস্ট না করে ভারতীয় মালিকরা জমি বাড়ি কিনে গেছে। এটা বন্ধ করতে না পারলে, ভারতের অর্থনীতি লাটে উঠত। নেহাত ১৫০ বিলিয়ানের আই টি আউটসোর্সিং আছে বলে এই দৈন্যদশা বোঝা যায় না। কিন্ত আউটসোর্সিং এ বাঁশ দিলে, যা ট্রাম্প সবে দেওয়া শুরু করেছেন, কঙ্কালের ওপরে যে রাজার আলখাল্লা আছে, তা খসে একদিনে কঙ্কালটা বেড়িয়ে যাবে!

 মোদি এই অবস্থা ঠেকাতে দুটো জিনিস করলেন। এক কালো টাকার ওপর সার্জিকাল স্ট্রাইক। দুই মেইড ইন ইন্ডিয়া।  ডিমনেটাইজেশনের ফলে কোলকাতায় ফ্ল্যাটের দাম জমির দাম এত দ্রুত কমছে এদের মারোয়ারী মালিকরা প্রচুর সস্থায় বিক্রি করতে  এখন বাধ্য হচ্ছেন। যাতে লস ঠেকাতে পারেন। আর যাইহোক আগামী দশ বছরে ফ্যাক্টরি মালিকরা জমি বাড়ির ওপর ইনভেস্ট করবেন না এটা নিশ্চিত।  এর সাথে মেইড ইন্ডিয়া ক্যাম্পেনের জন্য ভারতের মিলিটারি থেকে অনেক জায়গাতেই দেশী  যন্ত্রাংশ চাওয়া হচ্ছে। ফলে ম্যানুফাকচারিং শিল্পে যদিও ভাঁটার টান ( এবং এখনো ডিক্লাইনিং), কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। 

 প্রশ্ন হচ্ছে, অমর্ত্য সেন ডিমনেটাইজেশনের খারাপ দিকগুলোই বলে গেলেন। ভালদিকটা ত বল্লেন না।  না কি অর্থনীতি সাবজেক্টটাই এমন জালি, তার নোবেল লরিয়েট ও জালিই হবে?  আমার ত বরাবরই মনে হয় পানের দোকানের মালিকের মাথায় যেটুক কমন সেন্স আছে, অধিকাংশ অর্থনীতির অধ্যাপকের মাথায় সেটুকুও নেই।  অমর্ত্য সেন জালি লোক নন।  তার পান্ডিত্য প্রশ্নতীত। কিন্ত  ডিমনেটাইজেশন নিয়ে তার বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রানোদিত, একাডেমিক না। 

     আমার বরাবরই মনে হয় বাম রাজনীতির সব থেকে দুর্বল দিক এই সব জালি সাবজেক্টের অধ্যাপকগুলোকে বেশী পাত্তা দেওয়া।  একজন রাস্তার ব্যবসায়ীও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে যেটুকু বোঝে এই সব বোদ্ধা অর্থনীতির পাবলিকগুলো সেটুকুও বোঝে না। 

 (২)
  ধর্ম নিয়েও লিব্যারাল সেকু মাকুদের রিএসেমেন্ট দরকার।

 ল্যাটিন আমেরিকার বাম নেতারা কেউ মার্ক্স লেনিনের নাম মুখে আনে না। হুগো শাভেজ থেকে ইভো মরালেস-তার বামপন্থাকে যীশুর পদর্শিত বামপন্থা বলেন।  তাদের প্রো পুওর রাজনীতিকেই যীশুর পথ বলে দাবী করেন বাইবেল থেকে।  ইভো মরালেস একটা ইন্টারভিঊতে পরিস্কার বলে ছিলেন, লেনিন স্টালিনের যে বামপন্থা তা আমাদের না-কারন তা হিংস্র, খুনে। কোটি কোটি মানুষ সেই কাল্টে খুন হয়েছে। আমাদের পথ যীশুর দেখানো ভালোবাসার বামপন্থা। অথচ আমাদের বামপন্থীরা শ্রী চৈতন্যের মধ্যে সেই ভালোবাসার বামপন্থা খুঁজে পেলেন না! 

 ভারতের বামপন্থিরা গণবিচ্ছিন্ন। শাক্যজিত দেখলাম মোদির জয়ে কান্ডজ্ঞান হা্রিয়ে লিখেছে,  প্রতিষ্ঠানিক হিন্দু ধর্ম নাকি কোনদিন প্রতিষ্ঠান বিরোধি না। 

      প্রথমত কোন "প্রতিষ্ঠানিক" ধর্ম বা রাজনীতি কখনো প্রতিষ্ঠান বিরোধি হয়? এগুলো গাঁজা খেয়ে লেখা না?

     দ্বিতীয়ত সমস্ত প্রতষ্ঠান বিরোধি আন্দোলন সে ধর্ম বা রাজনীতি যাইহোক না কেন, ক্ষমতা পেলে তা প্রতিক্রিয়াশীল হয়। ইসলাম, বৌদ্ধ খীষ্ঠান সব ধর্মের শুরু প্রতিবাদি হিসাবে-কিন্ত আস্তে আস্তে তা সাম্রাজ্যবাদি প্রতিক্রিয়াশীল হয়েছে।

  তৃতীয়ত শাক্য কি শ্রীচৈতন্যের নাম শোনে নি? উনি জাতপাতের বেড়া ভাঙেন নি? গরীব ধনীর পার্থক্য ঘোচান নি?  ট্যাক্স কালেক্টরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন নি? 
   
 মহাভারতের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠানিক, প্রতিবাদি দুই চরিত্রই আছে।  বিদুর যুধিষ্ঠীরকে রাজ্য চালনার প্রথম ধাপ হিসাবে কি বলেছিলেন?

   "ধনের অসাম্যেই মূলত রাজনৈতিক অশোন্তোষ তৈরী হয়। এতেব এ রাজন, তোমার প্রথম কর্তব্য ধনীদের থেকে বেশী ট্যাক্স কালেক্ট করে, সেই টাকায় জনকল্যান মূলক কাজ কর "

  এই স্যোশ্যালিস্ট রাষ্ট্রের ধারনা ত মহাভারত বহুদিন আগেই দিয়েছে। অথচ ভারতের বামেরা ভারতের সংস্কৃতি এবং দর্শনকে বামপন্থার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে! 

  কারন শাক্যজিত ভারতীয় বামপন্থার কোন বিচ্ছিন্ন ব্যামো না-এদের বাপ ঠাকুর্দারাও আসলেই কোনদিন ভারতীয় দর্শনকে গভীর ভাবে জানার চেষ্টা করে নি। ফলে গুন্ডাগর্দি করে পশ্চিম বঙ্গের অলস বাঙালীর মধ্যে ৩৪ বছর টিকেছিল বটে-কিন্ত জনগণের মধ্যে এদের ভিত যে কত দুর্বল ছিল, সেটা ক্ষমতা থেকে সরার পরে বোঝা যাচ্ছে। 

 ইভো মরালেস এবং হুগো শাভেজ থেকে আরো দুটো জিনিস শেখার আছে। এরা ওইসব জালি অর্থনীতিবিদদের হেগো পোঁদ চেটে আঁতলামো করে নি।  ইভো মরালেস বিকল্প অর্থনীতি, কোয়াপরেটিভ অর্থনীতির ওপরে জোর দিয়েছিলেন বেশী। তার পার্টির সবাই কোয়াপরোটিভের সাথে জড়িত। কেরালায় বামপন্থীদের সাফল্যের পেছনে মূলত কোয়াপরেটিভ।  সেখানে সিপিএম, কংগ্রেস আপ -এদের ত কোন বিকল্প অর্থনীতি নেই । শুধু  সামাজিক প্রকল্পর মাধ্যমে লোককে ঘুঁশ দেওয়ার ধান্দা। তাতে আমার আপত্তি নেই। ওটা ধনের বন্টন। কিন্ত লোকেদের ব্যবসা বানিজ্যর সুবিধা করে দেওয়ার কোন রূপরেখা সেখানে নেই।      বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্থার দিশা না থাকলে লোকে এদের বিশ্বাস করবে কেন?

      (৩)

  তৃতীয় সমস্যা ইসলাম নিয়ে অবস্থানে।  আজকে চীন, জাপান, রাশিয়া, আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স-সবাই জিহাদিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ইসলামিক মৌলবাদের বিরুদ্ধে যেখানে গোটা বিশ্ব অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে সেখানে ভারতের সেকু মাকুরা ইসলামের বিরুদ্ধে বলতে ভয় পাচ্ছে। ভোট হারানোর ভয়।   ইসলাম কোন ধর্ম না। ইসলাম আধ্যাত্মিক-রাজনৈতিক মতবাদ।  তাতে আলাদা রাষ্ট্রনীতি, আইন সব কিছুই রয়েছে। যা আধুনিক রাষ্ট্রের পরিপন্থী।  সুতরাং ইসলাম আধুনিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সব থেকে বড় হুমকি। এগুলো কি চাপা সম্ভব? সুতরাং আমি ইসলামি তামাকু সেবন ও করব, আবার মোদিকে লিব্যারালিজম শেখাতে যাব, সেটাত জনগন মানবে না।  ইসলাম নিয়ে সঠিক অবস্থান না নিতে পারলে হিন্দু ভোট একত্রিত হবেই।  আজ উত্তর প্রদেশে যা হয়েছে, কাল পশ্চিম বঙ্গেও হবে। শুধু নেতার অপেক্ষা।  এবং ধর্মীয় আবেগে এটা হচ্ছে না। শ্রেফ নিজেদের জমি জায়গা ব্যবসা বাঁচানোর জন্য এটা হবে। কারন সামনে রয়েছে বাংলাদেশ। কোন দেশে বা রাজ্যে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু হলে কি হয় তার জন্য পাকিস্তানে যেতে হবে না, কাশ্মিরে যেতে হবে না, হাতের সামনে রয়েছে বাংলাদেশ।  যেখানে হিন্দুদের জমি ব্যবসা সব থেকে বেশী লুঠপাট করে কোন ইসলামিস্ট পার্টি না-তাদের মধ্যেকার তথাকথিত মডারেট পার্টি।  এটুকু বোঝার ক্ষমতা সাধারন হিন্দুর রয়েছে। বাম-সেকু বিগ্রেডের নেই। এরা যদি ইসলামিক মৌলবাদ আটকাতে মাঠে না নামে, হিন্দু ভোট কনসলিডেশনের সামনে শ্রেফ ভ্যানিশ হয়ে যাবে । যা হয়েছে আসামে এবং উত্তর প্রদেশে।




























     








Sunday, January 15, 2017

দিদির বাংলা যেমন দেখলাম

                                                                                   (১)    
যদিও কোলকাতায় আসি বছরে বেশ কয়েকবার, কাজের চাপে, গ্রাম বাংলা বা কোলকাতা কোনটাই ঘোরা হয়ে ওঠে না।  বহুবছর বাদে, এবার বেশ প্ল্যান করেই এসেছিলাম-ক্রিসমাসের সময়টা গ্রাম মফঃশহরে ঘুরবো। তৃনমূল জমানায়, বাংলার লোকজন কেমন আছে, জানার চেষ্টা করব।

 শীতের ওই দিনগুলো এমনিতেই উৎসবের পালা পর্বন। তারপরে দিদির নির্দেশে এই সময়টাতে ব্লকে ব্লকে উৎসব। পিঠেপুলি, ভ্রমন, চুনোমাছ। দিদি আক্ষরিক অর্থেই বাংলাকে উৎসবমুখর করেছেন। রাস্তায় যেতে যেতে কতশত উৎসবের পোষ্টার, ফেস্টুন। এর মধ্যে কালনার পর্যটন উৎসবে নিজে গেলাম একরাত। রাত বারোটার সময়ও দশহাজার ছেলেমেয়েরা নিরাপদে উৎসবের ইমেজে গানবাজনা উপভোগ করছে। মোদ্দা কথা দিদির বাংলায় ছেলেপুলেরাযে উৎসবের আমেজে আছে সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্ত শব্দদূষনের সমস্যা আছে। যত্রতত্র যখনখুশি পিকনিক হচ্ছে। সেটা আনন্দের কথা। কিন্ত ইদানিং পিকনিকের সাথে জেনারেটর চালিয়ে হাজার ওয়াটের স্পিকার বসিয়ে নাচাগানা হয় সর্বত্র।  এই একটা দৃশ্য কালনা, করিমপুর, ফলতা সর্বত্র চোখে এল। লোকজন বিরক্ত । রাতে শোয়া দায়। কিন্ত কারুর সাহস নেই এদের বিরুদ্ধে বলার। তৃনমূলের নেতা বিধায়কদেরএই দ্বায়িত্বটাও নিতে হবে।  উৎসব অবশ্যই ভাল-কিন্ত তার জন্য হাজার ওয়াটের স্পিকার বসিয়ে লোকজনকে উত্তক্ত করার মানে হয় কি?

 পাশাপাশি সব শহরেই দেখলাম নাট্যউৎসব চলছে।  সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল এখন অনেক মুক্ত।  সেইসব উৎসবে লোকও হচ্ছে অনেক।


                                                          (২)

 রাস্তাঘাটের অবস্থা গ্রামের দিকে বেশ ভাল। রাজ্য সরকগুলির এখন তখন ( সিপিএম জমানা) মনে করলে, স্বর্গ নরকের তুলনা হয়।  করিমপুর কৃষ্ণনগর, কৃষ্ণনগর কালনার রাস্তাগুলোতে অনায়াসে এখন একশো কিলোমিটার স্পিডে গাড়ি চালানো যায়। তবে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা এবং ট্রাকের সংখ্যা এখন অনেক অনেক বেশী। ফলে রাস্তা ভাল থাকা স্বত্বেও রাত ছাড়া স্পীডে চালানো যায় না।  এবং ছোট ছোট শহরগুলোতে টোটোর এত দৌড়াত্ব, এই শহরগুলোতে বাইপাস না থাকলে, একটা ছোট শহর ক্রস করতেও গাড়ীগুলো আধঘন্টা টোটো ট্রাফিকে আটকাচ্ছে। এই সরকারের নেক্সট স্টেপ হওয়া উচিত, বড় বড় শহরগুলোতে বাইপাস বা ওভারব্রিজের ব্যবস্থা করা-যাতে এক্সপ্রেস ট্রাফিক শহরের বাইরে দিয়ে চলে যেতে পারে। আমেরিকাতে এটা বহুদিন ধরে আছে।  এক্সপ্রেস ট্রাফিক শহরের বাইরে দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকারে বার করে দেওয়া হয়। আশা করব, দিদি যখন এতটাই করেছেন, এই নেক্সট স্টেপটাও আগামী দশ বছরে আসতে চলছে।

 এবার আসি টোটোর কথায়। গ্রাম এবং জেলাশহরগুলিতে এখন টোটো হচ্ছে ডিফল্ট ট্রান্সপোর্টেশন। ব্যাটারি চালিত রিক্সা। ফলে শব্দ দূষন, বায়ুদূষন নেই। অনেক বেকাররা করে খাচ্ছে। সিম্পল টারিফ সিস্টেম-চড়লেই দশটাকা-যেকোন দুটো পয়েন্টের মধ্যে।  টোটোগুলো সারাদিনে ৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করছে। ব্যাটারি মেইন্টেনেন্সের দরকার ছমাসে একবার।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকই মালিক। মাসে দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকা রোজগার।

কিন্ত সমস্যা হচ্ছে টোটোর সংখ্যা বেড়েছে অসম্ভব।  রাস্তায় হাঁটা দায়।  কোন রেগুলেটরি অথোরিটি নেই। তবে দূষনমুক্ত এই নিঃশব্দ বিপ্লবকে স্বাগত। আমি  মনে করি প্রযুক্তিই মুক্তির আসল উপায়। কিন্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা দরকার।


                                                                              (৩)

সিপিমের ভবিষ্যত পশ্চিম বঙ্গে শুন্য। অধিকাংশ পার্টি অফিস খুলছেই না। তালাবন্ধ।  শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ, কঅর্ডিনেশন কমিটি সব মৃত।  নেতার মুখ বন্ধ করে বসে আছেন-কারন মুখ খুললেই ট্রান্সফার হবে আরামের শহর থেকে অনেক দূরে।  জনগণ এদের বহুদিন আগেই রিজেক্ট করেছিল-শুধু  হার্মাদদের দিয়ে ভোট করিয়ে ভাবত জনগন এদের সাথে। এখন পরিস্কার জনগন খুব পরিস্কার ভাবেই বুঝেছে, সিপিএম আদতে কর্মনন্য নেতাদের আখরা। সিপিএমের নেতারা তুলনামূলক ভাবে সৎ হতে পারে কিন্ত সিপিএমের আমলে আডমিনিস্ট্রেশনকে যেভাবে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল, তার ফল দেখেছে রাজ্যবাসী।

 প্রথমে স্কুলের কথা আসি। আমি দুজনের সাথে কথা বল্লাম। একজন হাইস্কুলের হেডমাস্টার, অন্যজন প্রাইমারী স্কুলের। জন্ম ইস্তক এদের দেখে আসছি। সিপিএম ফ্যামিলি। ডিএ নিয়ে খুশী না হলেও শিক্ষার জন্য, তৃনমূল যা করছে, তার জন্য তারা খুশী।

 প্রথমে প্রাইমারী স্কুলের কথায় আসি। আগে সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা বারোভূতে খেত। এখন ঠিক ঠাক খরচ হচ্ছে।  আমি যে গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে পড়তাম, সেখানে ছিল তিনটে ঘর, বাকি গাছের তলায় আমাদের পড়াশোনা হত। সিপিএম আমলে শিক্ষকদের বেতন বাড়ছিল, কিন্ত স্কুলের কোন উন্নতি হয় নি। ফলে গ্রামের দিকেও প্রাইমারী স্কুলে ছেলে মেয়েদের না পাঠিয়ে প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের রমরমা শুরু হয় সিপিএম জমানাতে। এখন আস্তে আস্তে সেটা বদলাচ্ছে। প্রাইমারি স্কুলগুলোতে সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাতে টাইলস বসানো বাথরুম। পানীয় জলের ব্যবস্থা।  পর্যাপ্ত ঘর, চেয়ার টেবল সব কিছুই হয়েছে। এগুলো নিজের চোখেই দেখলাম। সরকার পাঠ্যপুস্তকগুলোও অনেক ভাল করেছে। রিপোর্টিং কম্পুটারাইজড । ফলে আস্তে ইংলিশ মিডিয়াম থেকে আবার সরকারি প্রাইমারী স্কুলের ওপরে ভরসা বাড়ছে।  সিপিএম সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ন ধ্বংস করে দিয়েছিল। শুধু শিক্ষকদের মাইনে বাড়িয়ে স্কুলগুলো বাঁচানো যেত না। দরকার ছিল পরিকাঠামো। সেই খাতে সিপিএম একদম খরচ করে নি। মমতা ব্যার্নার্জি আস্তে আস্তে সরকারি স্কুলগুলোকে পথে আনছেন।

 হাইস্কুলের অবস্থা এখন অনেক ভাল।  সিপিএমের আমলে গ্রামের স্কুলের শহরের শিক্ষকরা সপ্তাহে দুদিনের বেশী স্কুলে যেতেন না। শিক্ষিকারা আবার আসতেনই না প্রায়! এবিটিএর কাছে নাকখঁত করা হেডমাস্টারমশাইরা কিছু বলার সাহসই পেতেন না। এখন স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সপ্তাহে ছদিনই দেখা যাচ্ছে। কারন স্কুল কমিটিগুলোই এখন স্কুল চালাচ্ছে-যেখানে অভিভাবকদের কথাই শেষ। হতে পারে তারা তৃনমূলের লোক। কিন্ত অভিভাবক ত  বটে। সিপিএম আমলে পিটিএ বা স্কুল পরিচালন পর্ষদ ছিল ছুঁচোজগন্নাথ। শিক্ষকরা এবিটিএর শিল্ডিং পেত। এখন তা আর নেই। তৃনমূলের লোকজনের চাপেই এটা হয়েছে। অনেকেই বলছেন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। কিন্ত কি লাভ হত শিক্ষক নিয়ে যারা স্কুলেই আসতেন না? বা স্কুল বিল্ডিং এর এত দূরাবস্থা ছিল, সবাই ইংলিশ মিডিয়ামে পাঠাত ছাত্রদের ?  স্কুল পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ না করে, শিক্ষক নিয়োগ করে কিই বা লাভ হয় জনগনের যেসব শিক্ষকরা স্কুলেই আসেন না?  এছাড়া এখন সব বই সরকার দিচ্ছে। ফলে পাঠ্যপুস্তক নিয়ে সিপিএম আমলে যে বিশাল ব্যবসা হত, তা বন্ধ এখন।

 স্কুল ছাত্রদের সাইকেল নিয়ে অনেক কথা শুনেছিলাম ফেসবুকে। অনেক ছাত্র ছাত্রীদের সাথে দেখা হল। নাহ, সেসব সাইকেল চলে এবং ছেলেমেয়েরা সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। ভেঙে যাচ্ছে না মোটেও । স্কুল ছাত্রছাত্রীদের সাইকেলটা একটা নিঃশব্দ বিপ্লব।

 বিডিও এবং ব্লক পরিচালন অফিসারদের ও এখন চেয়ারে পাওয়া  যায় ঠিক সময়ে। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে একটা নিয়মানুবর্তিতা এসেছে-যা আগে ছিল অনুপস্থিত। কলকাতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েও কাজ করানো কঠিন। পশ্চিম বঙ্গের ওয়ার্ক কালচার এতটাই খারাপ করে ছেড়েছিল সিপিএম।  সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা মমতা ব্যানার্জির সব থেকে বড় সাফল্য। কোলকাতায় লোকজনদের দিয়ে কাজ করানো কি কঠিন-সেটা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি। সেখানে মমতা ব্যানার্জি সরকারি কর্মচারিদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন-সেটাযে কত কঠিন কাজ তা আন্দাজ করতে পারি।

 মোদ্দা কথা যা দেখলাম, তাতে পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আশা করা যায়। যা সিপিএম আমলে প্রায় সম্পূর্ন ধ্বংসের পথে ছিল।



                                                                          (৩)

 তবে বাচ্চাদের অবস্থা খারাপ। সেটা অবশ্য পরিকাঠামোর জন্য। বাচ্চদের খেলার গা ঘামানোর জায়গা নেই।  খাচ্চে দাচ্ছে, মোটা হচ্ছে, পাঁচটা সাতটা করে প্রাইভেট টিঊটর। খেলাধূলা না করার জন্য সামান্য পড়াশোনার চাপও নিতে পারছে না। অনেকের সাথেই দেখা হল, মাধ্যমিক দেওয়ার আগেই নার্ভাস ব্রেকডাউনে।  আগামি দিনের নাগরিকরা শৈশবেই মানসিক বৈকল্যের কবলে পড়লে,  আগামী প্রজন্মের কি হবে?

 ছোটবেলায় যেখানে সেখানে একছটাক মাঠ ছিল-এখন সেখানে বহুতল। গোটা ভারত জুরেই প্রায় এক অবস্থা। একমাত্র যারা ধনী-ক্লাবের মেম্বার-তাদের জন্য টেনিস, ব্যাডমিন্টন কোর্ট আছে।  জায়গার অভাবে নিদেন পক্ষে যোগ ব্যায়াম অন্তত চলুক।

  কোলকাতায় একমাত্র সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউন এরিয়া প্ল্যান্ড সিটি। সেখানে মোটামুটি ভাল পার্ক, হাঁটার জায়গা আছে।  সাউথ কোলকাতায় লেকের ধারে ছাড়া হাঁটার জায়গা কোথাও নেই।

এর সাথে জুড়ুন মাত্রারিক্ত শব্দ এবং বায়ুদূষন।  উবের ওলার দৌলতে ইয়োলো টাক্সির সংখ্যা কিছু কমেছে। সেটা ভালর দিক। কোলকাতায় অটোবন্ধ করে ইলেক্টিক অটো বা টোটো চলুক। বাসগুলোও ইলেক্ট্রিকবাস হোক আস্তে আস্তে। জ্বালানী পোড়ানো বন্ধহৌক।  সবার রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে নিশ্চয় হবে।

 কোলকাতা এখন রাতে অনেক সুন্দর। রাস্তার দুধারে মায়াবী নীল আলোতে সুন্দরী কলকাতা যেন সত্তরের দশকের বলিউডি হেলেন।   এটলিস্ট একটা ভদ্র আধুনিক শহর বলে মনে হয়।  সাথে সাথে যদি পরিবেশটাও পরিস্কার রাখা যায়, কোলকাতা এগোবে আরো বেশী।

                                             (৪)

সাম্প্রদায়িকতা বিশাক্ত সাপের মতন ফনা তুলছে। প্রতিটা হিন্দু ফ্যামিলিতে ধূলাগড় নিয়ে আলোচনা। কতশত লাশ নাকি রাস্তায় পড়ে আছে। অবশ্য এক্সাক্টলি কি করে কেউ এসব জানল, সেটা নিতে প্রশ্ন করলে, উত্তর নেই।  সাম্প্রদায়িক গুজবের ফানুস বাতাসে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র আবেগে তৃণমূল সিপিএম বিজেপি ভেদাভেদ নেই। মুসলমান বিরোধিতার ভোটটা শুধু বিজেপির বাক্সে পড়ছে না-কারন বিজেপির নেতা নেই। তাছাড়া ওটা এখনো উত্তরভারতীয় গোবলয়ের পার্টি বাঙালীদের কাছে।  ফলে বিজেপি এখনো মমতার কাছে সেই অর্থে কোন থ্রেট না। কিন্ত বিজেপির উত্থানের সব মশালা প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু ভাল নেতার। "স" মার্কা দিলীপ ঘোষ মার্কা নেতা দিয়ে বঙ্গ বিজয় হবে না। অন্তত একজন ভাল বাঙালী নেতার দরকার বিজেপিতে-যা তাদের নেই এই মুহুর্তে।

  মমতা ব্যানার্জির সব ভাল কাজ জলে যাবে যদি না তিনি সাম্প্রদায়িকতাকে কড়া হাতে দমন করতে ব্যর্থ হন। অপারেশন বর্গার ফলে অনেক সম্পন্ন হিন্দু পরিবার মুসলমান ভাগচাষিদের কাছে জমি বেচতে বাধ্য হয়েছিল। সেই রাগটা ছিলই। এখন নানান গুজবে, প্রচারে সাম্প্রদায়িকতার বিশাক্ত সাপ ফোঁস ফোঁস করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার যা চিরকাল ধরেই হয়ে এসেছে-ফেসবুকের কল্যানে এখন তা ঘরে ঘরে। এর সাথে মুসলমা জঙ্গি, আইসিসিস ইত্যাদির হাত ধরে পোলারাইজেশন খুব বাজে জায়গায়। আগে হিন্দুদের একটা অংশ মুসলমানদের দেখতে পারত না।  সাম্প্রদায়িকতা  বিরোধি প্রচুর হিন্দু ছিল। যাদের অধিকাংশই ছিল সিপিএম।  এখন প্রায় পুরো অংশটাই মুসলমান বিরোধি। এদের অনেকেই আদি সিপিএম। বিজেপির খাতায় নাম লেখাতে বাকী আছে শুধু।

সিপিএমের ভাঙন অব্যহত থাকলে হিন্দু ভোট আস্তে আস্তে বিজেপিতে জড় হবে-যদিও সেটা কঠিন করে তুলেছে, বিজেপি নিজেই-যাদের ক্যাডাররা ভীষন ভাবেই অসন্তুষ্ট দিল্লীর ওপরে।

 এই পোলারাইজেশনটা আজ না হলে কাল হতই। এখন বেশ দাঙ্গার আবহে বিরাট আকার নিয়েছে, যদিও এই ধরনের হিন্দুরা ভোট টা এখনো মমতা ব্যানার্জিকেই দিচ্ছেন। কারন আর যাইহোক দিদি কাজ করবেন এই আস্থাটা এখনো আছে। কিন্ত সিপিএম সম্পূর্ন ধ্বংশ হলে আখেরে লাভ বেশী বিজেপির, ক্ষতি তৃনমূলের।

 সিপিএম যে সম্পূর্ন অপদার্থ ছিল, সেটা দিদি হাতে নাতে করে দেখিয়েছেন। কিন্তু সেটাই না আবার তৃণমূলের কাল হয়। কারন সিপিএম ধ্বংশ হলে, সেই ভোট টার অধিকাংশ যাবে বিজেপিতে।  আমি শুনলাম সেটা নাকি তৃনমূল বুঝেছে। তাই তারাই তাগদা দিচ্ছে সিপিএমের লোকেদের পার্টি অফিস খুলতে। অহ, এই দিনটা আসতই।