Thursday, October 6, 2016

সিভি রামনের পর ভারতে বিজ্ঞানে কোন নোবেল নেই

প্রতিবার এই নোবেলপক্ষে চাতকের মতন চেয়ে থাকি-কে কে জিতল-তাদের গবেষনার বিষয়টা কি-
বলতে বাধা নেই, প্রতিবারই আবিস্কার করি বিজ্ঞানের জগতে কতকিছু নতুন আবিস্কার হয়ে চলেছে-অনেক কিছুই খোঁজ রাখি নি। এবারের ফিজিক্সের নোবেল টপোলজিক্যাল ফেজ ট্রান্সিশনের ওপরে। এটা অবশ্য আমার এক অধ্যাপক বন্ধুর কাজের দৌলতে গত বছরই জেনেছিলাম। কিন্ত কেমিস্ট্রির নোবেল- আনবিক মোটরের ওপরে-এটা একদম অজানা বিষয়। পড়ে একদম হাঁ থেকে হাম্বল। কিভাবে অনু-পরমানু-ইলেকট্রনগুলি বিশ্বনাচের ছন্দে আমাদের শরীরে কোটি কোটি মোটর গড়ে তুলেছে-যার প্রভাবে কত শতকোটী শরীরবৃত্তীয় কাজ গুলি হয়ে চলেছে দিনরাত অবিরত।

প্রতিবার অপেক্ষা করি ভারত থেকে বিজ্ঞানে অন্তত কেউ নোবেল পাক। অলিম্পিকে ভারত গোল্ডমেডেল পায় না-কারন জেনেটিক গঠন, খাওয়া দাওয়া ঠিক না। বাবা-মায়েদের উৎসাহ নেই। কাঠামো নেই। জেনুইন কারন।

কিন্ত হারে--ভারতে হাইস্কুলে ত অঙ্ক, ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রিতে উৎসাহি ছেলের অভাব নেই। ভাল ভাল শিক্ষক প্রচুর। আই এস সি ব্যঙ্গালোর, টি আই এফ আরের মতন এত ভাল গবেষনাগার আছে। অধ্যাপকদের মাইনেও ত প্রচুর। তবুও কেন সিভি রমনের পরে, কোন নোবেল নেই ভারত থেকে? পরিকাঠামো, যথেষ্ট ভাল শিক্ষক-ছাত্র। তাহলে কি নেই ভারতে?

আমার সাথে অনেকেই একমত হবে না। কিন্ত আমি যেটা দেখছি এর কারন ভারতের স্কুলিং। বিজ্ঞানের আবিস্কার প্রবলেম সলভ করা যতটা, প্রবলেম খুজে পাওয়াও ততটা। ভারতের ছাত্ররা প্রবলেম সলভ করার ক্ষেত্রে এগিয়ে। কিন্ত প্রবলেম খুঁজে পাওয়াটার ক্ষেত্রে যোজন পিছিয়ে। এর মূল কারন ক্রিয়েটিভিটির অভাব।

ক্রিয়েটিভিটি শুধু বিজ্ঞান, অঙ্ক দিয়ে হয় না। কবিতা, আঁকা, গান, লেখা-এগুলোর মধ্যে যে সৌন্দর্য্য আছে, সেই একই সৌন্দর্য্যের সন্ধান খোঁজা এবং উপলদ্ধি প্রকৃতির মধ্যে-একজন সফল বিজ্ঞানীর জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ন।

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার তিনটে জিনিসের জন্য, ভারতের ছাত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেলে ক্রিয়েটিভিটির অভাব থেকে যাচ্ছে

(১) হিউম্যানিটির সাবজেক্টগুলো গভীরে এবং গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হচ্ছে না-ক্রিয়েটিভ এক্টিভিটি যথা গান, অঙ্কন , গল্প লেখা-যাতে সৃজনশীলটা বাড়ে তাতে গুরুত্ব নেই।

(২) বিজ্ঞানের টিচিং হ্যান্ডসঅন না। ফলে শেখাটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক। এই জন্য রিয়ালিটির ( বাস্তবতা) অনুধাবন এবং সমাধানের মধ্যে একটা বিরাট পার্থক্য থাকছে

(৩) শুধু শেখা ভালো লাগে বলে শেখা উঠে যাচ্ছে। এবারের ফিজিক্সের নোবেল উইনিয়ার হ্যালডেন টপোলজি শিখেছিলেন, শুধু অঙ্ক করতে ভালবাসেন বলে। কৃষ্টালের ম্যাগনেটিজমের অন্যান্য মডেলগুলো দেখে বুঝেছিলেন-এখানে টপোলজির কেরামতি কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু নতুন মডেল তৈরী করা যাবে। এই যে একটা সেলফ লার্নিং-কারন এই সাবজেক্টটা ভালো লাগে বলে শিখছি। এসব নেই আজকের অধিকাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে। সবাই পেপার পাবলিকেশনে ব্যস্ত। পেপার পাবলিশ করে কি আর ফান্ডামেন্টাল কাজ হয়?

ভাবা যায়। স্যার রমন নোবেল জিতেছিলেন ১৯৩০ সালে। তখন তার রিসার্চ বরাদ্দ ছিল শুন্য। মাইনের টাকায় ইনস্ট্রুমেন্ট "বানাতে" হত হাওড়ার ওয়ার্কশপে । তার সাগরেদ কে এস কৃষ্ণানের কোন রিসার্চ ফেলোশিপ ছিল না। টিউশনি করে খরচ তুলতেন। হয়ত এসব অনেক কিছুই ছিল না বলে ছিল বিজ্ঞানের প্রতি, প্রকৃতির প্রতি তীব্র ভালোবাসা। অজানাকে জানার আনন্দ। আর কেনা জানে আনন্দই সৃষ্টির উৎস। এই নিয়ে আমার আগে একটা লেখা আছে (https://mukto-mona.com/Articles/biplab_pal/cv_raman.htm)

আর এখনকার বিজ্ঞানীরা? সবাই পেপার পাবলিকেশনের ইঁদুর দৌড়ে। এতে কি আর বিজ্ঞানের প্রতি তীব্র প্যাশন আসে!!

তবুও আশা রাখি আই এস সি ব্যঙ্গালোর বা টি ওয়াই এফ আর থেকে কোন না কোন দিন কোন ভারতীয় নোবেল পাবে। আর যদি কোন বন্ধু বিজ্ঞানী পেয়ে থাকে ( দুজনের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে) , নাথিং লাইক দ্যাট! আশা ত করাই যায়।

1 comment:

firoz ahmed said...

Dujoner sombhabona aache bollen. Naam jante parle bhalo lagbe