Wednesday, February 4, 2009

নয়াচরে ক্যেমিক্যাল হাব স্বাগত!


অমবশ্যার নিকষ কালো শিল্প বন্ধ্যার মধ্যেও আশার আলো নিয়ে এল নয়াচর। হলদিয়ার অনতি দূরে এই ৪২ বর্গকিলোমিটারের গাঙ্গেয় দ্বীপেই গড়ে উঠবে পশ্চিম বঙ্গের ক্যেমিক্যাল হাব। নন্দীগ্রামে এবং সিঙ্গুরে পিছু হটার পরে-এটা নিশ্চয় ভাল সংবাদ। এখানে কোন বসতি নেই। সবটাই সরকারি জমি-মৎস বিভাগের হাতে। কিছু ফিসারী আছে-লাখ খানেক জেলেদের জীবিকা নির্বাহ এখানেও হয়। আর ভয়টাও সেই জন্যেই। এখানেও পশ্চিম বঙ্গ ধ্বংশকারী মমতা বিগ্রেড শ্বশান বঙ্গের পতাকা ওড়াবেন কি না। মধুর সন্ধান পেলে মাছি যেমন ভন ভন করে-তেমনই যদি কোন উপায়ে ভোট ব্যাঙ্কের সন্ধান পান মমতা-লাঠি নিয়ে নেমে যাবেন-তাতে পশ্চিম বঙ্গের ভবিষ্যত সৎকার হলে হৌক। তার পার্টির টি আর পি ত বাড়ন্ত। আর মিডিয়ার আলো খাওয়ার জন্যে বিশেষজ্ঞ বাঙালীরত পথে ঘাটে অভাব নেই।

হ্যা নয়াচরে শিল্প ঠেকাতে এই বিশেষজ্ঞ বাঙালীরা পথে নেমেছে-এদের পোষাকি নাম সিটিজেন ফোরাম। আমি এদের এককপি লেখা পড়ে হতবাক-কারন নামের পাশে সবাররি বিশেষজ্ঞ মার্কা অধ্যাপক স্ট্যাম্প আছে। তাই এদের অজ্ঞতা, দ্বিচারিতা এবং ভন্ডামী জনসমকক্ষে উন্মোচনের জন্যে এই প্রবন্ধ লিখছি।

( এই বিশেষজ্ঞদের লেখাটি পড়ুনঃ)

http://sanhati.com/articles/721/

এরা যেহেতু নিজের নামের পাশে অধ্যাপক, বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি ব্যাবহার করেছেন-এদের ভন্ডামোর উত্তর দিওয়ার আগে আমার নিজের পরিচয়ও কিঞ্চিৎ দিয়ে রাখি। আমি দীর্ঘ চারবছর ক্যালিফোর্নিয়ার এন্ড্রেস হাউসারে কাজ করেছি। এন্ড্রেস হাউসার পৃথিবীর বৃহত্তম ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেন্সর কোম্পানী-এবং পরিবেশ, খাদ্য, জৈব প্রযুক্তি, ক্যেমিকাল কোম্পানীতে সেন্সর তৈরীর কাজে আমাকে গোটা আমেরিকার শিল্প প্ল্যান্ট গুলি এবং তাদের দূষন দুরীকরন প্রযুক্তি চষে বেড়াতে হত। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আমি উনাদের বিরোধিতার উত্তর দেব।

আমি উনাদের রিপোর্টের ফ্যাকচুয়াল পার্ট একই রেখেও লজিক্যাল গ্রাউন্ডে, অন্য ফ্যাক্ট গুলো ভুলে যাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছি

(১) মাছেদের জীবন সংশয় কেন-তারা বেশ মরেই যাবে। সমস্যা হল গোটা পশ্চিম বঙ্গে এর থেকে আরো বেশী পরিবেশ বিপর্যয় হয়েছে নদী গুলোকে মেরে। পুকুর বুজিয়ে। তার বেলাই এই ফোরাম কোথায় ছিল?? এখন নয়াচরে ক্যেমিক্যাল হাব হতেই ইনাদের উদয় হচ্ছে-যদি মিডিয়া একটু ফোকাস দেয়। জীবিতকালে ত স্টুডেন্টরাই পাত্তা দেয় নি-শেষ বয়সে মিডিয়া যদি একটু পাত্তা দেয়!

(২) লংবীচে আমেরিকার সব বৃহত্তম তৈল শোধনাগার গুলি আছে। সেখানেও মাছেদের এবং পরিবেশের অবস্থা একটু খারাপ। ৪ টে রিফাইনারী একসাথে আছে। ওখানে জল কিছুটা দূষিত এটা ঠিক-কিন্তু তার জন্যে ওরা ক্যামিক্যাল হাবের পাশেই টুরিষ্ট স্পট করে-রিহ্যাব করেছে অনেক জীবিকার। অর্থাৎ মৎসজীবিদের টুরিজম শিল্পে নিয়ে আসতে হবে। সেটা না করে-পশ্চিম বঙ্গের শিল্প লাটে তোলার জন্য পাকামি কেন??

(৩) ওখানকার ভুমির উচ্চতা এবং মাটির গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এটা সবথেকে হাস্যকর। কারন, ওর থেকেও নরম মাটিতে আমেরিকায় বে ব্রিজের মতন আট ন মাইল বিরাট বিরাট ব্রীজ তৈরী হয়েছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পঞ্চাশ বছর আগেও জানত নরম মাটিতে কি ভাবে স্ট্রাকচার তৈরী করতে হয়-এখনো জানে। সব থেকে বড় কথা গুজরাটে ক্যেমিক্যাল শিল্পগুলো কোথাই গড়ে উঠেছে উনারা ঠিক জানেন কি?

(৪) শিল্প হলে পরিবেশ দূষীত কিছুটা হবেই। ইকোলজীর কিছু ক্ষতি হবেই। সেডার রাপিড-যেখানে কার্গিলের বৃহত্তম খাদ্য কারখানা -সেখানে ২৩০,০০০ লোকের শহরে সব সময় একটা পচা গুড়ের গন্ধ। লোকে মেনে নিয়েছে-কারন ওই কারখানা গুলো না থাকলে খাওয়াবে কে???

(৫) পরিবেশ রক্ষার জন্যে ভারতে ই পি এ র মতন সংস্থা নেই। যদি পরিবেশ নিয়ে ওদের মাথা ব্যাথা তাহলে ই পি এর মতন সরকারী সংস্থা গড়ার জন্যে আন্দোলন করছেন না কেন? আমেরিকার এনভাইরনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি বন্দুক হাতে শিল্পে তালা ঝোলাতে পারে-আদালতের অনুমতি লাগে না। ইনারা কি সেরকিম একটা সংস্থার জন্যে কখনো আন্দোলন করেছেন? আজকে হঠাৎ নয়াচরে শিল্প সম্ভাবনা জাগতেই পরিবেশ পরিবেশ বলে হরেকৃষ্ণ নাম জপছেন কেন?

(৬) মহারাষ্ট্র বা গুজরাটে যেসব ক্যেমিক্যাল শিল্প হয়েছে তাতে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয় নি? তার বেলায় উনারা প্রতিবাদ করেছিলেন? সেগুলো ত এখন পরিবেশ দূষন ঘটাচ্ছে-কারন ভারতে ই পি এর মতন পরিবেশ রক্ষাকারী সংস্থা নেই। তাহলে নয়াচরে হঠাৎ করে তাদের এত পরিবেশ প্রীতি গড়ে উঠলো কেন? সব থেকে বড় কথা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি-সরকার বাধ্যতামূলক করলেও গুজরাত বা মহারাষ্ট্রের শিল্পে বজ্যপদার্থ্যে কার্বন বা দূষনের পরিমাপ মাপতে যেসব সেন্সর লাগানোর কথা, তা ওরা লাগায় না। তার বিরুদ্ধে এই 'সিটিজেন ফোরামের' পন্ডিতরা কোন দিন কিছু লিখেছেন? সবথেকে বড় কথা হচ্ছে এই সব শিল্পে আমাদের পশ্চিম বঙ্গ থেকে কেমেস্ট্রিতে বি এস সি করে গিয়ে, গুজরাটে খেটে খাচ্ছে। তাদের কথা ইনারা ভাববেন না? না পি এইচ ডি ডিগ্রী আছে বলে বি এস সি বেকারদের কথা ভাবতে নেই?

(৭) নয়াচর কতটা দূষন ঘটাবে? পশ্চিম বঙ্গে যেভাবে কৃষিতে কীটনাশক এবং সার ব্যাবহৃত হয়, তাদের আমাদের পরিবেশের বর্তমান অবস্থাটা কি জানেন?

আর্সেনিকের গড় পরিমান ৫০-৫০০ পি পি বি। যেখানে হুর সেফটি লিমিট ১০
ডিডিটির পরিমান জলে ১৮০ থেকে ২০০০ পিকোগ্রাম পার সিসি। সেফটি লিমিটের শতগুল ওপরে।
হেক্সাক্লোরো সাইক্লোহেক্সেন ১০০-৪০০ পিকোগ্রাম সিসিতে। অন্তত দশগুন বেশী।
হেক্সাক্লোরো বেঞ্জিন ৫০-১০০ পিকোগ্রামে। কোথাও কোথাও কুড়ি থেকে চল্লিশগুন বেশী সেফটি লিমিটে।
পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল ১৮০-২৩০০। অনেকগুন বেশী সাধারন সুস্থ মাত্রার ওপরে।


এদের যুক্তি মানতে গেলে এই মুহুর্তে অজৈব কৃষি ছেড়ে, অর্গানিক ফার্মিং বাধ্যতামূলক করা উচিত। কারন নয়াচরের প্রভাব পড়বে কিছু মাছের ওপরে। আর বর্তমান কৃষিপদ্ধতিতে গোটা পশ্চিম বঙ্গের পরিবেশ বিপর্যস্ত। মানুষের জ়ীবন সংকট। সেসব ছেড়ে নয়াচরের পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে এরা উতলা হচ্ছেন কেন?

প্রসঙ্গত মনে করিয়ে দিই-১৯৫০ সাল থেকে আমেরিকার পরিবেশবাদিরা ডিডিটির বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন করেছেন-কারন তা ক্যান্সার এবং বন্ধ্যাত্বের জন্ম দেয়। এই ভয়ংকর পরিবেশে লোকে পশ্চিম বঙ্গ সহ গোটা ভারতেই বাস করে। এর বিরুদ্ধে, এরা আন্দোলন করছেন না? শুধু নয়াচরের মোয়া দেখাচ্ছেন কেন? নয়াচর এর থেকেও খারাপ কিছু করতে পারবে যা অজৈব কৃষি ধ্বংশ করেছে?

উত্তরটা আশা করি পাঠক এতদিনে পেয়ে গেছেন-কারা কি স্বার্থে এই বিরোধিতা করছে।

এইসব বুদ্ধিজীবিদের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলাম। সবাই প্রফেসর গোছের। জীবনে কোন ক্যামিক্যাল ফ্যাক্টরীর গন্ধ, আদ্রতা সহ্য করতে হয় নি-দেখেও নি বোধ হয়। আমি একটা সময়ে ফ্যাক্টরী টু ফাক্ট্ররী ঘুরে বেড়াতাম। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি-কেমিক্যাল হাব হবে অথচ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে না-এমন উদাহরন তারা গোটা পৃথিবীতেই দেখাতে পারবে না। সেটা যদি সত্য হয়-তাহলে কিছু বেকার বাঙালীর ভাত মারার এদের এত ইচ্ছা হচ্ছে কেন?

সমস্যা এটাই এইসব অধ্যাপকরা একটি নিশ্চিত জীবিকাতে আছেন। তাদের বাড়ির মেয়েদেরত আর মুম্বাইয়ে গিয়ে অসীমা খাতুনদের মতন দেহ বেচতে হয় না। তাই তারা মিডিয়া ফোকাস পাওয়ার জন্যে এবং নিজেদের বিশেষজ্ঞ প্রমান করার জন্যে এই ধরনের আওয়াজ তুলে থাকেন। দেশের কথা আর কে ভাবে?

গণতন্ত্রে পরিবেশ নিয়ে বিরোধিতা এবং চিন্তা স্বাগতম। কিন্ত এটাও জানতে হবে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দূষন কমানো সম্ভব। আন্দোলন হলে সেই জন্যেই হৌক-গোটা ভারত জুরেই হৌক। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যত সৎকার করার জন্যে বিশেষজ্ঞের ভূমিকা রাখলে এদের বুদ্ধির আলখাল্লা আমরা খুলে দেব।

1 comment:

suman said...

Apner lekha ta ami porlam..khub bhalo laglo ..ami neje akjon chemical engineer ...ami design consultancy te job kori, ami jani refinery ba petrochemical unit design ar somoy , ki poriman strigent design procedure follow korte hoy, emmission kom korer jonno..NoX, Sox ..a sob emmission ...
j somostho, expert ra , chemical hub against view express korechen , onader moddhe ami dujon k chini, jara mader amader university te class nen...oner na ..ki rokom expert jana ache .college te tao kichu poratei parlo na ..akhon expert hoye ...khoti korte nemechen....