Sunday, July 7, 2013

প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান

গত দুমাসে ভারতীয় রাজনীতির সব থেকে খাশ খবর আগামী প্রধানমন্ত্রী পদের দাবীদার হিসাবে মোদির উত্থান। শুধু তাই না -শাইনিং ইন্ডিয়ানদের মধ্যে তার এপ্রুভাল রেটিং ৮৫% !  আর বাংলাদেশের মিউনিসিপাল ইলেকশনে বিএনপি এবং তার মৌলবাদি সাগরেদদের বিজয়রথ অব্যাহত। ইসলাম বিপন্ন এই আওয়াজ তুলেই তারা সফল!

             মৌলবাদ ভারত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সব থেকে বড় শত্রু। রাজনৈতিক কারনে ভারতে কংগ্রেস জনসংঘ এবং কমিনিউস্ট দলগুলিও মৌলবাদি শক্তিকে প্রশ্র্য় দিয়েছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ মৌলবাদের জন্য দ্রুত গোল্লায় গেছে-ভারতে এই শক্তি দানা বাঁধছে গত দুই তিন দশক জুরে। মৌলবাদ রুখতে সব ধর্মের মৌলবাদি শক্তির বিরুদ্ধেই গোলা দাগতে হবে। সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে গোলা দেগেছে ঠিক- আবার ইসলামিক মৌলবাদিদের উস্কে দিতে মাদ্রাসার সংখ্যাও বৃদ্ধি করেছে। সিপিএমের আরো গর্হিত কাজ হল, প্রকৃত সেকুলার মুসলিম কমরেডদয়ের সাইডলাইন করে দেওয়া। সিপিএম দলের প্রতিষ্ঠা লগ্নে যেসব মুসলিম কমরেডরা ছিলেন, তারা ছিলেন হিন্দু কমরেডদের থেকেও বেশি সেকুলার। ন্যারেটিভটা এই অর্থে-বর্তমানে এই পতিত কমিনিউস্ট দলের নেতাদের মধ্যে কালীভক্ত এবং হাজি গাজি নেতারদের ভীর বেশি।  তাদের সবাইকে বসিয়ে আজকে সিপিএমের নেতা হয়েছে হাজি রেজ্জাক মোল্লা। যিনি জলেও আছেন, তেলেও আছেন। মহম্মদের প্রতিক্রিয়শীলতা আর মার্ক্সের প্রগতিশীলতা -মুদ্রার দুই পিঠ যার কাছে সমান সত্য! এইসব নিয়ে কিছু বলার নেই। কংগ্রেস যেভাবে মৌলবাদি শক্তিকে মদত দিয়ে থাকে-ওরাও তাই করছে। অর্থাৎ সমস্যা হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে সেকুলার আব ধর্মনিরেপেক্ষ অবস্থান বলতে কিছু নেই। 

                কারন ও স্বাভাবিক-ধর্মের সুরসুরি দিয়ে সহজে ভোট পেলে কে আর তার বিরুদ্ধে যাবে। এই করুন অবস্থাটা আমি ছোটবেলায় শিখেছিলেম কমরেড আবদুল বারির কাছ থেকে। উনি মুর্শিবাদ জেলাতে সিপিএমের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং ওর মতন সাচ্চা সেকুলার লোক জীবনে দেখি নি। মুর্শিদাবাদের মতন ৮০% মুসলিম প্রধান জেলাতে ওরমতন সাচ্চা কমরেড চলবেনা বলে উনাকে দ্রুত সরিয়ে মৃগাঙ্ক বাবুকে পরে আনা হয় যার পেছনে ছিল মুর্শিবাদের বারি বিরোধি সিপিএম কমরেডরা যারা আধাসাম্প্রদায়িক। বারিচাচা পারিবারিক বন্ধু হওয়াতে খুব ভাল ভাবে বুঝেছিলাম ভারতে সেকুলার নেতাদের ভবিষ্যত নেই-আর যদি মুসলিম নেতা হয়, তার সেকুলার থাকা আরো কঠিন। 

             এটাত গেল হতাশার কথা। পরিত্রানের উপায় কি? ভারতে বাম, ডান মধ্যম রাজনীতি- সবাই সাম্প্রদায়িতা উস্কানি দেয়। না হলে ভোট পাবে না। উপায় খুঁজতে হবে না হলে ভারতের রাজনীতির হাল পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের দিকেই যাবে-ইউরোপের উন্নত দেশের দিকে যাবে না। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি চিন্তার প্রসার ঘটানো একটা কাজ হতে পারে -কিন্ত করবে কে? ইউটিউবে এসব যুক্তিবাদি বিজ্ঞানবাদি আলোচনা অনেক আছে কিন্ত সেগুলি যদি ৫০০০ হিট পায়, জাকির নায়েকের অর্ধশিক্ষিত লেকচার পায় ৩০০০,০০০ হিট। নাম্বারের নিরিখে এই ত অবস্থা যুক্তিবাদের। 

আমি মনে করি সমাধান ভারতের উৎপাদন ব্যবস্থাতেই লুকিয়ে আছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য ভারতের গাঙ্গেয় উপত্যকা আর ২০ বছরে শুকিয়ে যাবে যেহেতু হিমালয়ান গ্লাসিয়ার আস্তে আস্তে ফিকে হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান ২০৩৫ সালের মধ্যে গঙ্গা নদীটা পুরোটাই শুকিয়ে যাবে হয়ত।  ১৯৫০ সালের পর থেকে ভারতের নদীগুলির জল কমেছে ৬০%। 
 এর পেছনে গ্লোবাল ওয়ামিং ও যেমন কার্যকর,  তেমন উচ্চফলনশীল চাষের জন্য জলের চাহিদা বৃদ্ধিও সমান ভাবে দায়ী।  জলের স্তর মেট্রোগুলিতে এত নেমেছে, দিল্লী মুম্বাই শহর গুলি জল রেশন করবে আর দুদিন বাদে।  মাদ্রাস বা দিল্লীতে এখনই তা হচ্ছে। একটা বিরাট প্রাকৃতিক বিপর্য্য় ভারতের ঘারে গ্লোবাল ওয়ার্নিং এর হাত ধরে আস্তে আস্তে আসছে। গ্লোবাল ওয়ামিং এবং আনসাসটেনেবল উচ্চফলনশীল কৃষির যৌথ চাপে, ২০২০ সাল থেকে ভারতে খাদ্য উৎপাদন আস্তে আস্তে কমবে।

  বাংলাদেশ অবশ্য এখনি বিপর্যস্ত।  ভারত থেকে জলের অসম বন্টনে বাংলাদেশে নদীগুলি এখনই মৃত। ফলে বাংলাদেশের বৃহৎ অঞ্চল জুরে দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়। যার সাথে আর্সেনিকের সমস্যা থেকে লাগাতার বন্যা এবং খরা বাংলাদেশের বিস্তীর্ন অঞ্চলকে গ্রাস করেছে। 


পরিবেশ গত কারনে ভারত এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত খুব অন্ধকার।  এর থেকে উদ্ধার পেতে, বা লোককে বাঁচাতে বিজ্ঞান এবং উন্নত রিনিউয়েবল প্রযুক্তির কাছে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সরকার এই কাজ একা পারবে না। লাখে লাখে এন জি ও চাই। প্রতিটা গ্রাম এবং শহরে সবুজ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের জন্য মনের মধ্যেও বিজ্ঞান মনস্কতার প্রচারের একটা সুযোগ আসবে। এক্ষেত্রে এই এন জি ও গুলি জনগনের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রচার করতে পারে । এই সুযোগ আসছে এবং বিজ্ঞান আন্দোলনের শরিকদের তা হারালে চলবে না। 

মৌলবাদের সাথে পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্পর্কটা বা মিসিং লিংকটা একটু বোঝা শক্ত হতে পারে। এর কারন আমাদের অধিকাংশ পাঠক, মৌলবাদকে বস্তুবাদি সমস্যা হিসাবে ভাবে না। বাংলাদেশ থেকে হিন্দু বিতারন মৌলবাদি বা সাম্প্রদায়িক কারনে না । বাংলাদেশের হিন্দুরা ভিখিরি হলে ওদের পেছনে কেও লাগত না,  আবার বাংলাদেশে তেল থাকলে, পশ্চিম বঙ্গ থেকে হিন্দুরা বাংলাদেশে যেত। আসল সমস্যা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ এত কম, লোকেরা প্রায় খেতেই পাচ্ছে না -এই অবস্থায় হিন্দুদের সম্পতি দখল করে কেও যদি খেতে পায় ত খাবে।  সেটা সাম্প্রদায়িক না -বস্তুবাদি কারন। সব জাতিদাঙ্গার পেছনে বস্তুবাদি কারনটাই মুখ্য-আর সেটা হচ্ছে সম্পদ এবং খাদ্যের অপ্রতুলতা।  এই যে আজ মিশরের আন্দোলন এবং তার থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডের উত্থান আমরা দেখলাম বা দেখছি এর পেছনে মূল কারন মিশরের হাঙ্গার ইন্ডেক্স বা পেটের জ্বালা গত ৫ বছরে লাফিয়ে লাফিতে বেড়েছে। মিশরে দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের  মূল কারন পেটের জ্বালা।

    কালকে লেনিনগ্রাড সিনেমাটা দেখছিলাম।  জার্মানি তখন লেনিনগ্রাদ ঘিরে ফেলেছে। ডিসেম্বরে লেনিনগ্রাদে একফোঁটা খাবার নেই। পেটের ক্ষিদেয় লেনিনগ্রাডের নাগরিকরা তখন  ক্যানিবাল। মৃতদেহের হাত পা কেটে খাচ্ছে।  একটা এয়ার রেড হল। কিছু লোক মৃতদেহের হাত পা কেটে মাংস তুলতে ঘোটলা করছে রাজপথে। হঠাৎ একজন দেখল একটা বোমা ফাটে নি। বোমাটা চিনির প্যাকেটের মতন দেখতে। হঠাৎ গুজব উঠল ওটা বোম না - চিনির প্যাকেট।  সোভিয়েত প্লেন ফুড ড্রপ করেছে কাল রাতে। ওখানে আসলে চিনি আছে।  লোকে তখন খিদেতে এত কাতর বোমাটাকে চিনির বস্তা ড্রপ করা হয়েছে ভেবে বোমাটা খুলতে দৌড়ল। হাত দিতেই, বোমটা ফেটে ওদের সবার বোমসমাধি।

           মৌলবাদ হচ্ছে সেই বোমা-যখন লোকে খেতে পাবে না -ওটাকেই চিনির বস্তা বলে খেতে যাবে এবং সেটা ওদের মধ্যে ফাটবে। পাকিস্তানে এটাই হয়েছে। বাংলাদেশে এটা ক্রমবর্ধমান পরিণতি।  ভারতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে না পারলে বিরাট খাদ্য সংকট এগিয়ে আসছে। খাদ্য এবং পানীয় হবে অপ্রতুল। এগুলি যখন হবে-মৌলবাদি বোমাটা বলবে আসলে আমরাই তোমাদের জল আর খাবার দেব- লোকে সেটা বিশ্বাস করবে এবং বোমাটা ফাটবে।

একটি প্রকৃত বিজ্ঞান মনস্ক মনই বুঝতে সক্ষম, আমরা কেও হিন্দু মুসলমান বা কমিনিউস্ট নই । যখন আমরা নিজেকে হিন্দু, মুসলমান বা কমিনিউস্ট ভাবছি, আসলে নিজেদের অজান্তে আমরা শাসক শ্রেনীর বোরেতে পরিণত হচ্ছি। যদি আমাদের জীবনে সাধনাটা মানুষের জন্য,সমাজের উপকারের জন্য হত-এই ধরনের বিভাজনের রাজনীতির বিষ ভারতের রক্তকে নীল করতে পারত না।

Monday, April 29, 2013

বাঙালীই কেন চিটফান্ডের ফাঁদে?

এত দিস্তা খরচ হচ্ছে, অথচ সব থেকে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নটা কেও তুলছে না। বা বাঙালীর বিদ্যাবুদ্ধি এত দ্রুত নীচে নেমেছে,  সব থেকে গুরুত্বপূর্ন বিশ্লেষণ বা আত্মসমীক্ষা এখনো আমরা করি নি।

    এই প্রশ্ন সবার আগে তোলা উচিত কেন বাংলাতে চিটফান্ড এবং চিটার -এই দুইগোত্রের সব থেকে বড় বেশি রমরমা?

    খুব সহজ উত্তর হচ্ছে বাঙ্গালির ব্যাবসায় অনীহা।  গুজরাতে মাথা পিছু আয় বাঙালীর আড়াইগুন। সেখানে চিটফান্ডের উৎপাত কেও শোনেনি। তাহলে বাঙালীর মধ্যেই এই সংক্রামক ব্যধিটি কেন? বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে-বাঙালীর ব্যবসা বিমুখতাই এর মূল এবং মুখ্য কারন।


  1.     সহজলভ্য এজেন্ট। পশ্চিম বঙ্গে শিল্প নেই। কোনদিন হবেও না। সিপিএম এবং তৃণমূল উভয় পার্টি শিল্পবিরোধি পপুলিস্ট এজেন্ডাতে বিশ্বাস করে। ফলে এত বেকার আর কোথাও নেই। এতে এজেন্ট পেতে খুব সুবিধা।
  2.  বাঙালীদের অধিকাংশর ব্যবসা নিয়ে নুন্যতম ধারনা নেই। ফলে ৩০% এজেন্ট কমিশন দিয়ে যে ২০% রিটার্ন দেওয়া যায় না, সেটা বোঝার মতন সামান্য ব্যবসায়িক বুদ্ধিও অধিকাংশ বাঙালীর নেই। কেও টাকা ফেরত পাচ্ছে শুনেই যুক্তিতিরোহিত হয়ে লাফাবে।
  3.  গুজরাট বা অন্য যেকোন রাজ্যে লোকে, কিছু টাকা যেমন জমায়, কিছু টাকাতে জমি সোনা বাড়ি ইত্যাদি এসেট ও করে। খুব গরীবলোক ও জমিয়ে কিছু কিছু না কিছু এসেট করে।  চীটফান্ড আসার আগে এইসব বাঙালীর মধ্যেও ছিল। কিন্ত বাঙালী এত অলস-এসেট করাতে যে খাটনি আছে, সেটুকুও করতে তারা নারাজ।
  4.  পাঞ্জাবী বন্ধুদের মধ্যে চিট ফান্ড দেখিনি। সেখানে টাকা করার সহজ উপায় হচ্ছে বন্ধু বা আত্মীয়র ব্যবসাতে চড়াসুদে টাকা লাগানো।  বাঙালীদের মধ্যে কেও ব্যাবসা করে না। আর করলেও তাকে কেও বিশ্বাস করে না। ফলে বন্ধু বা আত্মীয়র ব্যবসায় টাকা লাগিয়ে, টাকা করার উপায়-যেটাকে কমিউনিটি ফান্ডিং বলে, সেই সুযোগ বাঙালীদের মধ্যে নেই।  সাধারনত এইভাবেই সব থেকে সহজ এবং বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়। এই সুযোগটাই বাঙালী কমিউনিটির মধ্যে নেই। ফলে চিটিংবাজির রমরমা।
কম সুদ?  ব্যাঙ্কের সুদ আমেরিকাতে ১ থেকে ২%।ি

এখানে আমরা সবাই লগ্নি করতে বাধ্য যেহেতু সুদ কিছু নেই। রিয়াল এস্টেট বা বাড়ি সব থেকে নিরাপদ লগ্নীর জায়গা।  এই ২০০৮ সালের হাউসিং  ক্রাশের পরেও। কিন্ত সাধারণত লগ্নি করা উচিৎ এসেট এবং ক্যাশ বিজেনেস মিলিয়ে। সেটা না হলে বন্ড মার্কেট খোলা আছে।

 আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে বাড়তি পুজিকে আরো বাড়ানোর সেরা উপায় বাড়ি এবং জমি। হতেই পারে হত দরিদ্র বিনিয়োগকারীরা সেটাও পারে না। কিন্ত আমিত দেখছি খুব গরীবদের ও আমানতের পরিমান ১০,০০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ ?
 সেই টাকায় রিক্স বা ভ্যান কিনে ভাড়া দিলেও সারদার থেকে বেশি রিটার্ন পেত। সেইটুকু ব্যাবসায়িক বুদ্ধিও এদের নেই। নীচু থেকে উঁচু বাঙালীর মধ্যে এক রোগ-অলসভাবে বসে থেকে টাকা কামানোর ধান্দা।

 আমি বারবার লিখেছি, বাঙালীর দুর্দশার জন্য সিপিএম বা তৃণমূল না, বাঙালী নিজেই দায়ী।  যেমন জাতি, তেমন তার পার্টি।  এমন ব্যাবসা বিমুখ জাতি যদ্দিন পারবে, তদ্দিন রবীন্দ্রনাথের দাড়ির উকুন হয়ে আঁতেল সাজবে।  হয় লোকে তার পকেট কাটবে, বা সে লোকের পকেট কাটবে।

Wednesday, April 24, 2013

মমতা না সুদীপ্ত সেন? সব থেকে বড় অভিনেতা কে?

 আমি দুবছর আগে লিখেছিলাম, সিপিএমের বিরুদ্ধে মানুষের জনরোষে এত বেশি, মমতা এমনিতেই জিতবেন। কিন্ত তৃণমূল পার্টির সাথে যেভাবে চিটফান্ডের লোকেরা জড়িয়ে যাচ্ছে, তিনি বাঘের পিঠে চেপে আজ ছাগল খেলেও, কাল বাঘের হাতেই তার শেষকৃত্য হবে। আপাতত সেদিকেই তিনি এগোচ্ছেন। সারদা দিয়ে ত সবে শুরু। রোজভ্যালি কেলেঙ্কারী এই সপ্তাহেই বাজারে আসছে। তারাও আমানতকারিদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।  তাদের পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এর পরে প্র্যয়াগ, এগ্রোটেক ইত্যাদি আরো শ খানেক ফান্ডের সলিল সমাধি সময়ের অপেক্ষা। কারন এদ্দিনে আমানতকারীরা টাকা তুলে নিতে চাইছেন। আর নতুন টাকা না এলে, পঞ্জি স্কীম সেখানেই শেষ।

     এগুলি ছিল সময়ের লিখন-শিক্ষিত বাঙালী মাত্রই জানত এদিন একদিন আসবে।  পঞ্জি স্কিম একদিন না একদিন তাদের ঘরের মতন ভাংবে।

    কিন্ত যেটা নিয়ে সবাই নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন, তা হচ্ছে সন্তান স্নেহে কুনাল ঘোষকে রক্ষা করছেন দিদি। কুনাল ঘোষ এখন তৃণমূলের সব থেকে বড় ল্যায়াবিলিটি। তাকে আগলাচ্ছেন মমতা। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে কুনালকে সরালে কিছু হারাবেন মমতা । কুনালকে রেখে দিয়ে যা হারাচ্ছেন তার থেকেও  সেই লস বেশি। সেখানেই সব থেকে বড় রহস্য।

         অর্থাৎ কুনালকে টেনে নামালে, কুনাল ও অনেককেই নামাবেন। প্রশ্ন হচ্ছে তার মধ্যে মমতা থাকবেন কি না।

   চিটফান্ডের প্রতি মমতা সহ তৃণমূলের প্রচ্ছন্ন মদত ছিল, এত তৃণমূলের নেতারাই স্বীকার করেছেন।  স্বীকার না করলেও ক্ষতি নেই টিভিতে, চিটফান্ডের টিভিতেই সেই পাপকার্য্য দেখেছে রাজ্যের লোক। সমস্যা হচ্ছে কতটা জানতেন মমতা?

  সেবি তাকে বারে বারে ছিঠি দিয়ে জানিয়েছে। কংগ্রেস সিপিএমের অনেক নেতা বিধান সভায় অন্তত তিন বার [ গত দু বছরে ] চিটফান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য মোশন আনতে বলেছেন। তৃণমূল সংহিসতার সাথে তাদের বাধা দিয়েছে। আর আজকে তিনি বলছেন তিনি কিছু জানতেন না। আর তিনি হচ্ছেন "সততার প্রতীক" ? "গরীব দরদি" ?

 সত্য এটাই মমতা সব জানতেন। চিটফান্ডগুলি ছিল তার অর্থনৈতিক মুশকিল আসান।  এদের মিডিয়া হেল্প ও দরকার ছিল। যেখানে কারখানা অধিগ্রহণ করতে হবে, সারদাগ্রুপকে দিয়ে তা করিয়েছেন। বাস নামাতে হবে, সেখানেও চিটফান্ড মালিকদের ভয় দেখিয়ে নামিয়েছেন।  এটা মমতা জানতেন সৎ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অত সহজে টাকা পাবেন না। অসাধু চিটফান্ডের মালিকরা হচ্ছে দুগ্ধবৎ গাভী।  চাইলেই দোয়াতে পারবেন-কারন এদের  পায়ের তলায় মাটি নেই।

 এই কুকর্ম করানো হত কুনালঘোষকে দিয়ে।  তিনিও সুযোগ বুঝে দাঁও মেরেছেন দুদিকেই।

  তৃনমূল এখন বলতে চাইছে সিপিএমের আমলে চিটফান্ডের উত্থান!! কি যুক্তি!! যদি ধরেও নিই সিপিএমের অনেক মেজ সেজ নেতা চিটফান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন, তাহলে তৃণমূলের যুক্তি এটাই-ওরা যেহেতু প্যান্টখুলে ঘুরে বেড়ায়, আমরাও বেড়াব!! এটা কোন সুস্থ রাজনীতির লজিক?

 সত্য এটাই প্রাত্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত অনেকবার চিটফান্ড বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। পারেন নি সম্ভবত পার্টির চাপেই। কিন্ত বিমান বোস ত বলছেন, তৃণমূল সিপিএমের সেই নেতাদের নামগুলো দিক। এদিকে যেমন কুনাল ঘোষ এবং সৃজিত বোসের নাম প্রকাশ্যে এসেছে এবং কোন সন্দেহ থাকার কথা না যে এই দুই পেশাদার একদম পেশাদারিত্বের সাথে চিটফান্ডের গুড় খেয়েছে, তেমন দুজন সিপিএম নেতার নাম দিক তৃনমূলীরা। আমরাও আনন্দিত হব। বিমান বোস ও হবেন।

 এবার রাজ্যবাসী নিজেকে প্রশ্ন করুন-অভিনয়ে কাকে বেশি নম্বর দেবেন? মমতা না সুদীপ্ত সেনকে?



Sunday, April 21, 2013

বস্টনে ইসলামিক সন্ত্রাস- ইসলামের দায় কতটা?


তৈমুরলেন সারানেভ এবং জওহঢ় সারানেভ। এই দুই ইসলামিক সন্ত্রাসবাদির কার্যকলাপে গত সপ্তাহে কার্যত অচল হয়ে গেল বস্টনের মতন শহর। মিডিয়াতে ঘুরে ফিরে সেই এক প্রশ্ন-ইসলাম এই ব্যাপারে কতটা দায়ি?
কেননা বড় ভাই এবং বস্টনের ম্যারাথন সন্ত্রাসবাদের মূলহোতা তৈমুর, আস্তে আস্তে গভীর ধর্মীয় ভাবাবেগে ভেসে, এই সন্ত্রাসবাদের কাজ করেছে-এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এটা ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের অঙ্গ। সেই নিয়েও সন্দেহ নেই। বিতর্ক এই নিয়ে যে এর জন্য ইসলাম নামক ধর্মের দায় কতটা?
হিন্দু, ইসলাম , খ্রীষ্ঠান সব ধর্মেই সন্ত্রাসবাদী আছে। নাস্তিক সন্ত্রাসবাদি ও আছে। কিন্ত বর্তমান পৃথিবীতে সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় মুসলিমরা সব থেকে বেশি জড়িত এবং ইসলাম ধর্মশিক্ষা সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদির জন্ম দিচ্ছে। এখানেই প্রশ্ন তোলা উচিত-এবং যে প্রশ্নের সন্ধান আমরা ৯/১১ থেকে করছি-এর পেছনে ইসলামিক শিক্ষা-কোরান বা প্রফেট মহম্মদের জীবনী কতটা অনুপ্রেরণা দিচ্ছে?
এই নিয়ে মুক্তমনা সহ অনেক ব্লগেই দিস্তার পর দিস্তা খরচ হয়েছে। অনেকেই কোরানকে মূল অভিযুক্ত করেছেন। আমি করছি না। শুধু এই কারনে যে ভগবদ গীতা কোরানের থেকে অনেক বেশি ধর্মযুদ্ধ বা জেহাদে উস্কানি দেয়। শুধু ধর্মগ্রন্থের কারনে, মানুষ সন্ত্রাসবাদি হলে, হিন্দুরা সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদি হত। কারন ভগবদ গীতা সম্পূর্ন ধর্মযুদ্ধের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সংখ্যাতত্ত্ব সেটা বলছে না। প্রতি এক কোটি লোকে মুসলিম সন্ত্রাসবাদির সংখ্যা হিন্দুদের থেকে অনেক বেশি। সুতরাং ধর্মগ্রন্থে কি লেখা আছে তা গুরুত্বপূর্ন না।
মহাভারতের যুদ্ধোত্ত্বর পর্বে যুধিষ্ঠিরের প্রতি কৃষ্ণের উপদেশ প্রাণিধানযোগ্য এবং এই ঘটনায় প্রাসঙ্গিক। সেটা হচ্ছে কোন আদর্শবাদ নিজে থেকে ভাল বা খারাপ হয় না। আদর্শবাদের প্রয়োগ এবং ধারকের ওপর নির্ভর করে আদর্শবাদ সমাজের উপকার না ক্ষতি করবে।
বরং আমাদের বিশ্লেষনের অভিমুখ হওয়া উচিৎ সমাজবিজ্ঞানের লেন্সে। আমাদের দেখা উচিৎ, আমেরিকার এই হোম গ্রোন টেররিস্টদের প্যাটার্নটা কি। কেন তারা আমেরিকান সমাজে গ্রহীত হওয়ার পরেও, আমেরিকাতে এত ভাল জীবন পাওয়ার পরেও আমেরিকার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হচ্ছে। কেন তারা এত আপাত নিরীহ ভাল চরিত্রের যুবক হওয়া সত্ত্বেও কট্টর মুসলমানে রূপান্তরিত হচ্ছে?
ধর্ম খারাপ না-কিন্ত কট্টঢ় ধার্মিক নিশ্চিত ভাবেই খারাপ। এখন এক্ষেত্রে একটা সস্তার তত্ত্ব হচ্ছে ইসলামে শক্ত “ইমান” এর ওপর জোর দেওয়া হয়। বা ইসলামের ধারনা গুলি টোটালটারিয়ান। বা ইসলাম একটা সম্পূর্ন জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের দিশা দেখায়। এগুলো সব আপাত সত্য। কারন হিন্দু ধর্মও সম্পূর্ন। মহাভারতে যে সম্পূর্ন জীবন এবং রাজনৈতিক দর্শনের শিক্ষা আছে, তা ইসলামের থেকে অনেক বেশি বৃহৎ এবং সম্পূর্ন। এই ধরনের সম্পূর্ন পূর্নাঙ্গ জীবনের দর্শনের সন্ধান সিন্ট, কনফুসিয়াস বা জেন সহ অনেক দর্শনেই পাওয়া যাবে। এবং এই ধর্মগুলিও সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের নানান সময়ে। সুতরাং ধর্মীয় উগ্রতা ইসলামের একার ভূষন না। আবার এটাও সত্য, বর্তমান সময়ে অন্যান্য ধর্মে উগ্রতা ক্রমে আসলেও ইসলামে সেটা ক্রমবর্ধমান।
ভাববাদি বিশ্লেষনে কাজ হবে না। আমাদের বস্তুবাদি চোখেই দেখতে হবে ইসলামের সমস্যা কোথায়। এখানে ইতিহাসের এবং অর্থনীতির ভূমিকা কি?
(১) প্রথমে আমেরিকার প্রসঙ্গে আসা যাক। মেজর নাদাল হোসেন, ফায়জাল ( নিউউয়ার্ক টাইমস্কোয়ার বোম্বিং) বা তৈমুরের মধ্যে একটা সাধারন থ্রেড আছে। এদের প্রত্যেকেই আমেরিকাতে নিসঃঙ্গ ছিলেন। দেখা যাচ্ছে এদের বৈবাহিক জীবন সুখের হয় নি। এটা ডিম না মুরগী আগের সমস্যা। এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই এদের রক্ষণশীল মনোভাবের সাথে কোন আমেরিকান মেয়েদের মানিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে এরা এদের ব্যার্থ ফ্যামিলি লাইফের জন্য পাশ্চাত্য জীবনকেই দায়ী করেছেন এবং ক্রমশ আরো কট্টর ইসলামিক জগতে ঢুকেছেন।
এই ধরনের ঘটনা রক্ষণশীল হিন্দুদের মধ্যেও দেখেছি। তারাও আমেরিকাতে এই সমস্যার জন্য আরো বেশি রক্ষণশীল হিন্দু ধর্মে ঝুঁকেছে। কিন্ত কোন হিন্দু তারজন্য আমেরিকাকে বম্বিং করার চেষ্টা করে নি। যেটা একমাত্র মুসলিমদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
এর কারন কাষ্মীর, চেচেন ইত্যাদি বিচ্ছিন্নাবাদি আন্দোলনগুলি কট্টরপন্থি ইসলামিক সন্ত্রাসবাদিরা হাইজ্যাক করে নিয়েছে। ফলে কোন কট্টর মুসলমান যুবকের মনে, যে পৃথিবীটাকে দেখেনি বা চেনেই না-তাকে কব্জা করে সন্ত্রাসবাদি বানানোর একটা লজিস্টিক সাপ্লাই লাইন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং চেচেনিয়াতে আছে। ফলে তেল যেখানে আছে-সেখানে দেশলাই ছুঁড়লে আগুন ধরবেই।
(২) মুসলিম পরিবার গুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অজ্ঞান এবং অন্ধকারে ডুবে থাকা দেশগুলি থেকে আসছে-যেখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা নেই। প্রতিটা ধর্মেই ভাল এবং খারাপ দিক আছে। যে সমাজ সেই খারাপদিকগুলির দিকদর্শনের সুযোগ দেবে না-সেই সমাজে কট্টরপন্থা স্বাভাবিক। বাংলাদেশে যেসব ব্লগার ইসলামের অন্ধকার দিকগুলি নিয়ে লেখা শুরু করেছিল, তাদের জেলে ভরা হল। ধর্ম বা রাজনৈতিক দর্শনের সমালোচনার পরিবেশ না তৈরী হলে, লিব্যারাল বা উদার সমাজ তৈরী হবে কি করে? আর উদার রাষ্ট্রে না জন্মালে, ধর্মের খারাপ দিকের সাথে পরিচয় না থাকলে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের খারাপদিকটা একজন উঠতি যুবক কি করে বুঝবে?
ইমানের দোহাই দিয়ে যেমন একজন হিন্দুকে গরুর মূত্র সেবন করানো যায়-ঠিক তেমন ই ইমানের চাপে একজন মুসলিমকে ধর্মসন্ত্রাসী বানানো সব থেকে সহজ কাজ। ধর্মের যে বাজে দিক থাকতে পারে সেটাই সে বোঝে না বা বুঝতে ভয় পায়।
(৩) তেলের অর্থনীতি এবং রাজনীতি এর জন্য আরো বেশি দায়ী। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের জন্য বা ঠান্ডা যুদ্ধের দিনে অধিকাংশ বিদেশী রাষ্ট্র, সেখানে গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদকে আসতে দেয় নি। ফলে সামন্ততান্ত্রিক থেকে ধণতান্ত্রিক সমাজের উত্তোরনের ব্যাপারটা মুসলিমদেশগুলিতে আটকে গেছে। পাকিস্তানের সাথে ভারতের তুলনা করলে এটা আরো ভাল বোঝা যাবে। পাকিস্তানকে ইসলামিক রাষ্ট্র বানাতে সব থেকে বেশি বড় ভূমিকা ছিল আমেরিকার। এর ফলে পাকিস্তান শাসন করে ডজন খানেক পরিবার। সেখানে যে শ্রেনী সংগ্রাম আছে, তা জিহাদি সংগ্রামের রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশেও দেখা যাবে সেই এক সমস্যা। ঠিক ঠাক ভাবে ধনতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ সেখানে হচ্ছে না। উদার গণতন্ত্র এবং ধনতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। ইসলামিক রাষ্ট্রগুলি ব্যার্থ-এর মূল কারন মুসলিম দেশগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আরো ভাল ইসলামিক রাষ্ট্র। অর্থাৎ ভাববাদি গ্যাঁজা সেবন করিয়ে, লোকের পকেট কাটা।
আধুনিক উৎপাদনশীল উদার রাষ্ট্র তারা চাইছে না। বিসমিল্লা ব্যাঙ্ক খুলে যদি লোকের ১২০০ কোটি টাকা মারা যায়, কাঁহাতক কে সৎ পথে ব্যবসা করবে? তার থেকে বিসমিল্লা আর ইসলামের নামে পার্টি চালনা করা ভাল। ইসলামিক দেশগুলি এই অন্ধকার পথেই হাঁটছে এবং মধ্যপ্রাচ্য সহ অনেক বিদেশী শক্তির মদত পাচ্ছে। কারন এই ভাবে দেশগুলি যদি ধর্মের আফিং এ মেতে থাকে, তাতে এদের শাসক শ্রেনীকে কন্ট্রোল করে, লুঠপাট করা সহজ কাজ।
ফলে ইসলামিক দেশগুলিতে খাদ্যদ্রব্যের সংকট তীব্র না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের ভাববাদি রাজনীতি চলতে থাকবে। একমাত্র পেটের আগুন, তাদের বস্তুবাদি রাজনীতির সন্ধান দিতে পারে। যদ্দিন এমন না হচ্ছে তদ্দিন মুসলিমদেশগুলি চালাবে বিসমিল্লার নামে পকেটকাটা চোরেরা। আর তাদের টেকাতে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ এবং শরিয়া হবে অপরিহার্য্য।

Sunday, April 14, 2013

নাস্তিকদের ওপর অত্যাচার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত

                                                                              [১]

আসিফ, সুব্রত, রাশেল এবং  বিপ্লব। সত্য কথনের পুরষ্কারস্বরূপ এরা এখন বাংলাদেশের জেলে।  গান্ধী লিখেছিলেন, এই দুনিয়াটাই এত অসততা এবং নির্মমতার আধার, জেল ছাড়া, সৎ লোকের অন্য কোন ঠাঁই নেই!  পয়লা বৈশাখের আনন্দের দিন আজ বিষাদঘন বেদনার আধার।  এই চার সৎ নির্ভীক যোদ্ধার নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে একদিন প্রগতিশীলতার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত হিসাবে লেখা থাকবে।  সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আজ থেকে একশ বছর ভবিষ্যতে-ধরুন এই ২১০০ সালে, প্রথাগত ধর্মের অস্ত্বিত্ব থাকবে না ( কেন এমন হবে এই নিয়ে আমার একটি বিস্তারিত ব্লগ আছে  অধ্যাপক ভিগনারের কাজের ভিত্তিতে )।

ভাবুন সে এক পৃথিবী যেখানে বাংলাদেশ নেই, ইসলাম নেই। আছে একটাই দেশ-পৃথিবী-একটাই ধর্ম মানবতা।  ভবিষ্যতের সেই পৃথিবী এই চার নাস্তিক ব্লগারের কারাবাস কিভাবে দেখবে?  শুধু ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করার জন্য এবং হজরত মহম্মদের সমালোচনার জন্য চার জন সৎ সমাজদ্রষ্টাকে রাষ্ট্র জেলে পাঠিয়েছে?  আল্লা বা ঈশ্বর অস্তিত্বহীন মিথ । সেই অস্তিত্বহীন মিথের অত্যাচারে যদি বিজ্ঞানমনস্ক জনমানসকে কোন রাষ্ট্র ধ্বংস করতে উদ্যত হয়, সেই রাষ্ট্রের ভবিষ্যত প্রজন্মের কি হবে?

    তেল খননে ফ্রাকচারিং এর আবিস্কারের সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের অর্থনীতি ধ্বংস হওয়ার দিন সমাগত। বড়জোর আর এক দশক। এর মধ্যেই সৌদি আরব থেকে অধিকাংশ বাংলাদেশী এবং ভারতীয় শ্রমিকদের  তাড়ানো শুরু হয়েছে।   তেলের টাকায় ইসলাম করার দিন শেষ।  বাংলাদেশের ওই ক্ষুদ্র জমিতে এত লোক। বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং রাষ্ট্র না গড়তে পারলে,  পাকিস্তানের মতন পঙ্গু ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ।  রাষ্ট্রের জনগণকে উন্নত করতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তর ছাড়া বিকল্প কি আছে?  আল্লা কেও মানুক বা না মানুক-আশা করি বাংলাদেশের ধর্মভীরু জনগণ ও এত আহাম্মক না যে তারা মনে করে আল্লাপাক তাদের বসে বসে খাওয়াবে!

                                                                   [২]

 নাস্তিকতা মানুষের মনের স্বাভাবিক অবস্থা। আস্তিকতা হচ্ছে মনের বিকৃত অবস্থা। প্রতিটা শিশু যখন জন্মায় সে আল্লা, ঈশ্বর-হিন্দু মুসলমান কিছুই জানে না।  প্রতিটি শিশুই নাস্তিক।  এরপর তার মাথায় আল্লা, ঈশ্বর গড ভূত ভগবান এসব ঢোকানো হয়।  ভয় দেখিয়ে জোর করে প্রতিটি শিশুকে আস্তিক বানানো হয়।  ঈশ্বরে বিশ্বাস একধরের ব্রেইন ড্যামেজ। যা ছোটবেলায় শিশুমনে ভয় দেখিয়ে ঢোকানো হয়।

 যদি ভয় দেখানো না হয়, যেকোন শিশু, তার নিজের স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধিতেই এইসব আল্লা ঈশ্বরের গাঁজাখুরি গল্পে হাসাহাসি করবে।  আমার সাত বছরের শিশুপুত্রকে কোন দিন আমি বলি নি ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই।  বরং আমি তাকে ভারতীয় সংস্কৃতি শিক্ষার জন্য মন্দিরে পাঠাচ্ছি আবার তার সাথে বিজ্ঞানের অনেক ডকুমেন্টারি ও দেখি।  আজকাল সে আমাকে বলছে, আচ্ছা এই অস্তিত্বহীন ঈশ্বরের পেছনে লোকে এত সময় নষ্ট করে কেন?

    এখন এই প্রশ্ন যদি বাংলাদেশের কোন শিশু তার বাবাকে করে, সে নিশ্চয় বকাবাকি বা মারধোর খাবে। বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুটি এই ধরনের কোন প্রশ্ন তুলবেই না কারন আমার পুত্র যত বিজ্ঞানের ডকুমেন্টারী দেখার সুযোগ পায়, সে হয়ত পাবে না।  অর্থাৎ  আস্তিকতা, ঈশ্বরে বিশ্বাস একজন শিশুর ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়।  নাহলে পৃথিবীর প্রতিটি শিশু, যারা বিজ্ঞানকে জানতে জানতে বড় হবে, তারা কোনদিন  ঈশ্বর বিশ্বাসী হতে পারে না।

 কিন্তা তাহলে ঈশ্বরের সৈনিকরা বিবর্তনের খেলায় বিজয়ী হোল কি করে?  কি করে তারা দখল করে বসল রাজনৈতিক ক্ষমতা?  এর উত্তর ও ইতিহাস থেকে সহজেই পাওয়া যায়।

    সমাজ বিন্যাসের প্রথম ধাপেই ঈশ্বরের জন্ম হয় নি।  প্রথমে জন্ম হয়েছে একটি মৌল প্রশ্নের। জীবনের উদ্দেশ্য কি?  এটি কি একটি মাত্র জীবন ? কারন জীবন যদি শুধু ক্ষণস্থায়ী বর্তমান হয়, অধিকাংশ লোক একটি নিয়ানুবর্তিক সমাজবিন্যাসের দিকে যাবে না। এই জন্য মানব সমাজে ঈশ্বরের জন্মের পূর্বে এসেছিল পুনঃজন্মের ধারনা। অর্থাৎ আবার জন্ম হবে।  এই মিথের ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর সব থেকে আদিমতম ধর্ম সম্ভবত জৈন ধর্ম ( এই নিয়ে অতীতের একটি আলোচনা এই প্রবন্ধে পাওয়া যাবে )।
পুনঃজন্ম যেমন একটি শক্তিশালি মিথ-ঠিক তার পরেই জন্ম হয় ঈশ্বর বা আল্লা নামক মিথের। যা ইতিহাসে আরো শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং সমাজব্যাবস্থার জন্ম দিতে সক্ষম হয়।

 এই দিক থেকে ভারতের ইতিহাস খুব গুরুত্বপূর্ন। ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য  এবং তার সমসাময়িক ইতিহাসে দেখা যাবে ধর্ম তখনো প্রতিষ্ঠানিক না। সব ধরনের ব্যাক্তি সেখানে আছে। সম্রাট ধননন্দের রাজ সভায় দেখা যাবে রাজা নিজে শুদ্র এবং তান্ত্রিক। তার মূল ডানহাত বা সিকিউরিটি প্রধান  কাত্যায়ন বৌদ্ধ। নন্দ বংশের প্রধানমন্ত্রীরদল আবার বৈদিক ব্রাহ্মন ।  চানক্য নিজে ছিলেন ব্রাহ্মন শিক্ষক। অথচ তার প্রধান  শিষ্য  চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ৪২ বছর বয়সে সাম্রাজ্য ছেড়ে জৈন সন্নাস্যী হয়ে গৃহত্যাগ করেন। চন্দ্রগুপ্ত বৈদিক হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন নি।  আবার তার পুত্র বৈদিক হিন্দু এবং পৌত্র অশোক হলেন বৌদ্ধ।  ভারতের এই সময়ের দর্শনের  ইতিহাস খুব সমৃদ্ধ। কারন সবার ধর্মচারনের স্বাধীনতা ছিল। গুরু তার শিষ্যকে বা পিতা তার পুত্রকে জোর করে নিজ ধর্মে চাপতেন না।  না সমাজ, ব্যাক্তির ওপর ধর্মকে চাপাত। এই উদার ধারা বাঙালী সমাজেও বিদ্যমান ছিল বৌদ্ধ পাল রাজবংশ পর্যন্ত।

  ব্যাক্তির ওপর ধর্মকে জোর করে চাপানোর এই ইতিহাস বাংলাতে শুরু হয়, সেন রাজবংশ থেকে। সেন রাজারা অহিন্দু বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির ওপর জোর করে বৈদিক হিন্দু ধর্ম চাপানো শুরু করে। বাঙ্গালী কোন কালেই বৈদিক হিন্দু ছিল না।  ফলে সেন রাজাদের বিরুধে বাঙালী জনগোষ্ঠির অজস্র বিদ্রোহ হয়-এবং সেন রাজারা কোনদিন পালরাজাদের মতন জনপ্রিয় হতে পারেন নি।  এর জন্যেই আমরা দেখি মাত্র ১৮ জন ঘোরসওয়ার নিয়েই লক্ষন সেনকে পালাতে বাধ্য করেন বখতিয়ার খিলজি। কারন সেনেরা তখন জনবিচ্ছিন্ন।  এরফলশ্রুতি স্বরূপ বাঙালীরা দলে দলে রাজধর্ম ইসলামে ধর্মান্তরিত হতে থাকে।  এই পক্রিয়া চলতে থাকে শ্রীচৈতন্যের সংস্কার আন্দোলন পর্যন্ত-যা আবার একটি উদারনৈতক সহজিয়া বাঙালী  ধর্ম তৈরী করে।
                                                                          [৩]

 বাঙালী মুসলমানরা নামেই ছিল মুসলমান। ধমনীতে তাদের ছিল সহহিয়া ধর্ম। ফলে বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্ম আস্তে আস্তে ইসলামিক সহজিয়া ধর্মে রূপান্তরিত হয় । শাহ জালালের মতন সুফীরা এই ছিলেন এই রূপান্তরের ক্যাটালিস্ট। কিন্ত সেই ইসলাম আরবের খেজুর কাঁটার ওয়াহাবি ইসলাম না।  বস্তুত নিম্নমধ্যবিত্ত বা গরীব বাঙালীর ধর্মে কোন পার্থক্য ছিল না- গরীব বাঙালী ফকির, বৈষ্ণব, সুফী ইত্যাদি সহজিয়া পথেই ছিল দীর্ঘকাল। বাঙলা ভাষাতে কোন কোরান ছিল না সেই ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত। এবং প্রথম কোরান যিনি বাংলায় লিখলেন, সেই গিরিশ ভাই একজন ব্রাহ্ম। কেশব চন্দ্র সেনের নববিধান সভা, কোরানের বঙ্গানুবাদ করার খরচ দিয়েছিল।  শুধু তাই না-বাংলার আলেমগন গিরীশচন্দ্রকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন "
আমরা বিশ্বাস ও জাতিতে মুসলমান। আপনি নিঃস্বার্থভাবে জনহিত সাধনের জন্য যে এতোদৃশ চেষ্টা ও কষ্ট সহকারে আমাদিগের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনের গভীর অর্থ প্রচারে সাধারণের উপকার সাধনে নিযুক্ত হইয়াছেন, এজন্য আমাদের আত্যুত্তম ও আন্তরিক বহু কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি দেয়।
কুরআনের উপরিউক্ত অংশের অনুবাদ এতদূর উৎকৃষ্ট ও বিস্ময়কর হইয়াছে যে, আমাদিগের ইচ্ছা, অনুবাদক সাধারণ সমীপে স্বীয় নাম প্রকাশ করেন। যখন তিনি লোকমন্ডলীয় এতোদৃশ্য উৎকৃষ্ট সেবা করিতে সক্ষম হইবেন, তখন সেই সকল লোকের নিকট আত্ন-পরিচয় দিয়া তাঁহার উপযুক্ত সম্ভ্রম করা উচিত।"
  আমার ধারনা এই সহজিয়া ভাবটা নষ্ট হয়েছে ১৯৮০ সাল থেকে-যবে থেকে আরবের পেট্রডলারে খেজুর কাঁটাআলা ইসলামের আমদানী হয়েছে বাংলাদেশ [ এবং ভারতেও]।

 তিতুমির এর সময় থেকেই ওয়াহাবিদের একটা ক্ষীন প্রভাব বাংলাতে ছিল। নোয়াখালির দাঙ্গার পেছনে, সেই ওয়াহাবিদের প্ররোচনা কাজ করেছে।  কিন্ত ১৯৮০ সাল থেকে এরা প্রচন্ড টাকা ঢালে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে। পাকিস্তান এর মধ্যে উচ্ছন্নে গেছে। ভারতে মুসলমান-হিন্দু টেনশন ক্রমাগত বাড়ছে।

            আর বাংলাদেশ হচ্ছে একমাত্র দেশ, যে দেশের একটা বিশাল সংখ্যক বুদ্ধিজীবি এই ওয়াহাবি খেজুর কাঁটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে।  কিন্ত দেখা যাচ্ছে, সেই জয় ক্ষণস্থায়ী।  বাংলাদেশী সরকার ধর্মীয় মৌলবাদের পায়ের ধূলোধোয়ার জন্য নাস্তিক ব্লগারদের কারাগারে নিক্ষেপ করল।  বৃটিশ ভারতে ডিরোজিওর শিষ্যরা হিন্দু ধর্মকে আক্রমন করে। তারা হিন্দু দেবদেবী নিয়ে ব্যাঙ্গ করত।  সেই আক্রমনের জন্য পরবর্ত্তীকালে হিন্দু ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের জন্ম হয়। ডিরোজিওর বিরুদ্ধেও হিন্দুদের আক্রোশ ছিল-কিন্ত তার জন্য ডিরোজিও বা তাদের শিষ্যদের আজ থেকে দুশো বছর আগে জেলে যেতে হয় নি। আর সেই জন্য হিন্দু ধর্মে সংস্কার কিছুটা এগিয়েছে।

      অথচ বাংলাদেশে সেটুকুও সম্ভব হল না। ফলে বাংলাদেশের মৌলবাদি পচন অব্যাহত থাকবে যদ্দিন না সেই পচনশীল সমাজ ক্ষুদার অভাবে বিদ্রোহ ঘোষনা করে, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিকে গ্রহণ করবে। এই শতাব্দিতে ধর্ম হচ্ছে সেই পচা মাছ, যা শাক দিয়ে ঢাকা যায় না। বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর কোন দেশের কোন সরকার পারবেনা ধর্মের দুর্গন্ধকে আটকাতে।


Sunday, March 10, 2013

হুগো শাভেজ - ভেনেজুয়েলার মমতা ব্যানার্জি?

                                                                      (১)

  জর্জ ওয়াশিংটনের জীবনী নিয়ে ঘাঁটতে গেলে প্রথমেই যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়- " আসলে লোকটা কি ছিল? " সত্যই কি স্বাধীনতাপ্রেমী বিপ্লবী-বৃটিশদের অত্যাচারে জর্জরিত-প্রতিরোধকামী আমেরিকান জনগণের নেতা?  না,  অবচেতন মনে  নিজের অস্তিত্বের প্রতিষ্ঠার প্রতি বেশি যত্মবান একজন ভার্জিনিয়া খামার মালিক?   আমেরিকায় বাক এবং চিন্তার স্বাধীনতাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারনে, জর্জ ওয়াশিংটনের অধিকাংশ জীবনীকারই চোখ খুলে দেখিয়ে দেন-লোকটা স্বাধীনতার আগুনের থেকেও নিজের নামের প্রতিষ্ঠার জন্যেই স্বাধীনতার যুদ্ধে যোগ দেন।  জর্জ ওয়াশিংটনের জীবনী খুব কাছ থেকে দেখলে, এই ব্যাপারে কোন সন্দেহই থাকার কথা না।  স্বাধীনতার যুদ্ধের আগে ১৫ বছর তিনি ভার্জিনিয়ার আইনসভাতে  ছিলেন-এবং কোন দিনের জন্যেই বৃটিশদের বিরুদ্ধে কলোনীনিস্টদের জন্য একটি কথাও বলেন নি যখন টাক্স বিদ্রোহে গোটা আমেরিকাতে আগুন জ্বলেছে।  যদিও এর পরেও, কোন সন্দেহ নেই, তার নেতৃত্বেই আমেরিকা স্বাধীন হয়েছে।

  আমেরিকার বাইরে একটা বিশাল সমস্যা হচ্ছে, কোন একজনের জীবনী খুব গভীরে না ঘেঁটে, আমরা তার মিডিয়া প্রচার এবং বহিরাগত রূপেই ডুব মারি।  বড় মাপের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকে আমরা মানুষ হিসাবে না দেখে, জননেতা হিসাবে না দেখে, জনদেবতা হিসাবে দেখার প্রবণতা আমাদের মধ্যে অত্যাধিক বেশি।

 হুগো শাভেজকে নিয়ে খুব সরল সিদ্ধান্তে আসা মুশকিল।  তার গোটা জীবন জুরে অদ্ভুত বৈপরীত্ব-এবং আমার কাছে সেটা মানবিক। আসল হুগো শাভেজকে তার সেই মানসিক দ্বন্দের মধ্যেই খুঁজতে হবে। তাকে আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেবতা বানালে,  সমাজতন্ত্র বা হুগো শাভেজ-সবার প্রতি অবিচার হবে।

                                                       (২)

 শাভেজের সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা, দরিদ্র জীবন থেকে উঠে আসা।  শাভেজের সমাজতান্ত্রিক নির্মানের শুরু, ছোট্ট শহর বারিনাসে। সাত সন্তানের দ্বিতীয় সন্তান শাভেজ। এত গরীব যে, তার পিতা  দিদিমার কাছে পাঠালেন হুগো আর তার বড় ভাই আদানকে। দিদিমা রোজাও খুব গরীব- ছোট বেলায় অনেক দিনই না খেয়ে থাকতে হয়েছে শাভেজকে। রোমান ক্যাথোলিক চার্চের দয়াতে কোন কোন দিন খাবার জুটত-শিক্ষাও পেয়েছেন চার্চের স্কুলের কাছ থেকেই।

  শাভেজ চরিত্রের এক অদ্ভুত গুন হচ্ছে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা। ছোট বেলায় ক্ষুদার যে যন্ত্রনা তিনি পেয়েছেন- প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর, তার প্রথম এবং সব থেকে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে ভেনেজুয়েলাকে ক্ষুধা মুক্ত করা।  না- তিনি লেনিন, মার্ক্স নিয়ে কিছুই জানতেন না। কিন্ত ক্ষুদাকে চিনেছিলেন। ফলে  তার অন্যতম কীর্তি মার্কাল নেটোয়ার্ক বলে মুদিখানার চেন দোকান খোলা। এই সরকারি চেনে ছিল ১৬,৬০০ আউটলেট এবং ৮০,০০০ কর্মী।  এখান থেকে সস্তায় ১২ টি অত্যাবশ্যক খাদ্য খুব অল্পদামে বিলি করে ভেনেজুয়েলা সরকার। শুধু তাই না, খোলা বাজারে খাদ্যের দামও নিয়ন্ত্রন করত তার সরকার।  ভেনেজুয়েলার একটি শিশুও যাতে অপুষ্টিতে না ভোগে- এই ছিল তার অঙ্গীকার। প্রতিটি শিশু এবং মায়েদের জন্য খাদ্যের সংস্থান, হুগো শাভেজের সব থেকে বড় সাফল্য।

             কিন্ত এর আসল ফল কি?  সাফল্য এখানে মিশ্র। খাদ্যের উৎপাদন ভুমি সংস্কারে ভেনেজুয়েলাতে বেড়েছিল অনেকটাই। কিন্ত মাংস সহ বেশ কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের উৎপাদন কমে যায়। উনার এখানে ভূমিকা ছিল আমাদের মমতা ব্যানার্জির মতন।  খাবারের দাম বেঁধে দেওয়ার জন্য বন্ধ হয়ে যায় অনেক দোকান।  মমতা ব্যানার্জি যেমন বাসের ভাড়া বেঁধে দিয়ে অনেক বাসকে অচল করে ছেড়েছেন। ভেনেজুয়েলাতেও খাবারের দোকানগুলির একই হাল হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০০২ সালে এরাই শাভেজ বিরোধি আন্দোলনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ২০০২ সালে তার বিরুদ্ধে ক্যারাকাসে যে বিদ্রোহ এবং ক্যু হয়, তার মূলে ছিল ছোট বড় সব ধরনের ব্যাবসায়ী।  তবে এই ক্যু থেকে হুগো শাভেজ শিক্ষা নিয়েছিলেন। এরপর থেকে এমন কিছু করেন নি যাতে ছোট ছোট বেনিয়ারা ক্রদ্ধ হয়।

আবার রোমান ক্যাথোলিক চার্চের কৃতজ্ঞতাও তিনি ভোলেন নি।  আজন্ম রোমান ক্যাথোলিক ছিলেন। তার কাছে যীশু ছিল সব থেকে বড় সমাজতান্ত্রিক আদর্শ। চার্চ প্রতিক্রিয়াশীল-লেনিনের এসব তত্ত্বের থেকে তার অবস্থান ছিল অনেক দূরে-কারন তার অভিজ্ঞতার শিক্ষা ছিল  সেই নিদারুন দারিদ্র্যের বাল্যে, চার্চই তাকে খাইয়েছে, পড়িয়েছে।  কলেকের ভর্তি হওয়ার টাকা ছিল না- মিলিটারি একাডেমিতে ঢুকে ছিলেন সেই আঠারো বছর বয়সে। প্রথাগত শিক্ষা তার ছিল না- ফলে তার জীবনের সব শিক্ষাই ছিল অভিজ্ঞতার আগুন থেকে উঠে আসা।

                                                  (৩)
 এবার আসা যাক মূল প্রশ্নে। কি ধরনের সমাজতান্ত্রিক ছিলেন হগো শাভেজ?  লেনিন স্টালিনকে পছন্দ করতেন?  মার্ক্স-লেনিনের ঘোলাজলে মাছ ধরার চেষ্টা করেছেন?

                উত্তর খুব স্পষ্ট। এসব তিনি বুঝতেন না। তাই ওই ঘোলা জলে মাছ ও ধরেন নি।  এবং সেই জন্যেই খুব সম্ভবত তিনি গণতান্ত্রিক কাঠামোতে সমাজতান্ত্রিক সাফল্য পেয়েছেন-কারন তত্ত্ব থেকে না, অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে তার বামপন্থা।  উনি অনেকবারই বলেছেন-আমি মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট না-আবার তার বিরোধি ও না। যারা মমতা ব্যানার্জির বামপন্থার সাথে পরিচিত আছেন-তারা এই স্টাইল বিলক্ষন বুঝবেন।

 ভেনেজুয়েলার তেলের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে গরীবদের সাহায্য করা সম্ভব-সেখানেই আটকে ছিল তার অর্জুনচোখ। ফলে খাদ্য থেকে বাসস্থান -সর্বত্র তিনি সরকারি সহায়তা দিয়েছেন কোয়াপরেটিভ তৈরী করে, ছোট গণতান্ত্রিক কমিউন তৈরী করে নিজেদের জন্য নিজেদের ব্যাবসা করতে।  তার এই মডেলের সমস্যা হল- আস্তে আস্তে সব কিছুই সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছিল। যদ্দিন তেলের দাম ছিল সেই ২০০৪-২০০৭ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ১২% হারে বেড়েছে। কারন তেল বেচার টাকা, ভেনেজুয়েলার মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছিল।  তেলের দাম পড়তেই ২০০৮ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি প্রতি বছর ২- ৩% হারে কমেছে।

     প্রথমবার যখন উনি প্রেসিডেন্ট হলেন-তখন ধনতন্ত্রের বা বাজারের খুব বিরোধি ছিলেন না। ভেনেজুয়েলাতে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট উদার অর্থনীতি এবং আই এম ফের বিরোধিতা ১৯৯৮ সালে করেন নি। ২০০২ সালে ক্যু এর পরে উনি আমেরিকারবিরুদ্ধে চলে যান সরাসরি।  তবে আইন করে ব্যবসা বন্ধ করাটা উনার পদ্ধতি ছিল না। উনি চাইছিলেন, কোয়াপরেটিভ বানিয়ে সরকারি সাহায্য দিয়ে ব্যাবসার একট অলটারনেটিভ মডেল দাঁড় করাতে।  ১৯৯৮ সালের পর থেকে ভেনেজুয়েলাতে ১০০,০০০ কোয়াপরেটিভ এবং ৩০,০০০ কাউন্সিল তৈরী হয়, নানান ছোট ছোট ব্যাবসায়িক উদ্যোগের জন্য।  ৩৫০০ টি কোয়াপরেটিভ ব্যাঙ্কও তিনি তৈরী করেন।  বাড়ি তৈরী করা থেকে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল খামার সব কিছুই এই উদ্যোগের মধ্যে আছে।

  তার এই কাউন্সিল কমিউনিজমের পরীক্ষা কতটা সফল ( কাউন্সিল কমিনিউজম নিয়ে আমার আগের লেখাটি এখানে দেখতে পারেন ) ?  উত্তর দেওয়ার সময় আসে নি। তবে,  এর দুটি দিক খুবই সত্য। প্রথমত, উৎপাদন ব্যাবস্থার ওপর গরীবদের এই অধিকার, মানুষের সন্মানকে অনেকটাই ফিরিয়ে দিয়েছে ভেনেজুয়েলাতে। কিন্ত এখনো পর্যন্ত এমন কোন তথ্য নেই, যাতে প্রমান করা যায় এই কোয়াপরেটিভ মুভমেন্টের ফলে ভেনেজুয়েলাতে উৎপাদন খুব বেড়েছে। কৃষি উৎপাদন অনেক বেড়েছে।  কিন্ত শিল্পের অধোগতিই হয়েছে।

 দুটি কথা খুব শোনা যায় শাভেজ সম্মন্ধে। বলিভেরিয়ান আদর্শবাদ এবং একবিংশ শতকের সমাজতন্ত্র। প্রথমটি নেহেরুর মডেলে স্বয়ং সম্পূর্ন এক গণতান্ত্রিক  জাতির সাধনা যা বিদেশী শক্তি থেকে সম্পূর্ন মুক্ত থাকবে। এর ল্যাটিন মডেল হচ্ছে ্উনবিংশ শতকে ভেনেজুয়েলার প্রবাদপ্রতিম সেনানায়ক সিমন বলিভার-যিনি দক্ষিন আমেরিকাকে স্প্যানিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত করেছিলেন।  দ্বিতীয়টি অনেকটা নোয়াম চমস্কি ধাঁচের সমাজতন্ত্র-যা লেনিনিজম, এবং স্তালিন জাতীয় "জোর" করে, অস্ত্রের মাধ্যমে বিপ্লব ঘটানোর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ঘোষনা করে। এই ব্লকের প্রথম বক্তব্যই হল জোর করে ঘটানো কমিনিউস্ট বিপ্লব একগাদা ব্যার্থ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে, যার সাথে সমাজতন্ত্রের কোন সম্পর্ক নেই। এবং জোর করে চাপিয়ে সমাজতন্ত্র হয় না। সম্পূর্ন গণতান্ত্রিক উপায়ে মানুষের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক চেতনা জাগ্রত করেই আস্তে আস্তে এগোতে হবে।

 লেনিন মার্ক্সিস্ট বিপ্লবী তত্ত্বের বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলেন নি ঠিক। কিন্ত তার জীবনচর্চা বলছে, তিনি এদের পাত্তা দেন নি এবং  মিলিটারি জেনারেল থাকার সময় এদের উৎখাত করে ছেরেছেন।
   
                 এই ধরনের সশস্ত্র বিপ্লবের বিরুদ্ধেও কাজ করে তার অভিজ্ঞতা। আসলে তিনি ছিলেন ভেনেজুয়েলা মিলিটারিতে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মিলিটারিতে তাকে একটা কাজই করতে হয়েছে। সেটা হচ্ছে ভেনেজুয়েলার সব ধরনের মাওবাদি সংগঠনকে খতম করা।  সেটা তিনি সাফল্যের সাথেই করেছেন অস্ত্র হাতে এবং স্থানীয় লোকেদের সাথে মাওবাদি ( ওদের লোকাল নাম রেড ফ্ল্যাগ পার্টি)  দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে।  বারিনাস এবং এন্টেজাগুতে এই মার্ক্সিস্ট গেলিরাদের জানে প্রানে খতম করার কৃতিত্ব স্বরুপ তার প্রমোশন হয় ক্যাপ্টেন হিসাবে।  এমন নয় এই সময় তিনি ছিলেন এক উদাসীন লয়ালিস্ট জেনারেল। বলিভেরিয়ান বিপ্লবের জন্য তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ১৯৭৮ সাল থেকে। তখন থেকেই তিনি যোগাযোগ রেখে চলেছেন গণতান্ত্রিক বাম আন্দোলনের সাথে। তার নিজের বয়ানে তিনি ২২-২৩ বছর বয়স থেকেই বামপন্থী। তাহলে সেই দেশে মার্ক্সিস্ট সশস্ত্র বিপ্লবী দমনে তিনিই মিলিটারিতে সব থেকে সফল জেনারেল হলেন কেন?

     এর উত্তর ও খুব সহজ।  ভেনেজুয়েলার মার্ক্সিস্ট বিপ্লবীদের উদ্দেশ্যের প্রতি তিনি সহানুভূতিশীল ছিলেন-কিন্ত তাদের পথ যে ভেনেজুয়েলাকে আরো ডোবাচ্ছে এবং গরীবদের জন্য তা আরো অন্ধকার গলি, এটা বুঝতে তার অসুবিধা হয় নি।  মিলিটারিতে তার কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ট্যাকটিস ছিল সদ্য নির্মিত হিন্দি সিনেমা  চক্রব্যুহর হিরো আদিলের মতন। স্থানীয় জনগনের জন্য ক্লিনিক খুলে, খাদ্য দিয়ে, আশ্বাস দিয়ে মার্ক্সিস্ট বিপ্লবীদের নেটোয়ার্ক ধ্বংস করে দিতেন। এটা তিনি করেছেন, তার ১৬ বছরের মিলিটারি ক্যারিয়ার জুরে যখন তিনি মিলিটারির মধ্যেই বলিভেরিয়ান বিপ্লবী উইং তৈরি করছেন দেশে বামপন্থী মিলিটারি বিপ্লবের জন্য।  সুতরাং কোন সন্দেহ থাকা উচিৎ না, লেনিনিস্ট মার্ক্সিস্ট বিপ্লবীদের প্রতি তার আসল মনোভাব নিয়ে। তিনি বলিভেরিয়ান বিপ্লবী-যার সাথে নেহেরুর মত এবং পথের মিল সর্বাধিক।

                                                                 (৩)

 এর পরে প্রশ্ন উঠবে তাহলে কি করে তিনি ফিদেল কাস্ত্রোকে পিতাসম নেতা হিসাবে মান্য করতেন?  এখানেও সেই এক হুগো শাভেজ। যিনি তত্ত্ব না, বাস্তবকেই ধ্যানজ্ঞান করতেন। আমেরিকা তার কাছে ছিল  সাম্রাজ্যবাদি শক্তির প্রতিভূ।  আমেরিকার বিরুদ্ধে থাকা সব রাষ্ট্র নায়কই  তার অতিপ্রিয় ছিল। আহমেদাঞ্জির মতন চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল নেতৃত্ব ( যারা ইরাণে মেয়েদের সব অধিকার -সন্তান থেকে শিক্ষা-কোন কিছুতেই আর অধিকার নেই ইরাণের মেয়েদের) সাথেও তার ছিল ঘনিষ্ঠতা এবং তিনি আহেমিদিনাজকে বিরাট ব্যাক্তিত্ব বলে মনে করতেন।  এই ধরনের স্ববিরোধিতার  কারনেই আমেরিকান বামপন্থীরাও  তাকে খুব বেশি পাত্তা দেয় নি।  আমেরিকার সব থেকে বড় বামপন্থী টিভি হোস্ট র‍্যাচেল ম্যাডো শোতে, তার মৃত্যুদিনে একটি আলোচনা হয়।  তাতে র‍্যাচেল পরিস্কার ভাবেই জানান-তার উদ্দেশ্য যতই সৎ থাকুক না, আমেরিকার বিরোধিতা করতে গিয়ে, ফিদেল বা আহমেদিনাজের মতন স্বৈরাচারী শাসকদের ভগবান বানানো কোন উৎকৃষ্ট বামপন্থার নমুনা না।  ফলে আমেরিকানদের কাছে তার ইমেজ আরেকজন আমেরিকান বিরোধি কার্টুন চরিত্রের।

   অথচ দারিদ্য এবং অসাম্যের যে উপাদানগুলি তাকে সমাজতান্ত্রিক হিরো বানিয়েছে, তা আমেরিকান সমাজেও সমান ভাবে বিদ্যমান।  কর্পরেট অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে,  ওবামাও কমিউনিটি ভিত্তিক শিক্ষা, বিমা এবং স্বাস্থ্যের দিকে হাঁটছেন-যা শাভেজের কমিউনিটি ভিত্তিক উৎপাদন মডেল থেকে খুব আলাদা না। আবার টেকনোলজি ব্যাবসার জন্য ওবামা, সরকারি ভিসি ফান্ডিং বাড়াতে চান-একই অবস্থান নিয়েছেন হুগোশাভেজ।  ওবামা ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকাকে শত্রু বানানোর কোন দরকার ছিল না ।  ওবামার সাথে শাভেজের অমিল শুধু মাত্রায়, তালে না।  সেটা না করে, সস্তা রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার জন্য হুগো ইরানের মোল্লাতন্ত্রকে স্বাগত জানিয়েছেন, আর আমেরিকাকে বানাতে গেছেন দানব।  সস্তার জনপ্রিয়তা সব সময় নেমে যাওয়ার সিঁড়ি।  এক্ষেত্রেও তিনিও তার ব্যাতিক্রম না।

                                                            (৪)

 তাহলে হুগো শাভেজের সমাজতান্ত্রিক পথ থেকে গোটা পৃথিবীর কি অর্জন?

  চার্চকে তিনি মাথায় তুলে রেখেছেন।  নারীবাদ নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। অন্যান্য ল্যাটিন আমেরিকান সাধারন মানুষদের মতন চুটিয়ে পরকীয়া উপভোগ করেছেন সাংবাদিকা মারিসাবেলের সাথে।

  একটা ব্যাপারেই তার মাথাব্যথা ছিল। কি করে রাষ্ট্রের সম্পদ গরীবদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই ব্যাপারে তিনি চূড়ান্ত সফল। কারন তার ১৩ বছর শাসনকালে দারিদ্র কমেছে, খাদ্য পৌছেছে সবার কাছে, ৯৯% শিক্ষিত হয়েছে ভেনেজুয়েলা।

   তার মডেল সাসটেনেবল না। এটা ২০০৮ সালে তেলের দাম পড়তেই পরিস্কার- ভেনেজুয়েলার সরকারি ব্যাবস্থাতে ভাল টান এসেছে।  তেল না থাকলে, তার মডেল অচল। যে টাকা সরকার ব্যয় করেছে জনগণের ওপরে, তা কোন সফল ব্যাবসা তৈরী করতে পারে নি-যা নিজের টাকাতে চলে। পশ্চিম বঙ্গে বেনফিস থেকে তঞ্জুজ সমবায়গুলির যা অবস্থা, ভেনেজুয়েলাতেও তাই।  হুগো শাভেজ চাইলেও,  অধিকাংশ কোয়াপরেটিভ গুলিই ব্যাবসা করতে অক্ষম হয়েছে-তারাও নির্ভরশীল হয়েছে তেলের অনুদানের ওপর।

ফলত শিল্পের ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলাতে বিশেষ কিছুই হয় নি - আগেও ৮৫% তেল নির্ভর অর্থনীতি ছিল; এখনো তাই আছে। আই টি, বায়োটেক ইত্যাদি নব্য শিল্প ভেনেজুয়েলাতে কিছুই হয় নি। কারন সরকারি অত্যাচারে বা অতি পর্যবেক্ষনে কেও ভেনেজুয়েলাতে লগ্নি করতে সাহস পায় না।  তেলের দাম পড়লেই সেদেশে ৩০% ইনফ্লেশন দেখা যায়-সরকারি দোকানেও খাবার থাকে না।

 হুগো শাভেজের সাথে আমি শুধু একজনের তুলনা টানতে পারি-তিনি হচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি।  গণতন্ত্র, তত্ত্ব কোন কিছুর দায় নেই তাদের। শুধু একবল্গা পপুলিজম। রাজকোষ উজার করে যিশু খৃষ্টের মতন গরীবলোকেদের মেসিয়া হওয়া এদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।  এতে দেশের শিল্পের ভবিষ্যত যেদিকে যায় যাক। এসব নিয়ে এরা ভাবেন না। এরা ভাবেন শুধু গরীব শ্রেণির মধ্যে নিজেদের ভাবমূর্তি এবং জনপ্রিয়তা নিয়ে।

২০০২-শাভেজ বিরোধি ক্যারাকাস। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নেমেছিল আন্দোলনে। 

এটা ভাল না খারাপ, তা নিয়ে আমি মন্তব্য করব না। শুধু এটাই বলতে পারি-শিল্পের এবং বাজারের উন্নয়ন হলে দারিদ্র অনেকটাই কমে আসে। এবং সেই দারিদ্র দুরীকরন স্থায়ী। এমন ভাবে তেলের দামের ওপর, সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল না।  ফাটকাবাজি বন্ধ করতে হুগো শাভেজ ৪০০ টি জিনিসের দাম বেঁধে দিয়েছিলেন। সেটা নিশ্চয় ভাল পদক্ষেপ। কিন্ত ইতিহাস এও বলে, এর ফলে ওইসব জিনিসের উৎপাদন এবং শিল্প দুটোই মার খেয়েছে। অত্যাবশ্যক পন্যের ফাটকাবাজি নিশ্চয় কাম্য না- কিন্ত দামের ওপর সরকারি অতিনিয়ন্ত্রন ব্যাবসা ও বাজার ধ্বংস করে।  সেটা  ভেনেজুয়েলাতে হয়েছে।

 তার ব্যার্থতা যায় থাক উদ্দেশ্য ছিল মহৎ।  মহৎ উদ্দেশ্যে প্রচলিত অবস্থা থেকে গরিবদের একটু স্বস্তি দিয়েছেন। মান সন্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে তেলের টাকায়।  মমতা ব্যানার্জির সেটাও নেই। ফলে তিনি ইচ্ছা থাকলেও গরীবদের স্বস্তি দিতে ব্যার্থ।  তেলের টাকা থাকলে সব অর্থে মমতাও আরেক হুগো শাভেজ হয়ে উঠতেন বলে আমার বিশ্বাস।

   ( আমার এই লেখাতে মমতাপন্থী এবং হুগোপন্থী উভয়েই অসন্তুষ্ট হবেন। কিন্ত লেখক হিসাবে সৎ থাকতে গেলে, আমাকে বলতেই হয় কর্মপদ্ধতি, রাজনৈতিক আদর্শ এবং ব্যাক্তিগত জীবনে এদের মধ্যে অদ্ভুত মিল।  শুধু মমতার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধি সুচিবায়ু নেই।  এটুকু বাদ দিলে এদের কর্মপদ্ধতি, স্বৈরাচারিতা এবং পপুলিজম একই মাত্রার। ) 


 

        

Saturday, February 16, 2013

তেহরির স্কোয়ার থেকে শাহবাগ

                                                                 (১)

  প্রথমেই বলে রাখি নৈরাজ্যবাদ শব্দটা খবরের কাগজের বদৌলতে এবং রাজনীতির দশচক্রে নেতিবাচক শব্দ হলেও, প্রকৃত অর্থে এটি একটি উন্নত রাজনৈতিক চেতনা। যা এই বস্তাপচা "রাষ্ট্র",  তার রক্ষক রাজনৈতিক পার্টি ওরফে রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তির চেয়ে অনেক উন্নততর আধুনিক ধারনা। কেন সে ব্যাপারে পরে আসছি।

                নৈরাজ্যবাদের ( এনার্কিজম) অর্থ রাষ্ট্রের  ( রাজ্যের)  প্রতি অনাস্থা। বাংলাদেশের  শাহবাগে বা দুবছর আগে ভারতের রামলীলা ময়দানে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধি আন্দোলনের মূল কারন সেটাই। রাষ্ট্র নামক এই সিস্টেম- যার মধ্যে আছে বিচার, আমলা আর সীমাহীন বস্তাবচা দূর্নীতি, তার প্রতি জনগণের বিশেষত তরুণ সমাজের সম্পূর্ণ অনাস্থা।

             রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা-আর সাধারন মানুষের প্রতি ভরসা- প্রচলিত আইন তুলে দিয়ে পার্লামেন্ট , পার্টি  পলিটিক্স বর্জন করে স্বতস্ফূর্ত ভাবে জনগণ তৈরী করছে নতুন আইন। এমন স্বতস্ফূর্ত গঠন, যেখানে রাষ্ট্রের দরকার নেই-সেই আমরা সবাই রাজা আমাদের এই নতুন রাজত্বের প্রথম স্বপ্ন দেখেন একজন চৈনিক দার্শনিক।

    জুয়াংগি ঝাও।  গৌতম বুদ্ধ আর কনফুসিয়াসের সমসামিক। এই সময়টা দর্শনের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ।  চীনে তখন দুই দার্শনিক মতের লড়াই। একদিকে কনফুসিয়াস। যিনি শক্তিশালী রাষ্ট্রের এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রনীতির পক্ষে। তার ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে  জুয়াংগি ঝাও বললেন, ওরে বাপু সর্ষের মধ্যেই ত ভূত। রাষ্ট্র মানেই জনবিরোধি আইন হবে, জনগনের স্বাধীনতা যাবে এবং কিছু শোষক শ্রেনী লুঠে পুটে খাবে। যত শক্তিশালী রাষ্ট্র,  ততই ভয়ংকর হবে তার আইন । যদি জনগণের সত্যিকারের মুক্তি চাও-রাষ্ট্র তুলে দিতে হবে। ঝাও এর বিখ্যাত বাক্য আজ ভারত বাংলাদেশ সর্বত্র প্রযোজ্য- চোর হলে জেলে যাবে, আর ডাকাতি করতে পারলে, হবে দেশের রাজা।  আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে জুয়াংগি যা বলেগিয়েছিলেন, তা আজও সর্বসত্য।

       তাহলে আইন? কে কার কথা শুনবে? মৎসন্যায় কে আটকাবে? ঝাও বললেন, জনগণ নিজের স্বার্থে, নিজেরা ঠিক করে যে আইন বানাবে, সেই আইন রাষ্ট্রের চাপানো আইনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। স্বতস্ফূর্ত আইনই শ্রেষ্ঠ আইন। রাজা আইন বানাবে নিজের স্বার্থে। প্রজারা বানালে তবেই সে আইন হবে জনগণের।  আমেরিকা থেকে ভারত, ভারত থেকে বাংলাদেশ-গণতন্ত্র আসলেই ত হাইজ্যাকড।  ব্যাবসায়ী এবং কিছু রাজনৈতিক থাগদের কাছে।  বাংলাদেশের এ ব্যাপার অভিজ্ঞতা আরো করুন।  একের পর এক আইন পরিবর্তন করে,   স্বাধীনতাবিরোধি শক্তিই ক্রমশ রাজশক্তিতে রূপান্তরিত। ফলে রাষ্ট্র যন্ত্রের ওপর ভরসা মানুষ তদ্দিনই রেখেছে, যদ্দিন বিচার চলছিল। বিচারের হাস্যকর রায় দেখে ( আমার ধারনা ভেতরে বিরাট টাকার খেলা ছিল বা রাজনৈতিক খেলা আছে। এটা খুবই সম্ভব বর্তমানের আওয়ামী লিগ সরকারের সাথে সৌদি আরব তথা মুসলিমদেশগুলির একটা বোঝাপড়া হয়েছে যাতে সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে টাইপের রায় যায়। ) তরুণ সমাজ রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি আস্থা হারায়।

  ঢাকার শাহবাগ বা দিল্লীর রামলীলা ময়দানে আজকের এই নৈরাজ্যবাদি আন্দোলনে আমরা সেটাই দেখছি। নতুন নেতৃত্ব, নতুন আইন-কোন রাষ্ট্রের চাপানো না। স্বতস্ফূর্ত ভাবে তৈরী হচ্ছে, নেতা, নেতৃত্ব এবং  নতুন আইন। আড়াই হাজার বছর আগে ঝাও এর দর্শনকেই ঘষামাজা করে তরী হয়েছে নতুন এনার্কিস্ট দর্শন। যার মূল কিন্ত সেই স্বতস্ফূর্ত  জনগণ।

                                                             (২)
কেন তরুণ প্রজন্ম ক্ষোভে ফেটে পরে? কেন তারাই  বিদ্রোহের বারুদে আগুন জ্বালায় ইতিহাসের সব আন্দোলনে?
 
 আসুন আমরা গত দুবছরের তিন সর্ববৃহৎ আন্দোলন বিশ্লেষন করি যার মূলে ছিল ছাত্র যুবকেরা।

  তাহরীর স্কোয়ার- ফেব্রুয়ারী, ২০১১
  রামলীলা ময়দান- আগস্ট, ২০১১
  শাহবাগ-ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

 এই তিন আন্দোলনের মধ্যে একটা স্ট্রাকচার বা সূত্র পাওয়া সম্ভব

  •  প্রথমত আন্দোলনের পুরোহিত এবং পুরধা-তরুণ শিক্ষিত ব্লগার। স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেই দানা বেঁধেছে আন্দোলন 
  •   তাহরীর স্কোয়ার সিস্টেম বদলাতে সক্ষম হয়েছিল। অরভিন্ড কেজরিওয়াল এবং  আন্না হাজারে ভারতবাসীর সীমাহীন ক্ষোভ উতরে দিলেও সিস্টেম বদলাতে ব্যার্থ। বাংলাদেশে শাহবাগ আন্দোলনের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। এর একটা বড় কারন বোধ হয় ভারত এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উপস্থিতি যা মিশরে ছিল না।  তবুও অদ্ভুত মিল এই তিন আন্দোলনের মধ্যে।  আন্দোলন দানা বেঁধেছে বছরের পর বছর জমা হওয়া পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে। 
  •    সব আন্দোলনের পেছনেই অর্থনীতির বিরাট ভূমিকা থাকে। দুর্দশার ভূমিকা থাকে।  প্যারী কমীউন বা ১৯০৫ সালে জারের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নৈরাজ্যবাদিদের উত্থানের পেছনে ছিল না খেতে পাওয়া শ্রমিক কৃষকরা।  এই তিনটি আন্দোলনের পেছনে ছিল শিক্ষিত তরুনরা যারা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বঞ্চিত এমন বলা যাবে না।  ভারতের সীমাহীন অর্তনৈতিক বৈষম্যর বিরুদ্ধে আন্নার সৈনিকদের সোচ্চার হতে দেখি নি। শাগবাগেও দেখলাম না, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করা জ্যান্ত জতুরগৃহের শ্রমিকদের বঞ্ছনা নিয়ে কারোর কোন মাথা ব্যাথা আছে। এই ব্যাপারটাতেও আন্দোলন গুলির অদ্ভুত মিল। এবং  এটা খুব পরিস্কার করে দিয়েছে এই সব দেশের বামআন্দোলন কতটা জন বিচ্ছিন্ন ফালতু রাজনৈতিক গলাবাজিতে পরিণত।  লেনিন স্টালিনের বিষ্ঠা পরিস্কার করা বাস্তব বিবর্জিত এই দিশাহারা বামেদের এই দশা  যদি সময়ের লিখন হয়, তথোধিক দুর্ভাগ্য এই যে সামাজিক অসাম্য, শোষণ এবং পরিবেশের দুর্দশা যা ভারত, বাংলাদেশ মিশর সহ সব দেশের মূল সমস্যা, সেগুলির ভিত্তিতে আন্দোলন না হওয়া পর্যন্ত এই বিদ্রোহ তার মুল শিকড় খুঁজে পাবে না।
  •  আন্না হাজারে বা কেজরিওয়ালের ব্যার্থতা শাহবাগেও আসবে। আমি খুব আনন্দের সাথে এই ভবিষ্যতবানী করছি না। করছি খুব দুঃখের সাথেই। ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করেই । আন্না বা কেজরিওয়ালের দুর্নীতি বিরোধি আন্দোলন জনগণের হৃদয়ে প্রহ্লাদসম পাশানকে হাল্কা করতে  পারে, শাহবাগের উত্থান বাংলাদেশের অগণিত স্বাধীনতাপ্রেমী,  ধর্ম নিরেপেক্ষ মানুষের ক্ষতের প্রলেপ -কিন্ত সিস্টেম চেঞ্জ? সে হবে কি করে?  সরকারটা ত কিছু ব্যাবসায়ী, আমলা আর রাজনীতিবিদদের লুটেপুটে খাওয়ার জায়গা। সবটাই নষ্টের দখলে।  কিন্ত ভারত এবং বাংলাদেশের মূল সমস্যা যার শিকরে বসে আছে অশিক্ষার অন্ধকার আর উঁইপোকার মতন নষ্ট করা ধণের অসাম্য, শাহবাগ বা রামলীলা ময়দান যদ্দিননা এই সূত্র খুঁজে পাবে, এই আন্দোলন জ্বলবে আর নিভবে।
  •  ঠিক এমনটাই কি আমরা দেখছি না তাহরীর স্কোয়ারে? গত দুবছরে বেশ কয়েকবার জমায়েত হয়েছে সেখানে। আজকে তাহরীর স্কোয়ারকে ভয় পায় মিশরের শাসক শ্রেনী। শাহবাগ বা রামলীলা ময়দানকে ভয় পাবে, বাংলাদেশ বা ভারতের শাসককূল, তবেই প্রকৃত  গণতন্ত্রের দিকে একটু একটু করে এগোবে দেশ। 
  •  ইতিহাসের কি অদ্ভুত পরিহাস। পৃথিবীর প্রথম গণতন্ত্র ছিল গ্রীসের এথেন্সে।   গণতন্ন্ত্রের অদ্ভুত রক্ষাকবচ বানিয়েছিল এথেন্সের জনগণ। তারা ইচ্ছা করলে, নির্বাসিত করতে পারত তাদের যেকোন রাজনৈতিক নেতা কে। কালো আর সাদা নুড়ি দিয়ে ভোট হত। এই ভাবেই এথেন্স একদিন তাড়িয়েছিল পারস্যের বিরুদ্ধে সালামিসের যুদ্ধে জিতে আসা জনপ্রিয় গ্রীস সেনাপতি থমিস্টক্লেসকে। কারন তার জনপ্রিয়তা যে এথেন্সের গণতন্ত্রের কাল হবে, তা বুঝতে পেরেছিল এথেন্সের নগরবাসী।  তাহরির স্কোয়ার তাড়িয়েছিল মুবারক ফ্যামিলিকে। 
  • শাহবাগের আন্দোলন রাজাকার তাড়ানো বা নির্মূল করা থেকে শুরু হলেও-যেদিন শাহবাগের এই আগুন,  বাংলাদেশ থেকে তাড়াতে সক্ষম হবে শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার পরিবারকে, সেদিনই সম্পূর্নতা পাবে শাহবাগ। তার আগে সবটাই প্রস্তুতি পর্ব। 

এটাই ছিল পৃথিবীর প্রাচীনতম গণতন্ত্রের শিক্ষা।  গণতন্ত্রকে রক্ষা করার শিক্ষা। যে  শিক্ষা ভুলে আমরা দেখেছি গণনায়কদের গণদানবে অবনবন । শাহবাগ থেকে তাহরির স্কোয়ার গণতন্ত্রের সেই রক্ষাকবচ হয়ে উঠুক-এখন এটাই কাম্য।

 স্বপ্ন কখনোত সত্যি হয়। আর যদি তা না হয়, তাহলে কিসের জন্যেই বা বেঁচে থাকা? তাহরির স্কোয়ার আর শাহবাগের মধ্যে স্বপ্ন দেখুক আগামীদিনের তরুন প্রজন্ম। 



            বর্ষা আসে, দুকুল ভাসিয়ে।  ভাঙে গড়ে নদীর  গতিপথ। ধর্মীয় রাজনীতির খরা কাটিয়ে,  আজ চেতনার বর্ষা বাংলাদেশে। শাগবাগ  স্বপ্নের সেই নদী। তার ভাঙাগড়া দিয়েই গড়ে উঠুক নতুন বাংলাদেশ।