Tuesday, March 29, 2022

বাংলার বুদ্ধিজীবি !

 অনেকদিন আগে একটা জোক্স শুনেছিলাম। কুকুরের থেকে বেশী  প্রভুভক্ত প্রানী চান? 

 তাহলে বাঙালী বুদ্ধিজীবি পুষে দেখতে পারেন। প্রায় গ্যারান্টি! 

 রাজকবির রামপুরহাট বেদনা কাব্য পড়ে সেটা আবার কেন যেন মনে হল। কবি কিসুন্দর নিরেপেক্ষ অরন্যে রোদন করতে পারেন! ঠিক যেমন ভারত রুশো-ইক্রেন যুদ্ধে বলছে এত রক্ত, এত হিংসা বন্ধহোক! ভারত এবং রাজকবি-কারুর অবস্থানই আমি বুঝতে পারি নি! তবে মহাভারতে কৃষ্ণ বুঝেছিলেন। ভ্রাতা বলরামকে বকেছিলেন-ধর্মযুদ্ধে অমন যুদ্ধ চাইনা শান্তি চাই টাইপের সুবিধাবাদি অবস্থান আসলে কাপুরুষ সুবিধাবাদের সহস্রলক্ষণ। 

ইউক্রেন রাশিয়া আক্রমন করে নি। রাশিয়ার একটা লোককেও মারে নি। পুতিন ইউক্রেনে তান্ডবযজ্ঞ চালাচ্ছে। নিরীহ লোক মেরেই চলেছে। এই অবস্থায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে যুদ্ধ না শান্তি চাই বলা- আর সুবিধাবাদ একই জিনিস। ঠিক একই কথা বলা চলে রামপুরহাট প্রসঙ্গে।  গত ৪০ বছরে পশ্চিম বঙ্গে এই ধরনের নির্মন রাজনৈতিক এবং সামাজিক খুনোখুনী ভারতে সব থেকে বেশী? কেন? কারন অর্থনীতি বসে গেছে। বামপন্থায় বিশ্বাস করে যেভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে গ্রীস ভোগে গেছে, বাংলাও তাই। ফলে ইঁট সুরকি বালির তোলাবাজি এবং তার থেকে নেতা পুলিশের বাটোয়ারা হচ্ছে জনসাধারনের বেঁচে থাকার অন্যতম পথ। দিদি আসার পর বাংলার অর্থনীতিতে কিছুটা রক্ত সঞ্চার হলেও , উনি এই সিন্ডিকেটকে ধ্বংস করতে পারেন নি-বা চান নি। 

আমি চাই দিদি আরো ভাল করে বাংলা চালান। কারন তার পার্টীই বাংলার একমাত্র স্বাধীন পার্টী। বাকি সবাই তাদের দিল্লীর নেতাদের কথায় ওঠবোস করা নন্দকিশোর। আর সেটা চাই বলেই মনে করি রামপুর হাটের ঘটনা থেকে এটা পরিস্কার হওয়া উচিত, পুলিশ-সিন্ডিকেট-পার্টি, এই নেক্সাস দিদি ভাংতে না পারলে, আরো রামপুরহাট ঘটবে। এবং এটা উনার প্রশাসনের ব্যর্থতা।  এটা যত দ্রুত স্বীকার করে, সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়া যায় তত উনার ভাল। উনি এমনিতেই জিতবেন। ২৯৩-০ করে লাভ নেই।  সেটা পশ্চিম বঙ্গ, উনার নিজের, তৃনমূলের সবার জন্য খারাপ। 

 কবির নির্মল হৃদয় কাঁপবে, কিন্ত অন্নদাত্রীকে সিন্ডিকেট ভাংতে ডাক দেওয়ার দম তার নাই! 

 আরো খারাপ লাগে আনন্দবাজারের আপ্রান প্রচেষ্টা বাংলার বুদ্ধিজীবিদের জাতে তোলার জন্য! আজ সকালে অভিনেত্রী ঋতুপর্নাকে ইন্ডিগো ফ্লাইটে উঠতে দেয় নি বলে ( নির্ধারিত সময়ের পরে গেটে পৌছালে একমাত্র এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়া বাকি কোন এয়ার লাইন্সই ছাড়বে না) তার ফেসবুক পোষ্টের ওপর আনন্দবাজার খবর করেছে!  যদিও স্যোশাল মিডিয়াতে পাবলিকই ওই ভুলভাল ইংরেজিপোষ্টের বিরুদ্ধে সঠিক উত্তর দিয়েছে-যে এরপরে তারা ইন্ডিগোর ওপর আরো বেশী ভরসা রাখবে।  ডিসিপ্লিনের জন্য যারা সেলিব্রিটিদের রিজেক্ট করতে পারে, তাদের কম্যান্ড এন্ড কন্ট্রোল অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এই ঋতুপর্নাই যখন তার প্রেমিক রোজভ্যালির কর্নাধার গৌতম কুন্ডুর সাথে জনগণের কোটিকোটি টাকা মেরেছে, আনন্দবাজার চুপ ছিল।  

 অভিনেত্রীর কান্না এবং তার আনন্দবাজারীয় এমপ্লিফিকেশন জনগন যেভাবে রিজেক্ট করল, সেটা থেকে আশাকরি অভিনেত্রী এবং আনন্দবাজার দুই পক্ষই বুঝবেন দিনকাল বদলাচ্ছে।  বুঝবেন কেন প্রেসিডেন্ট  জেলেনাক্সি সাধারন টিশার্ট পরে, সব থেকে জনপ্রিয় নেতা হয়ে গেলেন। কারনে উনি অভিজ্ঞ কৌতুকনেতা এবং জানেন মিডিয়াকে কিভাবে ম্যানুপুলেট করতে হয়। তার উপায় একটাই। আজকের দুনিয়াতে সবাই কমন ম্যানের মধ্যেই এক্সট্রাওর্ডিনারি ম্যান দেখতে চাইছে !  লোকে সেলিব্রিটিদের থেকে দূরে থেকে সাধারন মানুষের অসাধারন হয়ে ওঠার গল্প শুনতে চাইছে। 



Saturday, March 19, 2022

কাষ্মীর ফাইলস-ন্যারেটিভের যুদ্ধ

 কাষ্মীর ফাইলস-ন্যারেটিভের যুদ্ধ


-বিপ্লব পাল, ২০শে মার্চ, ২০২২

একটা বলিউডি সিনেমা যেটা বুক ফুলে দাবী করছে, যা দেখাচ্ছি-তা ফিকশন না! ঘটনা সত্য! এটাও দাবী করছে, বর্তমান বিশ্বের সবথেকে চলমান যুদ্ধ ইনফর্মেশন ওয়ার। ন্যারেটিভের দখল নিতে হবে। এটা খুব ঠিক। তবে চেপে গেছে, যে ১৯৯০ সালে ক্ষমতায় ছিলেন ভিপি সিং। যার সমর্থনে ছিল বিজেপি সরকার। পন্ডিতদের সেই সময় বাঁচাতে বিজেপি, ভিপি সিংকে চাপ দিয়েছিল ? এমনটা যে না-সেটা কিন্ত এই সিনেমাই দেখিয়ে দিচ্ছে!

জেনোসাইড মুভি আমি প্রচুর দেখি। আর্মেনিয়ানরা , তুর্কীদের হাতে জেনোসাইড ভুলতে দেয় নি পৃথিবীকে। প্রচুর সিনেমা তৈরী হয়েছে আর্মেনিয়াম জেনোসাইড নিয়ে। যতগুলো দেখেছি- আরারত, নেহাপত, মেরিগ, প্রতিটা সিনেমাই অসাধারন। ইহুদিরাও ভুলতে দেয় নি। গোটা ইউরোপে নাৎসিদের হাতে ইহুদি নিধন নিয়ে সব থেকে বেশী জেনোসাইড সিনেমা তৈরী হয়েছে। ইউক্রেনিয়ানরাও স্টালিনের হাতে হল্ডোমারে তাদের এক তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠির মৃত্যু ভুলতে দেয় নি পৃথিবীকে।

কিন্ত ভারতবর্ষ একটা অদ্ভুত দেশ। এখানে ইতিহাসের সবকিছু চেপে দেওয়াই রীতি। সর্দার উধম সিং সিনেমাটির আগে জালিওনাবাগ হত্যাকান্ড পর্যন্ত সিনেমাতে দেখায় নি! ভারতভাগ এবং পার্টিশনের দরুন পাঞ্জাব এবং বাংলায় যে জেনোসাইড চলেছে- সেটাও সরকারি ঐতিহাসিকরা চেপে দিয়েছেন।

সুতরাং একদিন না একদিন, এইসব কালোসত্য গর্ত থেকে বেড়োবেই। বিজেপির ন্যারেটিভ জেতার দায়ে এটলিস্ট কাশ্মীরের পন্ডিত গণহত্যার সত্য সবার সামনে এল। কালযদি ভারতের লিব্যারেলরা ক্ষমতা জেতে, তারা গুজরাত গণহত্যা সামনে আনবে। কিন্ত প্রশ্ন হচ্ছে বাঙালীদের মধ্যে ঘটা গণহত্যা- গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নেলি গণহত্যা, নোয়াখালি গণহত্যা-এগুলোর সত্য সামনে আনার ক্ষমতা কি বাঙালী ফিল্ম মেকারদের আছে?

আমি আশাকরি কাষ্মীর ফাইলস যে ট্রেন্ড তৈরী করে দিল- যেভাবে ভারতের লিব্যারল রাজনীতির কাষ্মীর ন্যারেটিভকে ধ্বংস করল, ঠিক সেইভাবেই এবার নোয়াখালি, নেলি গণহত্যার সিনেমাও তৈরী হবে।

কাষ্মীর ভারতের অংশ , না স্বাধীন অঞ্চল- এসব প্রশ্নের উত্তর ওই ঈশ্বর মহাশয় আছেন না নাই-ঐটাইপের এবস্ট্রাক্ট। কারন দেশ, ঈশ্বর, ধর্ম -এসব কিছুই মানব কল্পনার সৃষ্টি। কিন্ত এই কল্পনার ওপর ভিত্তি করেই তৈরী হয় ন্যারেটিভ-যার ওপর চলে রাজনীতি- কিছু মানুষ দখল করে ক্ষমতা। আর কিছু মানুষ হচ্ছে বোরে। যাদের খেয়ে, গণহত্যা করে রাজাউজিরা খেলে থাকেন!

কাষ্মীর পন্ডিত, হিন্দু বাঙালী -এরা হচ্ছে সেই বোরে। রাজাউজিরদের চালে টস্কানো হচ্ছে এদের ভবিতব্য। ভারতের পার্টিশন কে চেয়েছিল ? মূলত বৃটিশরা। ভারতের মুসলমানরা মোটেও ভারতভাগ চায় নি। আপনি ইতিহাস পুরো খুলে দেখে নিতে পারেন মুসলীম লীগ ৫% ভোট ও পেত না-আর জিন্নাও আমেরিকার ধাঁচে ফেডারাল ভারত চেয়েছিলেন। কিন্ত নেহেরুর ক্ষমতার লোভ এবং বৃটিশদের এন্টিসোভিয়েত এজেন্ডার জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল বৃটিশ-আমেরিকান অক্ষের। এত বড় দেশ ভারত। এতগুলো ভাষাগোষ্ঠি। এত ধর্ম। এমন দেশের ভাগ হলে শুধু ১৯৪৭ সালের জেনোসাইডেই থামবে না- এটা চলতেই থাকবে। হিন্দু-মুসলমান সমস্যার সমাধান সেইদিন ও হয় নি। আজকেও হবে না।

কিন্ত আস্তে আস্তে হবে। তারজন্যই দরকার ইনফর্মেশন ওয়ার। তথ্যের যুদ্ধ। কাষ্মীর ফাইলের পর, নোয়াখালি, নেলি, গুজরাত -সব আসুক। সব সত্যকে বাজারে নগ্ন করে দেখানো হোক। ঠিক কাশ্মীর ফাইলের মতন। আমার ধারনা সাধারন লোকে আস্তে আস্তে বুঝতে পারবে, তারা যে নিজেদের হিন্দু মুসলমান ইত্যাদি ভাবে- ভেবে আবার গর্বিত হয়- এইসব ফলস আইডেন্টি এফিলিয়েশন বা নিজেদের ধর্মীয় গোষ্ঠির প্রতি আনুগত্য থেকে তারা মুক্ত হবে। কাশ্মীরে শুধু কাশ্মীর পন্ডিতদের গণহত্যা হয়েছে তা না- ধারাবাহিক ভাবে কাশ্মীরের গত ৫০০ বছরের ইতিহাসে হিন্দু মুসলমান শিখ-সব জাতিগোষ্ঠির ওপরই কোন না কোন সময় অত্যাচার চলেছে।

সমস্ত গণহত্যা ঘটিত সিনেমা দেখতে গিয়ে একটাই সত্য উপলদ্ধি করেছি। ইহুদি, আর্মেনিয়ান, পন্ডিত, বাঙালী হিন্দু- এদের একটা "ফলস সেন্স অব সিইকিউরিটি" ছিল-যে প্রতিবেশী বন্ধুরা বাঁচাবে-অন্য ধর্মের হলেও। কিন্ত সেটা হয়ে ওঠে না। কারন সাধারন মানু্ষ খুনীদের সামনে রিস্ক নেয় না। আগের নিজের প্রান, তাররপর না আপনার প্রান! একমাত্র ইস্রায়েলে ইহুদিদের এটা ছিল না। তারা জানত বৃটিশরা চলে গেলে, ৯৫% প্যালেস্টাইনরা তাদের কি হাল করবে। তাই বৃটিশরা প্যালেস্টাইন ছাড়ার কুড়ি বছর আগে থেকে কোন রাজনীতি না মাড়িয়ে অস্ত্র হাতে নিজেদের মিলিটারি তৈরী করেছিল। ফলে মাত্র ৫% ইহুদি, ৯৫% প্যালেস্টাইন আরবদের যুদ্ধে হারিয়ে প্যালেস্টাইনদের নিজেদের স্বভূমি থেকেউৎখাত করেছে! এটা পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র উদাহরন, যেখানে সংখ্যালঘুরা মিলিটারি ফর্মেশনে সংগঠিত হয়ে সংখ্যাগুরুদের তাড়িয়েছে! বাংলার হিন্দু জনগোষ্ঠির মধ্যে দেশভাগের আগে কংগ্রেসি, বিপ্লবী এবং কমিনিউস্ট বাতেলা নেতাদের বদলে বেনগুরিয়ানের মতন ভবিষয়ত দ্রষ্ট্রা নেতা জন্মালে-যেখানে দেশভাগের অনেক আগে থেকে যদি এরা হিন্দুদের মিলিটারি ফোর্সে পরিনত করতে পারতেন-তাহলে আমাদের পূর্বপুরুষদের দেশ ছাড়তে হত না।

ভিটেমাটি রক্ষা করতে গেলে বন্দুক হাতে যুদ্ধ করতে হয়। ওটা কোন রাজনীতিবিদ-কোন ইতিহাস, কোন কাল আপনাকে ভিক্ষে দিতে পারে না। ইউক্রেনিয়ানদের দেখে শিখুন।










Thursday, March 10, 2022

উত্তরপ্রদেশ পাঞ্জাবের রেজাল্ট -কি কি সিগন্যাল পাওয়া গেল

 (১) ভোটে জাতিয়তাবাদ খুব গুরুত্বপূর্ন হয়ে  উঠছে-রুটিমোকামের থেকেও বেশী-অনেক বেশী। সেই উভাল নোয়া হারারির প্রতিধ্বনিই দেখছি- আদর্শবাদের লড়াইটাই মুখ্য হচ্ছে। এবং এক্ষেত্রে বিজেপি দুই ধাপ এগিয়ে। কারন তারা ভারতীয় জাতিয়তাবাদ এবং হিন্দু জাতিয়তাবাদ দুটোই কব্জা করেছে। 

(২) বিজেপির ডবল ইঞ্জিন আদর্শবাদ রুখে দিতে সক্ষম কেবল মাত্র ভাষাভিত্তিক  রাজ্য জাতিয়তাবাদ-যেমন বাঙালী, তামিল, মালইয়ালি, উড়িষ্যা, তেলেগু, মহারাষ্ট্র ইত্যাদি।  ভাষাভিত্তিক জাতিয়তাবাদের ফেডারেল জোট ছাড়া বিজেপিকে ২০২৪ সালে আটকানো অসম্ভব। 

(৩) নোটবন্দী, জিএসটিতে, কৃষিবিলে যতই দুর্দশা বাড়ুক-জনগণ তাও বিজেপিতে ভরসা রেখেছে-কারন ধরে নেওয়া হচ্ছে মোদি দেশটাকে বদলাতে চাইছেন-তাই ওইটুকু যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে! 

(৪) লড়াইটা হচ্ছে কোন পার্টি সরকারি পরিশেবা, সরকারি স্কিম/টাকা জনগনের মধ্যে ভাল করে বিলিয়ে দিতে সক্ষম। সব পার্টিই এখন স্কিমে বিশ্বাসী। 

(৫)  পৃথিবীর সবদেশে বামেরা ১০-৩০% ভোটপান। আমেরিকাতেও বামেদের ভোট ১৫-২০%। কিন্ত ভারতে বামেরা সম্পূর্ন ভাবে ডাইনোসোর গোত্র ।  পাঞ্জাবে একদা বামেরা ৮-১২% ভোট-সিট পেতেন। এখন কোথাও কোন  সিট নেই।  কেন? কারন পৃথিবীর সর্বত্র বামেরা পরিবেশ, সাসটেনেবিলিটি কোয়াপরেটিভের ওপর ভিত্তি করে নতুন পৃথিবীর আদর্শ তৈরী করেছে। ভারতের বামেরদের থেকে অপদার্থ রাজনীতিবিদ পৃথিবীর ইতিহাসে পাওয়া  অসম্ভব। এরা এখনো লেনিন-স্টালিনের হেগোপোঁদ চেটে যাচ্ছে-একে ওকে দোষদিচ্ছে। নিজেদের প্রোডাক্টটা যে এক্সপায়ারড সেটা এরা কেউ বুঝছে না। এতটাই  বুদ্ধিহীন ভারতের বাম!

(৬) তৃনমুল জাতীয় রাজনীতিতেব গুরুত্ব নিতে চাইলে #২ এর ওপর ফোকাস করতে হবে- ২০২৪ সালে বিজেপিকে হারানোর ওটাই একমাত্র সরুপথ। এই ওই রাজ্যে গিয়ে তিনোপার্টি খুলে লাভ নেই। তবে ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসামে কংগ্রেসের বিকল্প তৃনমূল। কংগ্রেস এই রাজ্যগুলো থেকে উঠে যাবে। 

 (৭) আপ - হিন্দি হার্টল্যান্ডে কংগ্রেসকে ফেলবে আগামী পাঁচ বছরে।  ইউপিতে সপাকেও খাবে। সপার ভোটব্যাঙ্ক বেশীদিন টিকবে না। কারন বর্তমানে এর অধিকাংশই বিজেপি বিরোধি ভোট। গোটা ভারতে আপ বিজেপির অলটারনেটিভ হলে, ঐ ভোট আপেই যাবে। সপাতে না।   ইনফ্যাক্ট সপার দিকে ভোট পোলারাইজড হওয়া বিজেপিকে ২০২৪ সালে বাঁচিয়ে দিল।  কিন্ত আপের দুর্বলতা অনেক। ওটা কেজরিভিত্তিক দল। দিল্লী থেকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়। ফলে এদ্দিনে এত পোটেনশিয়া থাকা সত্ত্বেও শুধু পাতা ফেলে গেছে।  কেজরি যদি বোঝে রাজ্যের আপ ইউনিটগুলিকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত-তবেই আপ এগোবে। যেখানে রাজ্যভিত্তিক দল শক্তিশালী-সেখানে আপের সময় নষ্ট করা উচিত না। 

Tuesday, March 8, 2022

পৌরাণিক পুতিন

  যুদ্ধর বয়স এখন বারোদিন।  বিদ্ধস্ত ইউক্রেনের অধিকাংশ শহর।  নির্বিচার গোলাবর্ষনের সামনে অসহায় শহরের অধিবাসীরা। জল, খাবার, ওষুধ, ইলেক্ট্রিসিটি কিছু নেই।  গোলাগুলির মধ্যে পালাবার পথ নেই। সিজ ফায়ার মরীচিকাময় ঘোষনা। 

কিন্ত  আপনার বা আমারই কি পালানোর পথ আছে? ক্রিকেট, বলিউড বা সাহিত্যে বা নিদেন পক্ষে নিজের কাজে মন দিলেই ভুলে যাবেন যুদ্ধ? এই যুদ্ধ আপনাকে আগুনের ছেঁক্যা দেবে না? 

কোভিড এখনো ভাল করে বিদায় নেয় নি। হংকং এ প্রতিদিন শয়ে শয়ে লোক মরছে।  কোন গোকুলে কোন  ডেডলি মিউটেশনের জন্ম হচ্ছে-কেউ জানে না। তবু মাস দুই আরাম করে নিশ্বাস নিতে পারব-আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে।  ২০২০ সালের পর এই প্রথম মুক্ত বসন্ত।  বেশ একটা বাসন্তিক সেলিব্রেশেন মুড শুরু হওয়ার আগেই পুতিন শুরু করলেন, তার যুদ্ধ। তার লেগাসি। ভুক্তভুগী গোটা বিশ্ব। এখন খাবার তেল থেকে গাড়ীর তেল-সব কিছুতেই লাগবে আগুন। ছ্যাঁকা খাবে গোটা বিশ্ব। 

আমি বা আপনি কি এই যুদ্ধ আটকাতে পারি?  উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। আপনাকে বা আমাকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে। আরো অনেক বেশী জানতে হবে কিভাবে রাজনৈতিক নেতা- এবং ব্যবসার দুষ্টচক্র একসাথে যুদ্ধ লাগায়। সাধারন মানুষ যুদ্ধ চায় না। রাশিয়াতে প্রায় ১১,০০০ লোক যুদ্ধ বিরোধি মিছিলে যোগ দিয়ে গ্রেফতার হয়েছে।  এদের অধিকাংসই সেইসব অভাগী বাবা-মা যাদের ছেলেদের পুতিন যুদ্ধে মরতে পাঠিয়েছেন।  ওই ১১,০০০ লোক যেদিন ১ কোটি হবে?  যেদিন রাশিয়ার সব লোক যুদ্ধবিরোধি মিছিলে হেঁটে গ্রেফতার হতে চাইবে-সেদিন কোন পুতিন রাক্ষস থাকবে না।

 ভারতীয় পুরাণ, রামায়ন, মহাভারত-সবই যুদ্ধকেন্দ্রিক।  যুদ্ধবাজদের সেখানে অনেক নাম।  অসুর, রাক্ষস, দৈত্য ইত্যাদি।  সেখানে সব যুদ্ধের কারন যুদ্ধবাজ কোন দৈত্য বা অসুর- যিনি নিজের সামরিক ক্ষমতার বলে অন্ধ।  যুদ্ধের কারনে জনসাধারনের দুর্দশার একফোঁটা সমবেদনা সেখানে প্রবেশ করে না। নিজের ছেলে যুদ্ধে মরলেও না! পুতিনের মধ্যে  ভারতীয় পুরানের সেই দৈত্যরাজদেরই খুঁজে পাচ্ছি। পুতিনের প্রেস কনফারেন্সের সাথে অদ্ভুত মিল দেত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর। অথবা মহিষাশুর। বা রাবনের। যারা কেউ বিশ্বাস করেন নি-এত অস্ত্র, এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা যুদ্ধে হারতে পারেন। রাবনের কথা ভাবুন। একে একে সব পুত্র ভাইদের হারাচ্ছেন যুদ্ধে। লঙ্কা পুড়ছে। তবুও তিনি লড়বেন। পুতিনের রাশিয়াতে এখন রুবল পুড়ছে। লোকেরা কাজ হারাচ্ছে কারন বিদেশীরা ব্যবসা গোটাচ্ছে।  তেলের ক্রেতারাও নিশেধাজ্ঞা জারি করল আজকে।  তবুও পুতিন লড়বেন!  কারন এই সব ডিক্টেটর রাক্ষসদের কাছে জীবনের দাম নেই। যেমন রাবন বলেছিলেন, মরতে ত সবাইকেই হবে-কিন্ত যুদ্ধ করেই মরব-কারন তাতেই আমার লেগ্যাসি বাঁচবে। পুতিনকে দেখে তাই মনে হচ্ছে। তিনি আবার সোভিয়েত ইউনিয়ান বা অতীতের জার সাম্রাজ্যকে ফিরিয়ে আনতে চান। সেটাই তার লেগ্যাসি! তার জন্য তিনি যুদ্ধ করবেনই করবেন। রাশিয়া ধ্বংস হলেও করবেন। কারন লেগ্যাসি!

 পুরানের রাবন, হিরন্যকশিপুর গল্প-আর আজকের পুতিনকে দেখে মনে হয়, মানুষ বদলায় নি।  বদলানোর অভিনয় করেই দিন কাটে আধুনিক সভ্যতার। 



Saturday, March 5, 2022

রাশিয়ান এবং ইউক্রেনিয়ানরা কি একজাতি? একরাষ্ট্র ?

 উভাল  নোয়া হারারি, আমাদের বহুদিনের একটা পুরাতন ধারনা বদলে দিয়েছেন। উনার মতে বিংশ শতাব্দি থেকে যত যুদ্ধ হয়েছে- তা জমি-সম্পদ-নারী দখলের লড়াই না।  প্রায় সবটাই "আইডিওলজি" বা আদর্শের লড়াই। যেমন রাশিয়া বনাম ইউক্রেনের যুদ্ধের নিরাপত্তা জনিত বস্তুবাদি কারন অবশ্যই আছে। কিন্ত সব থেকে বড় যে আদর্শের লড়াইটা চলছে- সেটা হচ্ছে ইউক্রেন কি আদৌ আলাদা কোন জাতি? না রাশিয়ান উপজাতি মাত্র? পুতিন কিন্ত টিভিতে বারবার বলে চলেছেন, ইউক্রেনিয়ানদের ভুল বোঝানো হয়েছে যা তারা রাশিয়ানদের থেকে আলাদা জাতি। ইউক্রেনিয়ানরা আলাদা কোন জাতিই না। তারা রাশিয়ানদের ভাই ভাই। তাই ইউক্রেন রাশিয়াভুক্ত হবে!

হমো স্যাপিয়েন্সরা আনুমানিক ২০,০০০-৩০,০০০ বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে একত্রে আস্তে আস্তে বড় দলে থাকতে শুরু করে- সাথে সাথে  মানব সমাজে "কাল্পনিক" কিছু ধারনার জন্ম হয়-যা  মানুষকে আরো বৃহত্তর গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত করে এবং সেখান থেকে আনুমানিক ৫০০০ বছর পূর্বে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলে। যেমন ধরুন "ঈশ্বর" , "বিবাহ" ,  " সম্পত্তি"  " সমাজ", "রাষ্ট্র" "পরকাল" "স্বর্গ"  এগুলো সবই কাল্পনিক ধারনা থেকে গড়ে ওঠা-যেগুলি না থাকলে মানুষের গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন গড়ে উঠত না-অন্তত অতীতে।  এই প্রতিটি মানব কল্পনা, মানুষের জীবনকে অনেক বেশী উৎপাদনশীল ( প্রোডাক্টিভ) করে !

 আমি একটা একটা করে উদাহরন দিচ্ছি। যেমন ধরুন বিবাহ। প্যালিওলিথিক হান্টার গ্যাদারদের মধ্যে বিবাহ্ ছিল না।   কিন্ত কৃষিকাজ এবং জমির উত্তরাধিকার শুরু হলে " বিবাহ" নামক অলীক ধারনার আমদানি আবশ্যক হয়।  কারন তার আগের সমাজে,  পুরুষদের নিজের সন্তানের দরকার হত না-যেহেতু "সম্পত্তি" বলে আরেকটি অলীক ধারনা ছিল না। কিন্ত জমির দখল, এবং সেই জমিতে উৎপাদন বাড়াবার জন্য নিজের সন্তানদের দরকার হওয়া শুরু হয়। ফলে একই সাথে মানব সমাজে বিবাহ ( যে নারী-পুরুষের পিওরেস্ট বন্ধন), সম্পত্তি ( যে এই ভূখন্ডের ওপর আমার অধিকার এবং সন্তানের উত্তরাধিকার), মালিকানা ইত্যাধি ধারনার সূত্রপাত হয়।  

ঠিক একই ভাবে মেসোপটেমিয়াতে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দিতে। বিনিময়ে রাষ্ট্রকে ব্যবসায়ীরা সেনাদল রাখার জন্য ট্যাক্স দেওয়া শুরু করে। 

ব্যপারটা ঠান্ডা মাথায় ভাবুন।  আজকে যদি বিবাহ বলে ধারনাটা চলে যায়-তাহলে প্রতিটা ছেলে অধিকাংশ সময় নষ্ট করবে, আগামী রাতের সঙ্গিনী খোঁজার অপেক্ষায়। রাষ্ট্রের ধারনা উবে গেলে, প্রতিটা মুহুর্তে পাশে বন্দুক রেখে কাজ করতে হবে- একই সাথে জীবিকার জন্য কাজ করতে হবে, আবার বন্দুক হাতে লড়াই ও করতে হবে।  কারন, নিরাপত্তা দেওয়ার কেউ থাকবে না।  কোন জটিল কাজ, স্কুল, কলেজে পড়াশোনা, ফ্যাক্টরি, উৎপাদন-কোন কিছুই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাড়া হয় না। যার জন্য যেসব স্থলে রাষ্ট্রের ধারনা দুর্বল হয়- অর্থাত একটা সমান্তরাল মাফিয়ারাজ মানুষকে নিয়ন্ত্রন করে, সেই সব জায়গায় কখনোই শিক্ষা, গবেষনা বা শিল্প গড়ে উঠতে পারে না। উদাহরন পাকিস্তান। সিসিলি। 

প্রশ্ন উঠতেই পারে "রাষ্ট্রের " ধারনা কাল্পনিক কেন? কারন পশুদের মধ্যে রাষ্ট্র নেই। মানুষের মধ্যে আছে-কারন মানুষ কল্পনা করতে পেরেছিল, রাষ্ট্র নামে একটা এন্টিটির হাতে যদি অস্ত্রধারি মানুষ (সৈনিক) থাকে, তাহলে,  ব্যবসা-কৃষির শ্রীবৃদ্ধি হয়।  সেই নিরাপত্তার কারনে। এবার রাষ্ট্র আরো আধুনিক হল। শুধু সামরিক নিরাপত্তা না। আধুনিক রাষ্ট্র মানুষকে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বার্ধক্য, দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ-ইত্যাদি সব বিষয়েই নিরাপত্তা দিতে বাধ্য।  

কিন্ত আধুনিক হতে থাকা এই সমাজ , এই বিশ্ব ভুলে গেছে, রাষ্ট্রের ভিত্তি সেই সামরিক শক্তি!  একটা রাষ্ট যতই জনকল্যানকারী , শিল্পে উন্নত হোক না কেন, সামরিক শক্তিতে দুর্বল হলে, সেই রাষ্ট্র খুব বেশীদিন স্বাধীন ভাবে টিকতে পারে না। অন্তত গত দুশো বছরে সেই সত্যই বাস্তব। এমন কি ছোটদেশ  সুইজারল্যান্ড কোন ব্যতিক্রম না। ওই রাষ্ট্রের প্রতিটা নাগরিক সৈনিক।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার অনেকবার  সুইজারল্যান্ড দখল করবেন ভেবেছিলেন-কিন্ত তার জেনারেলরা শ্রেফ বলে দিয়েছিল-ওই দেশে ঢুকলে এর বেঁচে বেড়োতে হবে না!    শান্তিপ্রিয়  ইউরোপের অনেক রাষ্ট্র সামরিক বাজেট ২-৩% এ নামিয়ে এনেছিল-এখন বাড়িয়ে আবার ৬-১৩% এ নিয়ে যাচ্ছে।  ভারতের সামরিক বাজেট জিডিপির ৩%। সেটা বেড়ে ৫% হতে চলেছে। 

রাষ্ট্রের ধারনাটি গুরুত্বপূর্ন-কিন্ত রাষ্ট্র যদি তার জনগনের খাদ্য নিরাপত্তা না দিয়ে সামরিক নিরাপত্তার পেছনে খরচ করে- বা করতে বাধ্য হয় তাহলে? সমস্যা হচ্ছে,  সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উদ্ভবের যুক্তিটাকেই আবার গুলি মারা হচ্ছে। কারন খাদ্যের নিরাপত্তা দিতে সামরিক নিরাপত্তা দরকার-আবার সামরিক নিরাপত্তার পেছনে খরচ বাড়ালে, খাদ্যের নিরাপত্তা আসছে না!  তাহলে উপায়? 

 ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার সৈন্যবল ৫-১০ গুন। তাহলে ইউক্রেন কি তার সামরিক বাজেট ৪-৫ গুন করবে? তাহলে খাবে কি? 

এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে সামরিক জোট। অনেকগুলি দেশমিলে জোট তৈরী করা যাতে একত্রিত সৈন্যদল বৃহত রাষ্ট্রের সেনাদের রুখে দিতে পারে। ফলে ন্যাটো বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ানের জোট ভূতপূর্ব সোভিয়েত থেকে স্বাধীন হওয়া সব রাষ্ট্রের জন্যই একান্ত দরকার- নইলে রাশিয়া সেই দেশগুলি বকলমে দখল করবেই, একজাতির ধুয়ো তুলে!

কিন্ত কেন? সেই নিরাপত্তা। রাষ্ট্র মানেই, তার প্রথম কাজ নিরাপত্তা দেওয়া। রাশিয়া, চীন, ভারতের মতন বড় দেশগুলির সমস্যা- সীমান্ত প্রচুর লম্বা! রাশিয়ার প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার সীমান্ত!  সীমান্তে অসংখ্য দেশ।  সেই দেশগুলি যদি, রাশিয়ার বন্ধু দেশ না হয়, এত বড় দেশের নিরাপত্তা প্রায় অসম্ভব। 

 ফলে জারের আমলে রাশিয়া তার আশেপাশের সব দেশগুলো দখল করেছিল উনবিংশ শতাব্দিতে। তারো আগে এই সব দেশগুলোই আবার রাশিয়াকে নিরাপত্তা দিত, রাশিয়া তাদের অস্ত্র দিত! যেমন ইউক্রেন। ওখানে থাকত কোজাক যোদ্ধারা। দক্ষিন থেকে তাতারদের আক্রমন রুখতে, রাশিয়ান জারেরাই তাদের অস্ত্র দিয়েছে-আবার তাদের অধীকারে নিতে সামরিক অভিযান ও চালিয়েছে। আবার দুটো জাতি একসাথে তাতার আক্রমন রুখেছে।  তাতারদের দাপট কমে গেলে জারেরা ইউক্রেনকে নয়া রাশিয়া বলে সাম্রাজ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে।  লেনিন এবং তার বলশেভিক পার্টি ১৯১১ সাল থেকে এই সব দেশগুলির স্বাধীনতা দাবী করেছিলেন। লেনিনের সাফল্যের একটা বড় কারন ১৯১৭ এর বিপ্লবের দিনে, এই সব স্যাটেলাইট স্টেটগুলি সবাই বলশেভিক বিপ্লবের শরিক ছিল। এবং বিপ্লবের পর লেনিনের প্রতিশ্রুতি মতন এরা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন । স্বাধীন ইউক্রেনের জন্ম হয় ১৯১৮ ন্সালের ফেব্রুয়ারী। কিন্ত খুব শীঘ্র লেনিন বোঝেন, আসলে কমিনিউজম, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার আদর্শ ইত্যাদি দিয়ে রাষ্ট্র চলবে না। তিনিই এখন নতুন জার। ফলে লেনিন সৈন্য পাঠিয়ে আবার স্বাধীন  ইউক্রেন দখল করেন। প্রায় তিন বছর ( ১৯১৮-২১) চলেছিল সেই যুদ্ধ।  ৪ লাখ ইক্রেনিয়ান রাশিয়ার বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধে মারা যায়।   পুতিন এখন নতুন জার। উনিও লেনিনের মতন সেই সত্য বুঝেছেন যে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য সব স্যাটেলাইট স্টেটগুলি অধীনস্থ থাকা দরকার!

আসলে "জাতি" এবং "জাতিয়তাবাদ" ও সেই মানুষেরই কল্পনা-যা রাষ্ট্রের জন্য দরকার ও বটে। যেমন ধরুন ক্রশ্চেভ এবং ব্রেজনেভ-দুজনেই ইউক্রেনের। এরা রাশিয়ার প্রমিয়ার ছিলেন। যেমন বিবেকানন্দ বা নেতাজি। এরা যতটা বাঙালীর ততটাই ভারতের।  বৃটিশ আমল থেকে বাংলার ইতিহাস যেভাবে ভারতের ইতিহাসে সাথে মিশে গেছে, তাতে বাঙালীকে যেমন ভারতীয় না বলা যাবে না-ঠিক তেমনই ইউক্রেনিয়ানদের রাশিয়ান না বলাও একই রকমের কঠিন কাজ।  আবার এটাও ঠিক বাঙালীদের ভাষা, খাদ্যভ্যাস আলাদা। অতীত ইতিহাস আলাদা। কিন্ত বিগত দুশো বছরে বাংলা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইউক্রেন ও ঠিক তাই ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ানে।  সোভীয়েতের দুই প্রিমিয়ার এসেছে ইউক্রেন থেকে।   সুতরাং পুতিন খুব ভুল বলেন নি। কিন্ত উনি ভুল করছেন । সেটা হচ্ছে এই যে ইউক্রেনের লোকেরা ঠিক করবে, তারা রাশিয়ান কি না। সেটা সেনা পাঠিয়ে করতে গেলে, ইউক্রেনের জাতিতয়তাবাদ আরো বেশী শক্ত হবে। যেমন খানসেনাদের দিয়ে বাংলাদেশীদের পাকিস্তানি বানাতে গিয়ে হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশীরা স্বাধীন হওয়ার পর আরো বেশী পাকিস্তানি হয়েছে-যদিও দেশ পাকিস্তানকে তারা ঘৃনা করে। 

পুতিন ইতিহাস ঠিক বললেও, তার  সামরিক প্রযোগ সম্পূর্ন ভূল করলেন। হিটলার ও তাই। মেইন ক্যাম্পে ইতিহাস তিনি ভুল লেখেন নি। ফ্রান্স সত্যই বহুদিন থেকে জার্মানিক গোষ্ঠীর নানান প্রিন্সিপালিটিগুলিকে এক হতে দেয় নি। তার মানে এই না যে শোধ তুলতে তিনি সেনা পাঠিয়ে গোটা ইউরোপকে জার্মানি বানাবেন! 

ইউক্রেনের যুদ্ধ আদর্শের লড়াই আবার উস্কে দিল। এবার বাচাল চলবে তাইওয়ান কি আলাদা রাষ্ট্র? অরুনাচল , লাদাখ কি চীনের থেকে আলাদা হতে পারে? ভারতের নেহাত সামরিক এবং অর্থনৈতিক দম নেই। রাশিয়ার পর্যায়ে দম থাকলে ভারত ও বলতেই পারে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এগুলি ভারতের অংশ।  

কিন্ত এসব কি এই একবিংশ শতকে দরকার আছে? যেখানে আমরা একটা যুদ্ধ বিহীন শতাব্দির কল্পনা করছিলাম? মঙ্গলে বসতি স্থাপনের জন্য প্রতিযোগিতায় নামছিলাম? 











Friday, March 4, 2022

ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের বিদেশনীতি - দূরদর্শিতা না মায়োপিক?

 কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে একমাত্র বলরাম যোগ দেন নি-তীর্থে গেলেন। একদিকে তার ভাই, অন্যদিকে তার প্রিয়  ছাত্র। কৃষ্ণ ভীম-দুর্যোধনের যুদ্ধের পর বলরাম খুব উত্তেজিত-ভীমকে মেরেই ফেলবেন। কৃষ্ণ এবার বলরামকে  ধিক্কার দিলেন- ধর্ম বনাম অধর্মের যুদ্ধে, নিরেপেক্ষতা মানে অধর্মকে প্রশয় দেওয়া এবং সেই অধর্ম একদিন সমাজ এবং রাজনীতিকে ভূতের মতন ্তাড়া করবে।

      ভারতের অবস্থা বলরাম সাদৃশ। রাশিয়া টাইম টেস্টেড বন্ধু। ভারতের এয়ার, আর্মি, নেভীর প্রায় ৬৫-৮০% রাশিয়ান অস্ত্র। ইউনাইটেড নেশনে রাশিয়া কখনো ভারতকে নিরাশ করে নি। সেই তুলনায় আমেরিকার সাথে ভারতের ব্যবসা যতই বেশী হোক ( ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য, ভারত রাশিয়ার বাণিজ্যের প্রায় দশগুন! ) , আমেরিকা এবং ইউরোপ কাশ্মীর থেকে পাকিস্তান ইস্যুতে মোটেই ভারতের পাশে আগেও ছিল না-এখনো নেই। শুধু চীনের চাপ খেয়ে এখন রাজনৈতিক ভাবে কাছাকাছি আসছে। চীন ভার‍ত এবং আমেরিকার-দুজনের কাছেই সমস্যা।  সেই জন্য, আমেরিকা ভারত কাছাকাছি আসছে-কিন্ত অতীতের রাজনীতির সম্পর্ক মোটেও সুখের না। 

 সুতরাং রাশিয়ার বিরোধিতা করা ভারতের পক্ষে সম্ভব না। কিন্ত এই বিরোধিতা না করার খেসারত দিতে হবে ভবিষ্যতে। কারন চীন-পাকিস্তান ভারত আক্রমন করলে, এটা পরিস্কার ভারতের পাশে কেউ থাকবে না। সবাই লিপ সার্ভিসা দেবে। স্যাংশন করবে। তাতে চীনের মিলিটারি থামানো যাবে না। 

 এমনিতে ইউরোপ এবং আমেরিকা ভারতের অবস্থান বুঝতে পারছে এবং সেই জন্যে ভারতকে চাপ ও দিচ্ছে না। কিন্ত সমস্যা যেটা হবে, ভবিষ্যতের পৃথিবীত বাই-পোলার । একদিকে চীন-রাশিয়া অন্যদিকে আমেরিকা-ইউরোপ অক্ষ। ফাইনান্সিয়াল সিস্টেম ও এই দুই অর্ধে ভেঙে যাবে। সেই পৃথিবীতে নিরেপেক্ষ কেউ থাকতে পারবে না। একদম কোল্ড ওয়ারের সময় ফিরে আসছে।


এখনই হবে না-কিন্ত সেইদিন হয়ত দূরে না যে ভারতকে আমেরিকা-ইউরোপের অক্ষে নেওয়ার জন্য ফাইনান্সিয়াল চাপ শুরু হতে পারে। ভারতের সফটওয়ার এক্সপোর্টের ৯০% আমেরিকা-ইউরোপ নির্ভরশীল।  ভিসা রেস্ট্রিকশন বাড়িয়ে সেখানে চাপ দেওয়া কঠিন কাজ না।   রাশিয়ান  আর্মস রিপ্লেসমেন্টের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়ে গেছে এবং ভারত গত দশ বছরে রাশিয়ান আর্মস ইম্পোর্ট ৬০% কমিয়েছে এবং আস্তে আস্তে আমেরিকা এবং ইস্রায়েল সেই স্থান নিচ্ছে।  এটা ভারতের জন্য ভাল। রাশিয়ান মিলিটারি প্রযুক্তি এখন খুব পুরাতন। কিন্ত ইউনাইটেড নেশনে রাশিয়ার মতন নির্ভরযোগ্য বন্ধু আমেরিকা বা বৃটেন হবে না।  সেই জায়গাটা রিপ্লেস করা মুশকিল হবে। 

এখনো পর্যন্ত  ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের বিদেশনীতি ঠিকঠাকই আছে-কিন্ত ভয় এটাই তলে তলে প্রস্তুতি না নিলে, এই নিরেপেক্ষতা খুব বেশীদিন বজায় রাখা যাবে না। 

Tuesday, March 1, 2022

পুতিনকে কি রূপে বুঝিব?

 এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার খুন খারাপি  , যুদ্ধাপরাধ -একান্তভাবেই পুতিনের যুদ্ধ।  রাশিয়ার সাধারন জনগণ এবং রাশিয়ান অলিয়ার্গ [ যে ২১ টি ফ্যামিলি রাশিয়ার সমস্ত ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে ]-এরা মোটেও যুদ্ধের পক্ষে নেই। যেমন জার্মানরা যুদ্ধের পক্ষে ছিল না। কিন্ত হিটলারের মতন উম্নাদ ডিক্টেটরের জন্য সমগ্র জাতি যুদ্ধে যেতে বাধ্য হয়েছিল। 


 সুতরাং এই যুদ্ধ কেন- এটা বুঝতে গেলে ব্যক্তি পুতিন, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বুঝতেই হবে। পুতিনের পারসোনালিটি কাল্ট না বুঝলে এই যুদ্ধ কেন- কি করে পুতিনের এত সাহস হল গোটা পৃথিবীর বিরুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনে মিলিটারি পাঠালেন-এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না।


   #১ পুতিন কেজিবির স্পাই হিসাবে কেমন ছিলেন -   উনার সার্ভিস ফাইলে  দেখা যাচ্ছে উনি তিনটে ব্যপারে খুবই সফল  --

                  - শত্রুকে ধোঁকা দিতে-কোনদিন তার আগামী স্টেপ কাউকে জানতে দেন নি

                 - সিক্রেসি মেইন্টেইন করতে- উনি যে প্রেসিডেন্ট হবেন, উনার স্ত্রীও প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগের দিন জানতেন না 

                  -  রিস্ক নিয়ে সবার আগে আঘাত দিয়ে শত্রুকে আঘাত করতে ভয় পান নি কোন দিন 


   কিন্ত কেজিবি ফাইল এটাও বলছে, পুতিনের থ্রেট পারসেপশন কম- অর্থাৎ কোথায় কত ক্ষতি হতে পারে-সেই ব্যপারে উনি খুব কম চিন্তা করেন। ইউক্রেনে সেটা পরিস্কার। 


  # ২   পুতিন পাশ্চাত্যকে এত ঘৃনা করেন কেন? রাশিয়া কি ইউরোপের অংশ না? 

 কেন পুতিন  ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান এবং ইউরোপের প্রগ্রেসিভ সংস্কৃতিকে এত ঘৃনা করেন? প্রায় মুসলমানদের মতন ?? রাশিয়াতে সমকামীতা অপরাধ। এবর্শন আইন ও কঠিন। রাজনৈতিক বিরোধিদের খুন করা কোন ব্যপারই না!  ইনফ্যাক্ট রাশিয়ান পারিবারিক আইন বর্তমানে ভারতের মতনই রক্ষনশীল। ইউরোপের মতন উদার না।  

 এই ইতিহাস বুঝতে হবে। না হলে এই যুদ্ধ বোঝা অসম্পূর্ন থেকে যাবে। 

আসলে পাশ্চাত্য ইউরোপিয়ান সভ্যতা বলতে আমরা যা বুঝি তা গ্রীক-রোমান সভ্যতা। রোমানরা যখন সাম্রাজ্যের অধীশ্বর- রাশিয়া-ইউক্রেন এসব অঞ্চলে বসতি প্রায় ছিলই না। মোঙ্গলরা প্রথমে রাশিয়ার নানান উপজাতিগুলিকে হারিয়ে-তাদের মোঙ্গল সাম্রাজ্যের মধ্যে নিয়ে আসে। মঙ্গলদের পতনের পর মস্কোভাইটরা বর্তমান রাশিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে। 

 ওখানে তখনো খ্রীষ্ঠান ধর্ম সেভাবে ঢোকে নি। ইসলামের লোকেরাও ধর্ম প্রচার করেছে। কিন্ত মদ্যপান ছিল এই অঞ্চলের লোকেদের জল খাওয়ার সামিল! মদ্যপান নিশিদ্ধ থাকায় ইসলামের প্রসার এখানে হয় নি।  আস্তে আস্তে এই মস্কোভাইট, কোসাক ফেডারেশন ( যা ইউক্রেনের পূর্বসূরী) এসব অঞ্চল গুলি অর্থডক্স চার্চের অধীনে আসে।  

ইউরোপিয়ান রেনেশাস বাংলায় যেমন ইংরেজদের হাত ধরে এসেছিল, রাশিয়াতে ইউরোপের শিক্ষার আলো এসেছে উনবিংশ শতাব্দির প্রথমে। নেপোলিয়ান রাশিয়ান শীতের কাছে হারলেন। কিন্ত ইউরোপের "লিবার্টির" ধারনা রাশিয়াতে রেখে গেলেন। ফলে বাংলার মতন রাশিয়াতেও উনবিংশ শতাব্দিতে জন্মালেন রাশিয়ার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবিরা-যা মধ্যে টলস্টয়, চেকভ, ডস্টভয়েস্কিরা আছেন। লেনিন ও সেই সময়ের ফসল। সমস্যা হল,  রাশিয়াতে পাশ্চাত্য ধ্যানধারনা বিশেষত জার্মান আইডিয়ালিজম ( মার্ক্সিজম, এনার্কিজম) দ্রুত ছড়াতে থাকে এবং ফল স্বরূপ ১৯১১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। কিন্ত টলস্টয় এবং ডস্টভয়েস্কির মতন আরো অনেকেই রাশিয়ার এই পাশ্চাত্য টার্ন ভাল চোখে দেখেন নি,। তাদের কাছে রাশিয়ান রক্ষনশীল সংস্কৃতি রাশিয়ার পরিচয়ের ফাউন্ডেশন। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ফেমিনিজম ইত্যাদি সমাজকে সংসারকে দুর্বল করে।  লেনিন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ফসল হলেও স্টালিন অর্থডক্স সংস্কৃতির। ফলে ক্ষমতা দখলের পর স্টালিন আবার রাশিয়ান অর্থডক্সিতে ফিরে গেলেন- লেনিন এবর্শন , লিভ টুগেদার, সমকামিতা আইনসিদ্ধ করেছিলেন, স্টালিন সব কিছুই আবার বেয়াইনী করে দেন।   সোভিয়েত বিপ্লবেও ও এই রাশিয়া বনাম পাশ্চাত্য দ্বন্দ ঘুচল না। বিশেষত ন্যাটোর জন্মের পর  সোভিয়েতের পাশ্চাত্য বিরোধিতা  অনেক বেড়ে গেল। পুতিন এই সময়ের ফসল। ১৯৭৫ সালে যখন উনি কেজিবিতে ঢুকলেন, তখন তার পোষ্টীং পূর্ব ইউরোপে। যেখানে সিয়ার চরেদের বিরুদ্ধে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। আমেরিকা পূর্ব ইউরোপে  উদার গণতন্ত্র স্বাধীনতা ফেরী করার চেষ্টা করছে ডিক্টেটরদের বিরুদ্ধে। পুতিনের কাজ ছিল, আমেরিকান এবং পশ্চিম ইউরোপের "গণতান্ত্রিক" ডি এন এ কে ধ্বংস করার। ফলে পুতিন বরাবরই পশ্চিমা গণতন্ত্র এবং ইউরোপকে ভাল চোখে দেখেন না। ইনফ্যাক্ট রাশিয়ার গণতন্ত্র যখন ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আস্তে আস্তে ফুলের মতন বিকশিত হচ্ছে,  পুতিন তার বস বরিস ইয়েসলিনকে বারবার বোঝাচ্ছেন, এই গণতান্ত্রিক প্রসেসে রাশিয়া আরো ডূবে  যাবে।  কারন ইয়েসলিন ামেরিকার কাছাকাছি যাচ্ছিলেন-কিন্ত তাতে রাশিয়ার কিছুই লাভ হচ্ছিল না। এতে পাশ্চাত্য এবং ইউরোপের বিরুদ্ধে পুতিনের রাগ আরো বেড়ে যায়। পুতিন নিশ্চিত হন, রাশিয়ান রক্ষনশীলতাতে না ফিরলে রাশিয়ার উত্তরোন হবে না। যে দেশটা পাঁচ শতাব্দি ধরে জারের শাসনে ছিল, এবং অর্ধ শতাব্দি ধরে জারের বদলি সোভিয়েত শাসনে ছিল- তাদের জন্য জারের শাসন, রাশিয়ান অর্থডক্সই ভাল দিক।  পুতিন এটাই মনে করেন! 

 পুতিনের বদ্ধমূল ধারনা সোভীয়েত ইউনিয়ান ভেঙেছে আমেরিকা এবং ইউরোপ। এবং রাশিয়াকে আগের যায়গায় ফিরতে হলে ভূতপূর্ব সোভিয়েতের ২০টা দেশকে রাশিয়ার ছাতার তলায় আনতে হবে। 

  কিন্ত তারাত ১৯৯১ সাল থেকে স্বাধীন? তাহলে? 

পুতিনের এই ইচ্ছা মোটেও গোপন কিছু না। ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ানের  ভূতপূর্ব অঙ্গরাজ্যদের অনেকেই ন্যাটোতে যোগ দিয়েছেন, এই পাগলা ডিক্টেটরের স্বপ্ন থেকে বাঁচতে। 

  যে শত্রুর বিরুদ্ধে একদা লড়েছেন, তারাই আস্তে আস্তে তাকে ঘিরে ধরছে। একে একে পশ্চিমের সব রাষ্ট্র ন্যাটোতে নাম লেখাচ্ছে। পুতিন অসহায় বোধ করলেন। কিন্ত তার হাতে অস্ত্র কি?  শুধু যুদ্ধ দিয়ে এসবের সমাধান হয় না, কেজিবির অভিজ্ঞতা থেকে ভালোই জানেন।  একটা আদর্শ ছাড়া এত গুলো রাষ্ট্রকে জোড়া যায় না।  

 এইখানেই একটা গভীর ব্যাপার আছে। পুতিন মনে করেন এইসব রাজ্যগুলিতে রাশিয়ান অর্থডক্স চার্চের প্রচুর সাপোর্টার আছে-যারা ফ্যামিলি লাভিং এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে, ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিকে ভাল চোখে দেখে না। পুতিন এটা ভালোই বোঝেন ট্যাঙ্ক দিয়ে এই ইউনিফিকেশন হবে না। কমিনিউস্ট আদর্শ ও ডেড! তাহলে?   কোন আদর্শের বলে এতগুলো রাষ্ট্রকে জুড়বেন?   "রক্ষনশীল" ধর্মী রাজনীতিবিদদের নিয়েই উনি এইসব রাষ্ট্রে নিজের পাপেট নেতা তৈরী করার কাছে মন দেন। সফল ও হচ্ছিলেন। ইউক্রেনে ২০১০ সালে জেতেন ভিক্টর আনুকাভিচ-যিনি ছিলেন রাশিয়ার অনুগত। যাকে ইউক্রেন ২০১৪ সালে তাড়াবে। 

ফলে পুতিনের গ্রান্ড প্ল্যান এখানেই ডিরেইল্ড। পুতিন বুঝতে পারেন, তার ধারনা ভুল। আমেরিকার স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের স্বাদ যারা পেয়েছে, তারা তার কল্পিত জারের দুনিয়াতে  আর ফিরে যাবে না। তারা আমেরিকার কোলেই যাবে!  ফলে এবার পুতিন ট্যাঙ্কের পথে নামলেন।  ক্রিমিয়া দখল করলেন। আমেরিকা শুধু স্যাংশন করেই সাঙ্গ।  জার্মানী দ্রুত ভুলে আবার তেল গ্যাস নেওয়া শুরু করল।  ওটা ছিল এসিড টেস্ট। হিটলারের মতন।  পুতিনের ক্যালকুলেশন- ইউক্রেন মাত্র তিন দিনেই উনি জিতে যাবেন। কারন ইউক্রেনে রাশিয়ান অর্থডক্স রক্ষনশীলদের অনেক সাপোর্টার আছে।  হেরিটেজ। উনি বোঝেন নি, ইউক্রেনের লোকজন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে।  সেই কেজিবি ফাইল। উনার থ্রেট পারসেপশন কম। 

 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের থেকে এই যুদ্ধ আলাদা কিছু না। হিটলার মনে করেতেন ডেমোক্রাসি সার্কাস-ওইভাবে একটা বিদ্ধস্ত রাষ্টকে উন্নত করা যায় না। পুতিন ও তাই।  দুজনের চিন্তাধারায় একই ধরনের জাতিয়তাবাদি উন্মাদ্গামীতা। পুতিন নিউক্লিয়ার বোমের ভয় দেখাচ্ছেন। 

 আজ স্টেট অব ইউনিয়ানে বাইডেন ভাল কথা বলেছেন। ডিক্টেটরদের আগে ভাগে না থামাতে পারলে গোটা বিশ্বকে তার মূল্য চোকাতে হবে।  নইলে গোটা বিশ্বে যুদ্ধ ছড়িয়ে যাবে।