Monday, July 5, 2010

বিজেপি সিপিএমের মধু চন্দ্রিমা আবার ফিরে আসছে

আমাদের যাদের বয়স হয়েছে ১৯৮৯ এর স্মৃতি খুবই উজ্জ্বল। অলি গলিমে শোর হ্যায় রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়। রাস্তার একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে সিপিএম। বিজেপির তখন মোটে ২ টি এম পি।

তারপর ১৯৮৯-৯১ পর্যন্ত কংগ্রেস বিরোধিদের বারো মিশেলি সিপিম-বিজেপিদের মন্ত্রীসভা কি ভাবে সরকার চালিয়েছে আমরা সবাই জানি। ১৯৯০ সালে ভারত প্রায় দেওলিয়া হয়ে গিয়েছিল। ভারতের সোনা বন্ধক দিয়ে তেল কিনতে হয়েছে।

রাজনীতি অভিনয়ের মঞ্চ। কেও সিপিএমের রোল করে-কেও বিজেপির। দিনের শেষে এর অন্তিম লক্ষ্য একটাই-ক্ষমতা। রাজার আলখাল্লায় হিটলারের বা স্টালিনের যারই দাগ থাকুক না কেন, রাজনীতির লোকগুলো একটাই ভাষা বোঝে-ক্ষমতা দখল।

বামফ্রন্টের সিট অর্ধেক হয়ে যাওয়াতে এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতিতে প্রকাশ কারাত সম্পূর্ন অপ্রাসঙ্গিক। আগে ছিলেন প্রাসঙ্গিক ননসেন্স -কারন ক্ষমতা ছিল। এখন ক্ষমতাহীন ননসেন্স-তাই ভাইরাভাইএর চ্যানেল ছারা কেও ডাকে না। ক্ষমতাহীন নখদন্তহীন অবস্থায় বসে থাকতে কোন রাজনীতিবিদদের আর ভালো লাগে?

সিপিএম ধর্মঘট ডাকলে ত্রিপুরা, কেরালা আর পশ্চিম বঙ্গে ছুটি পালিত হয়। কেও পাত্তা দেয় না। কারন সবাই জানে পশ্চিম বঙ্গ থেকে সিপিএম মুছে যাওয়ার মুখে। সময়ের অপেক্ষা। ফলে এই মুহুর্তে বিজেপির সাথে গাঁটছারা বাধা ছারা কারাতের সামনে কোন লাইন খোলা নেই। সেদিন একই অবস্থা ছিল জ্যোতিবাবুদের। রাজীবের সামনে ওরা কোনঠাসা ছিলেন। তাই বিগ্রেডে জ্যোতি-বাজপেয়ী একসাথে হাত তুলেছেন। আজকে কারাত আর গাডকারী হয়ত এক সাথে হাত ধরবেন না-কিন্ত কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্ব রাখতে, একসাথে কর্মসূচী নেবেন।

আমি আগেও বলেছি আদর্শবাদি রাজনীতির ভবিষ্যত নেই। আজকের তরুনরা একটু ভাল থাকতে চাই-গোটা বিশ্বকে ছুঁতে চাই।সস্তার দাদাগিরি না করে- তাদের শিক্ষা, চাকরীর আর জীবিকার ব্যাবস্থা করুন। জীবিকা তৈরীর রাজনীতিতে বিজেপি বা সিপিএমের ভরসা নেই-ফলে বর্তমান প্রজন্মের সাথে সিপিএম আর বিজেপির দূরত্ব বাড়ছে। আর এরাও ধর্মঘটের মতন সস্তার চমকে বিশ্বাস করছে।

পৃথিবীটা গোল-তাই একটু বেশী বামদিকে গেলে, সেটা ডান দিক হওয়াটাই স্বাভাবিক।

Sunday, July 4, 2010

আরেকটি আত্মঘাতি ধর্মঘট-চাই নতুন ধরনের বাম নেতৃত্ব

ধর্মঘটকে বামেরা জন আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ বলে মনে করে।

এক কালে ছিল হয়ত। কিন্ত সমাজ রাষ্ট্র, উৎপাদন সব কিছুই বিবর্তনশীল। গত বিশ বছরে ধর্মঘট করে কিছু দৈনিক রুজির শ্রমিকদের দুবেলার ভাত মারা আর দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি ছারা কি হয়েছে?

কারখানা বা ব্যাবসাতে শ্রমিকরা নিজেদের দাবী নিয়ে ধর্মঘট করতেই পারে। বর্তমান যুগে তাতেও লাভ কিছু হবে বলে মনে করি না। কারন শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের ভিত্তি যদি গেম তত্ত্বের উইন-উইন সিচুয়েশনের ওপর প্রতিষ্ঠিত না হয়-যেই কা্রখানা প্রতিষ্ঠা করা শ্রমিক বা মালিক কারুর জন্যেই ভাল না। কারন সেই প্রতিষ্ঠানের শুরুতেই থাকবে শ্রমিক শোষন-এবং তারপর যথারীতি লক আউট বা গন্ডোগল। শ্রমিক এবং মালিকের সম্পর্ক মুক্ত চুক্তির ( এট উইল) ওপর প্রতিষ্ঠিত না হলে-যার ভিত্তি হচ্ছে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের উইন উইন সিচুয়েশন সেই কারখানা চলতেই পারে না। বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

রাষ্ট্রের ধর্মঘটে শাসক শ্রেনীকে বিপাকে ফেলা যায় কি? সিপিএম, বিজেপি বা কংগ্রেসে যেই আসুক- এই গণতন্ত্রে আসল ক্ষমতা ত ব্যাবসায়িদের হাতে। এই মুল্যবৃদ্ধির কারন অবশ্যই দীর্ঘ মেয়াদি কোন বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা না থাকা। উৎপাদন থেকে বন্টন-ভারতে সর্বত্রই অবৈজ্ঞানক চিন্তাধারা এবং দুর্নীতি। কৃষির উৎপাদন কমছে-কারন জমি কমছে, চাষের খরচ বাড়ছে সাংঘাতিক হারে। অজ়ৈব সবুজ বিপ্লবে মানুষকে দুদিন খাওয়ানো অনেকটা ধার করে খাওয়ানোর মত -বেশী দিন চলত না। চলছেও না এখন। জলের দাম মেটাতে চাষির আত্নহত্যা করার মতন অবস্থা। আরে তেলের দাম? সেটাত আন্তর্জাতিক মার্কেটের হেজ ফান্ডের মালিকদের হাতে। তাদের সাথে ওপেক দেশগুলির সাপ-মই খেলা। এর থেকে উদ্ধার পেতে গেলে বিকল্প শক্তি এবং বিকল্প শক্তি বাহনের দ্রুত রূপায়ন দরকার-যা ওবামা আমেরিকাতে করার চেষ্টা করছেন। ধর্মঘট করে অসংখ্য দিন আনে দিন খাই লোকের পেট মেরে কি বাম আন্দোলন হবে?

রাষ্ট্র এবং গনতন্ত্রে মানুষের ওপর শোষন এবং বঞ্চনা অব্যাহত। কিন্ত এটা থেকে উদ্ধারের পথ কি ধর্মঘট? না লোককে শিক্ষিত করা, তাদেরকে গণতান্ত্রিক অধিকার দেওয়া অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার মাধ্যমে, সমস্যাগুলির বৈজ্ঞানিক সমাধান করা, গণতন্ত্রের সংস্কার করা-এগুলি আসল কাজ?

ভারতের বামদলগুলি এসব কাজ না করে-কখনো তৃতীয় শক্তির সার্কাস-কখনো মাদ্রাসা স্থাপন -ধর্মঘট এইসব কাজ করছে। কারন বাম নেতৃত্বে বা বাম আন্দোলনে মেধাবী ছাত্ররা বা বুদ্ধিমান লোকেরা বহুদিন থেকে আসছে না। যেখানে স্বাধীন চিন্তার চেয়ে গ্যাংবাজিকে বেশী গুরুত্ব দেয়, সেখানে উন্নত চিন্তার লোকেরা কেনই বা আসবে? অবশ্য অনেকেই হয়ত বলবেন, কমিনিউস্ট পার্টিগুলিতে পি এই চ ডি এবং একাডেমিশিয়ানের আধিক্য। তাতে কিছু যায় আসে না। আমার দেখা আই আই টির ফ্যাকাল্টিতে ৩-১০% বেশী বুদ্ধিমান লোক দেখি নি-যাদের ব্যাবসা করে খেতে হয়, তাদের গড় বুদ্ধি ( এবং উপলদ্ধি) আমাদের দেশের একাডেমিশিয়ানদের চেয়ে বেশী।

এদের লেনিন স্টালিন ভক্তি দেখলে, এদের সাথে দক্ষিন পন্থী শক্তির আদৌকোন পার্থক্য দেখি না। কারন ইতিহাস এটাই আমাদের শিখিয়েছে, যারা একসময় অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে নায়ক হয়েছেন, তারাই ক্ষমতালাভের পরে সব থেকে বেশী অত্যচার করেছেন। আর পৃথিবীর সব ভয়ংকর অত্যাচার গুলো আদর্শের নামেই হয়। যারা এই সামান্য সত্যটাও মানতে চাই না-তারা ইতিহাস থেকেই বা শিক্ষা নেবে কি করে?

সব দিক থেকেই আস্তে আস্তে বামেরা জন বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। হয়ত দরকার ছিল। সিপিএম সম্পূর্ন ধ্বংশ না হলে, আগামী দিনের উন্নত বাম নেতৃত্ব সম্ভব না। রাজনৈতিক পার্টি প্রয়োজনের জন্যেই সৃষ্টি হয়। একটি আধুনিক বাম পার্টির অবশ্যই দরকার আছে-এবং সিপিএম ধ্বংশ না হলে, তার জন্ম হয়ত হবে না। সেই জন্যেই হয়ত আত্মঘাতি বামআন্দোলন চলছে এবং জন বিচ্ছিন্নও হচ্ছে। সবটাই কালের নিখুঁত লিখন।