Tuesday, April 27, 2010

বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমার ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা-এটা কি ঠিক হল



বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রক বাংলাদেশের সিনেমাহল গুলিকে বাঁচাতে ভারতীয় সিনেমার আমদানি বৈধ করেছিলেন। এতে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলি বাঁচত। তার সাথে সাথে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্প ভারতের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছিল। কিন্ত সেসব আশা অঙ্কুরেই বিলুপ্তি। ঢাকার চলচ্চিত্রশিল্পী সংগঠনগুলির যৌথ আন্দোলনে শেখ হাসিনা সেই নিশেধাজ্ঞা আবার ফিরিয়ে এনেছেন। আমি মনে করি বাংলাদেশের শিল্পীরা আগেপিছু না ভেবে, ক্ষণস্থায়ী লাভের কথা ভেবে নিজেদের কবর নিজেরা খুঁড়লেন।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্ভভৌম রাষ্ট্র-তারা তাদের জনগনের কথা শুনে আইন প্রণয়ন করবেন-সেটাই কাম্য। তাছারা এক্ষেত্রে সরকার নিশেধাজ্ঞা তুলেই দিয়েছিলেন। শিল্পী সংগঠনগুলির চাপে শেখ হাসিনা পিছু হটলেন। সুতরাং আমার অভিযোগটা বাংলাদেশ সরকারের দিকে নয়। একটা গণতান্ত্রিক সরকারকে জনগণের কথা শুনতেই হয়। শেখ হাসিনা সেই অর্থে ঠিকই করেছেন-জনমতকে মর্যদা দিয়েছেন। কিন্ত আমার এই লেখার উদ্দেশ্য সেই শিল্পীদের উদ্দেশ্যে যারা না বুঝে নিজেদের ভবিষ্যতকে এবং তার সাথে সাথে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যতকে বেশ চাপে ফেললেন।

বিবর্তনই জগতের নিয়ম। আমাদের সমাজ, শিল্প, প্রযুক্তি-মার্কেট-লোকজনের চাহিদা সব কিছু পরিবর্তনশীল। সেই পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন না হলে মৃত্যু অনিবার্য্য। দুবছর আগে বাংলাদেশের বিখ্যাত পরিচালক তনভীর মোকাম্মেলের সাথে ইন্টারভিউ সুত্রে জেনেছিলাম বাংলাদেশের ৯০০ টা সিনেমা হলের মধ্যে ৬০০ টাই বন্ধ। কোন ভদ্রলোকে সিনেমা দেখে না। গোটা ইন্ডাস্ট্রি চলে কালোটাকায়-মাফিয়ারাজ। ভালশিল্পীরা টিভি নাটক আর সিরিয়াল করে পেট চালাচ্ছে। ভাল সিনেমা করার পরিবেশটাই নেই।

অথচ ভারতীয় সিনেমাকে আটকে কি সেটা ভাল হবে? না বাংলাদেশের সিনেমার বাজারকে ভারতে প্রসারিত করলে বাংলাদেশী সিনেমা বেঁচে যেত ? ভারতে উন্নত বাংলা সিনেমা অবাঙালীরাও দেখেন। সত্যজিত রায়ের প্রায় প্রতিটি সিনেমা আমি দেখেছি আমার জানা প্রতিটি ভারতীয় দেখেছে। শুধু তাই না। এখন বলিউডে হুর হুর করে হলিউডের টাকা ঢুকছে। বলিউডের পরিচালকরা টাকাতে না পেরে আঞ্চলিক সিনেমাতে টাকা ঢালতে আসছেন এবং এই ব্যাপারে বাংলা সিনেমা তাদের প্রথম পছন্দ। এর কারন অনেক। প্রথম কারন অবশ্যই এই যে বলিউডে প্রচুর বিখ্যাত বাঙালী নায়ক নায়িকা আছেন এবং বাংলাতে প্রচুর ভাল পরিচালক আছে। ফলে বাংলা সিনেমা ভারতীয় মার্কেটে চলবে ভাল। আছে সমৃদ্ধ সাহিত্য, সংস্কৃতি। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র ত শুধু বাঙালীর নন। ভারতে সব থেকে বেশী হিন্দি সিরিয়াল হয়েছে শরৎ সাহিত্য দিয়ে। অন্য কেও ধারে কাছেও নেই। এই দক্ষিন এশিয়াতে হিন্দির পরেই বাংলাভাষী বেশী আছে। এসব কারনেই বাংলা সিনেমা শিল্পে আস্তে আস্তে টাকা আসা শুরু হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াতেই বাংলাদেশের সিনেমাও যুক্ত হতে পারত। হলিউড আজ বলিউডে এসে সিনেমা বানাচ্ছে কারন, ভারত হলিউডের সিনেমা এবং শিল্পকে স্বাগত করেছে। লোকে হলিউড বলিউড দুটো সিনেমাই দেখে। কারন টেস্ট আলাদা। মাংস খেলে মাছ খেতে হবে না এমন নিয়ম আছে না কি? আর বাংলা সিনেমার টেস্ট এদের থেকেও আলাদা।

সুতরাং ভারতের থেকে বিযুক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের কি লাভ হবে? খোদ বাংলা সিনেমাকেই, আমেরিকার ডেটাবাজার মিডিয়া ভেঞ্চার ( ডেটাবাজার গ্রুপের মিডিয়া) বিশ্বের বাজারে বিনপন করছে। নেটফ্লিক্স, ব্লকবাস্টার, আই টিউনস সহ সব আমেরিকান রিটেল চ্যানেলেই বাংলা সিনেমা এই বছর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। ঠিক ঠাক এগোলে এই আন্তর্জাতিক বাজার বিশাল। মনে রাখবেন ঋত্বিক ঘটকের মেঘেঢাকা তারা এবং সত্যজিতের পথের পাঁচালী পৃথিবীর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০০ টি সিনেমার মধ্যে স্থান পেয়েছে এবং আজও এর অনেক ডিভিডি বিক্রি হয় গোটা বিশ্বেই। আর বলিউডের অনেক সিনেমাই আজকাল শুধু আন্তর্জাতিক মার্কেটের কথা ভেবেই তৈরী হচ্ছে-যেমন ফক্সের মাই নেম ইজ খান।
শুধু তাই না। আমার সাথে জার্মান এবং স্প্যানিশ প্রযোজকদের ও যোগাযোগ আছে। তারাও আজকাল গোটা বিশ্বের কথাই ভাবছেন। কারন জার্মান বা ইটালিয়ানরা শুধু হলিউডের সিনেমাই দেখছেন। এর সমাধান হলিউডকে জার্মানি বা ইটালিতে আটকানো না। এর বিকল্প হিসাবে জার্মান বা ইটালিয়ান পরিচালকরা গোটা বিশ্বের মার্কেটের কথা ভেবে স্ক্রিপ্ট লিখছেন। চে গুয়েভেরার মোটর সাইকেল ডাইরী স্প্যানিশের থেকে দশগুন টাকা তুলেছে ইংরেজিতে। লাভ ইন দি টাইম অব কলেরা-নোবেল জয়ী সাহিত্যিক মার্কোয়েজের এই স্প্যানিশ উপন্যাসটির ইংরেজি সিনেমাই সব থেকে বেশী লাভ করেছে!

গোটা সিনেমা শিল্পে যখন বিশ্বায়নের পরিবেশ, তখন সেই বিশ্বায়নের সুযোগ নিয়ে নিজেদের আরো উন্নত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। এতে বাণিজ্যিক লাভ ও বেশী। তখন ঘরের দরজা বন্ধ করে সিনেমা শিল্পকে টিকিয়ে রাখা যাবে কি? সব থেকে বড় কথা সব ভারতীয় সিনেমার পাইরেটেড ডিভিডিই বাংলাদেশে ঢালাও বিক্রি হয়।

অথচ বাংলাদেশে প্রতিভার কোন অভাব নেই। হুমায়ুন আহমেদের গল্পের ওপর করা নাটকগুলি বেশ আন্তর্জাতিক মানের। গোটা উপমহাদেশে গড়পরতাই বাংলাদেশীরাই সব থেকে বেশী সংস্কৃতি প্রবণ এবং তারা সাংস্কৃতিক পরিবেশেই বড় হন। অথচ বাংলাদেশী প্রতিভার বিশ্বায়ন নিয়ে না ভেবে, কিভাবে ভারতীয় ছবি আটকানো যায় সেটা নিয়ে ভাবলে কার লাভ? হলিউডের ছবি মেক্সিকো আটকায় কি? মোটেও না। বরং মেক্সিকোর অনেক পরিচালকই হলিউডে সিনেমা বানাতে আসেন-স্প্যানিশ ও ইংরেজিতে একই সাথে সিনেমা হয়। যেমন এখন অনেক সিনেমাই বাংলা এবং হিন্দিতে হচ্ছে। বড় মার্কেট ছাড়া বাজেট আসবে কি করে? তনভীর মোকাম্মেলের লালন দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি-সিনেমাটা গোটা বিশ্বে বিরাট মার্কেট পেত। অথচ পশ্চিম বঙ্গের বাঙালীরাই জানেন না, লালন বলে একটি অসাধারন সিনেমার অস্তিত্ব আছে! মাটির ময়না সিনেমাটা বেশ কিছু আমেরিকান দেখে থাকলেও দেখতে পারেন-কিন্ত কোন ভারতীয় বাঙালী দেখেছে বলে আজ পর্যন্ত শুনি নি। এটা ত কাম্য না। মাটির ময়নার মতন দুর্দান্ত সিনেমার সব থেকে বড় বাজারত ভারতেই ছিল। যেকোন বলিউড হাউস ওই সিনেমাটা নিতে চাইত।

বাংলাদেশ এবং ভারতীয় বাঙালীকে একত্রিত করে বাংলা সিনেমার মার্কেট না বানালে, বাংলাদেশী পরিচালকেদের পেছনে বেশী টাকা কে লগ্নী দেবে? আর টাকা ছাড়া আজকের দিনে ভাল সিনেমা বানানো কি সম্ভব?

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জন্যে বাংলাদেশের শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে এটা অমূলক ধারনা। এটা কেন তারা ভাবছেন না, বাংলাদেশে অনেক বেশী বাঙালী থাকে। এবং সেই মার্কেট ধরতে কলকাতার সিনেমা শিল্পে অনেক বাংলাদেশী নায়ক নায়িকা নিতে হবে। যা কিছুদিন হল যৌথ পরিচালনার সিনেমাগুলোতে চালু ছিল।

দেশ ভাগে বাংলা সংস্কৃতির মার্কেট ভাগ হওয়ায় সমগ্র বাংলা জাতির সর্বনাশ হয়েছে। এবং এই ভাগটা রাখলে ক্ষতি বাড়বে । কমবে না। বাংলাদেশের শিল্পীরা নিজেদের এবং বাংলা সিনেমা শিল্পের বিশাল ক্ষতি করলেন। আমি অনুরোধ করব-আপনারা আরো বিতর্কের মধ্যে দিয়ে একটা সঠিক সমাধান খুঁজুন।

Monday, April 19, 2010

বাম ভাবধারার জন্যেই পশ্চিম বঙ্গ রসাতলে যাচ্ছে

যে মানসিকতার জন্যে বাংলা উচ্ছন্নে গেছে, তার নাম, "আমার চাই"-চাই কিন্ত কি দিতে হবে বিনিময়ে সেটা নিয়ে কারুর হুঁস নেই।

এটি বামেদের আবিস্কার। আমি শোষিত, আমি নির্যাতিত-তাই আমি চাই। কি চাই সেটাও আমি জানি না-দু চারটে বাস পোড়ানো, অর্কুটে মহিলাদের প্রকাশ্যে ধর্ষনের ইচ্ছা করার বামবিপ্লব-ইত্যাদি সবই অধিকার। জন্মপ্রদত্ত। কারন বামবাঙালী মনে করে জন্ম হইতে সে পুজিপতি এবং বুর্জোয়া ভূতেদের দ্বারা বঞ্চিত হইয়াছে। লেনিনবাদ নামক যাবতীয় আধভৌতিক তত্ত্ব, যা ভারতীয় পুরাণগাথার সমতুল্য-তাই দিয়ে সমাজের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা - সমস্যাটার ১% না বুঝেই- আমাকে সত্যিই অবাক করে।

পৃথিবীর নানান দেশের সংস্কৃতি এবং নানান মানুষের সংস্পর্ষে আসার পরে, পরিস্কার করেই বলি-করণিক, শিল্পী, কবি, দাবা, তাস এবং খাদ্য রসনা- এই কটি ক্ষেত্রে বাঙালী অসাধারন। রবীন্দ্রসঙ্গীত ও আন্তর্জাতিক ভাবেই সেরা।

কিন্ত রাজনীতি, দর্শন এবং বুদ্ধিবৃত্তির চর্চায় বাঙালী ব্যার্থ।

যে ব্যাপারটা আমাকে অবাক করে-সেটা হচ্ছে এই-পৃথিবীর জ্ঞান ভান্ডার কোথায় এগিয়ে গেছে, আর এই বাম বাঙালীরা এখনো সব এঙ্গেলেস এবং লেনিনের রূপকথা চর্চা করতে ভালোবাসেন। সেই নিয়ে আগে অনেক লিখেওছি-সমাজবিজ্ঞানে কত শত আবিষ্কার হয়ে চলেছে-পৃথিবী কত দ্রুত বদলাচ্ছে-এরা এসব কিছু জানেও না -বোঝেও না। পশ্চিম বঙ্গে যারা বাম রাজনীতির চর্চা করে তাদের মতন মাথামোটা এবং আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে অজ্ঞ পৃথিবীতে অতুলনীয়। প্রভাত পট্টনায়েকের মতন দর্শন শাস্ত্রের একজন বিরাট গোল যাদের শীর্ষ তাত্ত্বিক-তাদের নিয়ে হাসাহাসি করা ছাড়া আমার উপায় নেই। সিপিআই এম এল সাইট তাও মন্দের ভাল- ওদের একটা লাইন আছে, যা আনকম্প্রোমাইজিং। ওদের সমাধানে ভুল আছে, অবজারভেশনে ভুল নেই। ভারতীয় গণতন্ত্রে ওই সমস্যাগুলো নিয়ে কোন রাজনৈতিক দলই মাথা ঘামায় না। নক্সালপন্থী দলগুলির প্রতি আমার শ্রদ্ধা এই জন্যেই আছে যে বাকীদলগুলি যেখানে দালালরা চালাচ্ছে-এবং যার জন্যে জনগণের সমস্যাটা উঠে আসছে না-সেখানে ওরা ফোকাস করতে পেরেছে। ওদের সমাধান ভুলভাল-কিন্ত এই সমস্যাগুলো কেন গণতন্ত্রে উঠে আসবে না?

কেন প্রতিটা পার্টি ব্যাবসায়ীদের দালালে পরিণত হবে?

রাজনীতিতে সবার প্রভাব থাকবে-সেটাই সার্থক নীতি। ছোট বড় সব ব্যাবসা, শিক্ষক, চাষী, শ্রমিক সবার স্বার্থ দেখার জন্যেই গণতন্ত্র।

যে গণতন্ত্র আমরা পেলাম তা স্বার্থ দেখে সরকারী চাকুরে আর বড় ব্যাবসায়ীদের। তাদেরই সব 'সে'। বাকী ছোট ব্যাবসায়ী চাষি লেবার এই গণতন্ত্রে কেও না!!! চাকুরেদের 'সে' আছে কারন, তারা সব পার্টির শীর্ষ পদগুলো দখল করে বসে আছে। আর ব্যাবসায়ী দের আছে কারন তারাই টাকা দিয়ে দল চালাচ্ছে। বাকীদের জন্যে এই গণতন্ত্র কিছু রাখে নি।

এমন নয় যে এটা কেও বোঝে না। রাহুল গান্ধী অনেক বার এই কথা বলেছেন। নক্সালরা বাদ দিয়ে বাকী পার্টিগুলো এই নিয়ে ভাবার সময় ও পায় না। তারা মস্তান আর টাকা নামিয়ে ভোট গুণতেই ব্যাস্ত। কিন্ত এইভাবে কতদিন একটা বৃহত্তর অংশকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্র চলবে?

কিন্ত এর জন্যে বাম বা ডান কোন পন্থী আন্দোলনেরই দরকার নেই। দরকার ছিল গণতন্ত্রের খোল বদলানো। সেটা নিয়ে কারুর কোন ভাবনা নেই।

Wednesday, April 14, 2010

শুভ নববর্ষ - নতুন দিনের সন্ধানে : বাংলা সিনেমা শিল্পকে সাহায্য করুন


প্রিয় বাঙালী বন্ধুরা

আপনাদের সবাইকে ১৪১৭ সালে স্বাগত জানাই।

এই বছর থেকেই আমরা প্রথম প্রবাসী বাংলা সংবাদঃ www.vnnbangla.com চালু করেছি। আপনাদের সংগঠনের সব সংবাদ এখানে আপনারা নিজেরাই প্রকাশ করতে পারবেন। পিডিএফ, টেক্সট, ইউটিউব-সব ফর্মাটেই এখানে সংবাদ প্রকাশিত হয়। শুধু রেজিস্টার করে আপলোড নিউজ বাটন ক্লিক করলেই একটি ফর্ম দেখতে পাবেন। সেটির মধ্যে আপনাদের সংবাদটি কাট পেস্ট করলেই প্রকাশ করতে পারবেন। যদি আরো নির্দেশের দরকার হয়, এখানে দেখে নিতে পারেন।

এছাড়াও আপনাদের সংগঠনে যারা লেখালেখির সাথে জড়িত, তারা তাদের লেখা এখানে প্রকাশ করলে আমরা সবাই উপকৃত হই। ফেসবুকে আমাদের গ্রুপে ৩০০০ পাঠক আছে যাদের কাছে তারা তাদের লেখাকে অনায়াসে ভি এন এন বাংলার পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে।

আমরা বাংলা ভাষায় প্রথম সোশাল মিডিয়া-জনগণের কথা জনগণ বলবে-এই ভাবেই আমাদের মিডিয়া চলে। আপনারা আপনাদের সংগঠনের যাবতীয় সংবাদ বা নোটিশ এখানের প্রবাসী বাঙালী পেজ়ে ছাপালে, কোথায় কবে বাংলা অনুষ্ঠান হচ্ছে সবাই জানতে পারবে। ইংরেজিতে সংবাদ ছাপালেও কোন অসুবিধা নেই।

বাংলা সিনেমা শিল্পকে প্রবাসী বাঙালীদের মধ্যে জনপ্রিয় করার জন্যে আমাদের বিশেষ প্রচেষ্টা রয়েছে। এই ব্যাপারে ডেটাবাজার মিডিয়া ভেঞ্চার ( যা আরেক বাঙালী অনি শীলের তৈরী ডেটাবাজার গ্রুপের মিডিয়া ভেঞ্চার) সদ্যমুক্তিপ্রাপ্ত নতুন বাংলা সিনেমাকে প্রবাসী বাঙালীদের কাছে পৌছে দেওয়ার যে ব্যাবস্থা করেছে, তাতে আমরা সহযোগিতা করছি। নানান কারনে প্রবাসী বাঙালী বাংলা সিনেমা দেখতেই ভুলে গেছে। আসুন আমরা আবার সবাই মিলে চেষ্টা করে দেখি বাংলা সিনেমার হাল ফেরানো যায় কি না। ডেটাবাজারের দৌলতে বাংলা সিনেমা এখন আই টিউনেও দেখতে পাবেন। বাঙ্গালী হিসাবে সেই উদ্যোগে
আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি। বাংলা ফিল্ম রিভিউ বলে আমাদের আরেকটি গ্রুপ আছে-যেখানে সদ্যমুক্তি প্রাপ্ত বাংলা সিনেমার যাবতীয় খবর এবং রিভিউ আপনারা পাবেন।

এই বিশ্বায়নের যুগে বাঙলা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন কাজ। আমরা চেষ্টা করছি। আপনারাও সহযোগিতা করুন।

এবং সবথেকে ভাল সহযোগিতা হচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে বা ভিন এন এন বাংলাতে সংবাদ দিন।

নববর্ষের শুভেচ্ছা সহঃ
ভিন এন এন বাংলা টিমঃ
www.vnnbangla.com
( self publishing system for Global Bengali )

Saturday, April 3, 2010

বাম না ডান? আপনি কোন দিকে?

All ideologies are idiotic, whether religious or political, for it is conceptual thinking, the conceptual word, which has so unfortunately divided man.
Jiddu Krishnamurti

বাংলা সংস্কৃতি এবং চিন্তার তিনটি প্রধান ধারা বর্তমানে খুব সুষ্পষ্ট। ধর্মীয় দক্ষিনপন্থী, বামপন্থী এবং সহজিয়া মানবতাবাদ। বিভাজন রেখা যে সব সময় খুব সুস্পষ্ট না-বরং তা ধুম্রজালিপ্ত।

গত তিন দশকে দুই বাংলাতেই শক্তিশালী ধর্মীয় রক্ষনশীল রাজনৈতিক সমর্থক শ্রেণীর উদ্ভব বাঙালি সমাজের করুন বাস্তবতা। পশ্চিম বাংলাতে তারা ক্ষমতা থেকে অনেক দূরে। কিন্তু সংখ্যার দিক দিয়ে তারা মোটেও নগণ্য না। আর বাংলাদেশেত তারা ক্ষমতায় ছিল দীর্ঘদিন। বাংলার বামপন্থী শক্তিগুলির সর্বান্তিক ব্যার্থতা দক্ষিনপন্থী শক্তির উথানের জন্যে দায়ী। অবশ্য এই ব্যার্থতার পেছনে বাম নেতৃত্বের দুষনকে গালাগাল দেওয়াটাও আমাদের অভ্যেস। কিন্তু ভুলটা আমাদের চিন্তাধারাতেই।

এর বাইরে বাঙালীর বিশাল অংশ আজকেও সহজিয়া। যার প্রতিনিধিত্ব করেছেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং লালন ফকির। এটাই বাংলার মূলশ্রোত। মার্ক্স, মহম্মদ এবং মনু যে বাঙ্গালীর একটা বড় অংশেরই বদ হজম হয়েছে এবং তা বাঙালীর সংস্কৃতির সাথে সম্পূর্ন বেমানান-তার জন্যে পাশের বাড়ির দিকে তাকালেই হবে। খুব বেশী গবেষনা করার দরকার নেই।

এবার মূল প্রশ্নে ফিরে আসি। এই ভাবে আমরা যে নিজেদের মধ্যে বাম ডান বিভাজন টানি-এটা কি ঠিক?

প্রতিটি ধর্মের উত্থানই কিন্ত তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক বামপন্থী শক্তি হিসাবে। ইহুদি ধর্মের উৎপত্তি যেমন মিশরের দাশ বিদ্রোহ থেকে, ঠিক তেমনই ইসলামের উত্থান তৎকালীন আরবের গরীবগুর্বোদের মক্কার ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে শ্রেনী বিদ্রোহ হিসাবে। ভারতের বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের উত্থান ও নিঃসন্দেহে ইতিহাসের সাপেক্ষে অবশ্যই বামপন্থী চিন্তা। প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিবাদি আন্দোলনের সাথেই সাম্য এবং নতুন চিন্তার জোয়ার এসেছে। তাতে অবশ্য মানব মুক্তি আসে নি। বরং ইসলাম বা খ্রীষ্ঠান ধর্মের ঘারে চেপেই সব থেকে বেশী মানব শোষন অব্যাহত। ভারতেও হিন্দুত্বের ঘারে চেপে ঠিকই একই ব্যাপারটাই চলছে। মার্ক্সবাদ তথা কমিনিউমের ইতিহাসও আলাদা কিছু না। মানব মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানবতার সব থেকে বড় দলন কমিনিউস্টরাই করেছেন। প্রতিবাদি আন্দোলনগুলি কেন মানবমুক্তির জন্যে ব্যার্থ হল সেই নিয়ে আগেই বিস্তারিত লিখেছি।

এমন নয় যে মার্ক্সবাদিরা ওপরে লাইনগুলো জানেন না। কিন্ত তাদের মূল সমস্যা হচ্ছে, তারাও দেখতে পাচ্ছেন না, কেন এক সময়ের প্রতিবাদি আন্দোনগুলি বর্তমানে প্রতিক্রীয়াশীল শক্তিতে রূপান্তরিত। এটা ঠিক করে দেখতে পেলেই, উনারা নিজেদের ভুলটা সবার আগে বুঝতেন। আর সেটা হল এই-জ্ঞান, বিজ্ঞান উন্নতির সাথে সাথে শোষন এবং শোষক শ্রেনীর বিবর্তন হয়।
উৎপাদন ব্যাবস্থার পরিবর্তনই সমাজ এবং সামাজিক শক্তিগুলির পুনঃবিন্যাস করে। ফলে প্রতিবাদি আন্দোলনের ধারাটাও বদলে যেতে ব্যার্থ। এসব কথা মার্ক্সসাহেব অনেক দিন আগে থেকেই বলে গেছেন-কিন্ত তথাকথিত বাঙালী মার্ক্সবাদিরা মাছভাত আর মার্ক্সবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন বলে আমার কোন দিনই মনে হয় নি। ফলে বাঙালী বামপন্থী আন্দোলন এখন কোমাতে উঠে গেছে।

বাঙালী বামপন্থীদের চিন্তাশক্তির দৈন্যতা খুঁজতে জিডু কৃষ্ণমুর্তির কিছু কিছু কথা খুবই প্রাণিধানযোগ্য। এগুলো যারা দক্ষিন পন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তারা যদিও বা কিছুটা বোঝেন, বামপন্থীরা এই দিক গুলি নিয়ে একবারেই অবুঝ।

  1. যার চিন্তায় স্ববিরোধিতা নেই-সে আসলে কোন চিন্তা করতেই জানে না। আমাদের মনের দ্বন্দগুলিই, মানসিক বিবর্তনের একমাত্র কারন। ইসলাম, হিন্দুত্ববাদি, কমিনিউস্টদের অধিকাংশই নিজেদের মত এবং পথকে এতটাই সঠিক বলে মনে করে-নিজেদের মনের মধ্যে যে দ্বন্দগুলির উৎপত্তি হয়-সেগুলিকে তারা গুরুত্ব দিতে নারাজ। অথচ, নিজেদের মনের দ্বন্দগুলি নিয়ে তারা যদি যথেষ্ঠ অনুসন্ধান করত-তাহলেই তারা নিজেদের স্বআরোপিত বন্দিত্ব দশা থেকে মুক্তি পেত।
  2. দ্বিতীয় যে সমস্যাটা আমি আলোচনা করতে চাই-সেটা হচ্ছে সামাজিক সমস্যা বোঝার আগেই, তাহা বাইবেল, কোরান বা দাশ ক্যাপিটালে আছে, এই জাতীয় ভ্রান্ত চিন্তাধারা। ইসলামিস্ট, হিন্দুত্ববাদি এবং কমিনিউস্টদের সব থেকে বড় মিলন দৃশ্য ইহাই। আমাদের সবারই এটাই করুন অভিজ্ঞতা। যেকোন সমস্যার ব্যাপারে এদের সাথে আলোচনা করতে গেলে, দেখবন এরা ১০০% কনভিন্সড-তাদের রচিত ইসলামিক, হিন্দু বা কমিনিউস্ট স্বর্গে এই ধরনের সমস্যা থাকবে না! কেন এমন হয়? সমস্যাটাকে গভীরে বোঝার আগেই, নিজেদের রচিত মূর্খের এরা স্বর্গে সমাধান খোঁজে। আমি একটা সাম্প্রতিক উদাহরন টানি। ভারতে খাদ্যের দামের উর্দ্ধগতি এবং ঘাটতি ভীশন রকমের একটি বাস্তব সমস্যা। এটা নিয়ে বামেরা জেল ভরার আন্দোলন থেকে শুরু করে ইত্যাদি নাচুনি কুদুনি সব সব ধরনের সস্তার রাজনৈতিক পথ নাটিকা করে বেড়ালেন। অথচ এই ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্যে যে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি শুরু করার দরকার ছিল-সেটি নিয়ে কোন বামনেতৃত্বই ভাবলেন না। সামান্য হলেও কংগ্রেসের প্রণব বাবু সমস্যাটির রাজনৈতিক সমাধান না খুঁজে বিশেষজ্ঞ কমিটি বসিয়ে খাল বিল সংস্কার থেকে কৃষিগবেষনাতে টাকা ঢালার সিদ্ধান্ত নেন। সমাধানের জন্যে এই তীব্র আবেগ-আসলেই সমস্যাকে তীব্রতর করে-সমাধানের পথে নিয়ে যায় না। যেকোন সমস্যাকে গভীরে গিয়ে বিশ্লেষন করাই সমাধানের প্রথম এবং একমাত্র পথ।
  3. আদর্শবাদ দিয়ে কোন সত্যেই পৌছানো যায় না। হিন্দুত্ব, ইসলাম, কমিনিউজম-মানুষকে কোন সত্যের পথে দেখাতে পারে না-কারন ওই ধরনের পরম সত্যের আদৌ কোন অস্তিত্ব নেই। বাস্তব এটাই প্রতিটা মানুষের জীবনে অনেক প্রশ্নেরই কোন উত্তর থাকবে না। এই অপূর্ণতা নিয়েই আমাদের জন্ম এবং মৃত্যু। অথচ যেকোন হিন্দুত্ববাদি, ইসলামিস্ট বা কমিনিউস্টদের মধ্যে যে মিলন দৃশ্যটি আপনি সবার আগে পাবেন-সেটি হচ্ছে এদের অগাধ আত্ম বিশ্বাস-এরা জীবনের প্রশ্নগুলির উত্তর পেয়ে গেছেন! এগুলো শ্রেফ অজ্ঞানতা এবং অগভীর চিন্তার মূর্খামি।
  4. ইসলামিস্ট, কমিনিউস্ট এবং হিন্দুত্ববাদিদের মধ্যে আরো একটি সাদৃশ্য -ঐতিহ্য নিয়ে এদের সহমত। বামেরা বাম ঐতিহ্যে, ডানেরা ডান ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। কেন? এর উত্তর সমাজ বিজ্ঞানে পাওয়া যায়। সবাই ক্লাব মেম্বারশিপ ভালো বাসে। কোন একটি প্রথাগত ধারায় বিশ্বাস করলে, সমর্থক এবং সহযাত্রী জোটে অনেক-যা মানুষের সামাজিক মুল্যবৃদ্ধির সহায়ক। টাকা পয়সার মতন এটাও একটি লোভ । রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের জন্যে আমরা সবাই "সমাজে নিজেদের কে ফিট করানোর চেষ্টা করি"। নিজেকে হিন্দু বলে জাহির করে যেমন আপনি একটা ক্লাবে ফিট করবেন, ঠিক তেমনই "সিপিমের সমর্থক" বা "আওয়ামী লীগের সমর্থক' বললে আরেকটা ক্লাব মেম্বারশিপ আপনি পাবেন, যা নিজেদের সামাজিক মুল্যবৃদ্ধির জন্যে লোভনীয়। ট্রাডিশনের সাথে নিজেকে 'ফিট' করানোর এই চেষ্টা আসলে একধরনের মানসিক নিরাপত্তার জন্ম দেয়। কিন্ত এর একটা মারাত্মক কুঃপ্রভাব আছে। মনের বিবর্তনের জন্যে ক্লাব মেম্বারশিপের মাধ্যমে মানসিক নিরাপত্তার সন্ধান-আসলেই মানসিক উন্নতির অন্তঃরায়।
আরো কিছু লেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্ত আশা করব, আপনার এখন বুঝতে পেরেছেন, হিন্দু, ইসলামিক বা কমিনিউস্টরা নিজেদের যতই আলাদা ভাবুক না কেন, তাদের মানসিক গঠন আসলেই এক প্রকৃতির। এখন প্রশ্ন তুলতেই পারেন, কমিনিউস্টরা বিজ্ঞানে বিশ্বাসী-তাদের সাথে কেন রূপকথায় বিশ্বাসী হিন্দুত্ববাদি বা ইসলামিস্টদের তুলনা টানছি?

এক্ষেত্রেও একটু ভেবে দেখলে দেখবেন, কমিনিউস্টদের চিন্তাধারার পেছনেও মর্গানের নৃতত্ত্বের রূপকথা বা ফ্রেডরিক এঞ্জেলেসের সামাজিক বিবর্তনের আষাঢ়ে গল্পই কাজ করছে, যা শতবর্ষ আগেই এক্যাডেমিক সার্কলে পরিতক্ত্য। সুতরাং আসলে, তারাও একধরনের রূপকথাতেই বিশ্বাস করছেন।

আসল সত্য হল, হিন্দুত্ববাদি বা ইসলামিস্ট বা কমিনিউস্টরা সবাই এক গোয়ালের গরু-শুধু এদের সময়কাল আলাদা। কেও ব্রজের বৃন্দাবনে বাঁশীর সুরে সামাজিক কংস বধের স্বপ্ন দেখে-কেওবা সপ্তম শতকের আরবে উটের দুধ খেতে খেতে আদর্শ ইসলামিক রাষ্ট্রের স্বপ্নে বিভোর-আর কমিনিউস্টরা বলশেভিক বিপ্লবের ন্যায় এক গণতন্ত্র হত্যাকারী প্রতিবিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার সোপান বলে বিশ্বাস করে বসে আছে।


এদের মানসিক রোগটা একই গোত্রের। সেটা হল আধুনিক বিজ্ঞান এবং দর্শনশাস্ত্রে সম্পূর্ন অজ্ঞানতা।

The constant assertion of belief is an indication of fear.
Jiddu Krishnamurti

Wednesday, March 31, 2010

মহেশ্বতা দেবীকে লেখা খোলা চিঠি

আপনাকে লেখা এই চিঠি-কেও কোন দিন আপনার হাতে পৌঁছে দেবে -সেই আশাটুকু রেখেই দুই কলম লিখছি। আমি পেশাদার কলমচী নই-লেখা আমার নেশা। নিজগুণে ত্রুটি মাফ করবেন।

আমি আজই আনন্দবাজারে দেখলাম, আপনার জন্যে সুমন পদত্যাগ করছেন না। তার জন্যে এই চিঠি না। এই চিঠি লিখছি আনন্দবাজারে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে যেখানে আপনি সুমনকে লিখেছেন বা বলেছেন ২০১১ সালে সিপিএমকে তাড়ানো খুব জরুরী-এবং সেই জন্যে তৃণমূলের বাস্তবতাকে স্বীকার করে "এমন কিছু না করতে যাতে সিপিএমের সুবিধা হয়"।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আমি নিজেও পরিবর্তনের পক্ষে। তাই আমাকে শত্রুপক্ষের লোক বা হার্মাদদের দোশর ভাবলে ভুল করবেন।

কিন্ত আপনি যে যুক্তিতে সুমনের পদত্যাগ আটকাচ্ছেন-সেটা নিয়ে কি গভীরে ভেবেছেন?

২০১১ সালে সিপিএমের অপসরন জরুরী বলে আপনি মানেন। আমিও মানি। কিন্ত তার মানে কি এই-সুমন বা তৃণমূলের একজন কর্মী তৃণমূলের সমালোচনা করতে পারবে না? তাতে সিপিএমের সুবিধা হবে?

আচ্ছা সিপিএমটা কি বলুন ত মহেশ্বতা দেবী? একটা পার্টি না পার্টি কেন্দ্রীকতার রোগ ?

আপনি একবার ও কি ভেবেছেন, সিপিএম বা তৃণমূল বাঙালীরাই করে-যারা একই পরিবেশে -একই স্কুলে বড় হয়েছে। আজ সিপিএম সিঙ্গুরে নন্দীগ্রামে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করে নি বলে আপনি মাঠে নেমেছিলেন। কিন্ত এ কথা আপনি নিজেও জানেন তৃণমূলেও জমির দালাল কিছু কম নেই-বৈদিক কান্ডেই তা প্রমাণিত।

তাহলে রোগ না রুগী-কোনটা সারানো উচিত বলে আপনার মনে হয়? আজকে যে কারনে সিপিএমের নেতা এবং সমর্থকগুলো বিবেকরহিত নামানুষে পরিণত হয়েছে-সেটার কারন ও কিন্ত পার্টিকে সমালোচনা করার জন্যে যে প্রকাশ্য গণতন্ত্রের দরকার ছিল তার অভাব। সবার ওপর পার্টি সত্য-তাই পার্টির সমালোচনা জনসাধারনের কাছে করা চলবে না-দরজায় খিল দিয়ে করতে হবে-এই ধরনের ভুঁয়ো আদর্শবাদই আজ সিপিএমকে পথে বসিয়েছে। রোগের আসল উৎপত্তি গণতান্ত্রিক সমালোচনার পরিবেশ না তৈরী করা। আজ সিপিএমের মধ্যে এই জনগণতান্ত্রিক ব্যাপারটা থাকলে, তাদের পার্টির লোকদের অনেকেই পার্টিকে সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের ভুল থেকে বাঁচাতে পারত। কিন্ত গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ঢপবাজি যেমন স্টালিনের জন্ম দিয়েছিল-ঠিক তেমনি আমাদের রাজ্যে তা দু এক পিস লক্ষন শেঠ বা তরিৎ তরফদারের মতন মাফিয়ার জন্ম দিয়েছে।

সেই রোগের একটাই উপশম আছে। সেটা হচ্ছে গণতন্ত্রকে, প্রতিটা পার্টির গণতন্ত্রকে আরো বেশী মজবুত করা। আপনি মমতার ভক্ত-কিন্ত আপনি একবার ও কি সমালোচনা করেছেন কেন তৃণমূলে গঠনতান্ত্রিক নির্বাচন হয় না? -ওপর থেকে নেতা চাপানো হয়? তাপস পাল, শতাব্দী রায়কে স্থানীয় তৃনমূল কর্মীদের মাথার ওপর চাপানো হয়? তাপস পাল যেখানের এম পি, সেটাত আমার চেনা জায়গা-যেখানে লোকেদের প্রথম দাবী ছিল, রেল লাইনের জন্যে। সেটাত অনেক দূর অস্ত- উনাকে ভোটের পর সেখানে আর কেও কোনদিন দেখেছে বলে জানি না। তিনি নিশ্চিন্তে শীতের যাত্রাপালাতে ব্যাস্ত ছিলেন বলেই জানি। এসব নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেই স্থানীয় স্তরে অনেক ক্ষোভ। কিন্ত সিপিএমের যেমন সবার ওপর পার্টি সত্য রোগ ছিল-তৃণমূলের সবার ওপর দিদি সত্য রোগ। কারন তৃণমূলের ত কোন পার্টি সংবিধান নেই। দিদির কথাই হচ্ছে সংবিধান।
আর আপনাদের মতন সুশীলরা সেই "সবার ওপর দিদি সত্য" কেই পার্টি এবং কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। সিপিএমের কর্মীরা যেমন পার্টির বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ বা পার্টির জন্যে তাদের গঠনমূলক সমালোচনাগুলোকে প্রকাশ্যে আনার সুযোগ পায় নি-ঠিক তেমনি তৃনমূলের কর্মীরাও তাদের হতাশা বা গঠনমূলক সমালোচনা করার জায়গাটা হারাচ্ছেন-কারন আপনাদের মতন সবাই তাদেরকে ২০১১ সালের সিপিএম জুজু দেখাচ্ছে। ঠিক যে ভাবে সিপিএম শ্রেনী শত্রু মজুতদার কংগ্রেসী ইত্যাদির জুজু দেখিয়ে, পার্টিকর্মীদের প্রকাশ্যে সমালোচনা থেকে আটকে রেখেছে।

তা আপনার কি মনে হয় গণতন্ত্রটা জুজুবুড়ির ভয় দেখিয়ে লোকেদের ব্রেইন ওয়াশ করার যাত্রাপালা? এই জুজুবুড়ির যাত্রাপালাতেই কিন্ত হার্মাদদের জন্ম হয়েছে-যারা পার্টির প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য দেখাতে গিয়ে নিজেদের মনুষ্যত্ব হারিয়ে নামানুষে পরিণত। আপনার আন্দোলন কিন্তু সেই সব নামানুষদের বিরুদ্ধেই। কিন্ত দেখা যাচ্ছে আপনি নিজেও তৃণমূলে সবার ওপর দিদি সত্য নামানুষ ভাই তৈরী করার কাজেই মাঠে নেমেছেন।

প্রকাশ্যে সমালোচনাকে ভয় পাওয়াটা আমাদের গণতন্ত্রের সব থেকে বড় রোগ। কিন্ত সমালোচনা, বিবেকের তাড়নায় মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই গণতন্ত্রের চালিকা শক্তি। সেই শক্তিটাকে সিপিএমের লাল ফ্যাসিবাদ নষ্ট করে দিয়েছিল-আর পরিবর্তনের নামে আপনাদের মতন সুশীলরা তার থেকে ভাল কিছু করছে না।

আমার কথাগুলো ভেবে দেখলেও দেখতে পারেন। এই ধরনের মমতাময়ী সাইকোফ্যান্সি সৃষ্টি করে রাজ্য, দেশ, জনগণ বা মমতাদেবীর ও কি উপকার হবে?

প্রগতিশীল দেহ ব্যাবসা

আজকের আনন্দবাজারে দেখলাম, তসলিমার ভারতীয় ভিসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন! মনমোহনজীর ওপর আমার ভরসা আছে-এর আগেও তিনি প্রকাশ্যেই তসলিমা ইস্যুতে মৌলবাদিদের সমালোচনা করেছিলেন। প্রণব বাবুও তসলিমাকে যথেষ্ঠই সাহায্য করেছেন। কিন্ত এই ইস্যুতেই যেসব বামপন্থীরা নিজেদেরকে ধর্ম নিরেপেক্ষ বলে বুকে বাজনা বাজিয়ে যান, তাদের মুখোশ খুব বাজে ভাবেই খুলেছে।

ধর্ম এবং ধর্মনিরেপেক্ষতার সহাবস্থান সোনার পাথরবাটি ত বটেই। কারন প্রতিটি ধর্মগ্রন্থই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে অন্যদের গালাগাল দিতে ওস্তাদ। এই ব্যাপারে একেশ্বরবাদি ধর্মগুলি আরো এককাঠি ওপরে। সেই অপ্রিয় সত্যকথনে তসলিমা দক্ষিনপূর্ব এশিয়াতে রাজনীতিবিদদের চক্ষ্যুশূল। বেসিক্যালি তসলিমা ইস্যুতে এটাই প্রমানিত ডান, বাম এইসব ব্যাপার গুলো আসলেই মুখোশ-আসল মুখটা হচ্ছে ভোটবাজি। নাম্বার গেম।

কোলকাতা থেকে তসলিমা বিতাড়িত। সিপিএম বা তৃণমূল কেওই মুসলিম ভোট হারানোর ভয়ে তাকে চাইছে না। বিজেপি তসলিমাকে নিয়ে সেই একই ভোটব্যাবসা করতেই ইচ্ছুক-শুধু মুদ্রার ওপিঠ মাত্র। বিজেপির কাছে মকবুল ফিসা হুসেন আর সিপিএম তৃণমুলের কাছে তসলিমা-ব্যাপারটা একই। ধর্মানুভুতি নামে এক অবুঝ মধ্যযুগীয় সুরসুরির ক্রীতদাস এরা। আবার রাজনীতি করার সময় মুখে বলবে আমরা প্রগতিশীলতার রাজনীতি করি। আমাদের রাজ্যে যারা প্রগতিশীলতার দাবিদার, তারা আসলেই প্রগতিশীলতার দেহব্যাবসা করেন। তসলিমা ইস্যুতে সেটা আরো পরিস্কার।

তসলিমা যেভাবে ধর্মকে সমালোচনা করেন-আমি সেই ভাবে ধর্মকে সমালোচনা করার পক্ষপাতি না। কারন ধর্মগুলি বিবর্তনের পথে মনুষ্য সমাজকে " রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস" দিয়েছে। সমাজ এবং নৃতত্ববিজ্ঞানের চোখে, মনুষ্যসমাজের সেই বিবর্তন না বুঝলে এবং বোঝালে, শুধু শুধু ধর্মের সমালোচনা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কিন্ত তসলিমা বা অন্যকারোর সেই সমালোচনা করার অধিকার একটি লিব্যারাল ডেমোক্রাসিতে থাকবে-সেই জায়গাটা কেড়ে নিলে, কালকে আমরা যারা ধর্ম এবং সমাজের বিজ্ঞান সম্মত সমালোচনা করি-আঘাত এবং চাপটা আমাদের ওপর ও আসবে।

আমি বিশ্বাস করি পশ্চিম বঙ্গ এবং বাংলাদেশের এক বৃহৎ অংশের হিন্দু এবং মুসলিম ভাইরা আমার মতনই সত্যিকারের লিব্যারাল ডেমোক্রাসি-প্রগতিশীল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। এবং যেসব প্রগতিশীল রাজনীতিবিদরা, ( আমাদের রাজ্যে প্রায় সবাই, ঠগ বাছতে গাঁ উজার হবে) যারা মোল্লা এবং সব ধর্মের মৌলবাদিদের কাছে, প্রতিনিয়ত দেহ বেচে চলেছেন, তাদেরকে আমরা খুব ভাল ভাবেই চিনে গেছি। সমস্যা হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে আমরা কোন জোরালো জনমত গড়তে পারছি না। কারন আমাদের এই সেকশনটা সংগঠিত না। ভারত এবং বাংলাদেশের নাগরিক সমাজকে একত্রিত হয়েই এই সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক বেশ্যাদের মুখোশ খোলা দরকার।

Monday, March 22, 2010

মনু, মহম্মদ কি নারী জাতির প্রতি অবিচার করেছিলেন?


পরিবার-বিবাহ-এগুলো সামাজিক বিবর্তনের ফল। পশু পাখি-সবাই লিভ টুগেদার করে-তাহলে মানব বিবর্তনের কোন ধাপে লিভ টুগেদারটাকে আরো জটিল এবং ঐশ্বরিক করে বিবাহ নামে প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী হল সেটা বুঝতে হবে। বিবর্তন কিন্ত একটি এমরফিক স্বতস্ফূর্ত পদ্ধতি-সুতরাং বিবাহ প্রতিষ্ঠানটি সমাজের রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস বাড়িয়েছে বলেই, এটি লিভটুগেদারের ওপর এক সময় প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। কিন্ত বর্তমানে ইউরোপে বিবাহ বিলুপ্তপ্রায়। লিভ টুগেদারই ফিরে এল। কে অত্যাচারিত বা শোষিত তাই দিয়ে বিবর্তন নির্নিত হয় না। বিবর্তনের মূল কথা হচ্ছে কোন সংস্কৃ্তিতে শক্তিশালী নতুন প্রজন্ম উ্ঠে আসে।



এখানেই প্রশ্ন উঠবে, তাহলে বিবাহ, সিঙ্গল মম বা লিভ টুগেদার-কিসের থেকে বেশী “ফিট” সন্তানের জন্ম হবে ( সংখ্যা এবং সারভাইভাল প্রবাবিলিটি)। এটি বিতর্কিত প্রশ্ন। ইউরোপে জন সংখ্যা কমছে-লিভ টুগেদারের ভূ্মিকা এর পেছনে আছে। বিবাহিতদের মধ্যে সন্তান উৎপাদনের হার একটু বেশী হবেই।


আমি এবার ধর্মগ্রন্থ গুলিতে মেয়েদের কেন দাবিয়ে পুরুষ তন্ত্রের দাসী করে রাখা হয়েছে তাই নিয়ে কিছু বলি। আমাদের একটি সাধারন ধারনা মহম্মদ কোরানে নারীদের বাজে ভাবে ট্রাক চাপা দিয়ে, নারী জাতির প্রতি ভয়ংকর অন্যায় করেছেন। সেটা এই যুগে মহম্মদ কোরান লিখলে নিশ্চয় বলা যেত-কিন্ত সেই যুগের জন্যে মহম্মদ বা মনু ঠিক না ভুল কাজ করেছেন সেটা সামাজিক বিবর্তনের দৃষ্টিতেই দেখতে হবে। বৈজ্ঞানিক চেতনার আলোকে ধর্মকে দেখা মানেই, সামাজিক বিবর্তনের চোখেই ধর্মকে দেখা উচিত।



তাহলে আসল কথাতে আসি। সেই যুগে শিশু মৃত্যুর হার ছিল অত্যাধিক বেশি। ফার্টালিটি 2.1 এর কম হলে সেই সমাজের নেগেটিভ গ্রোথ হয়। আদিম চিকিৎসা ব্যাবস্থা দিয়ে ওই ফার্টিলিটি ধরে রাখতে গেলে একজন নারীকে গড়ে ৬-৭ টি সন্তানের জন্ম দিতে হয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা হচ্ছে আজকাল যেসব মেয়েরা লিব্যারাল, তারা দ্বিতীয় সন্তানত দূরের কথা প্রথম সন্তানই অনেকেই নিতে চাইছে না। ইস্যুটা বেলেল্লাপনা করার না-ইস্যুটা হচ্ছে সন্তানের জন্যে মেয়েদের স্বার্থত্যাগ স্বাধীনতা ত্যাগ-কতটা চেপে করানো হয়-আর কতটা স্বাভাবিক? এবার একজন মেয়েকে যদি ৬-৭ সন্তানের জন্যে রাজী করাতে হয়, তার ওপর কি পরিমান সামাজিক চাপ সৃষ্টি করাতে হবে? ঠিক সেটাইমনু বা মহম্মদ করেছেন। এটা না করলে, সেই সমাজ রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসে তখনকার দিনে পিছিয়ে পড়ত। আজকের লিব্যারাল ইউরোপের সমাজ যতই উন্নত হৌক, তারাও রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসে পিছিয়ে যাচ্ছে-কারন ইটালি, গ্রীস, জার্মানী ইত্যাদিদেশে ফার্টালিটি 1.1-1.3 -এর জন্যে তরুন লেবার শর্টেজ হচ্ছে এবং তৃতীয় বিশ্ব থেকে লোক এনে সেই ঘাটতি পূরন করতে হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বের মুসলিম বা হিন্দু সংস্কৃতিতে মেয়েদের ওপর সন্তান ধারনের সেই চাপ আছে-ফলে আজকে মুসলিমরা ইউরোপের সব দেশেই সব থেকে বেশী "রিপ্রোডাক্টিভ ফিট" জাতি।



লিব্যারাল সংস্কৃতি সমাজে রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের গুরুত্ব অস্বীকার করে জীবন যাপন করলে, ধর্মের অত্যাচার আরো বাড়বে-কমবে না। কারন সেই ছেলেগুলিই বড় হবে, যাদের ফ্যামিলিতে মেয়েদের ওপর সন্তান ধারনের জন্যে প্রচুর চাপ দেওয়া হয় ( ধর্মের মাধ্যমে) এবং মেমেটিক্সের সূত্র ধরে, সেই চাপ দেওয়া সংস্কৃতিটিই বিবর্তনে জিতবে। কারন সংস্কৃতির অধিকাংশটাই আমরা শিশুকালে পারিবারিক সুত্রে পেয়ে থাকি। সেটাই নানান পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত। ফলে ধর্মের ব্যাপারগুলি আমরা যত নৃতাত্বিক এবং সামাজিক বিবর্তন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করব, ততই ধর্ম এবং বিজ্ঞানের মধ্যে সংঘাত কমবে। লিব্যারাল সংস্কৃতিও একধরনের বিশ্বাস নির্ভর কালচার-সেটাকে বিজ্ঞানসম্মত বলে চালানো ভুল। ক্ষতিকারক ও হতে পারে। সামাজিক বিবর্তনের সূত্র ধরে যত আমরা ধর্মকে বোঝার চেষ্টা করব-ততই ধার্মিকদের সুবিধা হবে বিজ্ঞানের চেতনার পথে জীবনকে পরিচালিত করতে। কারন তবেই তারা বুঝতে পারবেন কেন ধর্ম গ্রন্থে মেয়েদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এবং সেই অবিচারের মূলে যে ঈশ্বর না, রিপ্রোডাক্টিভ সিলেকশন কাজ করেছে-সেটা বুঝলেই, তারা আস্তে আস্তে ঈশ্বরের অবৈধ হাতের থেকে বিবর্তনের খেলাতেই বেশী আস্বস্ত হবেন।


তবে হ্যা। বিবাহের সাথে রোম্যান্টিসিজম এবং ভালোবাসাকে গোলানো উচিত না। সন্তান পালনের জন্যে কর্তব্য হিসাবে দেখলেই বিবাহের বিশেষ ভার লাঘব হয়। ভালোবাসাটা বিবাহ বহির্ভূত প্রেমের জন্যেই তুলে রাখা উচিত! অথবা ভালোবাসা বা রোম্যান্টিসিজমের মতন ধোঁয়াশা শব্দগুলো তুলে দিলেও হয! এই ভালোবাসার পাত্রের খোঁজে কত মেয়েযে শাদি ডট কমে খুঁজে খুঁজে বুড়ি হতে চললো এবং শেষকালে চাপে পড়ে ভুল্ভাল বিয়ে করে ডিভোর্স নিয়ে এখন জীবনটাকেই ভন্ডুল করে দিয়েছে-তার ইয়াত্তা নেই। তাই যৌনতা, বিবাহ এবং ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য ঠিক ঠাক না বুঝলে আরো অনেক ছেলে -বিশেষত অনেক অবুঝ মেয়ের জীবন ভেসে যাবে।