Friday, April 24, 2009
ভারতের ধনতন্ত্রঃ অতীতের শ্রেণীকি মুছে যাচ্ছে?
যাইহোক সেই জন্যে আমি এটা লিখছি না। ওসব তুচ্ছ ব্যাপার। আমার যেটা এখানে অবাক লাগছে সেটা হচ্ছে লোক শক্তির অপচয়। আমাদের আমেরিকার হেডকোয়ার্টের ৪৫০ জনের জন্যে সাধারন সাফাই বা সিকিউরিটি কর্মী ১০ জন আছে কি না সন্দেহ। এখানে প্রায় ৩০০ জনে কর্মীর জন্যে ১০০ ওপর সাপোর্ট স্টাফ। যারা আই টি বাবুদের চা, জল, জল খাবার দেন এবং সিকিউরিটি দেখেন। এরা আবার কেও আমাদের কর্মী না-সবাই অন্য সংস্থা থেকে কন্ট্রাক্টে এসেছে। আমেরিকাতে আমরা নিজেদের চা কফি নিজেরাই বানিয়ে নিই-এখানে ওসব নেই। সব কিছুর জন্যে অফিসে লোক আছে। এমনকি পার্কিং লট থেকে গাড়ি বার করার জন্যেও কর্মি আছে। যার এইসব এম এন সিএর ফেসিলিটি পান না (শুধু খাওয়াটা ছাড়া) -এবং অত্যন্ত কম মাহিনাতে আসলে অন্য সংস্থার কর্মী। এমন কি আমাদের গেস্ট হাউসে প্রায় ২৪ ঘন্টা খাবার পাওয়া যায়-সব সময় ড্রাইভার আছে। ভারতে সস্তার লেবার এত সস্তা-বিশেষত আমেরিকান কোম্পানীগুলোর কাছে-এরা এখানে সেই ইন্ডিয়ান সিস্টেমটাকেই মজবুত করছে। আমেরিকান কালচারের ভালদিকটা-যে সবাইকে নিজের কাজ নিজেকে করতে হয়-সেটা মোটেও আনছে না। আমেরিকাতে ল্যাবেরটরী ভারী ভারী যন্ত্র এক ঘর থেকে অন্যঘরে নিয়ে আসা-ইত্যাদি সমস্ত ম্যানুয়াল লেবার আমাদের নিজেদেরই করতে হয়। অথচ আমেরিকান সংস্কৃতির এসব ভালোদিক গুলি মেরে, এখানে আমেরিকান কোম্পানী গুলো ভারতের বাবু কালচারকেই আরো বেশী করে পুশ করছে। আর তা যত হবে, ততই ধনতন্ত্রের ফলে, সামন্ততান্ত্রিক অতীত শ্রেণীগুলো মুঝে যাবার যে কথা ছিল, সেটা ত হচ্ছেই না-বরং বাড়ছে।
সমাজ বিজ্ঞানটা ঠিক বিজ্ঞান না-বরং বলা যায় প্রতিটা দেশ এবং কালে সমাজ পরিবর্তনের ধারা এতই আলাদা, প্রতিটা কেসই আলাদা বিশ্লেষনের দাবী রাখে।
ভারতে প্রতিবার এসে যে বিষয়টি আমার মনঃপীড়ার সব থেকে বড় কারন হয়-সেটা হচ্ছে এখানে শিক্ষিত বাবুদের সমাজে নীচু শ্রেণীর লোকেদের প্রতি ব্যাবহার। আমেরিকাতেও ধণী বা দারিদ্রের পার্থক্য অনেকটাই-কিন্ত কেও আমার কাজ করে দিচ্ছে বলে, তার সাথে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যপূর্বক সামন্ততান্ত্রিক ব্যাবহার ভারতে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। এটা কেও আমেরিকাতে দেখবে না। প্রতিটা কাজকেই ওখানে যতার্থ মর্যাদা দেওয়া হয়।
১৮০০ সালে ইউরোপে যখন শিল্প বিপ্লব শুরু হয়-ধণতন্ত্রের অধিক উৎপাদনের ধাক্কায়, দলে দলে সমাজের নীচু শ্রেণীর লোকেরা কারখানাতে যোগ দেয়। অধিকতর উৎপাদন থেকে, সমাজে যে একটা পরভোগী বাবু শ্রেনীর সৃষ্টি হল যেটাকে মার্কিস্টরা বুর্জোয়া বলেন, তারা নতুন রাজনৈতিক সিস্টেমের মধ্যমণি হলেন। সমস্যা হচ্ছে ভারতের শিল্পায়নের সাথে যদি আমি উন্নতদেশগুলির শিল্পায়নের তুলনা করি, তাহলে একটা বিরাট পার্থক্য হচ্ছে ইউরোপের শিল্পায়নের সাথে যে নবচেতনার উন্মেষ হয়-ভারতে সেটা প্রায় অবলুপ্ত। নইলে এই ২০০৮ সালে ভারতে টিভি খুললে, ১৫% চ্যানেল ধর্মীয় চ্যানেল পাচ্ছি। ধর্মীয় চ্যানেল আমেরিকাতেও আছে, কিন্তু এখানে পথে ঘাটে সর্বত্র এত ধার্মিক এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকের দেখা মেলে এবং নীচু শ্রেণীর সাথে তাদের ব্যাবহার, পরিস্কার ভাবেই বলে দিচ্ছে, ধণতান্ত্রিক বিকাশের সাথে যে বৌদ্ধিক বিকাশ অতীতের ইউরোপীয়ান ইতিহাসের সাক্ষী ছিল, তা ভারতে অনুপস্থিত।
Saturday, April 11, 2009
Saturday, March 28, 2009
দক্ষিন এশিয়া থেকে কৃষক আনা হৌক
প্রথমেই আমি উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাই এই সদার্থক আলোচনা চক্রের জন্যে। এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং আমেরিকাতে বহু আলোচিতও বটে।
এই মুহূর্তে কি আমেরিকাতে কৃষি শ্রমিকের প্রয়োজন আছে? এই নিয়ে অসংখ্য খবর প্রায় প্রতিদিনই আসছে এবং তার থেকে আমরা কতগুলি প্রারম্ভিক তথ্য ঝালিয়ে নিতে পারিঃ
- সরকারি মতে আমেরিকাতে কৃষি শ্রমিকদের সংখ্যা ৮৫০,০০০। অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব লেবার বলছে প্রায় ৭০০,০০০ শ্রমিক এইচ টু ভিসা বা কৃষি শ্রমিক ভিসাতে কাজ করে। বেসরকারী মতে নূন্যতম ১ মিলিয়ান অবৈধ কৃষক আমেরিকাতে আছে। অর্থাৎ সরকারী হিসাবের সাথে বাস্তবের বিরাট ফারাক।
- সরকার কৃষি শ্রমিক ভিসার আইন আগের থেকে অনেক বেশী কঠিন করে দিয়েছে। আগে মাত্র ৪৫ দিন আমেরিকান শ্রমিক নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এখন সেটা ৭৫ দিন করা হয়েছে। সেই কোটা পূরন করলে তবেই বাকি দিনের জন্যে বিদেশী কৃষক নেওয়া যায়।
- কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অবাস্তব কৃষি ইমিগ্রেশন নীতি। আমি একটা ছোট্ট ঘটনা বলি। নিউ ইয়ার্কে এলবা শহরকে আমেরিকার পেঁয়াজ রাজধানী বলে। মাত্র ৯০০০ লোকের বাস-এত ঠান্ডাতে কেও থাকতেই চাই না। সেখানে মৌরিন টরী বলে ১১ জেনারশনের এক কৃষকের ১১,০০০ একর জমি চাষ করার জন্যে গ্রীষ্ণে ৩৫০ জন লেবার লাগে। তিনি সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন, এই ৩৫০জনের স্থলে তিনি ২০০ জনকে নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হৌন। তাও এই ২০০ জনের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তারা রেইডের কারনে কাজে আসতেই ভয় পায়। এইসব কারনে তার পেঁয়াজের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। ৯০০০ জনসংখ্যার একটি শহরে-একটি ফার্মেরই যদি ৩৫০জন শ্রমিক লাগে, তাহলে একথা অনায়াসেই অনুমান করা যায়, আমেরিকার কৃষি শহরগুলিতে পর্যাপ্ত শ্রমিক নেই।
- কিন্তু তবুও আমেরিকার কৃষি শ্রমিকদের ভোটের কারনে সরকার, তাদের সন্তষ্ট করতে একের পর এক এমন ইমিগ্রেশন পলিশি নিচ্ছে যাতে মালিকরা আর বিদেশ থেকে কৃষক আনতে না পারেন। ফলে অবৈধ মেক্সিকান অনুপ্রবেশকারীরাই একমাত্র ভরসা-বলতে গেলে কেও কেও বলছে আমেরিকান কৃষিতে ৮০% শ্রমিকই অবৈধ শ্রমিক। এতে আমেরিকা এবং কৃষিউৎপাদন-এই দুই এরই ক্ষতি হচ্ছে।
অথচ ভারত এবং বাংলাদেশে কৃষি শ্রমিক সাংঘাতিক ভাবে উদবৃত্ত। কারন কৃষকদের অধিক সংখ্যায় বাচ্চা হওয়ার কারনে এবং সেই অনুপাতে কৃষি জমি হ্রাস পাওয়ায়, আজ কৃষক প্রতি বাংলাদেশে গড় জমির পরিমান এখন ১/২ হেক্টর। ৭০% কৃষক ভূমিহীন। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা ছিল ৫৭%- এখন ৭০%। সরকার ভুমি সংস্কার করে নি। এই সামান্য জমিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আনলে বড়জোর তারা নিজেরা দুবেলা খাবার জোটাতে পারবে। এখন প্রযুক্তির অভাবে সেটাও পারে না। আর এত ছোট জমি হলে প্রযুক্তি আনবেই বা কোথা থেকে? তাছারা অজৈব কৃষির কারনে, কৃষিকাজের খরচ এখন আকাশ ছোঁয়া। ফলে আমাদের দক্ষিন এশিয়াতে অর্ধেকের বেশী কৃষক অভুক্ত। তারা আমেরিকার এই কৃষি শ্রমিকের অভাব অনায়াসেই মেটাতে পারে যদি আমেরিকান সরকার একটি বাস্তবমুখী ইমিগ্রেশন পলিশি নিয়ে দক্ষিন এশিয়া থেকে কৃষক আনার পদক্ষেপ নেন। এতে আমেরিকা এবং দক্ষিন এশিয়ার মঙ্গল। কারন এতে আমেরিকার কৃষিজ উৎপাদন হ্রাস পাবে না। আবার দক্ষিন এশিয়ার কৃষকরাও নিজদের অবস্থার উন্নতি করতে সক্ষম হবে।
সবাইকে ধন্যবাদ জানাই এই অনুষ্ঠানে আসার জন্যে। আমাকে জরুরী পারিপারিক প্রয়োজনে আজকে সকালেই লস এঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে উড়ে যেতে হচ্ছে-নাহলে আমি আপনাদের সাথে আজকে এই ব্যাপারে মত বিনিময় করতে খুবই আগ্রহী ছিলাম।
Tuesday, March 10, 2009
টিসিএসে ছাঁটাই-আই টি তে ইউনিয়ান দরকার
‘সামাজিক ভাবে দায়বদ্ধ’ টাটাগোষ্ঠির মিথ্যাচারিতা একটু দেখা যাক ওই একটা বাক্যের মধ্যে।
১। প্রথমত কোলকাতা, মাদ্রাস সর্বত্র ছাঁটাই চলছে গত দুমাস ধরে। অসমর্থিত সুত্রে খবর শুধু মাদ্রাসেই ২০০ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে গত একমাসে। কোলকাতায় প্রতি সপ্তাহে দশ কুড়িজন করে ছাঁটাই চলছে-এটাও বন্ধুদের মুখে শোনা খবর।
২ অর্থাৎ শ্রম আইনকে এড়ানোর জন্যে মাস লেঅফ হচ্ছে না। নিয়মিত ছাঁটাই করে, আইনকে এড়ানো হচ্ছে।
৩ অসমর্থিত সূত্রের খবর বেঞ্চে-মানে কাজ নেই এমন কর্মীর সংখ্যা ২০-৪০%। বিশ্বজোড়া এই মন্দার ধাক্কায় সংখ্যাটা শিঘ্রই ২-৪% হবে না-বরং এবছরের শেষের দিকে ৬০% ও ছাড়াতে পারে। সুতরাং ১% না-তারা আরো অনেক বেশী কর্মীই ছাঁটাই করবেন। ১০% এর অনেক বেশী হলেও আশ্চর্য্য হব না। কিন্ত সৎ কথা বলার সাহস নেই। কারন তাহলে টাটাকে বিনে পয়সায় জমি দিয়ে যেসব রাজ্যে ডাকা হচ্ছে-শুধু রাজনৈতিক মাইলেজ নেওয়ার জন্যে- সেই খেলা রুদ্ধ হবে। তাই তারা গোপনে কত পার্সেন্ট ছাঁটাই করবেন, তারাই জানেন-কিন্ত বলবেন না। কর্মীদেরই যখন দায় নেই-তাদের কি দায় পড়েছে?
৪) বলা হচ্ছে এরা দক্ষতার অভাবে ছাঁটাই হচ্ছে। সম্পূর্ন মিথ্যে কথা। এদের সবাই গড়ে ৩-৫ বছরের কর্মী। এদের দিয়ে কাজ করিয়েই কোম্পানী মুনাফা তুলেছে। দক্ষতা আছে কি না প্রথম তিন মাসেই বোঝা যায়। সবথেকে বড় কথা টিসিএস এমন কিছু করে না, যে সাংঘাতিক বুদ্ধির লোক দরকার হয়। ওরা যা কাজ করে, সেই দক্ষতা একটা পাঁচ বছর টিসিএসে কাজ করা ছেলের নেই-এসব অবিশাস্য রকমের ঢপবাজি। ইনফোসিসেও নাকি ৫০০০ কর্মীকে নোটীশ ধরানো হয়েছে পুওর পাফর্মেন্সের জন্যে। অর্থাত ছাঁটাই এর পথ পরিস্কার করা হচ্ছে।
কিন্তু টি সিএস কতৃপক্ষের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে না রুখে দাঁড়াচ্ছে টিসিএসের কর্মীরা না কোন রাজনৈতিক দল।
কর্মীদের অধিকাংশই নিও লিব্যারালিজমের জলহাওয়ায় বেড়ে ওঠা নন্দদুলাল-নিজেরটাই হিসাব করেছে এতদিন। মন্দা দেখে নি। মনে করেছে টাটা গেল ত কি হল-আই বি এম আছে। সব থেকে বেশী আছে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস। তাই ১৩০,০০০ কর্মীর কোন ইউনিয়ান নেই। কারন ওদের সবাই ভাবে-ওরা সমাজের ওপরে। ওরা কি পাটকলের কর্মী যে ওদের ইউনিয়ান লাগবে?
রাজনীতির কথা ছেড়ে দিলাম। তারা আরো অধপতিত। টাটার বিরুদ্ধে কথা বললে যদি টাটা মটোরস বা টিসিএস সেই রাজ্যে না আসে? কে আগ বাড়িয়ে রিস্ক নেবে এই শিল্পপতি ভজনার ইঁদুর দৌড়ে?
ফল এই-টাটা, ইনফোসিস, ঊইপ্রো-এদের সবার এক লাখের ওপর কর্মী। ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ইন্ডাষ্ট্রী। অথচ কোন ইউনিয়ান নেই এদের বাঁচানোর জন্যে। এরা উচ্চশিক্ষিত কুশলী-সবার ধারনা, নিজেরা ঠিক ম্যানেজ করে নেবে।
না ওরা নিজেদের ম্যানেজ করতে পারবে না। আমি আমেরিকায় দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে এখানকারকার ইঞ্জিনিয়াররা কি করে লে অফ ম্যানেজ করে অনেক দেখছি ত। হ্যাঁ টিসিএস ছাড়লে এই মন্দার বাজারে কিছু হয়ত জোটাবে কম মাইনায়। সেই পদ ও পদমর্যাদাও পাবে না নতুন কোম্পানীতে। তারপরে সেখানেও খারাপ দিন আসবে। সেখানেও ছাঁটাই হবে। এই অনিশ্চয়তা এবং ছাঁটাই নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে বাকী জীবন। ট্যালেন্ট কর্মদক্ষতা যতই থাকুক না কেন। আমি ট্যালেন্টেড আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার কম দেখিনি জীবনে। তাদর অধি্কংশই জীবনে ব্যার্থ। ফুটবলের মতন ছাঁটাই এর লাথি খেয়ে গোটা আমেরিকা ঘু্রছে এক চাকরি থেকে অন্য চাকরিতে।
এই ছাঁটাই ঠেকাতে অতি দ্রুত আই টির ছেলেদের ইউনিয়ান করা উচিত। আজকের দিনে স্যোশাল নেটওয়ার্কিং এর জন্যে অনেক দ্রুত ওরা এই কাজ করতে পারবে। এখনো সময় আছে ভারতের হায়ার এন্ড ফায়ার পলিসি আমেরিকার মতন নিষ্ঠুর হতে না দেওয়া। আমি আমার ছাঁটাই প্রবন্ধে এই নিয়ে লিখেছিলাম (এখানে দেখুন)।
টিসিএস ইনফোসিস ঊইপ্রো-গত চার পাঁচ বছর ধরে বছরে বিলিয়ান ডলার লাভ করেছে। এখনো যে লোকসানে চলছে তা নয়। যদিও লোকসান হয় সেটা সামান্যই হবে- আগের বছরগুলিতে যে বিলিয়ান ডলার লাভ করেছে তার তুলনায় যথসামান্য। তাহলে শুধু শেয়ার হোল্ডারদের খুশি করতে কেন হাজার হাজার শ্রমিকদের পরিবার গুলোকে ভাসিয়ে দেওয়া হবে? কোন যুক্তিতে? জীবনের উদ্ধেশ্য কি লাভ করা না জীবন ধারন করা?
যারা ভাবছেন ইউনিয়ান ছাড়া, শুধু নিজের যোগ্যতা দিয়ে বেঁচে থাকবেন-মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। ইতিহাসে অজ্ঞ। ১৮০০-১৮৫০ সাল অব্দি ইউরোপেও কোন শ্রমিক ইউনিয়ান ছিল না-কারন শিল্প বাড়ছিল দ্রুতগতিতে। যেমনটা আই টি বেড়েছে গত এক দশকে। ফলে সেদিনও শ্রমিক ভেবেছে ছাঁটাই ত কি হল-আরেকটা চাকরি-আরেকটা কোম্পানী আছে। ইউরোপে শিল্পায়নের প্রথম পঞ্চাশ বছর ভারতের গত দশ বছরের আই টির মতনই ফেয়ারী ল্যান্ড ছিল। কিন্ত শিল্পে একটা সময় ডিমিনিশিং রিটার্ন আসেই-মন্দা সৃষ্টি হয়। তখন আমাদের আই টি কর্মীরা যদি নিজেদের দাবি নিয়ে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে না ঘুরে দাঁড়াতে পারে, আজকের আমেরিকান আই টির লোকেদের মতন ভবঘুরে অবস্থায় বাকী জীবন কাটাবে।
আসলে আমাদের আইটির ছেলে মেয়েরা প্রায় সবাই মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে। যা মাইনে পাচ্ছে তা ছিল ওদের কাছে কল্পনাতীত। তাই ওদের ধারনা ওরা শ্রমিক না-অন্য কিছু। এবং এই ফ্রি লেবার মার্কেটই ভাল। সেটা ততক্ষনই ঠিক-যতদিন লেবারের চাহিদা থাকে। না থাকলে এই ধরনের ভুল চিন্তার চেয়ে সাংঘাতিক কিছু হয় না। যদি এরা এই মন্দার বাজারে না শেখে-লে অফের অভিজ্ঞতা থেকেই শিখবে। শুধু একটাই ভয়-তখন হয়ত অনেক দেরী হয়ে যাবে।
Friday, March 6, 2009
ছাঁটাই
গত বুধবার দুপুর তিনটে। ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে কিছু সিমুলেশন চালাচ্ছি-হঠাৎ আমার রুমমেট ক্রিস মুখ লাল করে ত্রস্ত্র অবস্থায় ঘরে ঢুকে হাঁপাতে লাগল। কি ব্যাপার জিজ্ঞেস করার আগেই ওই বলে দিল-লে-অফ গোইং অন ম্যান! আই ডন্ট নো! আমি আছি-না নেই! আমার বুকটাও ধরাস করে উঠল। চেয়ারটাই আরেকটু চেপে বসলাম-ওটা আছে- কি নেই বোঝার জন্যে।
ব্যাস ওই টুকুই। আমি লে-অফের ব্যাপারে এখন যথেষ্ঠ ভেটেরান। ২০০১ সালের অক্টবর মাসে প্রথম ছোট্ট অভিজ্ঞতা। নিউজার্সিতে একটা স্টার্ট-আপে কাজ করতাম। হঠাৎ একদিন এসে শুনলাম কাল সাতজনকে লে অফ করেছে। তখন কোম্পানিতে সাকুল্যে ৬০জন। পরের দিন আর তাদের দেখা নেই। সেটা মাইল্ড শক। তবুও যাদের তাড়ানো হয়েছিল-এখানে ভদ্র ভাষায় বলে লেট গো-মানে তাদের যাওয়ার অনুমতি দিলাম (!)-তাদের কর্মদক্ষতা প্রশ্নাতীত ছিল না। তাই ভাবলাম আমেরিকাতে এরকম হয়ে থাকে।
জীবনের প্রথম শকিং অভিজ্ঞতা ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে। তখন টেলিকম মন্দা গভীরে গভীরতম। প্রতিদিন দুচারটে করে কোম্পানী বন্ধ হচ্ছে। হঠাৎ দুপুরে হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট থেকে মেইল। সি ই ও ক্যাফেটেরিয়াতে মিটিং ডেকেছেন। জানানো হল ৪০% লোক ছাঁটাই হচ্ছে-১০% মাইনে কমছে। কারন দ্বিতীয় রাউণ্ড ফান্ডিং পাওয়া যায় নি। তোমরা ম্যানেজারের কাছে গিয়ে জেনে নাও কে আছ-কে গেছ!
হঠাৎ মনে হল পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে। মিটিং ভাঙার সময় অবশ্য আমার ম্যানেজার চাইনিজ মহিলা স্যু জাং জানিয়ে গেল তুমি আছ। তুমি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দাও। আমার পাশের ঘরটা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজ্যারের। তার ঘরে লোকে আসছে -যাচ্ছে। তারপর নিজের ডেস্ক পরিস্কার করে এক ঘন্টাতেই সেই কোম্পানীর ক্যারিয়ার শেষ। আমাদের গ্রুপের ছজন এর মধ্যে পাঁচজনকেই ফায়ার করা হয়েছিল। আমি কেন বেঁচেছিলাম জানি না। তবে সেইদিন রাত্রে এসে খেতে পারি নি। ঘুমাতে পারি নি। দেহটা বারবার কেঁপে উঠেছে বিছানায়। এতদিন যাদের সাথে কাজ করলাম তাদের কেও নেই। এর পরেও সেই কোম্পানীতে ৩-৪ রাউন্ড লেঅফ হয়েছে-তখন আমি সিজনড। আর গায়ে লাগত না!
২০০৪-২০০৭ পর্যন্ত আমেরিকার ধার-করা অর্থনীতি ভালোই চলেছে। ফলে মাস লে অফ দেখতে হয় নি। আবার সেই দিনগুলো ঘুরে এল প্রথমে গত বছর অক্টবরে। বহুজাতিক কোম্পানীতে যেমন হয়। টেলিকনফরান্সে মিটিং চলছে। রাও বলে একটি ম্যানেজার ছিল। সেই মিটিংটা ডেকেছিল। হঠাৎ বললো সরি ম্যান- আম লেইড অফ! আই ক্যান্ট কন্টিনিউ! তাকি নাকি তার ম্যানেজার এই মাত্র টেক্সট ম্যাসেজ করে জানিয়েছে।
কি বিচিত্র এই আমেরিকান জীবন। আগে প্রোডাকশনে যখন কাজ করতাম-নীচু তলার লোকগুলোর সাথে মেশার অবাধ সুযোগ ছিল। রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টে সবাই পি এইচ ডি বলে-সেই সুযোগ মেলে না। এক মেকানিক মুখ গোমরা করে লাঞ্চে বসে থাকত। জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার? না চাকরীর সাথে সাথে সুন্দরী বৌটিও পালিয়েছে। এটাই আমেরিকান জীবন। অনিত্য চাকরী-অনিত্য বৌ! সবই ধণতন্ত্রের মায়া বা মমতা।
গতকালই রুপেশকে ফোন করলাম। পরশু যাদের ঘারে কোপ পড়েছে ও তাদের একজন। আমার সাথেই কাজ করত। বস ঘরে ডাকল। সাথে হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধি। তাকে জানানো হল, অর্থনৈতিক কারনে আর তাকে রাখা যাচ্ছে না! আর একঘন্টার মধ্যে ডেস্ক পরিস্কার করে, নোটবুক পরিস্কার করে, সিকিউরিটি ব্যাচ জমা দিয়ে বেড়িয়ে যেতে হবে চিরতরে। কর্মদক্ষতার প্রশ্ন এখানে নেই-ও আমেরিকার অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালটেকের পি এইচ ডি। তাতে কি? ওর প্রজেক্টটা অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয় আর! কি অবাক ব্যাপার! এই ছেলেটাই গত শনি-রবিবারে অহরাত্র পরিশ্রম করে সিস্টেম থেকে একটা বাগ তাড়িয়েছে-ডেডলাইনের তাড়া! কোম্পানীর জন্যে ডেডিকেশন আর কোনদিন দেখাবে বলে মনে হয় না। আমি আমেরিকাতে দেখেছি-এখানে সবাই পেশাদারি ভাবে কাজ করে। কাজের সাথে এটাচমেন্ট খুব কম থাকে। এখন বুঝি কেন। কেনই বা করবে!
আমি আর ক্রিস আলোচনা করছিলাম। ও বার বার বলতে লাগল এই রুদলেস কর্পরেট জীবন অর্থহীন। এইভাবে জীবনে বাঁচা যায় না। বেশ রাগের স্বরেই বলছিল। আমি অবশ্য শান্ত। কারন আমি জানি উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকেই শ্রমিক শ্রেনী ক্রিসের কথাটাই বলেছে। শ্রমিক শ্রেনীর সেই দুর্দশার কথা মার্ক্স এবং এঙ্গেলেসের রচনায় বারবার এসেছে। হিটলারের মেইন ক্যাম্পেও এসেছে। মুশোলিনীর ফ্যাসিবাদ বা ন্যাশানাল স্যোশালিজমেও এই একই কথার প্রতিধ্বনি। কারন রিশেসন এবং তার জন্যে শ্রমিক শ্রেনীর কাজ হারানো নতুন কিছু নয়-এই রকম সাইকেল বারে বারে এসেছে। শ্রমিকরা বারে বারে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে-এবং মার্কেট ফিরলে-আবার কাজে ফিরেও গেছে। দুদিন বাদে ক্রীসও শান্ত-যেন এমন হয়েই থাকে। শ্রমিকদের ক্ষোভ এই ভাবেই হারিয়ে গেছে।
(২)
উনবিংশ শতাব্দির প্রথম দিক। ইউরোপে ধনতন্ত্রের স্বর্ণযুগ। শিল্প বিপ্লব এবং স্টিম ইঞ্জিনের চাকায় অভাবনীয় গতিতে বাড়তে থাকে উৎপাদন এবং জনগনের জীবন যাত্রার মান। কিন্ত এর সাথে সাথেই যৌথ পরিবার ও প্রাচীন কমিউনিটি ভেঙে গেল। ভেঙে গেল চিরচারিত সামাজিক ভাবে বেঁচে থাকার স্বাশ্বত মুল্যবোধ এবং পদ্ধতিগুলো। ধনতন্ত্রে মানুষ পেল আরো বেশী ব্যাক্তি স্বাধীনতা। রক্ষনশীল সমাজ থেকে মুক্তি। কিন্ত উলটো দিকটা হচ্ছে-মানুষ সমাজ এবং বৃহত্তর পরিবার থেকে আরো বেশী বিচ্ছিন্ন । এর মধ্যেই মালিক শ্রেনীর হাতে বিপুল অর্থ জমা হওয়া শুরু হয় এবং শ্রমিক শ্রেনীর দুর্দশার সীমা থাকে না।
এই পরিস্থিতিতেই মার্ক্স এবং এঙ্গেলেস আশার আলো শোনালেন। পুজিবাদ যে সিস্টেম তৈরী করছে-তা টিকবে না। মালিক-শ্রমিক দ্বন্দের কারনেই ভেঙে পড়বে। সমাজতন্ত্র আসবে। আপনা-আপনিই আসবে-সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস মেনে। শোষিত নিপীড়িত মানুষের কাছে দৈববাণীর মর্যাদা পেল তার অমৃত বচন।
১৮৮০ সাল পর্যন্ত সবাই অগাধ আস্থা রেখেছে মার্ক্সের তত্ত্বে। নিদারুন প্রতীক্ষার প্রহর গোনা- কবে শ্রমিক শ্রেনীর বিদ্রোহ এবং ধণতান্ত্রিক সমাজের আভ্যন্তরীন দ্বন্দের জন্যে সমাজতন্ত্র এসে সবাইকে মুক্তি দেবে!
সেরকম কিছু যখন হল না। পুজিবাদ প্রতিটা রিশেসন সাইকেল কেটে বেড়িয়ে আসছিল নতুন কোন কোন আবিস্কার বা যুদ্ধের মাধ্যমে। কিছু কিছু সমাজতন্ত্রী মার্ক্সীয় তত্ত্বের ভিত্তিকেই প্রশ্ন করতে লাগলেন। মার্ক্সীয় তত্ত্ব অনুযায়ী সমাজ পরিবর্ত্তনের চালিকা শক্তি-উৎপাদন ব্যাবস্থার পরিবর্ত্তন। উৎপাদন ব্যাবস্থার পরিবর্ত্তনের মধ্যে দিয়েই সমাজের পরিবর্ত্তন সুচিত হওয়ার কথা। সেটা হচ্ছিল। তবে পুজিবাদ আরো উন্নততর পুজিবাদের পথে এগিয়ছে প্রযুক্তি এবং শ্রমিকদের সুবিধা বাড়িয়ে। ফলে ক্রাইসিস থেকে বিপ্লব আসে নি-উন্নততর পুঁজিবাদ এসেছে মাত্র। এডুয়ার্ড বার্নস্টেইনের মতন কিছু সমাজতন্ত্রী বললেন বিপ্লব টিপ্লব হবে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই শ্রমিক শ্রেনী সরকারকে চাপ দিয়ে শ্রমিক সুরক্ষা আইনগুলি রাষ্ট্রে আনবে। বিপ্লব না সংস্কার এই নিয়ে ১৮৮১ সাল থেকেই সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। ১৯০০ সালে রোজা লুক্সেমবার্গ বার্নস্টেইনের তত্ত্বকে খারিজ করার অভিপ্রায়ে লিখলেন-স্বতস্কুর্ত বিপ্লবের তত্ত্ব। ১৮৮৯ সালের দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশানাল থেকেই অবশ্য এই বিবাদ সামনে চলে এসেছে।
এর পরেও অনেক গল্প আছে। রাশিয়াতে স্যোশ্যাল ডেমোক্রাট বনাম বলশেভিকদের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ১৯১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। লেনিন ভোটে হেরে গিয়ে কনস্টিটুয়েন্সি এসেম্বলী ধ্বংস করলেন এবং রাশিয়াতে লাল সন্ত্রাস নেমে এল। রাশিয়ান সিক্রেট পুলিশ ১৯১৮ সালে ৬০০ জন বিখ্যাত স্যোশাল ডেমোক্রাটকে হত্যা করে 'রাশিয়ান বিপ্লব' ঘটাইল। বিপ্লবী ফ্যাকশন রাশিয়াতে জয়লাভ করিল!
অন্যদেশে এর ফল হয়েছে হিতে বিপরীত। ১৯১৭ সালের আগে জার্মানী, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডে বিপ্লবী তত্ত্বের সাপোর্টার ছিল অনেক বেশী। ১৯১৭ সাল থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত, লাল সন্ত্রাসে যেভাবে কৃষকহত্যা এবং জোর করে ফসল দখল করার অত্যাচার চলে-তার সংবাদ গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তেই বিপ্লবী গোষ্ঠি ইউরোপের অন্যত্র দুর্বল হয়। ভারতের কমিনিউস্ট আন্দোলন ও এই ভাবেই দুর্বল হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে কমিনিউস্টরা ক্ষমতায় আসতে, ভারতের অন্য রাজ্যে কমিনিউস্ট পার্টির যে বিশাল ডেডিকেটেড বেস ছিল-তা দ্রুত লুপ্ত হতে থাকে। কারন কমিনিউস্টদের হাতে পশ্চিম বঙ্গের দুর্দশা দেখে সেই সব কমিনিউস্ট কর্মীদের মোহভঙ্গ হয়। ইউরোপে এই সময়টা ছিল ১৯১৭ থেকে ১৯২০ সাল। বলশেভিক বিপ্লবের নামে যেভাবে শ্রমিক এবং কৃষকরা অত্যাচারিত হয় এবং লেনিন যেভাবে গণহত্যা চালান, ফ্রান্স, জার্মানী এবং ইংল্যান্ডে বিপ্লবে বিশ্বাসী গোষ্ঠির পালে হাওয়া ঊবে যায়। রোজা লুক্সেমবার্গ স্পার্টকাস লীগ নামে বিপ্লবী পার্টি তৈরী করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ্বত্তোর
জার্মানীতে বিপ্লব সংগঠিত করতে গিয়ে বেঘোরে মারা পড়লেন। পেছনে জন সমর্থন ছিল না। কর্মহীন শ্রমিক শ্রেনী ক্রুদ্ধ ছিল সন্দেহ নেই-কিন্ত রাশিয়াতে কমিনিউস্টদের অত্যাচার নিয়েও তারা অবহিত ছিল। এতেব কমিনিউস্ট পার্টি সেখানে জনপ্রিয়তা পেল না।
সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে এই বিভেদ এবং রাশিয়ান বিপ্লবের মোহভঙ্গের জন্যে উত্থান হয় জাতীয়তাবাদি শক্তির। আসল কারনটা সেই ধণতন্ত্রে শ্রমিক শ্রেনীর দুরাবস্থা। এবং তা দূর করতে সমাজতন্ত্রের ব্যার্থতা। কমিনিউস্টদের ব্যার্থতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯২১ সালে হিটলারের উত্থান। জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্রের মিশ্রনে, আমেরিকা, ফ্রান্সকে জার্মানীর শত্রু বানিয়ে-শ্রমিক শ্রেনীকে আশা দেখাতে লাগলেন। শ্রমিক শ্রেনীর দাবি মেটাতে হিটলার সম্পূর্ণ সফল। ১৯৩৩ সালে জার্মানীতে বেকারত্বের সংখ্যা ছিল ৩৩%। ১৯৩৬ সালে বেকারত্ব থাকলই না। মুসোলীনিও একই ম্যাজিক দেখালেন। ইতিহাসের এই সময়টাতে পৃথিবীর সবদেশে জাতিয়তাবাদি শক্তির উত্থান হয়েছে। ধনতন্ত্রে মানুষকে যেভাবে সমাজ থেকে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়-তার প্রতিবাদি ধারনা থেকেই জাতিয়তাবাদের জন্ম। জাতিয়তাবাদ ধনতন্ত্রের জন্যে ক্ষতিকারক। কারন পুঁজির দেশ থাকতে পারে না-তাহলে পুঁজির বৃদ্ধি আটকে যাবে। ঠিক এই সময়েই হিন্দু মহাসভাও ভারতে সক্রিয় হয়। রাষ্ট্রীয় সমাজ সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠার পেছনে সেই হিটলারি সাফল্য।
হিটলার এবং মুসোলিনীর বিভৎস মুখোস খসে পড়তে জাতিয়তাবাদী চিন্তাও মুখ থুবরে পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্ত্তী সময়ে। ফলে ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত কেইনসিয়ান অর্থনীতির মাধ্যমে গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র সব দেশেই গ্রহীত হয়। ভারতে নেহেরু তথা কংগ্রেসও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পথেই দেশকে চালনা করে। কিন্ত ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক নির্ভর অর্থনীতি সমস্যার সম্মুখীন না হলেও-বৃদ্ধি হচ্ছিল শম্বুক গতিতে। ফলে একটু একটু করে উদার নীতি চালু করা হল বৃটেনে এবং আমেরিকায়। যেটাকে এখন থ্যাচারিজম বা রেগনিজম বলে। প্রথম প্রথম ফল হল দুর্দান্ত। অর্থনীতি বাড়তে লাগল দ্রুতগতিতে। কারন প্রযুক্তির ডিরেগুলেশনের ফলে ইলেকট্রনিক চীপ, কম্পুটার, লেজার, ইন্টারনেট, অপটিক্যাল ফাইবার-সব কিছুর রুদ্ধশ্বাস উত্থান হল এই উদার বাজারনীতির ফলস্বরূপ।
কিন্ত ফাটকাবাজরা কি আর বসে থাকে? শেয়ার মার্কেটের উর্ধগতিকে কাজে লাগিয়ে তারাও বাড়ি থেকে শুরু করে সমস্ত বাজারের দাম নিয়ন্ত্রন করা শুরু করে। ব্যপারটা হল এই রকম । আমেরিকাতে ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে-ইনফ্লেশন এডজ়াস্টেড ইনকাম কমেছে-অথচ বাড়ির দাম বেড়েছে তিনগুন। সম্পুর্ন ফাটকাবাজি। ডিরেগুলেটেড মার্কেট-এতেব এক্সপার্টদের অবজ্ঞা করে বাজারকে মুক্তই রাখা হল। বোনাসের লোভে ব্যাঙ্কের সি ই ও থেকে ম্যানেজমেন্টের সবাই-ব্যাঙ্কটাকেই ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে দিলেন স্পেকুলেশন টাকা খাওয়ার লোভে।
আসলে ব্যাপারটা এই রকম। উৎপাদন না বাড়লে ত বাড়তি টাকার মূল্য নেই। এবার উৎপাদনে কি যায় আস? আসল ব্যাপারত লাভ। ফলে একই উৎপাদনে লোককে টাকা ধার দিয়ে , উৎপাদিত দ্রব্য-যেমন ধরুন বাড়ির দাম কৃত্রিম ভাবে বাড়ানো হল।
না আমেরিকার জনগনের কিছু লাভ হয় নি এতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এমনকি খাদ্যেও আমেরিকা পৃথিবীর কাছে পিছু হটেছে।
আসলে হয়েছে কি-১৯৮০ সাল থেকেই পৃথিবীতে জাতিয়তাবাদ এবং ধর্মের ককটেলের আবার উত্থান হতে থাকে নানান রক্ষনশীল পার্টিগুলির মাধ্যমে। একই সাথে রেগন, থ্যাচার এবং ভারতে বিজেপির উত্থান কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণতন্ত্রে কোন পার্টি ধণতান্ত্রিক হতে পারে না। কারন ভোটার সবাই শ্রমিক শ্রেনীর। ফলে জনগন সব সময় এই ধনতন্ত্রের বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র ঠিক ঠাক চললে মালিক শ্রেনীর অস্তিত্ব থাকারই কথা না।
তাহলে ধনতান্ত্রিক শোষন কি করে বজায় রাখা যায়? এই ক্ষেত্রে মানুষের কিছু আদিম প্রবৃত্তি-যেমন দেশ এবং ধর্মের প্রতি টান-যা আদতেই সামাজিক পরিচয়বোধের সংকট-সেই আইডেন্টি-আমি আমেরিকান এবং খ্রীষ্ঠান-আমি ভারতীয় এবং হিন্দু-এই সব পরিচয়বোধ কাজে লাগিয়ে এবার জাতিয়তাবাদ ফিরে এলো ধনতন্ত্রের বিরোধিতা করে নয়-হাত ধরে। উল্লেখ্য হিটলার এবং মুসোলীনিকে মালিক শ্রেনী সহায়তা করলেও হিটলারের মেইন ক্যাম্পে শোষিত শ্রমিকের দুঃখের কথা ছত্রে ছত্রে । তার জন্যে হিটলার ধণতন্ত্রকেই দায়ী করেন। নাজি জার্মানীতে উৎপাদিত দ্রব্যের দাম, শ্রমিকদের মাইনা-সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রন করত। এবার ১৯৮০ সালের জাতিয়তাবাদের উত্থান হয়েছে সম্পূর্ণ অন্য পটভূমিকায়। সেটা হচ্ছে সব দেশে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র দ্রুত উন্নতি করতে বা অর্থনীতিকে সচল করতে ব্যার্থ হয়ে এক সমাজতন্ত্র বিরোধি প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে। ধণতন্ত্র নিজেত কোনদিন একাকী গণতন্ত্রে ঢুকতে পারে না। মালিক শ্রেণীকে ভোটাররা পছন্দ করে? ফলে ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদের সুড়সুরি দিয়ে ঢুকে গেল উদার বাজার অর্থনীতি। সেটাই রেগনিজম বা থ্যাচারিজম।
১৯৯১ সালে সোভিয়েতের পতনে কমিনিউজমের বিভৎস ঘৃণিত ইতিহাস আমরা জানতে পারি। এর সাথে পৃথিবীর নানান দেশে স্যোশাল ডেমোক্রাটদের নতুন চিন্তাভাবনার অভাব এবং দুর্নীতি, মানুষের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যার্থ হয়। ফলে সমাজতন্ত্র বিরোধি ক্ষেত্র প্রস্তুত ছিল। জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মের ঘৃণ্য সুড়সুরির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে, উদার অর্থনীতিকে বল্গাহীন গতিতে চালিয়ে দিলেন রেগান এবং থ্যাচার। স্যোশাল ডেমোক্রাটদের এই রথ থামানো সম্ভব ছিল না। ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মুক্তবাজার অর্থনীতি নতুন প্রযুক্তির ঘারে চেপে দ্রুত গতিতে বাজার এবং অর্থনীতির বৃদ্ধি করতে থাকে। সেই শ্রোতের বিপরীতে হাঁটা ডান, বাম, মধ্যম -সবার পক্ষেই ছিল অসম্ভব। নিও লিব্যারালিজম আইস ল্যান্ডের মতন একটা ইউরোপের গরীবদেশকে সবথেকে উন্নত দেশে পরিণত করে। আজকে অবশ্য তাদের ব্যাঙ্ক ফেইলড। তারা যে তিমিরে ছিল-মানে মাছ ধরছিল-আবার মাছ ধরাতেই ফিরে গেছে!
অর্থাৎ কমিনিউজম এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের ব্যার্থতা যে শুন্যতা সৃষ্টি করে-তার ফাঁক দিয়েই এই উদার অর্থনীতি বা মুক্তবাজার অর্থনীতির উত্থান এবং প্রথমের দিকে চমকপ্রদ সাফল্য। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সাফল্য অভাবনীয়। কিন্ত এর মধ্যেই ফাটকাবাজরা মার্কেট এবং রাজনীতির সম্পুর্ন দখল নিয়েছে জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মের সুরসুরি দিয়ে-অথবা স্যোসাল ডেমোক্রাটদের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে। ফলে আজকের এই মন্দা।
প্রতি মাসে একমিলিয়ান আমেরিকান চাকরি হারাচ্ছেন।
(৪)
তাহলে সামনের পথ কি?
কমিনিউজমে গণতন্ত্রের অভাব মানুষকে পশুতের স্তরে নামিয়ে নিয়ে যায়। ওটা ফ্যাসিজমের আরেকটা সুগারকোট ।
জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় জাতিয়তাবাদ --ধণতান্ত্রিক মালিক শ্রেনীর প্রক্সি।
গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র অর্থনীতির বৃদ্ধি এবং চাকরী সৃষ্টিতে অক্ষম। নতুন প্রযুক্তির আমদানীতে ব্যার্থ।
সবই দেখা যাচ্ছে পরীক্ষিত ভাবে ব্যার্থ। তবুও এর মধ্যে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রে অর্থনীতিতে ধীরগতিতে উন্নয়ন হলেও-মানুষের জীবন সব থেকে বেশী সুরক্ষিত থেকেছে। মানুষ উদার অর্থনীতিতে যত বড়লোক হয়েছে-সেরকম কিছু হয় নি-কিন্ত চাকরী, জীবনযাত্রা ও বাকস্বাধীনতা অক্ষত থেকেছে।
অর্থাৎ আমরা যদি এখন নতুন পথের সন্ধান করতে চাই-তাহলে আমাদের চাহিদা গুলোকে সামনে রেখেই এগোতে হবে। তত্ত্ব ধরে এগোলে কিছুই হবে না।
সেটা মোটামুটি এই
- চাকরী এবং জীবিকার সুরক্ষা। পেনশনের সুরক্ষা।
- বাজারমুখী নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনকে চালু রাখা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে সোভিয়েত কি প্রযুক্তিতে পিছিয়ে ছিল? হ্যাঁ মানুষ মারার প্রযুক্তিতে সোভিয়েত এগিয়ে ছিল বটে-কিন্ত ঔষধ, ইলেকট্রনিক্স, কম্পুঊটার-যা মানুষের কাজে আসে-তাতে সোভিয়েত ইউনিয়ান ডাঁহা ফেল করেছে।
অর্থাৎ দুটো জিনিস খুবী গুরুত্বপূর্ন। প্রথমটা হচ্ছে বাজারের বৃদ্ধি হয়-এমন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন। এবং দ্বিতীয়টা হচ্ছে সামাজিক সুরক্ষা। এর মেলবন্ধনেই কেবল নতুন পথের সন্ধান মিলবে।
এটাকেই তৃতীয় পথ বলা হচ্ছে। বিল ক্লিনটন, টনি ব্লেয়ার এই পথের শুরু করেন। ওবামা এখন বাধ্য হচ্ছেন এই পথে হাঁটতে। একদিকে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ করে শক্তি, খাদ্য ইত্যাদির সমস্যা মেটানো। উৎপাদন বৃদ্ধি করা। চাকরী বাড়ানো নতুন প্রযুক্তি ক্ষেত্র খুলে দিয়ে। অন্যদিকে বাজারের ওপরে বিশেষত ফাইন্যান্স এবং ব্যাঙ্কিংকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনে আনা। কারন এদের মুক্তবাজারের নামে ছেরে দিলে-এরা দেশের অর্থনীতিতে আবার লাল-বাতি জ্বালাবে। ভুগবে সাধারন লোক। তাই ফাইনান্সিয়াল মার্কেট রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে থাকা দরকার। অবশ্য রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে কোন ক্ষতি নেই। যদিও এটা এখনো আছে। কিন্ত আইনগুলো মানা হয় না। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আবার রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রন শিথিল করতে হবে। কারন সেখানে লাল ফিতের বাঁধনে, নতুন প্রযুক্তি আসা ব্যাহত হবে। এখানে সরকারের কাজ শুধু টাকা জোগানোর। বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্প সংস্থাগুলি যৌথভাবে এই কাজ করবে।
অর্থাৎ এখানে প্রকারন্তারে মার্ক্সকে মেনে নেওয়া হল। উৎপাদনের পদ্ধতিই যে সমাজের চালিকা শক্তি-সেটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই তৃতীয় পথে। বার্নস্টাইন বা রোজা লুক্সেমবার্গ-কারুর কথাকেই মানা হল না-স্বতস্ফুর্ত বিপ্লব বা শুধু রাজনৈতিক সংস্কার-এর কোনটাই মানুষকে উন্নততর সমাজ দিতে পারে না। এগুলো পরীক্ষিত সত্য। কিন্তু এখানে মানা হচ্ছে প্রযুক্তি, বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা এবং সাধারন মানুষের মধ্যে তার ব্যাপক ব্যাবহার আসল সমাজবিপ্লব আনে।
আমি ওবামার সেই তৃতীয় পথের দিকেই তাকিয়ে আছি।
Tuesday, March 3, 2009
শ্রীলঙ্কার ক্রীকেটারদের প্রতি সমবেদনা জানাই
হুজি না হরকত না এল ই টি- কে করেছে সেই তত্ত্বের মধ্যে না গিয়ে-পাকিস্থান রাষ্ট্রটা আজ কোথায় দাঁড়িয়েছে সেটা একটু দেখা যাক।
(১) লাহোরের লিবার্টি চক ঝাঁ চকচকে পরিস্কার যায়গা। সেখানে ১২ জন লোক রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল-কেও লক্ষ্য করল না! যেন হয়ে থাকে!
(২) টীমের ওপর আক্রমন হতে পারে সেই গোয়েন্দা সংবাদ ছিল। সেই মত বাসের পথও ঘোরানো হল। কিন্তু যেটা প্রশ্ন
বুলেট প্রুফ বাস দেওয়া হল না কেন?
মাত্র একটা পুলিশের এসকর্ট ভ্যান?
কে খবর ফাঁস করল রাস্তার? তাহলে ত সর্ষের মধ্যে ভুত আছে।
(৩) শর্ষের মধ্যে ভুত আরো পরিস্কার করা যাক। এই এল ই টি থেকে হুজি-এদের জন্ম পাকিস্থানের মিলিটারি ইন্টালিজেন্স আই এস আই এর হাতে। ৯/১১ এর আগে পর্যন্ত পাকিস্থানের মিলিটারি এবং জঙ্গীরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে সহবাস করেছে। ৯/১১ এর পরে জঙ্গীদের স্ট্যাটাসটা রক্ষিতার স্তরে নামানো হয়েছে আন্তর্জাতিক চক্ষুলজ্জার জন্যে।
(৪) ভারতের বিরুদ্ধে এদের জিহাদ আসলেই মিলিটারির ব্যাবসা করার জন্যে কভার। আই এস আইএর লোকেরা সরাসরি আফিং এবং হিরোইন ট্রেডের সাথে যুক্ত। ভারত বেশ কয়েকটি হিরোইন এসাইনমেন্ট ধরেছে-যেখানে আই এস আই এর লোকেরা হুজিদের হাত দিয়ে হিরোইন পাঠাচ্ছিল থাইল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায়। জিহাদের নাম করে আফিং ব্যাবসা-এটাই পাকিস্থানের আই এস আই এর মূল চরিত্র।
(৫) পাকিস্থান দেশটার অবস্থা বুঝুন। খবর ছিল আক্রমন হবে। অথচ আটকানো গেল না। দেশটা কে চালাচ্ছে-কি ভাবে চলছে কেও জানে না। সরকার না মিলিটারী না জঙ্গী-দেশের নেতা কে-সেই নিয়ে গোটা বিশ্বই বিভ্রান্ত। সোয়াত উপত্যকায় জঙ্গীদের শাসন মেনে নিতে হয়েছে। মুম্বাই ঘটনার পরিপেক্ষিতে আমরা দেখেছি-জারদারি কিয়ানির কথায় উঠবোস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনত পাঞ্জাবে স্বয়ং নওয়াজ বলছেন তাকে ডোবানোর জন্যে জারদারি এই কাজ করেছেন! কারন পাঞ্জাবে জার্দারির নবনিযুক্ত গর্ভর্নর তাসিরের বিরুদ্ধে নওয়াজের বিক্ষোভ বেড়েই চলছিল।
এসব যাক -মোদ্দা কথা পাকিস্থানে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট বন্ধ। অর্থনীতি রুদ্ধ। শেষ দুবছরে অর্ধভুক্ত লোকের সংখ্যা বেড়েছে ২০%! পাকিস্থানের এখন একমাত্র তুলনা সোমালিয়া বা সুদান।
১৯৪৭ সালে-একটা ভুলের ভিত্তিতে যে রাষ্ট্রের জন্ম-তার মৃত্যু এগিয়ে আসছে। শুধু ধর্মের ভিত্তিতে একটা রাষ্ট্রের জন্ম-বা ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যার্থ হতে বাধ্য। কারন মানুষ বা সেই দেশের নাগরিকই একটা দেশের চালিকা শক্তি-আর সেই চালিকা শক্তির ভিত্তি যদি ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস হয়-মৃত্যু সমাগত। অনেকে বলতেই পারেন ধর্মকের ব্যাবহার করা হয়েছে-ইসলামের অপব্যাবহার ইত্যাদি।
কিন্তু ইতিহাস থেকে আমরা কি দেখি? ধর্মের উৎপত্তি এবং বেঁচে থাকার একমাত্র কারন হচ্ছে একে রাষ্ট্র শক্তি এবং রাজনীতিবিদরা নিজেদের ক্ষমতায়ানের জন্যে ব্যাবহার করে। ধর্মের মধ্যে প্রতিবাদি এবং প্রতিক্রিয়াশীল উভয় চরিত্রই বিদ্যমান। কিন্তু ধর্মের ইতিহাসে-সব ধর্মেই আমরা দেখবো-শ্রেনীদ্বন্দকে চাপাদেওয়ার জন্যে প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র দিয়ে প্রতিবাদকে আনা হচ্ছে। আনছে ক্ষমতালোভী কিছু গোষ্টি-পাকিস্থানে এরা মিলিটারি শাসক।
যাইহোক পাকিস্থানের বর্তমান অবস্থা থেকে বাংলাদেশে যারা ইসলামিক রাষ্ট্র চান-বা ভারতে যারা হিন্দু রাষ্ট্র চান-তারাও শিক্ষা নিন। ধর্মীয় রাষ্ট্রে কি পরিমান ধর্মীয় জঙ্গীর চাষাবাদ হতে পারে। ধর্মে হিংসা, ঘৃণা অনুমোদন করে না-এসব বাজে কথা। সব ধর্মই শর্ত সাপেক্ষে হিংসাকে মদত দেয়। বিধর্মীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। আবার মানবতা নিয়ে বড় বড় কথাও বলে। এই খিচুরী খেলে পেট খারাপ হওয়া ছাড়া আর ভাল কিছু হতে পারে না।
চাই বিজ্ঞান চিন্তার উন্মেষ। জঙ্গীদের বিরুদ্ধে এক হওয়ার রাজনৈতিক ডাকে কিছু হবে না-যতদিন পর্যন্ত আমরা বিজ্ঞান চিন্তার আলোকে বুঝতে পারবো আমরা কেও হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ নই। আমরা সবাই মানুষ। কেন না আমি পাকিস্থানি, আমি বাংলাদেশী-আমি হিন্দু-আমি মুসলমান-এই বিভেদ যতদিন থাকবে-সন্ত্রাসবাদিদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন ও তত দিন থাকবে। জনসাধারনের সমর্থন ছারা সন্ত্রাসবাদ বাঁচে না।
সুতরাং গোটা দক্ষিন এশিয়া ছড়ানো হৌক বিজ্ঞান শিক্ষার আলো-যে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে প্রতিটা মানুষ তার নিজের এবং অন্যের মনুষত্বকে অনুভব করতে পারে। মানবতার এই মহান অনুভূতি ছাড়া-ছারা-হিংসাবিভক্ত পৃথিবীতে সন্ত্রাসবন্ধের আর কোন সহজ পথ নেই।
Sunday, February 8, 2009
ডারউইন বিবর্তনবাদের আলোকে মার্ক্সবাদ এবং গান্ধীবাদ
ডারউইন বিবর্তনবাদের প্রভাব সমগ্র মানব দর্শনের ওপর এত সুগভীর, অরিজিন অব স্পেসিস লেখার পর থেকে, শুধু, ধর্মবাদিরাই ডারউইনকে আক্রমন করেন নি। মার্ক্স এবং এঙ্গেলেস দুজনেই ডারুইনের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন-অন্যদিকে তৎকালীন মার্ক্সবাদ বিরোধিরাও "সারভাইভাল অব ফিটেস্টকে" ধনতন্ত্রের বিজয় বলে আহ্লাদে আপ্লুত হয়েছেন ( এখনো এই ধরনের অজ্ঞলোকের অভাব নেই)। সমস্যা হচ্ছে এদের কেও প্রাকৃতিক নির্বাচন বোঝেন নি-জীবজগতের প্রক্রিয়াগুলি, মানব সমাজে প্রযোজ্য কি না, তাই নিয়ে খুব বেশী গবেষনা তখনো হয় নি।
তবে গত দেড়শো বছরে ডারউইনবাদ সমাজবিজ্ঞানে প্রযোজ্য কি না, তাই নিয়ে হাজারে হাজারে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ, বই লেখা হয়েছে এবং হচ্ছে। ডারউইনবাদকে সমাজ দর্শনে ঢোকানো মানেই লোকে চোখ কান বুঝে স্যোশাল ডারউইনিজমের কথা জানে-যা ঘৃণ্য, ডারউইনবাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই এবং পরিত্যক্ত। কিন্তু সেটাও আবার অতিসরলীকরন- স্যোশাল ডারউইনিজম যেমন একটি অবুঝ বিকৃতি, তেমন, প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব মানব সমাজ, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে প্রভাবিত করে কি না-সেই নিয়ে গবেষনা অতি সজীব। পক্ষে বিপক্ষে গবেষনালদ্ধ ফলের অভাব নেই-বই এর অভাব নেই। পুরো সাবজেক্টটাকে বায়োলজিক্যাল রিডাকশনিজম বলে। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানের সুত্রগুলির বেসিস বা হিউরিস্টিক, প্রানীবিজ্ঞান থেকে পাওয়া যেতে পারে কিনা-এই নিয়ে বিজ্ঞানী মহলেই রয়েছে বিরাট বিতর্ক-যা এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে লেখা সম্ভব না। তার মধ্যে থেকেই আমরা নিরেপেক্ষ ভাবে বোঝার চেস্টা করবো, পথে ঘাটে ধনতন্ত্রবাদি, সমাজতন্ত্রীদের ডারউইনকে ভাঙিয়ে খাওয়ার চেস্টা বা গান্ধীবাদিদের ডারউইনবাদের বিরোধিতা, আদৌকি আধুনিক বিজ্ঞান সমর্থন করে?
তারও আগে আমরা দর্শন শাস্ত্রের গভীর থেকে বিষয়টিকে বোঝার চেস্টা করি। সমাজ বিজ্ঞান এবং সামাজিক বাস্তবিকতা-এই বিজ্ঞান বনাম বাস্তবের পার্থক্যটা বুঝতে হবে আগে। বৈজ্ঞানিক সুত্র আসলে কি? আমাদের চারিদিকে ঘটে যাওয়া সামাজিক সত্য যা আমরা দেখি বা বাস্তবে উপলদ্ধি করি, তার সবকিছুই কি কোন না কোন বৈজ্ঞানিক সুত্রের বহিঃপ্রকাশ? মানব সমাজে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে বা ইতিহাস যেভাবে বিবর্তিত তার সব কিছুই কি কোন সুত্র ধরে হচ্ছে? যেমনটা মার্ক্সবাদিরা দাবি করেন? নিউটনের সুত্রের মতন, কিছু ' ল 'বানিয়ে কি মানব সমাজ এবং সংস্কৃতির ইতিহাসকে বোঝা যায়? এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর, সমাজ, রাষ্ট্র এবং অর্থনীতিবিজ্ঞানে অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞান মানে কিছু পর্যবেক্ষন থেকে আমরা সুত্রে আসার চেষ্টা করি-অর্থাৎ কোন একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়মের সন্ধান। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে জলের ধর্ম বোঝার জন্যে জলের অনুগুলি দ্বারা সংখ্যাতত্ত্ব বিজ্ঞান আমর তৈরী করেছি। অর্থাৎ একটা পরীক্ষালদ্ধভাবে প্রমানিত মাইক্রোসায়েন্সকে ভিত্তি করে আমরা মাক্রোজগতের সত্যে উপনীত হই। সমস্যা হচ্ছে একই ভাবে মানব সমাজে সূত্রের সন্ধান করা সম্ভব? কারন প্রতিটি মানুষের ধর্ম, মনের গঠন আলাদা। জলের দুটি অনু সর্বদাই এক। সমস্ত মানুষ যদি আলাদা হয় যাদের প্রত্যেকের ব্যাবহার এবং চিন্তা স্বতন্ত্র, তাহলে মনুষ্য সমাজের পর্যবেক্ষনগুলি বা ইতিহাস কি করে সূত্রের আকারে ধরা যায়? বস্তুত এই প্রশ্নটি সমস্ত পোষ্টমর্ডান দর্শনের ভিত্তিপ্রস্তর।
তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের বুজতে হবে দুটি মানুষ কতটা এক এবং আলাদা। এখানেই মার্ক্সবাদ এবং বায়োলজিক্যাল রিডাকশনে যারা বিশ্বাস করেন-তাদের দৃষ্টিভংগী পোস্ট মর্ডানিস্টদের থেকে আলাদা । তারা দেখান, মানুষের নির্মানের যে মাইক্রোসায়েন্স-সেটা দুটো মানুষের জন্যে এক। সুতরাং সমাজবিজ্ঞানের সুত্রে সেই মাইক্রোসায়েন্সের লেজ ধরেই উপনীত হওয়া যায়। উদ্দেশ্য এক হলেও, মার্ক্সবাদী এবং বায়োলজিল্যাল রিডাকশনের মানব নির্মান এক নয়। মার্ক্সবাদে মানুষের নির্মান সামাজিক-সেখানে বায়োলজিক্যাল রিডাকশনের বিজ্ঞানীরা পরিবেশ নির্ভর জীন ভিত্তিক মাইক্রোগঠন অনুসন্ধান করেন। ফলে মানব ইতিহাস এবং সমাজের বিবর্তনকে দেখার দৃষ্টিভংগীতে উভয় দর্শনই সুত্র বা নিয়মের সন্ধান করলেও-সেই সুত্রগুলি আলাদা এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পর বিরোধি।
মার্ক্সীয় মানুষ সম্পূর্ণ বস্তুবাদি এবং সমাজের অংশ। সমাজ ব্যাতীত তার অস্তিত্ব নেই। মার্ক্সবাদে মানব মন সমাজ এবং প্রকৃতির প্রতিফলন। স্বতন্ত্র মনের অস্তিত্ব মার্ক্সবাদে নেই। সেই মন সমাজের অংশ মাত্র। তাই সমাজ বিবর্তনের সুত্রে মার্ক্সবাদে একটি ক্লোজড সিস্টেম কল্পনা করা হয়। মানে সামাজিক বিবর্তনের ওপর পরিবেশের প্রভাব এখানে একে বারেই আসে না-বিবর্তন এখানে হচ্ছে সমাজের ভেতরে থাকা দ্বন্দগুলি থেকে[1]।
কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন একটা ওপেন সিস্টেম। ডারউইন ধরে এগোলে মানব সমাজের বিবর্তনের ইতিহাস সম্পূর্ণ পরিবেশ নির্ভর হওয়া উচিত। কারন প্রকৃতিই যোগ্যতম মিউটেশনটিকে নির্বাচন করে। মানুষের ভাষা, গায়ের রঙ এবং বেশ কিছু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অবশ্যই পরিবেশ নির্ভর। এটা খুব ভালো ভাবেই প্রমান করা যায় এবং স্বীকৃত ও বটে। ভাষার বিবতর্নের সাথে জীনের মাইক্রো-ইভল্যুশনও প্রমানিত। কিন্তু তার মানেই এটা মেনে নেওয়া যায় না-সমাজ বিজ্ঞানের সবকিছুই বায়োলজিল্যাল রিডাকশনিজম বা জ়ৈবিক সুত্রে বাঁধা যায় [2]। যেমন ধরুন রাশিয়াতে বা পশ্চিম বঙ্গে কমিনিউস্টরা কেন এসেছিল-তা কি পরিবেশ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়? তবে যেখানে খাদ্য উৎপাদন সহজ, ঐতিহাসিক ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জল বেশী, সেখানে কি সমাজতান্ত্রিক চিন্তার প্রভাব বেশী? কারন লোকজন অলস এবং পরিশ্রমী নয়? এসবই হবে অতিসরলীকরন। কেন-তা নিয়ে পরে আলোচনা করছি।
ডারউইনিজমের বিরুদ্ধে কার্ল মার্ক্সঃ** মার্ক্স অরিজিন অব স্পেশিস পড়েন ১৮৬০ সালে। প্রথমে তার প্রতিক্রিয়া ছিল সদার্থক। ফার্দিনান্দ ল্যাজলেকে এক চিঠিতে লিখলেন (জানুয়ারী, ১৮৬১)ঃ
Darwin's work is most important and suits my purpose in that it
provides a basis in natural science for the historical class
struggle" (K. Marx and F. Engels, _Collected Works_, Vol. 41, p. 246;
International Publishers, 1985)।
কিন্ত একবছরের মধ্যেই পালটি খেলেন-কারন তখন "সারভাইভাল অব ফিটেস্টের " বিকৃত ব্যাখ্যাকে কাজে লাগিয়ে-সমাজতান্ত্রিক
চিন্তার বিরুদ্ধে স্যোশাল ডারুইনিস্টরা প্রচারে নেমেছে। মার্ক্সও আসলে প্রাকৃতিক নির্বাচন ঠিক ঠাক তখনো বুঝে উঠতে পারেন নি-ফলে
তিনি ভুল করে ডারুইনকেই আক্রমন করে বসলেন পরের বছরঃ
Darwin rediscovers among the
beasts and plants, the society of England with its divisions of
labour, competition, opening up of new markets, 'inventions,' and
Malthusian 'struggle for existence.'
আসলেই ডারউইন নিজে এমন কিছু লেখেন নি। হার্বাট স্পেন্সার, উইলিয়াম গ্রাহাম সামার এরাই ডারউইনের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে
ধণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার সাফাই গাইছিলেন। এসবের সাথে যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের সম্পর্ক নেই-তা মার্ক্স বোঝেন নি। ফলে ১৮৬৬
সালে প্রকাশিত পিয়ের ট্রীম্যাক্সের বিবর্তন তত্ত্বকে-যা বিবর্তনের পদ্ধতির মধ্যে থাকা র্যান্ডমনেসকে অস্বীকার করে এবং বহুদিন আগেই
পরিতক্ত,তাকে স্বীকৃতি দিয়ে বসলেন![1]
Trémaux's great improvement was that he placed progress at the center of his
conception of evolution, whereas "Darwin regards [progress] as purely
accidental ..." (_Collected Works_, Vol. 42, p. 304).
আসলে মার্ক্সের ভয় ছিল-ডারউইনবাদের প্রভাবে তার তত্ত্বকে লোকে যদি অস্বীকার করে [3]! কারন তিনি তখন ধরেই
নিয়েছেন-
ডারউইনবাদ ধনতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা এবং সেই প্রতিযোগিতা ভিত্তিক সারভাইভাল অব দি ফিটেস্টকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। এসবই ছিল
হার্বাট
স্পেন্সার কতৃক ডারউইনবাদের বিকৃতি-এবং সেটা মার্ক্স বুঝতে অসমর্থ হৌন।
বায়োলজিক্যাল রিডাকশনিজম কি সত্য?
এটা বুঝতে-এর বিরুদ্ধ মতকেই আমরা প্রথমে বিশ্লেষন করব। এই ধারনার মূলে প্রথম আঘাত হানেন ডেভিড হাল [(The
Philosophy of Biological Science [1974])]। এদের মূল বক্তব্য হচ্ছে জেনেটিক্সের সাথে
ফেনোটাইপের-অর্থাৎ জেনেটিক কোডের
সাথে মানুষের নানান আচারন বা নির্মানের একটা যোগসুত্র তৈরী করা অসম্ভব। মনে রাখতে হবে সেটাও ত্রিশ বছরে আগের কথা।
হিউম্যান
জেনোম প্রজেক্ট বা সুপার কম্পিউটার বা মাইক্রোসায়েন্সের এই উন্নতি তখনও হয় নি [4]। ফলে জেনেটিক কোডের সাথে
ফেনোটাইপের
ম্যাপিং যত উন্নত হচ্ছে, ততই আমরা মানব প্রকৃতির সাথে জেনেটিক কোডের সম্পর্কটা আর ভাল বুঝতে পারছি। এবং সেটাই পরে
জৈব সমাজবিজ্ঞানীরা লুফে নিয়ে, তাদের হিউরিস্টিক হিসাবে কাজে লাগাচ্ছেন। যেমন ধরুন-পুরুষ নারীর থেকে বেশী এগ্রেসিভ কি না
-তা নিয়ে অনেক গবেষনা হয়েছে যা নারীবাদের ধারনাকেই পালটে দিতে পারে। জীবজগতে পুরুষ নারীর থেকে অনেক বেশী
হিংসাত্বক এবং
খাদ্য সংগ্রহের কাজেও অনেক বেশী রিস্ক এবং পরিশ্রম করে থাকে। এটা প্রমানিত সত্য। এটা মানব সমাজেও দেখা যায় বলে অনেক
সমাজবিজ্ঞানীরা
দাবি করছেন। এবং সামাজিক হিংসার গবেষনায় এসব তথ্য ব্যাবহৃত হচ্ছে। অনেক নারীবাদিরা এইসব জৈবসামাজিক গবেষনাকে
মানতে চাইছেন না।
তাতে অবশ্য গবেষনা থেমে নেই-তা নিশ্চিত ভাবেই পুরুষকে অনেক বেশী আক্রমনকারী হিংসাত্মক জীব হিসাবেই দাবী করে***।
বায়োলজিল্যাল রিডাকশনিজমের সমর্থকরা বলছেন, মানব মনে মাইক্রোসায়েন্স বুঝতে-সেই বিবর্তনের গভীরেই যেতে হচ্ছে [2]।
প্রথমত
মানব মন নিয়ে গবেষনা এখনো শৈশবে-কোন নিউরোলজিক্যাল মডেল নেই, যা মানুষের মনোবিজ্ঞানের মাইক্রোসায়েন্স হিসাবে
ধরা যেতে পারে। তাতে অবশ্য মার্ক্সবাদিদের হোলদোল নেই। কারন তারা সব দেড়শো বছর আগে থেকেই জেনে বসে আছেন!
তাই মার্ক্সবাদিদের সাথে ধার্মিকদের কোন পার্থক্য নেই। হিন্দুরা যেমন মনে করে উপনিষদ হাজার বছর আগে মানব প্রকৃতি জেনে
ফেলেছিল। মুসলমানরা আবার এক পা এগিয়ে বলে কোরানে গোটা পৃথিবীর জ্ঞান আছে। তেমন মার্ক্সবাদিরাও দাবী করে মানব মন
মানুষের সামাজিক নির্মান মার্ক্সবাদ দিয়ে গেছে!! আসলে এদের সবাই মানসিক রুগী এবং অজ্ঞানের অন্ধকারে ডুবে আছে।
বাস্তব সত্য হচ্ছে নিউরোবিজ্ঞানীরা মোটামুটি বুঝতে পারছেন-মূলত দুটি জিনিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে মানব মন [2]। প্রথমটা
স্যাইন্যাপসের স্ট্রাকচার এবং তার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন সিগন্যাল। দ্বিতীয়টি হচ্ছে নিউরোএক্টিভ পেপটাইড দ্বারা কৃত
সিগন্যালের ট্রান্সমিশন, রিশেপশন এবং মডুলেশন। স্তন্যপায়ী প্রানীদের মনের গঠনের সাথে এব্যাপারে মানব মনের গঠনের খুব
কম পার্থক্যই দেখা যায়। হবে হ্যাঁ-মানুষের মনে নিউরনের সংখ্যা অনেকটা বেশী-অর্থাৎ মানব মন যদি ২ গিগাবাইটের র্যাম
আর ৪ গিগাহার্জের প্রসেসর হয়-শিম্পাঞ্জীদের মন হচ্ছে ১ গিগাবাইট র্যাম আর ২ গিগাহার্জের প্রসেসর। অনেকটাই সেই রকম।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিগুলোর মেক্যানিজম এক-কিন্তু মানব মন অনেক বেশী বিবর্তিত বলে-'হয়ত' ফিডব্যাক লুপ অনেক বেশী।
তাই মানব আচরন অনেক ভদ্র! কিন্তু হিটলার স্ট্যালিন বা ধর্মীয় দাঙ্গার সময়, আমরা দেখতে পাচ্ছি মানবমন পশুর থেকেও
বেশী হিংসাত্মক হয়ে উঠছে। আবার এইসব ঘটনার পুরোটাই যে বায়োলজিক্যাল রিডাকশনিজম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে তা নয়।
ঐতিহাসিক বস্তুবাদকে কি বায়োলজিক্যাল রিডাকশনিজম নস্যাৎ করে?
মার্ক্সীয় ঐতিহাসিক বস্তুবাদের বিরুদ্ধে ডারুইনিয়ান ঐতিহাসিক বস্তবাদ নিয়ে বিতর্ক চলছে। আমি অবশ্য এটাকে বিতর্কের মর্যাদা
দিতে চাইছি না। কারন ডারউইনিয়ান ঐতিহাসিক বস্তুবাদের বিরুদ্ধে যারা লিখছেন-সেইসব লেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোন জার্নাল
পেপার
না। ইন্টারনেটে গলাবাজি করে, বৈজ্ঞানিক ভাবে বাতিল মর্গানের নৃতত্ত্ববিদ্যাকে আশ্রয় করে-নিজেদের অস্তিত্বকে টেকানোর চেস্টা। যা
যুক্তিবাদিদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদি বা ইসলামিস্টরাও করে থাকে।
ডারুইনিয়ান ঐতিহাসিক বস্তুবাদ দাঁড়িয়ে আছে " মানব সংস্কৃতির" প্রাকৃতিক নির্বাচনের ওপর। এবং এই নির্বাচনের পেছনে
মানব সমাজের রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস কাজ করে। অর্থাৎ মানুষ যে সংস্কৃতি তৈরী করে, তার মধ্যে সেইগুলিই বেঁচে থাকে,
যা মানব সমাজের প্রজননগত বৃদ্ধিকে সেই পরিবেশে সাহায্য করে। এই তত্ত্বদিয়ে ধর্মীয় রক্ষনশীলতা এবং তাতে
নারীর ক্ষুন্ন মর্যাদার খুব পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অথচ একই বিষয়ের ওপর, ঐতিহাসিক বস্তুবাদি ব্যাখ্যা এঙ্গেলেসের লেখা
(The Origin of the Family, Private Property and the State, 1884)
মর্গানের রূপকথাকে আশ্রয় করে আরেকটি রূপকথা।
অর্থাৎ ফ্যামিলি, সমাজ, ধর্ম, নারীর রক্ষনশীল অবস্থান-এসবই যদি আমরা সমাজের রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের দৃষ্টিতে দেখি,
তাহলে অনেক কিছু জলের মতন পরিষ্কার হয়ে যায়-এবং আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আরো ভাল অবস্থান নিতে পারি।
এবং তা আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝতে পারি।
আমি কিছুটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেস্টা করছি।
(১) মানব সমাজের আদি থেকেই যুক্তিবাদি বা নাস্তিকরা ছিল। কিন্তু সমাজটা অতীতে বা এখনো রক্ষনশীলদের সমাজ হল কেন?
এখনো সমাজে নাস্তিকরা নগন্য। শুধু বই পড়েই নাস্তিক হয় এমনটাও ভুল। শুধু স্বাভাবিক বুদ্ধি খাটিয়েই যে কেও নাস্তিক হতে
পারে। তাহলে ধর্মীয় সমাজের উৎপত্তি হল কেন?
এর ব্যাখ্যায় শ্যেনান গবেষনা করে দেখান [5]
ক) সমাজ এবং ফ্যামিলির সংস্কৃতি পরবর্ত্তী প্রজন্মে স্বাভাবিক ভাবেই ঢুকে পরে। কারন, মানুষের সংস্কৃতি বা ধর্ম নিয়ে অবস্থান
এইসব ব্যাপারগুলো কিশোর কিশোরীদের ১৪-১৫ বছরের মধ্যেই তৈরী হয়। ফলে আমরা দেখী মুসলিম সমাজের বিজ্ঞানীদের
৯২% ঈশ্বর বিশ্বাসী-হিন্দুবিজ্ঞানীদের ৫৪% আর আমেরিকাতে খ্রীষ্ঠানদের মধ্যে সেটা দাঁড়ায় ৮%। শৈশবে ঈশ্বরের ভাইরাস মাথায়
ঢোকার পর
সেটা থেকে উদ্ধার পাওয়া মুশকিল এমনকি বৈজ্ঞানিকদেরও! প্রশ্ন হচ্ছে ঈশ্বরের বিশ্বাসটা ভাইরাসের মতন ঢুকে গেল-অথচ যুক্তিবাদি
নাস্তিকরা ঐতিহাসিক
ভাবে হেরে গেল! মৌর্য্য সম্রাজ্যের সময় ভারতীয় সমাজের একটা বড় অংশ ছিল নাস্তিক-জৈন বা বৌদ্ধ।
তাদের হারিয়ে প্রথমে সনাতনী হিন্দুরা এবং পরে ইসলাম, কিভাবে ভারত দখল করে?
খ) এর উত্তর অবশ্যই রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসেই পাওয়া যাবে। সনাতন হিন্দুধর্ম এবং ইসলামের সাথে বৌদ্ধ এবং জৈনধর্মের
পার্থক্য থেকে এটা আরো ভাল বোঝা যাবে।*****
(১) হিন্দু এবং ইসলামে হিংসা ও অহিংসা, দুটোকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু হিংসা বা শুধু অহিংসা, দুটোই
সমাজের রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের জন্যে ক্ষতিকর। স্তন্যপায়ী সমাজে বেঁচে থাকার জন্যে হিংসা এবং অহিংসা-দুটোরই আশ্রয় নিয়ে
থাকে। কোরান এবং গীতা- উভয় গ্রন্থেই হিংসা এবং অহিংসা নিয়ে অনেক উপদেশ আছে। গীতা যেহেতু ডায়ালেক্টিক পদ্ধতিতে লেখা,
অর্জুন অহিংসার পক্ষে এবং তার যুক্তি কেটে কৃষ্ণ হিংসার পক্ষে সওয়ার করেছেন। এসবই সমাজের রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের জন্যে।
শুধু হিংসার আশ্রয় নিলে, সমাজই টিকবে না। আবার শুধু অহিংসা দিয়ে সমাজের শান্তি রক্ষা করা অসম্ভব। সেই সমাজ বহির্শত্রুর
আক্রমনে ধ্বংশ হওয়া যাওয়াটাই স্বাভাবিক। যা বৌদ্ধদের ভাগ্যে ঘটেছিল। হিন্দু রাজা এবং মুসলমান আক্রমনকারীরা বৌদ্ধধর্ম
কে ভারতে সম্পূর্ন ধ্বংশ করে।
(২) বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মে মেয়েদের অবস্থান হিন্দু এবং ইসলামের থেকে অনেক উন্নত। হিন্দু এবং ইসলাম-উভয় ধর্মেই
মেয়েদের মূলত "প্রজনন মেশিন" হিসাবেই দেখা হয়েছে এবং রক্ষনশীলতার বিধি নিশেধগুলি সেখান থেকেই এসেছে। এর কারনও
সেই রিপ্রোডাক্টীভ ফিটনেস। কারন সেকালে শিশুমৃত্যুর হার ছিল অস্বাভাবিক বেশী। একজন নারীর ছয় থেকে আটটি বাচ্চা না হলে
সেই সমাজের বৃদ্ধিত দূরের কথা, টিকে থাকাটাই হয়ত সম্ভব হত না। ফলে সব ধর্মেই, বিশেষত হিন্দুধর্মে নারীধর্মের আদর্শ হচ্ছে 'মা'-এটাও সমাজের
প্রজননকে সুরক্ষিত করার জন্যেই। এসব ব্যাখ্যা মার্ক্সবাদের সামন্ততন্ত্র বা পিতৃতান্ত্রিক সমাজ দিয়ে করতে গেলে একটা হাঁসজারু মার্কা
ইতিহাস প্রসব হবে। রক্ষনশীলতার ব্যাখ্যায় শ্রেনীতত্ত্ব টানা অতীব হাস্যকর। মেয়েদের গর্ভের অধিকার অর্জন করতে
রাজা-প্রজা-বুর্জোয়া-বিপ্লবী, সবাই সমান রক্ষনশীল।
কিন্তু এই রক্ষনশীলতা কি আজকের দিনে দরকার? এখনত শিশুমৃত্যু নেই!রাশিয়া মতন ফার্টিলিটি রেট একে নেমে এলে, মেয়েদের
এস উ ভি বা অনেক টাকা পুরষ্কারের লোভ দেখিয়েও সমাজের প্রজনন বাড়ানো যায়। রাশিয়াতে এই ভাবেই ২০০১ সাল থেকে
২০০৮
সালে ফার্টিলিটি রেট দ্বিগুন করা হয়েছে। এর জন্যে মোটেও রক্ষনশীলতা বা ধর্মের ডোজের দরকার লাগে নি।
সুতরাং আমরা খুব পরিষ্কার ভাবেই বলতে পারি-রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের জন্যে আগে ধর্মের বা রক্ষনশীলতার প্রয়োজন ছিল।
বিজ্ঞানের উন্নতিতে আজকে সেই প্রয়োজন অবলুপ্ত। সুতরাং বর্তমানে সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যে ধর্মের আর ভালো কিছুই
দেওয়ার নেই। তাই এইসব পুরানো ধারনা নিয়ে বসে থাকলে, সেই রাষ্ট্রএর রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস আসলেই কমে যাবে।
গান্ধীবাদ এবং রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসঃ
জৈবসামাজিক গবেষনায়, এটা এখন বেশ হট কেক। আগেই লিখলাম রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের জন্যে হিংসা
এবং অহিংসা দুটোই সমানভাবে লাগে। মহত্মা গান্ধী যদিও মনে করতেন জৈন্ বা বৌদ্ধধর্ম থেকেই তিনি
এই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন এবং তার ধারনা ডারউইনবাদের বিপক্ষে যায়। কারন গান্ধীর সমসাময়িক সময়ে
হিটলার এবং স্ট্যালিন স্যোশাল ডারউইনিজমের উদ্ধুদ্ধ হয়ে,দেদারে মানুষ মারছেন পিঁপড়ের মতন।
সেই ত্রিশ বা চল্লিশের দশকে সারভাইভাল অব ফিটেস্ট মানে হিংসা এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে
নিজের অস্তিত্বকে নিশ্চিত করাকেই বোঝাত-ফলে মার্ক্স থেকে গান্ধী-সবাই ডারউইন বুঝতে, স্যোশাল
ডারউইনিজমই বুঝে গেছেন। এবং মার্ক্সের মতন গান্ধীও ডারউইনকে গালাগাল দিয়েছেন। ডারউইনের কি
অসীম সৌভাগ্য-কার্ল মার্ক্স এবং গান্ধী,সহস্রাব্দীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিকরাও তাকে ভুল বুঝেছেন!
তবে মনে রাখতে হবে, হিংসা এবং অহিংসার মিশ্রন যে দরকার, এবং শুধু অহিংসাতে বেঁচে থাকা যায় না,
সেটা গান্ধী কিন্তু বলে গেছেনঃ
Where choice is set between cowardice and
violence, I would advise violence... I prefer to use arms in defense of
honor rather than remain the vile witness of dishonor .." (1921)
বিবর্তনের দৃষ্টিতে আলট্রুইজম বা পরোপোকারকে ব্যাখ্যা করার পর, গান্ধীবাদকে আমরা এখন বিবর্তনের দৃষ্টিতেই আরো ভালভাবে
বুঝতে সক্ষম। আলট্রুইজমকে রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস দিয়ে ব্যাখ্যা করেন উইলিয়াম হ্যামিলটন (১৯৬৪) [6]। উনি দেখান,
একটি আলট্রুইস্ট জিন প্রাকৃতিক নির্বাচনে জয়ী হবে যখন,
অন্যের উপকার করে, নিজে যে উপকার পাচ্ছে [B]]>(উপকার করার জন্যে তার খরচ [C]/ উপকারীর সাথে উপকৃতের সম্পর্ক[r])
অর্থাৎ বিশুদ্ধ উপকার বলে কিছু হয় না। সব উপকারীই ধান্ধাবাজ এবং বিনিময়ে সে কিছু চাইছে।
উপকারীর সাথে উপকৃতের সম্পর্কের কতগুলো মান আছে। এবং তা নির্ভর করে উপকারীর সাথে উপকৃতের
জেনেটিক সম্পর্ক কত কাছের। যেমন বাবা-ছেলেদের সম্পর্কে বা দুই ভাইএর মধ্যে r=1/2, দাদু, নাতি r=1/4,
কাজিন ভাইবোনেদের মধ্যে r=1/8,একই নৃতাত্ত্বিক গোষ্টিতে r=1/20. এর কাছাকাছি। অর্থাৎ ভাইবোন বা সন্তানের
প্রতি আমাদের সহজাত একটা পরোপকার সব সময় কাজ করে। কারন তার আর আমার জেনেটিক কোড প্রায় এক। সে বাঁচলে,
তার ছেলে-পুলে, নাতি নাতনির মধ্যে আমার জীনও বাঁচে!
আবার ধরুন, এই আমেরিকাতে, আমি দেখেছি, একজন ভারতীয়র
সাথে বাংলাদেশী বা পাকিস্থানীদের অনেক বেশী বন্ধুত্ব হয়-দেশে হাজার শত্রুত্ব সত্ত্বেও। কারন আমরা একই জীনপুলের অন্তর্গত।
আমার মনে আছে রোমে, আমি একজন বাংলাদেশি ফেরিওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম ভ্যাটিক্যান কোথায়? সে আমাকে সোজা ট্রামে
করে ভ্যাটিক্যানে পৌঁছে দিল। সেই সময় তার ব্যাবসার ক্ষতি হল সে দেখল না। এর কারন বাঙালী হিসাবে আমরা একই
জীনপুলের অন্তর্গত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাঙালীদের মধ্যে ধর্মের ভাইরাস ঢুকিয়েও আমাদের হিন্দু মুসলমানে আলাদা করা যায় নি।
হ্যামিলটনের তত্ত্বের পরবর্ত্তীকালে অনেক পরিবর্ত্তন হয়েছে। দুর্বল এবং সবল, লংটার্ম শর্টটার্ম, রেসিপ্রক্যাল, রিয়াল-ইত্যাদি নানান
রকমের পরোপকারের তত্ত্ব আবিস্ক্বৃত হয়েছে। অবশ্য একথা ভাবার কারন নেই-পরোপোকারের সবকিছুই বিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা
যায়। ইচ্ছাশক্তি এবং স্বাধীন চিন্তা করার ক্ষমতা মানুষের মনের আছে-সুতরাং মানুষের ব্যবহারের অনেকটাই বিবর্তন মেনে হলেও,
তার ব্যাতিক্রমও থাকবে।
মানব মনের ইচ্ছাশক্তি এবং স্বাধীন চিন্তা-এই ব্যাতিক্রমের কারনেই মার্ক্সবাদ, গান্ধীবাদ থেকে শুরু করে হিন্দুত্ববাদ বা ইসলাম-
কোন দর্শনই মানব সমাজের ভবিষ্যত নির্নয় করবে না। তা করবে একমাত্র মানুষ এবং তার সমাজের গণতান্ত্রিক বিবর্তন।
**Karl Marx was originally excited about Darwinism. But as the social Darwinists, started using survival of fittest forargument against socialism, he turned against them. Later,when it was pointed out main difference between Darwinian and Marxist evolution is-Marxist evolution is deterministic, Marx turned against indeterminism in Dawrinism.*** In reality, evidience suggests, both males and females can be aggressive depending on social environment and age.More reference to biological reduction and male domination:1.Masculinities and Crime: Critique and Reconceptualization of
TheoryBy James W. MesserschmidtPublished by Rowman & Littlefield,
1993ISBN 0847678695, 97808476786932.
2.A 2004 PhD thesis
http://www.pitt.edu/~pittanth/grad/research/putzphd.html
3.http://www.bio-medicine.org/medicine-news/Attitude-Of-Male-Dominance-May-Affect-Life-Expectancy-In-Men-4891-1/
****Religion and reproductive fitness:more reference
1.Religion is Not about God: How Spiritual Traditions Nurture Our Biological Nature and what to Expect when They FailBy Loyal D. Rue "Published by Rutgers University Press, 2005ISBN 0813535115, 9780813535111
2.http://www.jstor.org/pss/656398
3.Correlation of Intergenerational Family Sizes Suggests a Genetic Component of Reproductive FitnessAnna Pluzhnikov:Am J Hum Genet. 2007 July; 81(1): 165–169. Published online 2007 May 2. The American Society of Human Genetics4. Reproductive fitness and North Indian Muslim society: Journal of Human Eco..http://www.krepublishers.com/02-Journals/JHE/JHE-19-0-000-000-2006-Web/JHE-19-2-000-000-2006-Abstract-PDF/JHE-19-2-107-112-2006-1364-Aarzoo-S/JHE-19-2-107-112-2006-1364-Aarzoo-S-Text.pdf5. Standford Library: 4.Religion & Sciencehttp://plato.stanford.edu/entries/religion-science/
সুত্রঃ
[1] Geoffrey M. Hodgson, _Economics in the Shadows of Darwin and Marx:
Essays on Institutional and Evolutionary Themes, Cheltenham, UK:
Edward Elgar, 2006
[4]Darwinian Reductionism: Or, How to Stop Worrying and Love Molecular
Biology. Alex Rosenberg. x + 263 pp. University of Chicago Press
[5]Nolan, Paul. 2002a. “A Darwinian Historical Materialism.” In Paul Blackledge and Graeme Kirkpatrick, eds.,
Historical Materialism and Social Evolution. Basingstoke: Palgrave Macmillan.
[6] http://plato.stanford.edu/entries/altruism-biological/