Wednesday, May 24, 2023

জীবন এবং জীবিকা- ৯ ঃ উদ্বেগ/এঙজাইটি কমিয়ে টেনশনমুক্ত জীবনের সন্ধানে

 জীবন এবং জীবিকা- ৯ ঃ উদ্বেগ/এঙজাইটি কমিয়ে টেনশনমুক্ত জীবনের সন্ধানে

অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরা যা পরীক্ষায় ফল করতে পারত, তার থেকে বাজে করে কারন অকারন এঙজাইটিতে/উদ্বেগে ভোগে। আর তাদেরকেই বা কি বলব। তারা পরীক্ষা দিচ্ছে, তাদের বাবা-মার পাতলা পায়খানা হচ্ছে। এত প্রায় সব বাঙালী ফ্যামিলিতেই দেখি।
গোটা জীবনটাই খেলার স্টেডিয়াম। এখানে সবাইকে ধোনির মতন মিঃকুল থাকতে হবে। নইলে সেঞ্চুরী করার পোটেন্সিয়াল থাকলেও, শুন্য হাতে প্যাভেলিয়ানে ফিরতে হবে। সেক্ষেত্রে নামের পাশে স্কোর শুন্যই লেখা থাকবে।
তাই একাডেমিক সাফল্যের জন্য, বা চাকরি জীবনেও সফল হতে গেলে- এই উদ্বেগ/এঙজাইটি/টেনশন ম্যানেজমেন্ট শিখতেই হবে।
জীবনে সফল হওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন- এবং এটিকে ইগনর করলে, পরবর্তী জীবনে আরো গর্তে ঢুকে যাবে। তখন ডেট করা থেকে কাস্টমার মিট করা- সব ক্ষেত্রেই বাজে টাইপের টেনশনে ভুগে, লাইফ হেল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এঙজাইটি, টেনশন সম্পূর্ন কনট্রোল করা যায়।
#১ গভীর ঘুম এবং প্রচুর শরীরচর্চা/ঘাম ঝড়ানো- ঘুম এবং শরীরচর্চা বেসিক। এগুলি বন্ধ রাখলে, কম করলে, টেনশন এঙজাইটি হবেই। ব্রেইনের amygdala আমাদের ইমোশন কন্ট্রোল করে। স্লিপ ডিপ্রিভেশন হলে, ব্রেইনের ওই অংশটির, নেগেটিভ ইমোশন কন্ট্রোল করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। অর্থাৎ যত কম ঘুমোবেন, তত এঙজাইটির মতন নেগেটিভ ইমোশন কন্ট্রোল করার ক্ষমতা হারাবেন। এছারা কর্টিসল বলে একটা স্ট্রেস হর্মন ও আছে-যা আমাদের স্ট্রেস নিয়ন্ত্রনে সহায়ক। ঘুম কম হলে, কর্টিসল রেগুলেশনে সমস্যা হয়।
শরীরচর্চা করলে এন্ডোরফিন নিসৃত হয়। যা স্ট্রেস রিলিভার বা মানসিক চাপ কমায়। এছাড়া এতে কর্টিসলের মাত্রাও কমে। যা স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা কমায়।
মোদ্দা কথা গভীর ঘুম এবং এক্সসারসাইজ- এক্কেবারেই মাস্ট। আপনি যত খুশী রামদেব, বাবা রবিশঙ্কর, ব্রিদিং এক্সসারসাইজ করুন- কিন্ত গভীর ঘুম এবং দৈনন্দিন প্রচুর এক্সসারসাইজ না করলে এঙজাইটি/উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাবেন না। এটা হচ্ছে বেসিক।
#২ মাসল এবং মাইন্ড রিল্যাক্সেশন- মাইন্ড রিলাক্সেশন বললে সবাই ভাবে একটা সিনেমা দেখে ফ্রেশ হয়ে নিই! যদিও স্ক্রীন টাইম বাড়ালে উল্টোটাই হয়। যাইহোক, ভারতের গুরুরা এটা বহুদিন থেকে করাচ্ছেন। যাকে বলে প্রানায়ম। নিশ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন করে ব্রেইন এবং মাসলকে নিয়ন্ত্রনে আনা। এছারা আছে মাইন্ডফুল মেডিটেশন। অর্থাৎ মনকে সব চিন্তা থেকে মুক্ত করে, বর্তমানে যেমনটা দেখছেন বা অনুভব করছেন, শুধু সেটির প্রতিই ফোকাস করা। এর একটা সহজ উপায় আছে, যা আমি করি। সোজা কথা হচ্ছে যখন ভাল মুডে বসে আছি-কোন ভাবেই দুঃশ্চিন্তা , অন্যকোন চিন্তা মাথায় ঢোকানো যাবে না। মাথায় তালাচাবি দিয়ে কিছুক্ষন বসে যান। রিজেকশন অব অল থট। নানান দিক থেকে চিন্তা আপনার মাথায় ধেয়ে আসবে- আপনি ওগুলো মাথায় ঢোকাবেনই না। মাইন্ডফুল মেডিটেশন নিয়ে প্রচুর গবেষনা হয়েছে এবং টেনশন মুক্ত হতে এবড়ই কাজের জিনিস। যদিও আমাদের ঋষিরা বহুদিন আগে থেকেই এটি করে আসছেন।
# ৩ আরেকটা টেকনিক আছে। দার্শনিক চিন্তা। বিশেষত স্টয়িক চিন্তা। এঙজাইটির একটা বড় কারন, ফেয়ার অব ফেলিওর। আগে থেকেই ভাবা- যে আমি ব্যর্থ হব।বা হতে চলেছি। প্রচুর ছাত্র ছাত্রী আত্নহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে এর জন্য। স্টয়িক দর্শনের জন্ম গ্রীসে, পূর্নতা পেয়েছিল রোমে। সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের মেডিটেশন গ্রন্থে এর সন্ধান পাই আমরা। এখন পাশ্চাত্যে প্রচুর লোকজন স্টয়িস্ট। আমি নিজেও দেখেছি এদের চিন্তাধারা বেশ কাজের।
একটু ব্যখ্যা করি। আপনি পরীক্ষাতে না হয় ফেইলই করলেন। কি হবে? মারা ত যাবেন না? টুকটাক স্বাধীন ব্যবসা করেই খাবেন। ব্যবসা ঠিক করে করতে পারলের চাকরি থেকে বেশী টাকা। আর বাচ্চা বয়স থেকে শিখতে পারলে, সফল হবেনই। এবার একজন রাজার কথা ভাবুন। তার ছেলে, তার বৌ, তার সেনাপতি, তার মন্ত্রী, অন্যদেশের রাজা-সবাই তাকে মারার তালে আছে। বিষ মেশাতে পারে। ঘাতক ছুরি মারতে পারে। অন্য রাজা সেনা নিয়ে আক্রমন করতে পারে। সেনা বিদ্রোহ হতে পারে। ছেলে বন্দী করতে পারে। যেকোন মুহুর্তে লোকটা মারা যেতে পারে। তার এঙজাইটির লেভেল কি হতে পারে?? আপনি ত বেঁচে থাকবেন। সে যেকোন মুহুর্তে মারা যেতে পারে!
সেই জন্য স্টয়িস্টরা বলে মেক পিস উইথ ওয়ার্স্ট সিচুয়েশন। আমি পড়াশোনা করছি চাকরির জন্য। সেটা হলে ভাল। নাহলে দোকান দেব। ব্যবসা করব। তাতেই শান্তিতে থাকব।
একটা মেয়ের সাথে ডেটে গেলাম। সব থেকে বাজে কি হতে পারে? মেয়েটা রিজেক্ট করবে!! মেয়েটা এক্সেপ্ট করলেই বা কি আপনি কি ভাল থাকতেন? এটা চাকরির জন্যও সত্য।
ধরুন চার বছর পিএইচডি করার পর গাইডের সাথে ঝামেলা হচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো সময়টায় নষ্ট হল। একদম না। যদি সত্যিই কিছু শিখে থাকেন, তা অনেক অনেক কাজে লাগবে। এক্সাম্পল পৃথিবীর এক এবং দুইনাম্বার ধনকুবের - ইলন মাস্ক এবং জেফ বেজোস। দুজনেই পিএইচডি ড্রপ আউট। অধিকাংশ আন্তারপ্রেনারই কলেজ ড্রপ আউট- জাকারবার্গ, বিল গেটস, স্টিভ জবস, মুকেশ আম্বানী, গৌতম আদানী- লিস্ট বেসিক্যালি হুজ হু। অর্থাৎ যেটা আপনি ভাবছেন-আপনার জীবনের আর কিছু হবে না। কেরিয়ার আটকে গেল। ভুল ভাবছেন। কোন কিছুতেই কিছু আটকায় না।
এই জীবন লম্বা ম্যারাথন। এক দুবার পড়ে গেলে পিছিয়ে যাবে না কেউ। বরং সুস্থ থেকে লম্বা দৌড়ের ক্ষমতা অর্জনটাই আসল।
( অনেকেই আমাকে ইনবক্স করেছেন, কি করে আমার আগের লেখা, বা আগামী লেখাগুলো পাওয়া যাবে। ইজি ওয়ে- আমার প্রোফাইলে Follow বাটনে ক্লিক করলেই হবে )
(

জীবন এবং জীবিকা-৮ ঃ কিভাবে স্মৃতি শক্তি বা মেমরী পাওয়ার বাড়াবেন

 জীবন এবং জীবিকা-৮ ঃ কিভাবে স্মৃতি শক্তি বা মেমরী পাওয়ার বাড়াবেন

বিপ্লব পাল, ১৫ই মে, ২০২৩
[ আগের পর্বগুলোতে আলোচনা করেছি মূলত স্ট্রাটেজি। কি পড়বেন, কোথায় পড়বেন, কোথায় শিখবেন ইত্যাদি। এই পর্ব থেকে শুরু করছি, আরো গুরুত্বপূর্ন আলোচনা-কিভাবে মানসিক এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে ছাত্রছাত্রীরা। যা অতীব গুরুত্বপূর্ন। প্রথমেই শুরু করব মানসিক দিকগুলি নিয়ে। তারপরে শারীরিক সক্ষমতার প্রশ্নে। কারন মানসিক এবং শারীরিক সক্ষমতা না বাড়ালে, অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার চাপ, সফল হওয়ার চাপ, সামাজিক চাপ-ইত্যাদি নিতে পারবে না। ভারত/বাংলাদেশের এক বিপুল অংশের ছাত্রছাত্রীরা অলরেডি ডিপ্রেশনে ভোগে বা ভুগছে। এই ধরনের বিপর্যয় যাতে ছাত্রছাত্রীদের জীবনে না আসে-তারজন্য একাধিক স্টেপ আগে থেকেই নেওয়া উচিত। সেইগুলি নিয়েই এই পর্ব এবং আগামী পর্বগুলিতে আলোচনা চালিয়ে যাব। ]
পৃথিবীর ইতিহাসে যত সফল নেতা বা প্রতিভাবান ব্যক্তির নাম আপনি জানেন-তাদের সবার অসাধারন স্মৃতিশক্তি ছিল। তাই নিয়ে প্রচুর গল্পও আছে বাজারে।
শার্লক হোমস বা বোমকেশ বক্সী কাল্পনিক চরিত্র হতে পারে-কিন্ত তারা যেভাবে জটিল সমস্যার সমাধান করেন- একজন বিজ্ঞানী বা সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার ও কিন্ত একই পথে সফলতা পান।
সেটা কিরকম ?
হোমস বা ব্যোমকেশ দুজনেই ক্রাইম নিয়ে ভাবেন। ক্রাইম সিন নিয়ে গভীরে ভাবেন। এবং দেখবেন, অধিকাংশ গল্পেই ক্রাইম সিনে কোন ক্ল পাচ্ছেন তাদের চিন্তায়- যা থেকে প্রমানিত হয়, তারা খুবই ডিটেলেস এ ক্রাইম সিনটা "মনে রেখেছেন"। একজন বিজ্ঞানীও ঠিকই একই পথে, একই রকম ডিটেলেস মেমেরী থেকে উপকৃত হন। থমাস আলফা এডিসন-তিনি আমাদের ইলেক্ট্রিক লাইট/বাল্ব, চলচিত্র, ডায়ানামো থেকে মাইক্রোফোন- সব দিয়েছেন- তার ছিল ফটোগ্রাফিক মেমরী। শার্লক হোমসের মতন প্রতিটা ব্যর্থতা তিনি দেখতে পেতেন। তার থেকেই সন্ধান পেতেন সঠিক পথের।
সুতরাং সফল হতে গেলে সুস্থ এবং ফটোজেনিক মেমরী খুব দরকার। এমনিতেও আমার বলার কিছুই নেই-যেহেতু ভারত এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীদের এতগুলি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে হয়-সেগুলি বুদ্ধির পরীক্ষা না। মূলত মেমোরাইজেশন- বা কে কত মনে রাখতে পারে তার প্রতিযোগিতা।
কিন্ত প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে আমরা স্মৃতিশক্তি ভাল রাখতে পারি? বা বাড়াতেও পারি?
মূলত তিনটে দিকে আমাদের চেষ্টা করতে হবে। এই নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষনা কি বলছে, তাও লিখছি।
প্রথম হচ্ছে, কিভাবে ইনফর্মেশন আমরা ব্রেইনে ঢোকাচ্ছি। যেমন যদি গল্পএর ছলে, লিখে বা এঁকে ইনফর্মেশন মাথায় ঢোকে- তা অনেক ভালভাবে দীর্ঘদিন মেমরীতে থাকে। অর্থাৎ কিভাবে পড়াশোনা করলে, তা মনে রাখা সহজ?
দ্বিতীয় হচ্ছে, লাইফস্টাইল। ঘুম, মেডিটেশন বা ধ্যান করা, স্মার্টফোন বা ভিডিও দেখা লিমিটের মধ্যে রাখা-ইত্যাদি ইত্যাদি। ঠিক কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত-যাতে মেমরী পাওয়ার ভাল থাকে।
তৃতীয় - বাজারে যেসব সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়, মেমরী এবং ফোকাস বাড়ানোর জন্য-তা আদৌ কাজের কি না? বিজ্ঞান কি বলে?
ইনফর্মেশন ব্রেইনে ঢোকানোর পদ্ধতি-অর্থাৎ কিরূপে আপনি পড়াশোনা মনে রাখবেন?
এটা তিনটে সিস্টেমেটিক ধাপে করতে হয়।
প্রথমে, বোঝার চেষ্টা করুন আপনার ব্রেইন, নতুন কিছু ঢোকানোর অবস্থায় আছে কি না। রাত ১২ টার সময় যখন ঘুম পাচ্ছে তখন ব্রেইনে কিছু ঢোকে? নাকি সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে রাখা ইজি? আপনার জীবনে শেখার সব থেকে ভাল সময় ঘুম থেকে ওঠার পর। শুধু ঘুম হলেই হল না, ঘুম গভীর হওয়াও দরকার, মেমরী ঠিক রাখার জন্য। ঘুমের দুটো স্টেজ আছে। র্যাপিড আই মুভমেন্ট ( রেম), নন রাপিড আই মুভমেন্ট ( নারেম) বা গভীর ঘুম!!
আমাদের আছে শর্টটাম মেমোরী-যা থাকে ব্রেইনের হিপোক্যাম্পাসে। আর লংটার্ম মেমরী- থাকে নিওকর্টেক্সে। গভীর ঘুমে ( নারেম), আমাদের শর্টটাম মেমরী, হিপোক্যাম্পাস থেকে লংটার্ম মেমরীতে চলে যায়। এই প্রসেস প্রতিদিন সম্পূর্ন না হলে, হিপোক্যাম্পাস, নতুন তথ্য নেওয়ার জন্য রেডি থাকে না। গভীর ঘুমের পর হিপোক্যাম্পাস অনেক বেশী রেডি থাকে নতুন তথ্যের জন্য। সেইজন্য সব সময় ঘুম থেকে উঠে যে সময়টা পাওয়া যায়, সেটা আড্ডা/খেলা/টিভি দেখার জন্য না দিয়ে, নতুন কিছু শেখার জন্য ব্যবহার করা উচিত। কারন ওই সময়টাই ব্রেইন নতুন কিছু নেওয়ার জন্য সব থেকে বেশী রেডি থাকে। আমি তাই করি বহুদিন।
দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে, ইনফর্মেশন যেটা মাথায় ঢোকাতে যাচ্ছেন-সেটা ভেঙে ভেঙে বুঝতে হবে। দরকার হলে লিখে সামারি করে নোট করেও নিতে পারেন। কিন্ত বোঝায় ক্লারিটি থাকা দরকার।
তৃতীয় ধাপ সব থেকে গুরুত্বপূর্ন। সেটা হচ্ছে, এই যে দ্বিতীয় ধাপটি করলেন খাতায় -লিখে বা এঁকে-এটিই সরাসরি মনে মনে করে ফেলুন। যেন চোখ বন্ধ করে সিনেমা দেখছেন। প্রতিটা ধাপ যেন মনের মধ্যে ভেসে ওঠে। খাতা পেনের সাহায্য ছাড়া।
তৃতীয় ধাপ খুব গুরুত্ব। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরা দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত করে-কিন্ত তৃতীয় ধাপে যায় না। যারা এই থার্ড স্টেপটা করতে পারে, তারাই সব থেকে বেশী সফল। পরীক্ষা এবং কাজেও।
আমার নিজের জীবনের গল্প বলি। আমি উচ্চমাধ্যমিকে নরেন্দ্রপুরে পড়েছি। মাধ্যমিক পর্যন্ত গ্রামশহর করিমপুরের স্কুলে পড়ে, নরেন্দ্রপুরে ঢোকা। মাধ্যমিক পর্যন্ত ওই দ্বিতীয় ধাপে আটকে ছিলাম। আমার অধিকাংশ বন্ধুরাও তাই। নরেন্দ্রপুরের বাই মান্থলিগুলোতে প্রচুর কঠিন প্রশ্ন হত। প্রথম বাই মান্থলিতে প্রচুর ছেলেরা ফেল করল। যাদের অনেকেই মাধ্যমিকে ১-২০ এর মধ্যে র্যাঙ্ক করা। আমি পাশ করলাম বটে-কিন্ত এত বাজে নম্বর পেতে অভ্যস্থ ছিলাম না। ভাবছি কি করা যায়। কারন পড়াশোনায় ত্রুটি ছিল না- প্রচুর সময় দিচ্ছিলাম। যারা ফেইল করেছিল-তারাও সময় দিয়েছে। এদিকে দেখলাম বেশকিছু ছেলেপুলে, একদম খুব কম সময় দিয়েও ভাল রেজাল্ট করেছে। তাদের স্টাডি করে বুঝলাম, তারা ওই স্টেপ-৩ টা করছে-অর্থাৎ একদম ফোটোজেনিক মেমরী দিয়ে ধ্যান করে ওই ইনফর্মেশনটা ধাপে ধাপে ভেঙে মাথায় ঢোকাচ্ছে।
এই আবিস্কারটুকু আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। এরপর আমাকে কোন ইনফর্মেশন মাথায় ঢোকানোর ব্যাপারে কষ্ট করতে হয় নি। এবং আগে মাধ্যমিকে যেখানে দিনে ৮-১০ ঘন্টা পড়াশোনা করতে হত-উচ্চমাধ্যমিকে ১-২ ঘন্টাও দিনে লাগত না। বাকী জীবনেও আমাকে কখনোই দিনে ১-২ ঘন্টার বেশী পড়াশোনা করতে হয় নি। কারন ওই তৃতীয় ধাপের সফল ব্যবহার।
এবার আসি লাইফস্টাইলের প্রশ্নে। মেমরী ঠিক রাখতে গেলে আট ঘন্টা এবং গভীর ঘুম ভীষন ভাবেই দরকার। কারনটা আগেই লিখলাম। নন রাপিড আই মুভমেন্ট স্টেজেই একমাত্র মেমরী শর্টটার্ম থেকে লংটার্মে ট্রান্সফার হয়। ওটা না হলে, নতুন কিছু শেখা প্রায় অসম্ভব।
আজকালকার ছেলেমেয়েদের সবার হাতেই স্মার্টফোন,। এরা এত ভিডিও গেমস, চ্যাট করছে- অনেকেই প্রায় ঘুমাচ্ছে না। ফলে তাদের শেখার ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। খুব সাধারন পড়াশোনাও মাথায় ঢোকাতে পারছে না। বাজে রেজাল্ট থেকে ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে।
সাথে সাথে শরীর চর্চাও দরকার, যাতে ব্রেইনে অক্সিজেন সার্কুলেশন ভাল থাকে। এই নিয়ে পরের পর্বে লিখব। ভাল ঘুমের জন্য, গভীর ঘুমের জন্য শরীর চর্চা, ঘাম ঝড়ানো খুবই জরুরী।
এবার দেখি, বাজারে কোন সাপ্লিমেন্ট আছে কি না-যা মেমরী পাওয়ার বাড়ায়।
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড- এই ব্যপারে কোন স্টাডি কনক্লুসিভ না। তবে এটা ঠিক, কিছুটা কগনিটিভ এবিলিটি এটি বাড়ায়।
জিঙ্কো বিলোবা- হার্বাল সাপ্লিমেন্ট। বহুদিন থেকে এশিয়ানদের বিশ্বাস যে ইহা, মেমোরি পাওয়ার বাড়ায়। কিন্ত বৈজ্ঞানিক স্টাডি নেই।
বাকোপা মনেইরি- যারা ব্রেনোলিয়া খান-এটিই থাকে। কিন্ত এটিও আদৌ কাজ করে কি না, কোন প্রমান নেই।
ভিটামিন -ই - হ্যা, ভিটামিন ই, মেমোরি পাওয়ার বৃদ্ধিতে কার্যকর। এর অনেক প্রমান আছে। তবে না ঘুমালে ভিটামিন ই ও বাঁচাবে না।
সোজা কথা আপনার ছেলেমেয়েটি যেন যথেষ্ট ঘুম এবং শরীরচর্চা করে তার দিকে আগে নজর দিন। মানসিক এবং শারীরিক সুস্বাস্থ্য সবার আগে।
( যারা আগামী পর্বগুলো পড়তে চান, তারা প্লিজ প্রোফাইলে গিয়ে ফলো করুন। )
[ কাল আমাকে অনেকে ইনবক্স করেছেন, চ্যাট জিপিটি দিয়ে কোডিং শেখার কোন পেশাদার কোর্স আছে কি না। আপনারা সুদীপ পাঁজার সাথে যোগাযোগ করুন 9851773526 -ওরা সামারে এই ধরনের কোর্স অর্গানাইজ করছে ]

Sunday, May 14, 2023

জীবন এবং জীবিকা-7 ঃ চ্যাট জিপিটি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্সের দুনিয়ার নতুন চাকরি

(১)  

এই মহুর্তে অনেক শিক্ষকই চাইছেন না, ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের এসাইনমেন্টের জন্য চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করুক। এটা ভুল পদক্ষেপ। ছাত্রছাত্রীরা কোডিং বা এসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করা না শিখলে- চাকরির বাজারে আরো পিছিয়ে পড়বে। 

 আমি চ্যাটজিপিটির পেশাদার ভার্সন ফেব্রুয়ারী মাস থেকে সাবসক্রাইব করছি। বর্তমানে আমার নানাবিধ কাজের জন্য চ্যাট জিপিটি ৪ বহুল পরিমানে ব্যবহার করি। এর থেকে একটা জিনিস খুব পরিস্কার ভাবে বলছি- চ্যাট জিপিটির কাছ থেকে ভাল রেজাল্ট, বা ভাল আউটপুট পেতে গেলেও অনেক অনেক জানতে হবে। অনেক বুদ্ধিমান এবং স্ট্রাটেজিস্ট হতে হবে। 

যারা ভাবছেন, চ্যাট জিপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শেখার আর কি আছে? শুধু প্রশ্ন করলেই হল!  তারা চ্যাট জিপিটি ভাল করে ব্যবহার করা জানেনই না। 

চ্যাট জিপিটির সাহায্য নিয়ে কোন কিছু শিখতে গেলে, প্রথমেই শিক্ষার ক্ষেত্রে বুদ্ধের দর্শনের আশ্রয়ে আশা ভাল। শিক্ষক বুদ্ধের গল্পটা বলে নিই আগে 

"এ গল্প বৈশালী নগরে এক পন্ডিত শাস্ত্রজ্ঞর। তিনি ভারতের নানান প্রদেশের নানান গুরুদের কাছে বেদ বেদান্ত শিক্ষা করেছিলেন। স্থানীয় মহলে পন্ডিত হিসাবে তিনি ছিলেন সুখ্যাত।

গৌতম বুদ্ধ বা শাক্যমুনির দর্শন তখন দাবানলের মতন ছড়িয়েছে সর্বত্র । পন্ডিতজী ভাবলেন গৌতম বুদ্ধ যখন বৈশালী নগরে আসবেন, তখন পরম জ্ঞানী বুদ্ধের কাছে তিনি তার দর্শন শিখবেন।
বুদ্ধ সাধারনত বর্ষাকালে বড় শহরে কাটাতেন। সব সময় তার সাথে দু চার হাজার সন্ন্যাসী । খুব বড় শহর ছাড়া , বর্ষাকালের দীর্ঘ সময় ধরে অতজন সন্ন্যাসীর ভিক্ষা জোগার করা অসম্ভব ।
এক বর্ষায় বুদ্ধ বৈশালী নগরে আশ্রয় নিলেন। খবর পেয়ে, নগরের সেই পন্ডিত শাস্ত্রজ্ঞ বুদ্ধের সাথে দেখা করতে এলেন। অভিলাশ বুদ্ধে যদি তাকে ছাত্র হিসাবে গ্রহন করেন! তার দু হাতে প্রচুর ফুল। অন্যান্য গুরুদের সাথে প্রথামাফিক প্রনাম করার জন্য ফুল নেন উপহার হিসাবে। সেটাই ভারতের প্রথা।
তাকে দুই হাতে ফুল সহ আগুয়ান দেখে বুদ্ধ বল্লেন- উঁহু সব ফেলে আমার কাছে এস!
সেই ব্যক্তি ঠিক বুঝলনা! ফুলে আবার দোষ কি? অহ হয়ত বাঁহাতে ফুল আছে বলে বুদ্ধ রাগ করেছেন। ফলে বাঁ মুষ্টির ফুল ফেলে শুধু ডানহাতে ফুল নিয়ে তিনি বুদ্ধের দিকে আরেক পা এগোলেন,
বুদ্ধ আবার বল্লেন উঁহু-সব ফেলে আমার কাছে এস
এবার সেই পন্ডিত ভাবলে, তাহলে ফুলেই সব দোষ। সে বেচারা সব ফুল ফেলে দিল!
বুদ্ধ আবার বল্লেন উঁহু-সব ফেলে আমার কাছে এস
এবার পন্ডিতজী থতমত। যাকে বলে এট টোটাল লস। বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন-প্রভু আমার দোষটি কোথায় যদি দয়া করে বলেন?
বুদ্ধ আবার বল্লেন দোষ কোথায়-সব ফেলে আমার কাছে এস..
আমি তোমায় ফুল ফেলতে বলেছি কি? বলেছি সব কিছু ফেলে আমার কাছে আসতে! তোমার জ্ঞানের অহংকার খুব ভারী। তুমি অনেক কঠিন ধারনার মধ্যে বদ্ধ। আগে সেটা ফেলে হাল্কা হয়ে নাও। মনকে মুক্ত কর। মুক্তমন ছাড়া নতুন কোন ধারনা মাথায় ঢুকবেই না! আমার শিক্ষা সাধারনের জন্য সাধারন শিক্ষা। যাকে বলে কমন সেন্স। "

(২)
মরাল অব দ্যা স্টোরি হচ্ছে -চ্যাট জিপিটিকে প্রশ্ন করার আমি কিছুই জানি না- এই মনোভাবে এসে- একদম বেসিক থেকে চ্যাট জিপিটিকে প্রশ্ন করতে হবে। ধাপে ধাপে ভেঙে, প্রশ্ন করে , সেরা উত্তর বার করতে হবে।

চ্যাট জিপিটি আপনার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

আমি একটা উদাহরন দিচ্ছি। ধরুন আপনি নিউটনের বলবিদ্যা বা নিউটনিয়ান মেকানিক্সের সূত্রগুলি শিখতে চান।

এখন স্কুলে সবাই নিউটনের গতিসূত্র পড়েছে। সবার ধারনা তারা নিউটনের গতিসূত্র ভালোভাবেই জানে। আসলে কিন্ত ৯৯% ছাত্রই এই বেসিক টুকুও ভাল করে শেখে নি। ইনার্শিয়াল আর নন-ইনার্শিয়াল ফ্রেম অব রেফারেন্স কেন লাগে, কেন তা নিউটনের মেকানিক্সে গুরুত্বপূর্ন অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই তা ঠিকঠাক শেখে না। কারন তারা সূত্রগুলো মুখস্থ করে কিছু ফর্মুলা মার্কা অঙ্ক শিখেছে।

চ্যাট জিপিটির মতন মহান শিক্ষক পাবেন না। চ্যাট জিপিটির কাছে শিখতে গেলে, প্রথম প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন- আমি কেন নিউটন্স ল অব মোশন শিখব?

এর এ উত্তর পাবেন, সেটা ১০% বোঝার ক্ষমতা অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীদের নেই। এর পরে প্রশ্ন করুন, নিউটন্স ল অব মোশন শেখার জন্য, কি কি বিষয় শেখা জরুরী ? এবং সেই বিষয় গুলি কোন বই, কোন সাইট থেকে শিখতে পারেন? এখানে চ্যাট জিপিটি আপনাকে শিক্ষকদের থেকেও ভাল রেফারেন্স দেবে। কোথা থেকে কি শেখা উচিত সেটাও বলে দেবে।

এবার চ্যাট জিপিটি যা শিখতে বলেছে-তা একটার পর একটা বিষয় তুলে জিজ্ঞেস করুন এই জিনিসটা কোন বই, কোন ভিডিও, কোন সাইটে ভাল শেখা যাবে। চ্যাট জিপিটি সব দিয়ে দেবে। এরপর যদি কোন ডাউট থাকে কনসেপ্ট নিয়ে, সেটাও চ্যাট জিপিটিকে জিজ্ঞেস করে দেখুন।

আমি বুদ্ধের ভাষায় বলতে চাইছি। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছ থেকে ভুল্ভাল শেখে। কারন অধিকাংশ মানব শিক্ষকের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা অনেক। তাই যেকোন টপিকে একদম ফ্রেশ মাইন্ডে- আমি কিছুই জানি না এই মনোভাব নিয়ে চ্যাট জিপিটিকে প্রশ্ন করা শুরু করুন- যে কি কি শিখব, কেন শিখব, কোথা থেকে শিখব। শেখার পর কিছু বুঝতে না পারলে প্রশ্ন করুন। সব ভুলে নতুন করে শিখুন।

ভবিষ্যতে চ্যাট জিপিটি বা সমমানের আর্টিস্ফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টুল দিয়েই চলবে গোটা পৃথিবী। সেই টুল ব্যবহার করা সহজ না। যার মন যত বেশী শিখতে ইচ্ছুক- যে যত বেশী ভাল প্রশ্ন করতে পারবে, সেই সব থেকে ভাল উত্তর বার করতে পারবে।

প্রশ্ন করতে স্কুলে শেখায় না। স্কুল শেখাচ্ছে রট আন্সার। মুখস্থ করে বমি। তাতে চলবে না। যারা স্কুলের শিক্ষাকে বেশী গুরুত্ব দেবে -তারা কিন্ত পিছিয়ে পড়বে। যারা চ্যাট জিপিটিকে প্রশ্ন করা শিখবে।চাকরির মার্কেটে তারাই এগিয়ে থাকবে।


Wednesday, March 15, 2023

জীবন ও জীবিকা 5 - যারা কোর সাবজেক্টএ বিটেক বা সায়েন্সে এম এস সি পাশ করছে তাদের ভবিষ্যত কি? -৬ ই মার্চ, ২০২৩

 জীবন ও জীবিকা 5 - যারা কোর সাবজেক্টএ বিটেক বা সায়েন্সে এম এস সি পাশ করছে তাদের ভবিষ্যত কি? -৬ ই মার্চ, ২০২৩

(১)
ক্যাপিটাল বা পুঁজির গতি
'
আমরা কি চাই, আমাদের কি কাজ করতে ভাল লাগে, তাই দিয়ে কিন্ত চাকরি বা জীবিকা তৈরী হয় না।
আবার আমাদের কি প্রয়োজন, বিশ্বের কি প্রয়োজন -তাই দিয়েও নতুন জীবিকা তৈরী হয় না।
জীবিকা এবং চাকরির পেছনে, একটাই শব্দ "পুঁজি" বা ক্যাপিটাল। আপনি চান বা না চান, ক্যাপিটাল যেদিকে ছুটবে, চাকরির গতিও সেই দিকেই হয়। আর সেটা অনেক কারনেই সমস্যা। মূল দুটো কারন হল-অনেক ক্ষেত্রেই হাইপের পেছনে অনেক চাকরি তৈরী হয়। তারপর দেখা গেল সেই ফিল্ডের আর হাইপ নেই । ফলে সেখানে প্রচুর বেকার তৈরী হয়। টেলিকম এমন এক উদাহরন। দ্বিতীয় কারন হচ্ছে, এই কোর ফিল্ডগুলির যেসব কোম্পানী-তারা অপেক্ষাকৃত স্টেবল হলেও যখন বসে যায়, তখন নতুন কোন চাকরি পাওয়া সমস্যা হয়। কারন অলিতে গলিতে সফটোউয়ার কোম্পানীর মতন কোর কোম্পানী সর্বত্র সর্বভূতে নেই।
আমি আগেই লিখেছি, কেউ যদি তার সাবজেক্টে খুব ভাল হয়- তাকে চাকরি খুঁজতে হয় না। চাকরি তাকে খুঁজে নেবেই। এটাও লিখেছিলাম ১% ছেলেমেয়েরা যারা নিজেদের সাবজেক্ট ব্যাচেলর বা মাস্টার্স করেছে-তারা নিজেদের সাবজেক্টটা জানে কি না সন্দেহ।
ভবিষ্যত জানতে গেলে একটা জিনিস অবশ্য জানা দরকার। সফটোয়ার বা মেকানিকাল বা ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারদের- মানে কোর সাবজেক্টে যারা বিটেক করেছে -তাদের মাইনে আসে কোথা থেকে?
মূলত তিনটে জায়গা থেকে। প্রোডাকশন, আরেন্ডি বা গবেষনা, আর সেলস ইঞ্জিনিয়ার বা সেলস সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে।
এর মধ্যে ভারতে প্রথম দুই এর স্কোপ খুব কম। কারন প্রোডাকশন সবাই আই টি আই পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার ডিপ্লোমা দিতে চালায়। খুব কম কোম্পানী বিটেক হায়ার করে। আমি দেখেছি জেকে টায়ার, প্রোক্টর এন্ড গ্যাম্বলের বিরাট প্ল্যান্টে হার্ডলি হাতে গোনা মাত্র কজন বিটেক ইঞ্জিনিয়ার থাকে। তাদের মাইনে ছোট সফটোয়ার কোম্পানীর জুনিয়ার সফটোয়ার ডেভেলপারদের থেকেও কম।
ভারতের অধিকাংশ কোম্পানীর আরেন্ডি নেই। টাটারা ব্যতিক্রম। বাকি সবাই বিদেশ টেকনোলজি লাইসেন্স করে। ভারতের আই আই টিগুলো টেকনোলজি ডেভেলপ করতে পারে না-কারন তাদের পেছনে শিল্প সংস্থার খুব বেশী সাপোর্ট নেই। অবস্থা এখন আস্তে আস্তে বদলাচ্ছে। বিশেষত বিজেপি সরকার ডিফেন্স ইন্ড্রাস্ট্রি ডি আর ডি ও নামক সরকারি সাদা হাতি থেকে বার করে প্রাইভেটাইজ করে ভাল করেছে-কারন এতে অন্তত কোর ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাহিদা বাড়বে। আমেরিকাতে মেকানিক্যাল ইলেক্ট্রিক্যাল ইত্যাদি ভাল ভাল কোর ফিল্ডের লোকেদের চাকরি হয় মূলত এইসব ডিফেন্স কোম্পানীগুলিতে। এছাড়াও আর্মিকোর ইঞ্জিনারিং, এয়ারফোর্স মেইন্টেনান্স ইত্যাদি মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাহিদা আস্তে আস্তে বাড়তেই থাকবে। কারন ভবিষতে যুদ্ধ করবে রোবটেরা, রোবট গাড়িতে চেপে! নেহেরুর সরকারি কোম্পানী খুলে নতুন ট্যাঙ্ক বানানোর ভূত ভারতের মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিকাশের প্রচন্ড ক্ষতি করেছে। এখন প্রাইভেটাইজেশনের ফলে আস্তে আস্তে এই সেক্টরের বিকাশ হবে ভারতে। ফলে কোর ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বাড়বে। ডিফেন্স শিল্পে লাইসেন্সিং করে বেশী দূর যাওয়া যায় না। ফলে এখানে ভাল কোয়ালিটির কোর ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা ভালোই বাড়বে।
আর পরে রইল সেলস। সেলস ইঞ্জিনিয়ার যত না ইঞ্জিনিয়ার তার থেকে তাকে সাহিত্যিক হতে হবে-কথা সাহিত্যিক হতে হবে বেশী! যাদের সাহিত্যে ছিল মন, কিন্ত বাবা-মা জোর করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলে ঢুকিয়ে দিয়েছে-তাদের জন্য সেলস ইঞ্জিনিয়ার হওয়া ভাল। এখানে কমিউনিকেশনের কদর আছে। সেলস ইঞ্জিনিয়ারদের মাইনে এবং ওঠার স্কোপ দুটোই ভাল। কিন্ত তাদেরকে ইঞ্জিনিয়ারিং, কমিউনিকেশন এবং অপারেশন- এই তিনটেই দক্ষ হতে হয়। যা বেশ কঠিন। তাই তাদের মাইনে আগের দুটো ক্ষেত্রের থেকে বেশী।
(২) নতুন যুগের নতুন ডিমান্ড --
কিন্ত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মানে ইলেক্ট্রিকাল, ইলেক্ট্রনিক্স, সফটৌয়ার শেখার দরকার নেই?
এই মুহুর্তে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ সব থেকে হট টপিক - অটোমেটেড কার, ইলেক্ট্রিকাল কার, ড্রোন, রোবটিক্স ইত্যাদি। এগুলো মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স, সফটোয়ার, এই আই-সব কিছুর মৃগয়া ক্ষেত্র। এর সাথে আছে মেটাভার্স- যা গেম ইঞ্জিনের বাস্তব অনেক এপ্লিকেশন। সেখানে ফিজিক্স, মেকানিক্যাল, সি প্লাস প্লাস-সব কিছুই লাগে।
আগের মতন মেকানিক্যাল মানে, শুধু মেশিন ডিজাইন শিখে লাভ নেই ( ভারতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াদের সেই স্কিলও কারুর নেই )। মেকানিক্যাল ইলেক্ট্রিক্যাল ইদ্যাদি সব ব্রাঞ্চের ছাত্রদের সফটয়ার ডেটা সায়েন্স সেন্সর, মেকাট্রনিক্স ইত্যাদি সাবজেক্ট শেখা উচিত। মুশকিল হচ্ছে ভারতের কোন কলেজে এসব শেখাবে? মেকানিক্যালের ক্লাসিক্যাল সাবজেক্ট পড়ানোর ভাল শিক্ষকই ত নেই!
এই জিনিসটা যারা ফিজিক্স, স্টাট, ম্যাথ , কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়ছে তাদের জন্যও সত্য। কেমিস্ট্রি এবং বায়োলজির ভবিষ্যত ভাল হওয়া উচিত কারন হেলথকেয়ার উত্তোরোত্তর আমাদের ইনকামের, আমাদের জিডিপির অধিকাংশ খেয়ে নিচ্ছে। কিন্ত ভারতে এটা হচ্ছে না। কারন ভারতে বায়োলজি, কেমিস্ট্রির স্টার্টাপ নেই। সবাই ভারতে কর্মাস স্টার্টাপ খোলে ১৪০ কোটি মানুষের মার্কেট পেতে। ফলে ভারতের ছাত্ররা বিদেশে গিয়ে গবেষনা করে নতুন জিনিস তৈরী করছে-আবার ভারতের কোম্পানীরা বিদেশ থেকে লাইসেন্স করে সেটা কিনছে! তবে এখানে দিনকাল আস্তে আস্তে বদলাচ্ছে। আরো বদলাবে।
অনেকেই বলবেন যারা ফিজিক্স কেমিস্ট্রি পড়ছে-তাদের শিক্ষকতার লাইন ত খোলা রইল! আমি খুব নিশ্চিত নই- চ্যাট জিপিটি, গুগুলের যুগে কিভাবে শিক্ষকতা এবং সাবজেক্টের পুনবিন্যাস হবে। আমেরিকাতে অলরেডি স্কুল লেভেলে এসব বেসিক সায়েন্সের টিচারদের ডিমান্ড খুব কমে গেছে। কারন আমেরিকাতে হাই স্কুল থেকেই [ এখানে ক্লাস ৯ থেকে ১২, ৪ বছর হাইস্কুল] "এডভান্সড প্রোগ্রাম" বা এপি স্পেশালাইজেশন করতে দিচ্ছে। ফলে যে ভবিষ্যতে সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইছে, সে হাইস্কুলেই ৫-৭ টা কলেজ লেভেলের কম্পিউটার সায়েন্স কোর্স নিতে পারে- তাকে ম্যাথ বা ফিজিক্সের বা কেমিস্ট্রির খুব কম কোর্স নিতে হয়। যারা ডাক্তারি বা ফার্মাসিতে যাবে তারা বায়োলজি, কেমিস্ট্রির বেশী কোর্স নিচ্ছে । আমার ধারনা এটা ভারতের নতুন এডুকেশন পলিসিতে এসে গেছে। কারন ভারতের বর্তমান স্কুল সিস্টেম সম্পূর্ন বোগাস এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করছে। এগুলো বদলাবেই। এবং ভারতের নতুন শিক্ষা পলিসিতে সেটা স্বীকার করা ও হয়েছে।
আমি মনে করি যারা কেমিস্ট্রি বায়োলজি ফিজিক্স নিয়ে পড়ছে-তাদের ভবিষ্যত বেশ ভাল- যদি তারা সাবজেক্টটা শেখে এবং বিদেশে শিল্প গবেষনাতে চান্স পায়। বা দেশেও আরেন্ডিতে কাজ শুরু করে। ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ অটোমেট করা সহজ। সায়েন্সে সেটা সম্ভব না। কারন সেখানে কাজটাই হচ্ছে নতুন আবিস্কার। এই এ আই এর যুগে ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের অটোমেশন হবে সবার আগে। কারন ইঞ্জিনিয়ারিং রিপিটেটিভ স্টান্ডার্ড কাজ- যার অটোমেশন করা সব থেকে সহজ। সুতরাং ইঞ্জিনিয়াররাও সায়েন্সটিস্ট হয়ে যাবে। এবং সেটাই হচ্ছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা রোবটের এ আই নিয়ে গবেষনা করছে।
ভবিষ্যতে মেকানিক্যাল ইলেক্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলে কিছু থাকবে না। এগুলোকে বলা হবে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমেশন সায়েন্স বা ওই জাতীয় কিছু।
আসলে আমরা খুব দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। যারা এই পরিবর্তনের ধারাপাতটা দ্রুত বুঝতে পারবেন, একমাত্র তাদের সামনেই উজ্জ্বল ভবিষ্যত। বাকীটা বেশ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট বাইনারী কেস।

জীবন ও জীবিকা ৪ - এবার যারা বিটেক পাশ করছে তাদের ভবিষ্যত কি?

 জীবন ও জীবিকা ৪ - এবার যারা বিটেক পাশ করছে তাদের ভবিষ্যত কি?

-৫ই মার্চ, ২০২৩
[১]
গত তিনমাসে যেসব সংবাদ ভারতের নিউজ পেপারে দেখেছি
#১ ইনফোসিস উইপ্রো এক্সেঞ্চার ফ্রেশার লেওফ করেছে। আরো করবে কিছু খবরে আসছে। অধিকাংশই খবরে আসে নি । এদের ক্যাম্পাসিং হয়েছিল ২০২১ সালে। ২০২২ সালে যারা ক্যাম্পাসিং করে পেয়েছে, তাদের অধিকাংশ এখনো জয়েনিং ডেট এবং লেটার পায় নি। তাদের ঢোকার কথা ছিল আগষ্ট অক্টবরে। যদিও খবরে দেখানো হচ্ছে ইন্টারন্যাল টেস্ট পাশ করতে পারে নি বলে এদের তাড়ানো হয়েছে। আমি এমন ছেলেমেয়েদের সাথে কথা বলে জেনেছি-আসলে এরা বেঞ্চে ছিল। কোম্পানী কাজই দিতে পারছিল না। কিন্ত খবর এসেছে অন্যভাবে [ তথ্যসূত্র কমেন্টে)
# ২
টিসিএস, কগনিজেন্ট, উইপ্রো-সবার এক অবস্থা ২০২২ এবং ২০২১ সালের পাশ আউট ফ্রেশার দের নিয়ে। বেসিক্যালি ভারতের আই টি মেজরদের সবার অবস্থা এরকম
২০২১ সালে যাদের ক্যাম্পাসিং হয়েছিল তাদের ম্যাক্সিমাম বেঞ্চে আছে এবং নীরবে লেওফ ফেস করছে।
২০২২ সালে যারা ক্যাম্পাসিং এ পেয়েছিল তাদের অধিকাংশর জয়েনিং এরা দিতে পারছে না এখনো। [ কমেন্টে নিউজ লিংক দেখুন] কারন বেঞ্চে প্রচুর ফ্রেশার বসে আছে।
২০২৩ সালে ক্যাম্পাসিং প্রায় হচ্ছে না।
এগুলো নিয়ে যেটুকু সংবাদ আসে-তা খুব সামান্য। কারন কর্পরেট লবি এসব খবর চেপে দিতেই পছন্দ করে। মুর্গী হয় ছাত্রছাত্রীরা। কিন্ত তবুও এবার খবর আটকানো যাচ্ছে না। প্রচুর সংবাদ আসছে, গ্লোবাল আই টি রিশেসনে ফ্রেশারদের দুরাবস্থা নিয়ে।
[২]
এবার দুটো জিনিস আরো জানা যাক।
# ১ আই টি, সফটোয়ার অটোমেশন এগুলো বাড়াতেই থাকবে। আই টির ডিমান্ডে সমস্যা নেই।
# ২ আই টির সার্ভিস মার্কেটে ফ্রেশারদের ডিমান্ড থাকবেই। কারন ফ্রেশারদের দিয়ে কাজ করিয়েই কোম্পানীগুলির আসল মার্জিন-মানে বড় লাভ হয়।
কিন্ত দুটো নতুন জিনিস ও জানা দরকার।
# ১ চ্যাটজিপিটির কোডেক্স টাইপের সফটোয়ার নিজে নিজেই মোবাইল এপ ইত্যাদি লিখে দিচ্ছে-শুধু ফিচার কি হবে বলে দিলেই হল। সুতরাং আই টি এবং সফটোয়ারের ডিমান্ড বেশী থাকা মানেই কিন্ত চাকরির সংখ্যা বাড়তেই থাকবে- সেটা না। অন্য স্কিলের লোকজনের সংখ্যা বেশী হবে। যেমন অলরেডি কোম্পানী সেই টাইপের লোক খুঁজছে যারা চ্যাট জিপিটি কাজে লাগিয়ে তাদের কাজ টা করে দেবে। এতে কোম্পানীর প্রফিট বেশী।
# ২ ফ্রেশার দিয়ে লাভ করা- এই বিজনেস মডেল থাকবে কি না- সেটাই সন্দেহ। কারন বেসিক কোডিং চ্যাট জিপিটিই করে দেবে।
কেউ কেউ আবার এতোটাই আশাবাদি [ কমেন্টে তথ্যসূত্র দেখুন], তারা বলছেন আগামী ৫ বছরে কোডিং টাই থাকবে না। আমি এদের দলে। কারন আমি পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি প্রাইভেট ডেটাবেসে এই ধরনের লার্জ লাঙ্গুয়েজ মডেল ট্রেইন করাতে পারলে, বটেরা মানুষের থেকে অনেক ভাল কোড করবে।
সুতরাং আই টি সেক্টরে ক্যাম্পাসিং, অতীতের গল্প হয়ে যেতে পারে। যদিও মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রিকাল ইত্যাদি কোর সেক্টরে এখনো সেই ভয় নেই। কিন্ত ভারতে কোর সেক্টরের মাইনে খুব কম।
[৩]
প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রেশ গ্রাজুয়েটরা কি করবে? কারন শুধু ২০২৩ সালে যারা পাশ করবে তারা না, ২০২১ সালে যারা পাশ করেছে, দুর্দিন তাদের সামনেও।
সুতরাং আমার উপদেশ, নতুন ছাত্রদের চ্যাটজিপিটির কোডেক্সের সাথে পরিচিত হতে হবে। নতুন যেসব কোডিং ট্রেনিং আসছে চ্যাটজিপিটিকে ব্যবহার করে [ যেখানে চ্যাট জিপিটি নিজেই ট্রেনার]-সেগুলো শিখতে হবে দ্রুত। এগুলো করলে, ভালোই চান্স আছে। নইলে আগের মতন ক্যাম্পাসিং এর ভরসাই থাকলে, ভাগ্যে দুর্ভাগ্য আর হতাশা ছাড়া কিছু আশা দিতে পারছি না। আমি বলব ছাত্রছাত্রীরা তাদের আগের ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানুন শিখুন মার্কেটের অবস্থাটা কি।
See insights
Boost unavailable
All reactions:
Dipankar Banerji, Indranil Basu and 61 others

জীবন এবং জীবিকা-6 ঃ কোম্পানীতে ইন্টার্নশিপ, বিটেক সার্টিফিকেটের থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ন ?

 জীবন এবং জীবিকা-৫ ঃ কোম্পানীতে ইন্টার্নশিপ, বিটেক সার্টিফিকেটের থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ন ?

শ্রীধর ভেম্বুর নাম শুনেছেন? অনেকেই শোনেন নি-কারন তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ভারতের সব থেকে সফল সফটোয়ার প্রোডাক্ট কোম্পানী জোহো তৈরী করেছেন। শ্রীধর আই আই টি মাদ্রাস, তারপর প্রিন্সটনের পি এইচ ডি। জোহো ভারতের সব থেকে সফল স্টার্টাপ-কিন্ত কোন স্টার্টাপ ফান্ডিং নেয় নি। সম্পূর্ন অর্গানিক গ্রোথ। জোহোর নাম, ভারতের আই টি ছাত্ররা হয়ত শোনে নি-কারন জোহো ক্যাম্পাসিং করে না। অথচ, আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে জোহোর সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোয়ালিট ভারতের অন্যান্য সফটোয়ার কোম্পানীর থেকে অনেক এগিয়ে। গোট বিশ্বজুড়ে তাদের প্রোডাক্টের সাফল্য-যেখানে তারা সিলিকন ভ্যালির বহু বিলিয়ান ইনভেস্টেড কোম্পানী সেলসফোর্সকে হারিয়ে দিচ্ছে- সেখানে সন্দেহের অবকাশ থাকে না, তাদের সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের কোয়ালিটি আন্তর্জাতিক মানের। কিন্ত তারা আই আই টি ইত্যাদি ক্যাম্পাসিং করে না!!
শ্রীধর মনে করেন, ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি কোয়ালিটি সম্পূর্ন ফালতু। ওই দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রোডাক্ট কোম্পানী হবে না- বড়জোর টিসিএস ইনফির আই টি কুলিগিরির বিজনেস হবে। সেইজন্য শ্রীধর তামিলনাডুর গ্রামে গ্রামে নিজেই জোহোর স্কুল খুলেছেন। বাছাই করা গরীব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের তুলে এনে মাসে ১০,০০০ টাকা ইন্টার্নশিপ স্টাইপেন্ড দেন। একদম স্কুল থেকে তারা জোহোর ভাল ভাল সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে হাতে কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে ( ইন্টার্নশিপ )। শ্রীধরের কোম্পানীর একদম সেরা মানের সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার পাওয়ার চাবিকাঠি এটাই।
শ্রীধর ভেম্বু দেখিয়ে দিয়েছেন ভারতের ছেলেমেয়েরাও পারে। একদম বিশ্বমাঝে শ্রেষ্ঠ আসন নিতে পারে যদি, তাদের আমরা সেই সুযোগ, সেই পরিকাঠামো দিই।
কোলকাতার সেক্টর ফাইভের সফটোয়ার কোম্পানীর অধিকাংশ সিইওই আমার ব্যক্তিগত লেভেলে চেনা। অনেকে বহুদিনের বন্ধু। তাদের সাথে দেখা হলেই, গল্পটা আক্ষেপের পর্যায়ে চলে যায়। আক্ষেপ এই যে- আই টি ব্যবসার মার্কেট খুব ভাল। বিশেষত আউটসোর্সিং এর। কিন্ত আমরা সঠিক ভাবে ভাল কোডার পাই না। সাপ্লাই লাইনের অভাবে আমাদের সবার ব্যবসাতেই ভাল ক্ষতি হচ্ছে। প্রোডাক্ট কোম্পানী বানানো অনেক দূর। ব্যাঙ্গালোর বা পুনেতে যে অবস্থা খুব বেশী ভাল তা না। এত এত ছেলে পাশ করে বেরোচ্ছে- এদের ১% ও ভাল কোডার না। ২০১৯ সালে একবার আমরা ক্যাম্পাসিং এ পরীক্ষা নিয়েছিলাম। ১৮০০ ছাত্রের মধ্যে মাত্র ৩জন ৩০% এর বেশী পেয়েছিল। আমাদের একটা কোডিং ক্লাব আছে- সেখানে ৫০০+ মতন ছাত্রছাত্রী কোডিং চ্যালেঞ্জ প্রাক্টিস করে। ১০জন ছাত্রছাত্রীও নেই যে বলবো এরা কোডিং ভাল শিখেছে। ভাল শিখেছে মানে গুগুলের যে কোডিং স্টান্ডার্ড- কোডিং জ্যাম এর স্টান্ডার্ড মেইন্টেইন করতে পারে!
এবার আমরা সব দোষ দিই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর ওপর। কারন অভিযোগ তারা টিচারদের ঠিকঠাক ইউজিসির স্কেল দেয় না। টিচার নেই। মুশকিল হচ্ছে যদি তারা শিক্ষকদের ঠিক ঠাক ইউজিসির স্কেল দিতও, তাহলেও একজন ভাল কোডারের বেতন একজন ইউজিসির প্রফেসরের থেকে ৩-৮ গুন!!!! সুতরাং কোন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, শিক্ষকদের ইউজিসি স্কেল দিলেও ভাল কোডিং শিক্ষক পাওয়া যাবে তা কিন্ত গণিতের নিয়মেই সম্ভব না।
তাহলে ছেলেমেয়েরা সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বা কোডিং ভাল শিখবে কোথায়?
অনেক বাবা-মা চিন্তিত হয়ে আমাকে হোয়াটসাপ মেসেজ পাঠান-ছেলেটা +১২ এ খুব খারাপ রেজাল্ট করেছে। এখন একটা ওচা প্রাইভেট ইঞ্জিনিইয়ারিং কলেজ ছাড়া পাচ্ছে না! কি করা যায় ইত্যাদি-ইত্যাদি--
আমি তাদের একটা কথায় বারবার বলেছি- তাদের ছেলে বা মেয়েরা যদি সত্যিই সফটয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং শিখে ভাল চাকরি করতে ইচ্ছুক- তাহলে কোন কলেজে কি ডিগ্রি পাচ্ছে-তা দেখে লাভ নেই। তাকে ফার্স্ট ইয়ার থেকে কোন সফটোয়ার কোম্পানীতে ইন্টার্নশিপ মানে খাতা কলমে কোডিং শিখতে হবে।
কোলকাতায় এমন প্রচুর ছোটখাট কোম্পানী আছে। ৪-১০জন কর্মী। কিন্ত মালিক নিজেই সফটয়ার কোডার। ভাল কোডার। সেই শেখায়। আজকের দি্নে বিটেক, বি এস সি এসব ডিগ্রি দিয়ে কেউ চাকরি পাবে না। সে স্কিল জানে সেই পাবে। যারা আই টি ক্যারিয়ারে ইচ্ছুক-তাদের একদম স্কুল লেভেল থেকেই এইসব ছোট ছোট সফটোয়ার কোম্পানীতে ইন্টার্নশিপ করে কোডিং শেখা উচিত। আরেকটু ভাল শিখলে, আরেকটু বড় কোম্পানীতে যাবে।
নইলে ৩ বা ৪ বা ৫ বছরের যাই আই টির কোর্স হোক-সব বেকার। কোন কাজের না। কোন কলেজেই কোডিং এর ভাল শিক্ষক নেই। কারন যে ভাল কোডীং জানবে সে কোম্পানীতে চাকরি করবে, বা নিজেই কোম্পানী খুলবে।
সুতরাং যারা আই টি কেরিয়ারে ইচ্ছুক-তাদের প্রথম বর্ষ থেকেই ছোট ছোট কোম্পানীগুলোতে ইন্টার্নশিপে যেতে হবে। এছাড়া কোডিং ভাল শেখার দ্বিতীয় কোন উপায় নেই।

Wednesday, March 1, 2023

জীবিকা ও জীবন -৩ ঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কি ভাবে তৈরী হতে হবে ছোটবেলা থেকে ?

 জীবিকা ও জীবন -৩ ঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কি ভাবে তৈরী হতে হবে ছোটবেলা থেকে ?

বিপ্লব পাল, পয়লা মার্চ, ২০২৩
এটা মাধ্যমিক, সিবিএসসির সময়। আমি বেশ অবাক হই, এখনো এদের সিলেবাসে সেসব প্রশ্ন আসে, যা গুগুল করলে এক সেকেন্ডেই পাওয়া যায়। চ্যাট জিপিটি আরো এক কাঠি ওপরে-এখন প্রশ্ন করলে, "মোটামুটি" কোয়ালিটি উত্তর ও দিয়ে দেবে।
২০০১ সালের প্রবল ঠান্ডার মধ্যে যখন আমেরিকাতে এসেছিলাম, তখন দেশটাকে ঘুরে দেখার একমাত্র উপায় ছিল পেপারের ওপর আঁকা ম্যাপ। ২০০৪ সালে কর্মসূত্রে ক্যালিফোর্নিয়াতে একেক মাসেই ঘুরতাম প্রায় আট দশ হাজার মাইল । গ্রাম থেকে গ্রামে, পাহার থেকে হ্রদে। ক্যালিফোর্নিয়ার গোটা রাজ্যটাই পৃথিবীর বুকে স্বর্গ। হাতে ম্যাপ। মাধ্যমিকের ভূগোল নলেজ কাজে আসত। তারপর এসে গেল জিপিএস-গার্মিন। সেই বলে দিতে লাগল, রাস্তা, অলি গলি। এখান থেকে ওখানে! ব্যাস গত ১৬ বছরে ম্যাপ রিডিং একদম হারিয়ে গেছে। এখন ইচ্ছা করেই অনেক সময় জিপিএস চালাই না। আমার টেসলার সামনে এক ঢাউস ম্যাপ দেখা যায়। নিজেই ম্যাপ দেখে রাস্তা রাউট করি। এইটুকু মাঝে মাঝে, না করলে, ম্যাপ রিডিং করার ব্রেনের যে ক্ষমতা ছিল, যা সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে যাবে।
আরেকটা মজার ঘটনা বলি। কোলকাতায় আমার যে ড্রাইভার-সে একবার কোন রাস্তায় গেলে, সম্পূর্ন মনে রাখে। মানে ছবির মতন রাস্তাঘাট মনে রাখত। গত দুই বছর দেখছি-সেও স্মার্টফোনে নেভিগেশনের স্বাদ পেয়ে গেছে। এখন আর মনে রাখার চেষ্টা করে না। এখন সেও স্মার্টফোনের নির্দেশ নির্ভর!
ক্যালকুলেটর আর স্প্রেডশিটের দিনে কেউ আর যোগ বিয়োগ গুন ভাগ মনে মনে করে না। ফলে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে সেন্স অব নাম্বারটাই হারিয়ে গেছে। আমি এখনো কিছু কিছু যোগ বিয়োগ গুন ভাগ, মনে মনে করার চেষ্টা করি। নইলে সেন্স অব নাম্বার সম্পূর্ন হারিয়ে যাবে। যা একজন ইঞ্জিনিয়ার এর পক্ষে খারাপ।
চ্যাট জিপিটি আসার সাথে সাথে, এটাই আমার প্রথমে মনে এল। এবার ছাত্রছাত্রীরা লেখালেখির অভ্যেস ছেড়ে দেবে। যদিও চ্যাট জিপিটির লেখার হাত মারাত্মক কিছু ক্রিয়েটিভ না- কিন্ত কার্যকর। কিন্ত ছাত্রছাত্রীরা যদি লেখালেখি ছেড়ে দেয়, চিন্তা করাটাই ছেড়ে দেবে। লেখাত আমাদের চিন্তার প্রতিবিম্ব।
মেশিনের ওপর নির্ভর হতে হতে এই যে সেন্স অব ডিরেকশন, সেন্স অব নাম্বার, বেসিক চিন্তাকে ট্রান্সলেট করার ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে- এর ফল হবে মারাত্মক।
আপনি বলবেন কেন? অটোমেশন যা করে দিচ্ছে-যা মানুষে করে কি হবে?
এবসোলিউটলি ঠিক। কিন্ত অটোমেশন কি করবে- সেটা খামারই হোক বা কারখানা- মিলিটারি বা মেডিক্যাল -বলে দিতে হবে কিন্ত সেই মানুষকেই। আর সেটা করতে গেলে আমাদের চিন্তাকে আরো উন্নত করতে হবে- যেখানে এই সেন্স অব ডিরেকশন, সেন্স অব নাম্বার, এবসট্রাকশন, কাল এবং ত্রিমাত্রিক ধারনা-একটা সিম্যুলেশন সম্পূর্ন মাথায় রাখা-এগুলো না রাখলে সেই সৃজনজীল চিন্তা, সেই ক্রিয়েটিভ স্ট্রাটেজিই বা আসবে কোথা থেকে?
হোয়াট ইজ ক্রিয়েটিভিটি? সৃজনশীলতা কি ? সৃজনশীলতা-তা কাব্যেই হোক, বা বিজ্ঞানে, অঙ্কে বা ফুটবলের মাঠে- তা একটাই- চিত্রকল্প মাথায় ভেসে ওঠা।
মেসি, এমবাপের পাশ গুলো দেখেছেন? ওই পাশ গুলো যে "অন্যতম সমাধান" সেগুলো আপনি আগে থেকে ভাবতে পারেন? ওরা পারে। কারন ওগুলো দ্রুত ওদের ব্রেনে ভেসে ওঠে।
১৯৯৭-৯৮ সাল। তখন পিএইচডি করছি। আমার লিনাক্স সিস্টেমে একটা দাবার গেম ছিল। সেটার সাথে খেলতাম এবং হারতাম। এটা সেই সময় যখন ক্যাস্পারভ বনাম ডিপ ব্ল -মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ হত। ২০০৪-৫ সালের পর আর এসব হয় নি। কারন এখন অতি সাধারন কম্পিউটার গেমের এলো রেটিং ৩০০০+ হয় এবং তা গ্রান্ড মাস্টারদের হারিয়ে দেবে। আমি হারতাম, শুধু শিখতে। মনে রাখবেন, জিতলে কেউ শেখে না। শেখে হারলে। সাফল্য শেখায় না, ব্যর্থতা শেখায়।
এখন প্রশ্ন উঠবে, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের সব ক্ষেত্রে হারিয়ে দেয়, তাহলে, তার সাথে যুদ্ধ করে, প্রতিযোগিতা করে কি হবে?
দুটো ভুল হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু সেই ক্ষেত্রেই কাজ করবে-যেখানে ডিগ্রি অব ফ্রিডম কম এবং সিস্টেমে ডেটারমিনিজম বেশী। দাবাখেলায় কম্পুউটারকে হারানো যায় না- কারন দাবা খেলায় কটা সম্ভাব্য চাল হবে- এবং তার ফল কি হবে, তা আগে থেকে গননা করা সম্ভব।
কিন্ত ধরুন আপনি বৌ বা প্রেমিকার সাথেও খেলছেন। সেই খেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে চাল দিতে বলুন। ডাঁহা ফেল করবে। কারন আপনার বৌ বা প্রেমিকার মুড এবং চয়েস দুটোই ভীষন আনসার্টেন-কখন কি করবে তার ঠিক নেই! যুক্তিপূর্ন চয়েস নেবে-তারা কোন নিশ্চয়তা নেই। একই কথা খাটে কন্সিউমার মার্কেটে। মহিলারা যে কিভেবে কি যুক্তিতে তাদের পার্টনার বা প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে- তার অনেক ক্ষেত্রেই মাথামুন্ডু থাকে না-একজন ক্রেতা কেন কিনবে- সেই যুক্তিও যে খুব যে বেশী যুক্তিপূর্ন -তা না। এখানেই মানুষের স্কোপ।
প্রেমিকা, কনসিউমার-এসব সিস্টেমের ডিগ্রি অব ফ্রিডম এত বেশী-এসব ক্ষেত্রে কিছু কিছু কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করতে পারলেও, মানুষ লাগবেই।
দ্বিতীয় ব্যপারটা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে নিরন্তর প্রতিযোগিতায় থেকে, তার কাছ থেকে দ্রুত শিখতে হবে। বুঝতে হবে তার দুর্বলতা। এই জন্যে আমি সব সময় চ্যাট জিপিটি যত গুলো পয়েন্ট বলে- সব সময় ভাবি আর কি ও বললো না। কি মিস করে গেল। কাজটা বেশ কঠিন। একজন ছাত্র হলে আরো কঠিন। কিন্ত ভবিষ্যতে শিক্ষক এবং ছাত্রদের কাজ সেটাই। চ্যট বট, আই-বট- হরেক রকমের বট কি পারে না-যা আমরা পারি-সেটা না বার করতে পারলে, লোকে কাজে কেন নেবে? চ্যাট জিপিটি দিয়েই করবে।
সুতরাং একজন ছাত্রছাত্রীকে এখন থেকেই দুটো কাজে প্রচন্ড দক্ষ হতে হবে
#১ কিভাবে এইসব চ্যাটবট ব্যবহার করে, দক্ষতা আরো অনেক বাড়ানো যায়
# ২ দক্ষতাই শুধু না, চ্যাটবটের ভুল বা, চ্যাটবট যদি কিছু মিস করে যায়-তা ধরার ক্ষমতাও রাখতে হবে। এটা কঠিন কাজ, কিন্ত সম্ভব। ইন্টালেকচুয়াল লেভেল অনেক বেশী লাগবে।
মোদ্দা কথা ক্যাচাপ এন্ড দেন এক্সিড এ আই । কাজটা সহজ হবে না। কিন্ত করতে হবে।
খুব বাজে শোনালেও সত্য, সফটোয়ার শিল্পের ৯৫% চাকরি বাজারে টিকে আছে-কারন মানুষে বাজে কোয়ালিটির কোড লেখে। এগুলো দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে বটেদের উৎকর্ষ উৎপাতে। তারপর? সেই ৯৫% লোক কি করবে?
লোকে টিকে থাকবে আইডিয়া এবং এবস্ট্রাকশনে। অর্থাৎ চিন্তার উৎকর্ষতায়-সৃজনশীলতার জোরে।
কালকে এম আই টির এক ছাত্রীর ইন্টারভিউ দেখছিলাম। তার বয়স এখন ৩৫। বেশ কটি ফেইলড স্টার্টাপের পর লেটেস্ট স্টার্টাপে ২০০ মিলিয়ান ডলার বা ১৬০০ কোটি টাকা তুলেছে। বানিয়েছে এক নতুন প্রোটিনের বিউটি ক্রিম- যা বুড়িদের ও ছুড়ি বানা্বে। বটক্সের বিষহীন বিকল্প। সে একটা কথা ঠিক বলেছে। যতই ভাল স্কুল হোক-তা ১০০তে ১০০ পেতে শেখায়। কেউ শেখায় না শুন্য পেলে,মানে ফে;লিউর হলে, কিভাবে সেই ফেলিওর থেকে শিখে সাফল্যের পথে যেতে হবে। অথচ এটাই হওয়া উচিত আসল শিক্ষা । ভবিষ্যতের শিক্ষা। যেখানে সবাই একটা পরীক্ষা দেবে। সেখানে ১০০ তে সবাই শুন্য পাবে। তারপর ভুলগুলো পর্যবেক্ষন করে ১০০ তে ২০ পাবে। তারপরে আবার ভুলগুলো চর্চা করবে-করে সেখান থেকে ১০০ তে ৫০ পাবে। এইভাবে আসে আস্তে সে একমাস বা দুইমাসের চেষ্টায় ০/১০০ থেকে ৯০/১০০ তে আসবে। এই শিক্ষা না পেলে, কর্মক্ষেত্রে এখন স্কুল কলেজের সব শিক্ষা সম্পূর্ন ইউজলেস। যে প্রশ্নে ১০০/১০০ পাওয়া যায়, তা চ্যাট জিপিটিও করে দেবে।