Wednesday, February 24, 2016

কমরেড রোবট

                                                                                (১)
কালকে পেনসিলভেনিয়াতে একটা আধুনিক প্লাস্টিক প্ল্যান্টে ছিলাম গোটা দিন । এই প্ল্যান্টে আমেরিকার নামীদামী কসমেটিক ব্রান্ডের প্যাকেজ তৈরী হয়।  কোম্পানীর মোট রেভিনিউ ২০০ মিলিয়ান ডলারের ওপরে ।
 
   প্রায় ১০০ হাজার স্কোয়ারফিটের ক্লিন রুমে শখানেকের বেশী মেশিন। কোন ওপারেটর নেই। ফ্লোরের একটা রুটিনে দেখলাম তিনটে শিফটে সব মিলিয়ে মোটে ৬৫ জন শ্রমিক কাজ করে ।  এই যে শখানে মেশিন কাজ করছে-সব অটোমেটিক কন্ট্রোলে- মানুষ শ্রমিক শুধু প্রোডাক্টটা বেড়িয়ে এসে বক্সড হবার পরে, বাক্সটাকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে ট্রাকে রাখছে। কুলিগিরির কাজ। সস্তার রোবট এলে সেই কাজটাও থাকবে না।

  আর খুব বেশী হলে আছে দশজন মতন ইঞ্জিনিয়ার। তারা কন্ত্রোলরুম বা আর এন্ডি রুমে থাকে।

   ১৯৯০ সাল আমেরিকাতে যত শিল্প শ্রমিক ছিল-এখন আছে তার মাত্র ১০%।  কিন্ত উৎপাদন বেড়েছে তিনগুন। মালিকের লাভ বেড়েছে অনেক। শ্রমিকের বেতন যা বেড়েছে, ইনফ্লেশন আডজাস্ট করলে-তা প্রায় একই আছে। বাই দ্য ওয়ে-এটি পাবলিক কোম্পানী। সুতরাং মালিক বলতে এই ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডার সাধারন পাব্লিকই ধরা যাক।

  আজকে ইনফোসিসের সি ই ও বিশাল সিক্কার ইন্টারভিউ দেখছিলাম। ডঃসিক্কা-পরিস্কার বলছেন অটোমেশনের জন্য ভারতের আই টিতে এই বিশাল ফোর্স আর থাকবে ন। সবার লাভ বাড়বে, ব্যবসা বাড়বে-কিন্ত লোক কমবে। আই টির ক্ষেত্রে অবশ্য মাইনেও অনেকই বাড়বে-কারন আরো বেশী ভাল স্কিলের লোক দরকার হবে।

                                                                 (২)


আমি আসলে যে পয়েন্টে আসতে চাইছি- খুব পরিস্কার ভাবে আমেরিকাতে ( এবং ভবিষ্যতে ভারতেও)  পাঁচটি শ্রেনী দেখতে পাচ্ছি।

     (১) মালিক-যারা ব্যবসা বা প্রোডাকশনটার প্রিন্সিপাল শেয়ারহোল্ডার।

   (২)  অটোমেশনের সাথে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার এবং আই টির লোকজন

    (৩) তথাকথিত বুর্জোয়া শ্রেনী-ডাক্তার, উকিল, হরেক টাইপের কনসাল্টান্ট
   
     (৪) সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মচারী-শিক্ষক, আধাসরকারি ওয়ার্কার -এরাও বুর্জোয়া-কিন্ত এদেরকে আমি আলাদা করছি।

      (৫)  একটা বিশাল সেকশনের উদয় হচ্ছে-যারা আন্ডারপেইড লেবার, পার্ট টাইম কাজ করে-কারন শ্রমিক কৃষকের কাজটাই অটোমেশনের সামনে  উবে গেছে। এরা প্রায় সবাই বাবা মায়ের সাথেই থাকেন-কারন বিয়ে করে আলাদা থাকার পয়সা নেই। ফুড স্টাম্প, সোশাল সিকিউরিটির টাকায় দিন আনে দিন খাচ্ছে,


  রাজনৈতিক মেরুকরনও এই পাঁচটি শ্রেনীর শ্রেনীস্বার্থ অনুযায়ী হচ্ছে। এর মধ্যে (১) এবং (২) শ্রেনীটি নিজেদের স্বার্থেই প্রোমার্কেট লিব্যারাল ইকোনমির সমর্থক।  কারন (২) শ্রেনীটি ভারত বা আমেরিকাতে যে মাইনে পায় বা পাবে, তার স্বচ্ছল ব্যবসায়ীদের থেকেও ভাল।  (১) এর ব্যবসার জন্য শুধু  (২) কে দরকার।  আগে যে মালিক শ্রমিক দ্বন্দ ছিল-অটোমেশন তা প্রায় হাওয়া করে দিয়েছে। ১ এর সাথে (২) এর দ্বন্দ হচ্ছে না। ভারতে কোন ভায়াবল আই টী ইউনিয়ান নেই। কোন আই টী ওয়ার্কার তা পাত্তা দেয় না। কারন আই টিতে ভাল চাকরি এবং মাইনে পাওয়ার শর্ত স্কিল-যার স্কিল আছে, তার সব আছে।

  সমস্যা হচ্ছে আমেরিকাতে চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেনীটি যা ব্যাঙ্কের টেলর বা শ্রমিকের কাজ করে ভদ্র মাইনে পেত, তা আস্তে (৫) নাম্বারে তলিয়ে যাচ্ছে।  কারন তাদের চাকরি অটোমেশনে খেয়ে নিয়েছে। এটা ভারতেও হয়েছে। অনেকের বাবা মা সরকারি চাকরি করত-কিন্ত ছেলে মেয়েরা যেহেতু (২)-(৪) ক্লাসে উঠতে পারে নি-বসে গেছে।

 ফলে ৪ নাম্বার এবং ৫ নাম্বারদের মধ্যে একটা রাজনৈতিক জোটবন্ধন হচ্ছে-যাকে আমরা আমেরিকার নয়া বামপন্থা বলতে পারি। মনে রাখতে হবে, ৫ নাম্বার শ্রেনীটি আর কারখানার সাথে যুক্ত না-ফলে আমেরিকার পুঁজিপতিদের সরাসরি স্ট্রাইকের মাধ্যমে চাপ দেওয়ার ক্ষমতা আর এদের নেই। সেটা ভারতেও প্রায় এখন তাই।

  ৪ নাম্বার শ্রেনীটির দরকার বেশী মাইনে।  কারন এরা সরকারি চাকুরে। তা একমাত্র সম্ভব ট্যাক্স বেশী করে।  ফলে সিরিয়াস এবং এক্টিভ বামপন্থীদের অধিকাংশই শিক্ষক এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শ্রেনী থেকে আগত। কিন্ত নিজেদের মাইনে বাড়াও আন্দোলন করলে, এরা সমাজ বিচ্ছিন্ন হবে। ফলে (৫) নাম্বার শ্রেনীটির সাথে মেল বন্ধন করে এরা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে ট্যাক্স বাড়াতে চাইছে।

 এখানে খুব ইন্টারেস্টিং একটা ডেভেলেপমেন্ট হচ্ছে এই ৫ নাম্বার শ্রেনীটির মধ্যে বাম এবং ডানপন্থী উগ্রপন্থার প্রভাব বেশী। বার্নি স্যান্ডার্স এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাপোর্টার এদের মধ্যেই। অনেকেই ভাবছে তাদের বাজে দিনের জন্য দায়ী আমাদের মতন ইমিগ্রান্টরা যারা তাদের চাকরি খেয়েছে। কিন্ত আসলে ত তা না। চাকরি গেছে অটোমেশনে।

                                       (৩)

প্রশ্ন উঠবে,  ভারতেও কি এই (৫) নাম্বার শ্রেনীটির প্রাধান্য চলে এল?

 আমার আন্সার -ইয়েস। এদের ভোটেই মূলত জিতেছেন মোদি। কারন এই (৫) নাম্বার শ্রেনীটির আশু দরকার চাকরি। যার চাকরিই নেই-তারা মোটেও শোষন ইত্যাদির শ্লোগানে ভুলবে না। তারা ভাববে মোদির মতন বিকাশ পুরুষই ভাল-তাতে তাদের চাকরির সম্ভাবনা আছে। আর বামেরা আসলে চাকরি বাকরির কি দশা হবে-তা সবাই পশ্চিম বঙ্গ দেখেই বুঝেছে।

 বামেরা যদি জমি ফিরে পেতে চান-বস্তাপচা লেনিনবাদ বাদ দিয়ে- এই (৫) নাম্বার শ্রেনীটির দিকে তাকান। এটি নব্য উদয়-যারা শিক্ষিত-কিন্ত চাকরি খুঁজছে।

  ভারতের কৃষিতে অটোমেশন এবং সমবায় জরুরী দরকার। কারন ভারতের কৃষি এত পেছনে-এত বেশী লোক লাগে-খরচ সাংঘাতিক বেশী। অপচয় ও বেশী। ভারতের কৃষি বাণিজ্যে সমবায় আন্দোলন খুব দ্রুত দরকার- নইলে কৃষকের আত্মহত্যা এবং খাদ্যের দামের উচ্চরেখা কেউ আটকাতে পারবে না। ভারতে নতুন ধারার বাম আন্দোলন সমবায়কে ঘিরেই হতে পারত। তাতে অন্তত (৫) নাম্বার শ্রেনীটি দেখতে পেত বামেরা জীবিকা তৈরীর ব্যপারে সিরিয়াস।

ভারতের কমিরা মনে করতেই পারেন বিজেপি বা তিনুদের মধ্যে ইন্টেলেকচুয়াল নেই। ভারত বিরোধি স্লোগান-আন্তর্জাতিকতার শ্লোগান বুদ্ধিজীবির ব্যারোমিটার।  কিন্ত তাতে এই (৫) নাম্বার শ্রেনীটির কিছু যায় আসে না-কারন তারা ডেসপারেট একটা চাকরির জন্য। যাদের ভোট দিলে চাকরি বাকরি হয়, তাদেরকেই এরা ভোট দেবে।  শ্রমিক-মালিকের গল্প অনেকদিন শেষ।  ভারতের বামেরা যদ্দিন জেন এইন ইউ কেন্দ্রিক হোক কলরব করে যাবে,  তারা ততই (৫) নাম্বার শ্রেনীটির থেকে বিচ্ছিন্ন হবে।







   







Monday, February 22, 2016

বিজেপি কি কোনদিন ভারতের নাজি পার্টি হয়ে উঠতে পারে ?

বিজেপির লোকজন যেভাবে রাস্তা ঘাটে অফিস আদালতে ইউনিভার্সিটিতে "কমি" দেখলেই পেটাচ্ছে-খুব স্বাভাবিক ভাবেই ১৯৩২-৩৩ সালে জার্মানির পুনারাবৃত্তি বলেই মনে হচ্ছে। ১৯২৪ সাল থেকেই নাজি বাহিনীর স্টর্ম ট্রুপার, যাদের কাজ ছিল কমি ধরের পেটানো বনাম জার্মান কমিনিউস্টদের রটকম্প বাহিনী-যারা গোপনে নাজি এস এস ক্যাডারদের পেটাত বা হিটলারের মিটিং ভঙ্গ করত-তাদের স্ট্রীট ফাইট জার্মানির রাজনীতির নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। তবে হিটলারের ওয়ার্কার পার্টি বা জার্মান কমিনিউস্ট পার্টি-কেওই খুব কল্কে পায় নি ১৯২৯ সাল পর্যন্ত। এরা ভোটে ২-৫% পেত । কিন্ত ১৯২৯ সালের বিশ্বব্যাপী মন্দায়, জার্মানিতে দলে দলে বেকারি বাড়ে এবং জনগণ গনতান্ত্রিক পার্টী গুলির ওপর আস্থা হারায়। জার্মানিতে নাজি এবং কমিদের ঘোষিত পজিশন ছিল, ক্ষমতায় এলে তারা এক দলীয় পার্টির শাসন চালু করবে। তবুও রাইট উইং কনসার্ভেটিভ পার্টি এবং সোশ্যাল ডেমোক্রাটিকগুলি এদের ব্যান না করে, এদের সাথে কোয়ালিশন গড়ে ক্ষমতা দখলে ব্যস্ত ছিল বেশী।

১৯৩২ সালে কমিদের সাথে নাজিদের মারামারি সাংঘাতিক রূপ নেয়- ৯৭ জন কমিকে খুন করে নাজিদের এস এস। অন্যদিকে কমিদের রটকম্প ৪২জন এস এস নেতাকে খুন করে বদলা নেয়। বেসিক্যালি জার্মানিতে তখন গণতন্ত্র চুলোয় যাক- খুন খারাপি করেই ক্ষমতা দখল করতে হবে এই ভাবটা জাঁকিয়ে বসে। এবং গণতান্ত্রিক পার্টিগুলি এর বিরুদ্ধে আইন করেও তুলে নিতে বাধ্য হয় কোয়ালিশন রাজনীতির বাধ্যবাধকতায়।

হিন্দুত্ববাদিদের যেমন পলিটিক্যাল পার্টি বিজেপি, মগজধোলাই এর আঁতুরঘর এবিভিপি, আর ক্যালানো বাহিনীর নাম বজরং দল-তেমন হিটলারের পলিটিক্যাল পার্টির নাম ছিল ন্যাশানাল স্যোশালিস্ট ওয়ার্কারস পার্টি, মগজধোলাই হত হিটলার ইয়ুথ বাহিনীতে, আর ক্যালানোর জন্য ছিল স্টমট্রুপার। সুতরাং এইসব দেখে থার্ড রাইখের পদধ্বনি শোনা বিচিত্র কিছু না। যেভাবে ছাত্র, সাংবাদিক শিক্ষক, আইনজীবিদের ওপরে হামলা হচ্ছে, এবং রাষ্ট্রের পুলিশ এগুলো প্রশয় দিচ্ছে, তাতে থার্ড রাইখের স্মৃতি ফিরে আসতেই পারে।

তবে সব বিবেচনা করে,আমি মনে করি, ভারতে থার্ড রাইখ ফেরার সম্ভাবনা নেই।

(১) হিটলারের নাজি পার্টি এবং জার্মান কমিনিউস্ট পার্টির মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য কমই ছিল-কারন দুটো পার্টিই ছিল ওয়ার্কারস পার্টি। আমেরিকার বিরুদ্ধে। পুঁজির বিরুদ্ধে। স্টেট ক্যাপিটালিজমের পক্ষে। জাতীয়করনের পক্ষে। ইনফ্যাক্ট ইহুদিদের ঘৃণা করার ব্যপারটা বাদ দিলে, দুটো পার্টীর ইকনোমিক এজেন্ডা আলাদা কিছু ছিল না। গোয়েবেলস এর ডায়ারী পড়লেই জানা যাবে হিটলার এবং নাজি পার্টি কমিদের গালাগাল করলেও, স্তালিনের "কাজের" ভক্ত ছিল-বিশেষত যে নিঁখুত ভাবে তিনি একনায়ক তন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে সব কিছুর জাতীয়করন করেছিলেন। ইনফ্যাক্ট স্টালিন ও হিটলারকে ১৯৩০-৩২ সাল পর্যন্ত মিসগাইডেড কমি বলেই মনে করতেন। জার্মান কমিনিউস্ট পার্টি চলত স্টালিনের নির্দেশে। ১৯৩০ সালেই স্যোশাল ডেমোক্রাটদের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারত জার্মানীর কমিনিউস্ট পার্টি। হিটলারে ভবলীলা তখনই সাঙ্গ করে দেওয়া যেত । কিন্তু স্টালিনের মনে হল হিটলার আসলেই অনেক বেশী " কমিদের কাছে" -কিন্ত স্যোশাল ডেমোক্রাটরাই আসল শত্রু! আর জানেনই ত- বং কমিদের ব্রেইন যেমন দিল্লীর কেশব ভবনে বাঁধা থাকে-তখন জার্মান কমিদের ব্রেইন, গান এবং টাকা বাঁধা স্টালিনের কাছে। স্টালিন নির্দেশ দিলেন দরকার হলে নাজিরা ক্ষমতা দখল করে করুক-কিন্ত স্যোশাল ডেমোক্রাট একদম না।

কমিনিউস্টরা কোনদিনই প্রাক্টিক্যালের ভাল ছাত্র না-তারা থিওরিটিক্যাল হস্তমৈথুনে বিশ্বাসী চিরকাল। কারন নাজিরা এসেই প্রথমে সব ব্যবসার জাতীয়করনের ঘোষনা দেবে বলেছিল-যার সাথে কমিদের ঘোষিত পজিশনের কোন পার্থক্য ছিল না। তারপরে নাজি এবং জার্মান কমি-দুই পার্টীই ছিল আমেরিকান ক্যাপিটালিজমের বাপান্ত করা পার্টি। মেইন ক্যাম্প যারা পড়েছেন-তারা দেখবেন হিটলার আমেরিকান ক্যাপিটালিজমকে ফ্রান্সের থেকে কম বাপান্ত করেন নি। সেই ১৯৩০ সালে স্টালিন মনে করতেন, তিনি কোন না কোনদিন নাজি এবং কমিদের মিশিয়ে দিয়ে জার্মানীতে বলশেভিক বিপ্লব ঘটাবেন-হাও নেইভ!

ভারতের অবস্থা মোটেও এক না। বিজেপি ও নাজি পার্টি হতে পারবে না-মোদির হিটলার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই জন্যে নেই যে বিজেপি মোটেও ওয়ার্কারস পার্টি না-তারা ধণতান্ত্রিক পার্টি-পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে তারা না। হিটলার তার স্টিম সংগ্রহ করেছিলেন জার্মানির খেটে খাওয়া মানুষদের কাছ থেকে-কারন তিনি সবার জন্য চাকরি, বিনে পয়সায় চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতা এসেছেন। এবং সেগুলো করেও ছিলেন। তিনি বামেদের থেকেও বড় সোশ্যালিস্ট ছিলেন! তার পার্টির নাম কিন্ত ন্যাশানালিস্টিক স্যোশালিস্ট পার্টি। তার পলিশি ছিল প্রোপিপল-এন্টিক্যাপিটালিস্ট। জার্মানির খেটে খাওয়া জনগণই ছিল, তার ক্ষমতার উৎস।

বিজেপি কিন্ত জনবিচ্ছিন্ন-খেটে খাওয়া লোকেদের কাছ থেকে। হিন্দুত্বের ঢপ দিয়ে নাজি বা হিটলার হওয়া যায় না। সেটা হতে গেলে আডানি আম্বানীদের পদসেবা না করে জনগণের জন্য সরকারি চিকিৎসা , শিক্ষা, চাকরীর সরকারিকরন করতে হয়। সেটা যেহেতু নেই, ফান্ডামেন্টালি বিজেপি আসলেই কিছু ঢপের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। তাসের ঘরের মতন ভেঙে যাবে বিজেপি। হিটলারের পলিসি বেস কিন্ত ছিল সলিড- প্রোপিপল।

(২) দ্বিতীয় ব্যপারটা হচ্ছে ১৯৩০-৩৩ সালের জার্মানিতে মন্দা ছিল প্রবল। চারিদিকে বেকার। ফলে গণতান্ত্রিক পার্টিগুলি এবং গণতন্ত্রের প্রতি সাধারন জনগণ আস্থা হারায়। ভারতের সেই অবস্থা নেই। এখানে গণতন্ত্রের প্রতি লোকের আস্থা হারায় নি তা দিল্লী এবং বিহারের ভোটেই প্রমাণিত। ফলে অগনতান্ত্রিকতাকে জনগণই প্রশয় দেবে না। এবং দিলে বিজেপি যেভাবে দিল্লীতে জামানত খুইয়েছে সেই ভাবে হারবে।
সুতরাং হিটলার যেভাবে স্টর্মত্রুপার দিয়ে কমি পেটাতেন, সেইভাবে চলতে গেলে ভারতে জনপ্রিয়তা হারাবে বিজেপি।

Friday, February 19, 2016

বিজেপি কি আদৌ কোন জাতিয়তাবাদি দল ?

জেন এন ইউ কেন্দ্রিক,  জাতীয়তাবাদ বিতর্ক বড়ই বিরক্তিকর এবং সময়ের অপচয়। পৃথিবীতে প্রথম দেশ তৈরী হয় প্রায় সাড়ে  পাঁচ হাজার বছর আগে-মেসোপটেমিয়ায়। সেই প্রাক আক্কাডিয়ান সভ্যতায় ছিল অনেক সিটিস্টেট বা শহর রাজ্য। শহরের শাসক শ্রেনী সম্পদ এবং নারীর জন্য একে অন্যের সাথে লড়ত। কিন্ত মজার ব্যপার হল ঐতিহাসিকরা বলছেন-সিটিজেন গেভ এ ড্যাম।  জনগন মনে করত, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে-তাতে আমার কি। কারন যেই আসুক- কর বসাবে-লুঠ করবে-ঘর থেকে মেয়ে তুলে নিয়ে যাবে! দেশ আমার মাতা বা পিতা-এই জাতিবাদি ধারনার বয়স  দেড়শো বছর ও না! তার আগে পর্যন্ত রাজা ধণে প্রানে বাঁচিয়ে রাখলেই বর্তে যেত লোকজন।

   জাতীয়তাবাদের শুরু উনবিংশ শতকে। যেহেতু আলোচনা ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে-এশিয়ান দেশগুলি -যেমন চীন বা জাপানের সাথে ভারতে জাতিয়তাবাদের তুলনা করাটাই ঠিক ঠাক হবে। চীন এবং জাপান-দুটো ক্ষেত্রেই জাতীয়তাবাদের উত্থানের মূল কারন কলোনিয়াল শক্তিগুলি-বিশেষত আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের কাছ থেকে স্বাধীন থাকার জন্য উন্নত মিলিটারী শক্তির প্রয়োজনিয়তা। প্রথম আফিং যুদ্ধে বৃটেনের কাছে হেরে, ন্যাংকিঙের চুক্তি সম্পাদন করা মাত্র চীনের কুইং রাজবংশ পরিস্কার বুঝতে পারে মিলিটারী উন্নত না হলে সব গেল। সুতরাং যুদ্ধাস্ত্র কিনে মিলিটারী ঊন্নত করার চেষ্টা চললো। তাতে কিস্যুই হল না- জাপান থেকে সব ইউরোপিয়ান শক্তির কাছে গোহারা হারা বন্ধ হল না।
   
 এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্রাট গুয়াংজু বুঝতে পারেন শুধু অস্ত্র দিয়ে একটা দেশ উন্নত হয় না-তার জন্যে চাই শিক্ষা, শিল্প, রাজনীতিতে আমূল আধুনিক সংস্কার-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যপক প্রয়োগ। উনি বিখ্যাত ১০০ দিনের সংস্কার শুরু করলেন চীনে-যদিও তা রাজমাতার জন্য বন্ধ হবে। কিন্ত ওই ১০০ দিনের সংস্কার চীনের আধুনিক জাতিয়তাবাদের মূল সূচক-যা সান ইয়েৎ সানের কুয়োমিংটাং পার্টির ভিত্তি। ১৯২০-৩০ সালে চতুর্থ মের জাতীয়তাবাদি আন্দোলন নামে খ্যাত এই বিদ্রোহ, চীনের জাতিয়তাবাদি আন্দোলনকে সংজ্ঞায়িত করে এই ভাবে

 ""Nationalism, patriotism, progress, science, democracy, and freedom were the goals; imperialism, feudalism, warlordism, autocracy, patriarchy, and blind adherence to tradition where the enemies. Intellectuals struggled with how to be strong and modern and yet Chinese, how to preserve China as a political entity in the world of competing nations."

  জাপান কিন্তু এই ভুল করে নি। আমেরিকান নৌসেনাপতি ম্যাথ্যু পেরির গানবোটের ধাক্কায় (১৮৫৩),  সম্রাট মেইজি বুঝেছিলেন জাপানের অতীতে মৌজে থাকলে জাপানও চীনের মতন বিদেশীদের গর্ভে চলে যাবে। ফলে মেইজি সংস্কারে (১৮৬৮-১৯১২)মিলিটারী সংস্কারের সাথে সাথে প্রথমেই চললো শিক্ষার সংস্কার। সবার জন্য বিনা পয়সায় আধুনিক শিক্ষা। তার জন্য ইউরোপ থেকে শিক্ষক আনো। প্রচুর প্রোপার্টি ট্যাক্স বসানো হল স্কুলের ফান্ডিং এর জন্য । জাপানের স্থানীয় জনগণ রেগে গিয়ে ২০০০ স্কুল পুড়িয়েছিল সেকালে। পরে বোঝে শিক্ষা হচ্ছে একটা জাতির আসল শক্তির উৎস।

 আমি চীন এবং জাপানের জাতিয়তাবাদের ইতিহাস এই জন্য আনলাম, এটা বোঝাতে ভারতে যারা নিজেদের জাতিয়তাবাদি বলছেন- যেসব বিজেপি বা আর এস এসের লোকেরা নিজেদের জাতিয়তাবাদি বলে দাবি করেন-আমি  তাদের জাতিয়তাবাদি শক্তি বলে মানতে নারাজ।  বিজেপি আদৌ কোন জাতিয়তাবাদি পার্টিই না-শ্রেফ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা দিয়ে কোন জাতিয়তাবাদি পার্টি হয় না। কারন পৃথিবীতে চীন, জাপান বা জার্মানির জাতিয়তাবাদের ইতিহাসে দেখা যাবে জাতিয়তাবাদের পাঁচটি স্তম্ভ

             (১) প্রথম স্তম্ভ- শিক্ষা । জাপান, চীন সর্বত্র প্রথমে বিনা পয়সায় সার্বজনীন শিক্ষার ওপরে জোর দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি পুরো উলটো রথে। শিক্ষার প্রাইভেটাইজেশন করতেই ব্যস্ত। সার্বজনীন শিক্ষার পেছনে টাকা খরচ করবে না। শিক্ষা খাতে বাজেট কমাচ্ছে। অথচ মেইজি সংস্কারে শিক্ষার পেছনে টাকা ঢালার জন্য এত ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছিল জনগণ রেগে গিয়ে স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছিল। সার্বজনীন সরকারি শিক্ষার প্রতি বিজেপির নেতিবাচক মনোভাব- প্রথম প্রমান-এরা জাতিয়তাবাদ কিস্যুই বোঝে না।

            (২) দ্বিতীয় হচ্ছে-ম্যানুফ্যাকচারিং এবং শিল্পে স্বয়ং সম্পূর্নতা। এই ব্যপারে মোদির ঘোষিত নীতি হচ্ছে মেইড ইন ইন্ডিয়া। এটা পাতি স্লোগান। ম্যানুফ্যাকচারিং এর জন্য যা ইনফ্রাস্টাকচর এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্রেইন্ডলি আইন দরকার-তা এখনো ভারতে নেই-চারি দিকে লাল ফিঁতের ফাঁস। কংগ্রেস আমল থেকে কোন পরিবর্তন হয় নি। হবেও না । কারন লাল ফিতেই দিল্লীর দালালদের ইনকামের উৎস। বিজেপি এই মৌতাত ভাংবে না। কারন ইহাই সকল রাজনৈতিক নেতাদের ইনকামের ইৎস।

          (৩) মহিলা শক্তির উত্থান - মেইজি সংস্কার এবং চীন-সবর্ত্রই জাতিয়তাবাদের একটা গুরুত্বপূর্ন দিক ছিল -নারীশিক্ষা। কারন মা শিক্ষিত না হলে, ছেলে মেয়েরা শিক্ষিত হবে না।  পৃথিবীতে সব থেকে বেশী নিরক্ষর ভারতে। নিরক্ষরতা দুরীকরন অভিযানে বিজেপিকে কখনোত দেখিনি। মেয়েদের বাইরের কাজে, আধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উৎসাহিত করতেও দেখিনি-বরং এই ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদির পার্টিগুলোর ভূমিকা মেয়েদের ঘরে ঢোকানোতেই উৎসাহিত করেছে বেশী।

       (৪) নিজেদের সংস্কারের ভাল জিনিসগুলি রেখে বাজে জিনিসগুলি বর্জন-পাশ্চাত্য সভ্যতার ভালগুনগুলি অর্জন। এইব্যপারে ল্যান্ডমার্ক কাজ করেছিলেন জাপানী বুদ্ধিজীবি ইকুচি ফুকুজুয়া (১৮৮৮)।  উনি ঘোষনা করলে, জাপানকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমেরিকা আর ইউরোপের দিকে তাকাতে হবে-চীন আর কোরিয়ারদিকে তাকিয়ে থাকলে জাপান ও তাদের মতন স্বাধীনতা হারাবে। কোন জাতিয়তাবাদ বলে না নিজের সংস্কার বা নিজের অতীতে আঁকড়ে থেকে আরো পিছিয়ে যাও।  ভারতে জাতীয়তাবাদের নামে যা চলছে-তা হচ্ছে ভারতের অতীতের সব কিছু মহান এবং ভাল ছিল। পাশ্চাত্যের সব কিছু খারাপ। চীন বা জাপানের জাতিয়তাবাদি ইতিহাস পুরো উলটো। চীন এবং জাপানের জাতিয়তাবাদি নেতারা স্বীকার করে নিয়েছিলেন-তাদের অতীত তাদের বাঁচাবে না।  জাতির স্বার্থে হাজার হাজার বছরের পুরাতন সংস্কার ছাড়তে হবে। এইভাবেই মেইজি সংস্কারে সামুরাই প্রথার মতন ঐতিহ্যকে বাতিল করা হয়।

    এর মূল কারন চীন এবং জাপানের তাগিদ ছিল ইউরোপের হাত থেকে বাঁচার। ভারত বৃটেনের কল্যানে একটা আধুনিক ইউরোপিয়ান ইনফ্রাস্ত্রাকচার পেয়েছে-ফলে রক্ষনশীলদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জাতিয়তাবাদের মাধ্যমে ইউরোপিয়ান এনলাইট্মেন্ট ভারতে আসে নি-এসেছে কলোনিয়ালিজমের মাধ্যমে।

  ইতিহাসের এই টুইস্টটা ভারতের জাতীয়তাবাদের সব থেকে বেশী ক্ষতি করেছে-ভারতের জাতিয়তাবাদ মানে পাশ্চাত্যের এনলাইট্মেন্ট বর্জন। সব এনলাইট্মেন্টের অধিকারি ভারতীয় দর্শন! এই ধরনের মনোভাব রক্ষনশীল চিন্তা-এবং তা কোন ভাবেই জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞায়িত হতে পারে না।

   (৫) বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং যুক্তিবাদের দিকে অগ্রসর- ইউরোপ, চীন এবং জাপানের জাতিয়তাবাদে ধর্ম কোন ভূমিকা রাখে নি- বরং সব রাষ্ট্রই নিজেদের শক্তিশালি করার জন্য বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির পেছনে প্রচুর টাক্স মানি ঢেলেছে। ভারতে বিজেপি বিজ্ঞান বলতে বোঝে সব ব্যাদে আছে-সব প্রাচীন ভারতে ছিল। বিজেপির আমলে ভারতের বিজ্ঞান কংগ্রেস তামাসাতে পরিনত -এটা নোবেল বিজয়ী ভারতীয় বিজ্ঞানী ভেঙ্কটরামন রামাকৃষ্ণানের কথা। হিন্দু কুসংস্কার নিয়ে মাতামাতি করে জাতিয়তাবাদ হয় না। সম্ভব না।

    সুতরাং আমি যদি পৃথিবীর জাতিয়তাবাদের ইতিহাস ঠিক ঠাক পড়ে থাকি, বিজেপি বা আর এস এসকে জাতিয়তাবাদি শক্তি মানতে নারাজ।

  পাশাপাশি জেন এন ইউ ইস্যুতে বামেরা যে ভাষায় জাতিয়তাবাদের গালাগাল করেছে, সেটাও তাদের এস ইউজ্যুয়াল অজ্ঞানতার পরিচয়।  ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদি শক্তি বোমা ফাটানো শুরু করলে-যেটা সবার প্রথমে হবে- বিদেশী কোম্পানীগুলো তাদের ব্যাক ওফিস ভারত থেকে তুলে নেবে।  সুতরাং এখন যেমন ফেবুকের বাম পুঙ্গবরা আমেরিকান কোম্পানীর পা চেটে  গরম গরম লিখে চলেছেন-তখন মারোয়াড়ি কোম্পানীর হয়ে কাজ করলে-লেখার সময় পাবেন ত?

 জাতিয়তাবাদ অর্থনৈতিক যুক্তির বিচারে থাকার কথা না। কারন দেশের বর্ডার মার্কেট ছোট করে। কিন্ত তবুও বিজ্ঞানীরা বলছেন জাতীয়তাবাদের জনপ্রিয়তার  মূল কারন- সিকিউরিটি এবং স্ট্যাবিলিটি। নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল সমাজের দরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই।

 বিজেপি জাতিয়তাবাদি শক্তি না-এটি একটি সামন্ততান্ত্রিক ঘোঁটেল-যার উৎস ভারতের অন্য পার্টিগুলির ইসলামিক মৌলবাদের তোষন। ইসলামিক মৌলবাদ ভারতের জন্য, হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য খুব ভয়ঙ্কর-এটা ঐতিহাসিক ভাবেই প্রমানিত। চীন এবং জাপানের জাতিয়তাবাদের উৎস ছিল বৃটেন এবং আমেরিকার কাছে স্বাধীনতা হারানোর ভয়। হিন্দু জাতিয়তাবাদের  উৎস মুসলমানদের হাতে মার খেয়ে জমি সম্পতি হারানোর ভয়।  জাপান পাশ্চাত্য শক্তির হাতে জমি হারানোর ভয়ে, পাশ্চাত্যের পূজারি হয়। হিন্দু জাতীয়তাবাদিরাও মুসলমানদের হাতে জমি হারানোর ভয়ে মুসলমান হওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদি আন্দোলনে কোন পাশ্চাত্য এনলাইট্মেন্ট নেই-আছে ইসলামের বর্বরতার ধর্মীয় অন্ধ অনুকরন। কিন্ত এর জন্যেও ভারতের সোকল্ড সেকুলার রাজনীতিই দায়ী। যা ইসলামিক মৌলবাদকে আস্কারা দিয়েছে প্রথম থেকেই।

 ইসলামিক মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে, হিন্দু মৌলবাদিদের আটকানো যাবে না।

Wednesday, February 17, 2016

ছত্তিশগড়, একোটা, বাসমাচি

ছত্তিশগড় সরকার সুরগূজা জেলার ঘাটবারা গ্রাম, আদিবাসিদের কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নেবে বলে ডিক্রি জারি করেছে। আদিবাসিদের পঞ্চায়েত খুব পরিস্কার ভাবেই ওই এলাকাতে কোন কোলমাইনিং চায় নি। তবুও মোদি পেয়ারী আদানী মাইনিং এর বলপূর্বক অধিগ্রহণ সম্পূর্ন করতে জারি হল আদিবাসী উচ্ছেদ নামা। ফরেস্ট রাইট এক্ট মানা হলো না-যাতে আদিবাসিবাসিদের সম্পূর্ন সহমতি ছাড়া মাইনিং এর জন্য বন অধিগ্রহণ করা যায় না।

মে ২৮, ১৮৩০ সাল। প্রেসিডেন্ট এন্ড ু জ্যাকসন জারি করলেন রেড ইন্ডিয়ান রিম্যুভাল এক্ট। সেনেটে ২৮-১৯, কংগ্রেসে ১০২-৯৭ ভোটে পাস হয় ইন্ডিয়ান রিম্যুভাল বিল। মিসিসিপি নদীর পূর্বদিকে বসবাস করা সব আদিবাসিদের নদীর পশ্চিম দিকে চলে যেতে হবে। কারন আমেরিকাতে সাদা ইউরোপিয়ান পপুলেশন আর কটনের চাহিদা বেড়েই চলেছে। এর আগে পর্যন্ত আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদাররা-জর্জ ওয়াশিংটন, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিং এবং থমাস জেফারসন চাইছিলেন আদিবাসীরা আমেরিকানদের সাথে মিশে যাক-কৃষিকাজ শুরু করুক। জোর করে আদিবাসিদের জমি দখলের বিরুদ্ধে ছিলেন এরা। কিন্ত তুলো চাষ দক্ষিনে লাভহজনক হওয়া শুরু হতেই, শুরু হল শেতাঙ্গদের জমির খিদে। এতেব আদিবাসি উচ্ছেদ।

চেরোকি, মুসকোগি, সেমিনল, চিকস, চোটকাও-এই পাঁচটি আদিবাসিদের তাড়িয়ে দেওয়া হল তাদের ভূমি থেকে-যেখানে তারা বসবাস করেছে হাজার হাজার বছর। দশ হাজার চেরোকি মারা যায় এই রিলোকেশনে-যা মাস মার্ডার ছাড়া কিছু না। মিলিটারি এসে রাউন্ড আপ করে গাড়িতে শুয়োরের মতন গাদা করে ফেলে বন্দুকের নলের সামনে, তাদের অজানা অববাসযোগ্য জমিতে ফেলে দেওয়া হত। না খেতে পেয়ে রোগেই মারা যায় আদিবাসিদের অধিকাংশ লোক।

এই যদি সভ্য আমেরিকানদের ইতিহাস হয়, সোভিয়েত ইউনিয়ানে আদিবাসিরা কেমনছিল সেটাও জানুন। স্টালিন বিদ্রোহের ভয়ে অসংখ্য আদিবাসী গোষ্ঠিবাসিকে একদেশ থেকে অন্যদেশে পাঠিয়েছিলেন-যাদের অধিকাংশই রাস্তায় অক্কাপেত। তবে সোভিয়েত ইতিহাসের সব থেকে কুখ্যাত আদিবাসি নিধন মধ্য এশিয়াতে বাসমাসি বিদ্রোহ দমন। ফারগানা উপত্যকা এবং টুর্কেমিনিস্থানের মুসলমান আদিবাসীরা বহুদিন থেকেই জারের আধিপত্য মানতে চায়নি। ১৯১৭ সালে যখন বলশেভিক বিপ্লব হয়, এইসব আদিবাসিদের মনে আশার সঞ্চার হয়, যে তারা এবার রাশিয়ান আধিপত্য থেকে মুক্তি পাবে। ফলে ওক্টবর বিপ্লবের সময়, এরা রেড আর্মিকে সমর্থন করেছিল লেনিনের স্বয়ত্বশাসনের ঢপে বিশ্বাস করে। রেড আর্মি ক্ষমতা পেতেই এই আদিবাসিরা বুঝে যায়, বেসিক্যালি বলশেভিকরা জারের থেকেও বড় দানব। তাদের স্বাধীনতা দেওয়ার কোন ইচ্ছা লেনিনের নেই। ফলে ইসমাইল বে এর নেতৃত্বে বিদ্রোহ করে আদিবাসিরা। ১৯১৮ সালে কোকান্ড শহরে রেড আর্মি ২৫,০০০ কৃষক, আদিবাসি হত্যার মাধ্যমে তাদের ঋন পরিশোধ করেন। হত্যালীলা এখানেই শেষ হয় না। ১৯২৩ শাল পর্যন্ত রেড আর্মি মধ্য এশিয়ার এই উপজাতি অঞ্চলে রক্তবন্যা বইয়ে দখলে আনবে। এসব হত্যালীলার সব কিছুই হয়েছে লেনিনের নির্দেশে। শুধু তাই না। গর্ভাচেভের দিন পর্যন্তও এদের বিশ্বাস করত না রাশিয়ানরা। এদের স্থানীয় কমিনিউস্ট পার্টির মাথায় সব সময় একজন রাশিয়ানকে বসানো হত। কোথায় লাগে কাশ্মীর! মধ্য এশিয়ার মুসলিম উপজাতিগুলিকে যেভাবে গণহত্যার মাধ্যমে কমিনিউস্টরা সোভিয়েতের দখলে এনেছিল-তার তুলনায় কাষ্মীর ত নস্যি! তবে ঘাবরাবেন না। লেনিন এমনি এমনি এমন করেন নি। এটা ছিল কটন বেল্ট। সুতরাং এই অঞ্চলের দখল না পেলে "সাম্রাজ্যবাদ বিরোধি মহান নেতা লেনিনের" চলছিল না। শুধু তাই না-তেলের দখল পেতে আজারবাইজান এবং বাকুর নির্বাচিত সরকারকে মিলিটারি দিয়ে ধ্বংস করে সোভিয়েতের দখলে আনেন লেনিন-হ! সাম্রাজ্যবাদ বিরোধি লেনিন!! যারা লেনিনকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধি নেতা বলে পূজো করে তারা ১৯১৭-১৯২২ সাল পর্যন্ত লেনিনের ইতিহাস কিছুই জানে না। তারা জানে না কিভাবে মধ্য এশিয়ার আদিবাসীদের ওপর রক্তের হোলি খেলে, এইসব এলাকাকে সোভিয়েতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারা জানে না এই মধ্য এশিয়ার কত স্বাধিনতা আন্দোলনকে গণহত্যা আর গণ ধর্ষনের মাধ্যমে বাগে এনেছিলেন মহান লেনিন।

আমি যেটা লিখতে চাইছি-ক্যাপিটালিস্ট, কমিনিউস্ট, গণতান্ত্রিক-সোকল্ড শিক্ষিত, সভ্য সমাজ কোনদিনই আদিবাসিদের সমকক্ষ ভাবে নি-সব সময় ভেবেছে, ওইসব বনবাসীরা ইনফেরিয়র-তাদের জোর করে তাড়িয়ে দাও-না হলে বন্দুকের নলের সামনে সভ্য কর।

আদিবাসিদের সাথে আমার প্রত্যক্ষ মোলাকাত আই আই টি খরগপুরের শেষ বছরগুলিতে। রুরাল টেকনোলজিতে প্রফেসার পি কে ভৌমিক আদিবাসিদের ওপর গবেষনা করতেন। উনি সারা জীবন আদিবাসিদের মধ্যেই কাটিয়েছেন-উনার বাবা আদিবাসি ছেলেমেয়েদের জন্য একটা হোস্টেল ও চালাতেন। উনিই আমাকে নিয়ে গিয়েছেন অনেক আদিবাসি গ্রামে। ইনফাক্ট আই আই টির আশেপাশের গ্রামগুলো আগে আদিবাসিদেরই ছিল-আস্তে আস্তে তাদের সরিয়ে শিল্প এসেছে। আমি আস্তে আস্তে বুঝেছিলাম এরা বন জঙ্গলকে প্রকৃতিকে যত ভালবাসে সভ্য মানুষদের মধ্যে তার ছিঁটেফোঁটাও নেই।

আমাদের মতন সভ্য মানুষদের চালিকা শক্তি হচ্ছে লোভ-অর্থ, ক্ষমতা, যশের জন্য আমরা লালায়িত। নিমপুরাতে রবিবার সকালে আদিবাসিদের হাটে যেতাম নিয়মিত। হাজারে হাজারে লোক-শয়ে শয়ে হাড়িয়ার ঠেক। আদিবাসী রমনীরা হাড়িয়া নিয়ে বসে -তাদের ঘিরে পুরুষদের জটলা। প্রাণের ওমন স্বাধীন উচ্ছাস আমি কোথাও দেখিনি। ওরা খুব টক একধরনের লেবু আনত হাটে-দারুন সস্তা। টাকায় তিনটে করে । একদিন একটা লোক ওমন ডজন দুই লেবু নিয়ে বসে আছে। আমি দুটাকা ধরিয়ে দিলাম-ছটা নেব। ও দেখি আমাকে দুডজন লেবুই তুলে দিল! অবাক কান্ড!! আমি বোঝাচ্ছি, আমার মোটে ছটা দরকার-বাকীগুলো ফেরত দিলাম। ও আবার আমার হাতে বাকীগুলো তুলে দিল। বলে দুটাকার বেশী দিতে হবে না! বাকী সব নিয়ে যাও! এমন আজব বিক্রেতা সভ্য সমাজে কোনদিন দেখি নি! শেষ লজ্জায়, আমি ওকে দশটাকা ধরাতেই ও আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে কাছের এক হাড়িয়ার ঠেকে দে ছুট। আমি এবার বুঝলাম। আসলে এসবের বেচাকেনার কোন ইচ্ছা ওর নেই-হাটে এসেছে-কোন রকমে একটা টাকা পেলেও, সব তুলে দিয়ে হাড়িয়ার আড্ডায় বসবে। ওটাই ওর জীবনের মোক্ষ। এদের জীবনের চাওয়া পাওয়া আকাঙ্খা -কোন কিছুতেই লোভ চোখে পড়ে নি।

আমি জানি না কেন আমরা নিজেদের সভ্য বলে মনে করি। এমন সভ্যতা যেখানে চাইলেও জীবনের সরলতা নেই- চাইলেও সৎ থাকা যায় না। চাইলেও নির্লোভ থাকা যায় না। সাধে বিদ্যাসাগর শেষ জীবন আদিবাসীদের মধ্যে কাটিয়েছিলেন!

Sunday, February 14, 2016

ছাত্র রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের অনুপ্রবেশ বন্ধ হৌক

জেনইউকে কেন্দ্রকরে যে সমস্যাটা আবার উঠে আসছে-  এই ভাবে ছাত্র রাজনীতি চালিয়ে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কি লাভ হচ্ছে?  সবথেকে বড় কথা ছাত্ররা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি না করে, হঠাৎ অতিবাম ইস্যুগুলি নিয়েই ক্ষেপে  উঠল কেন?

   ভারতের রাজনীতিতে আমি দুজনকে বেশ শ্রদ্ধা করি-এবং মনে করি-এরা ভারতকে অনেক কিছু দিতে পারেন। প্রথম জন কেজরিওয়াল, দ্বিতীয় জন মনোহর পারিকর। মনোহর পারিকরের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে ( উনি আর এস এস প্রচারক ছিলেন) আমি সহমত নই-কিন্ত এই ভদ্রলোক যথেষ্ট ভদ্র এবং নম্র-এবং মোটামুটি বোঝা যায় মাটিতে পা রেখে কাজের চেষ্টা চালান-অন্যন্য সঙঘীদের মতন হাম্বা করার অভ্যেস নেই। কাজের লোক এই জন্য বলছি-ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং এর অনেক কিছুই ভারতে বানানোর একটা রোডমাপ উনি দিতে পেরেছেন। যা কংগ্রেসের আমলে দিল্লীর রাশিয়ান দালালদের চক্করে কিছুই এগোয় নি।

     কেজরিওয়ালকে নিয়ে কিছু বলার নেই- আমি মনে করি ভারতে এই মুহুর্তে কেজরিওয়ালই ভরসা। কারন একমাত্র উনারই কোন হিন্দুত্ব বা কমিনিউজমের এজেন্ডা নেই-নিখাদ ভারতের প্রতি ভালোবাসা আছে। জনগনের দুঃখ লাঘব করার সৎ আকাঙ্খা আছে। এবং সব থেকে বড় কথা -মাথায় বুদ্ধি আছে।  ভুল উনি অনেক করেছেন-কিন্ত মাথায় বুদ্ধি থাকার জন্য শুধরেও নিয়েছেন দ্রুত। আমি অবশ্যই আশা রাখি, কেজরিওয়াল কোনদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

  এদের মধ্যে কেজরিওয়াল আই আই টি খরগপুরের, পানিকার আই আই টি মুম্বাই এর। আই আই টিতে ছাত্র রাজনীতি আছে-কিন্ত সেখানে ভারতের পার্টিগুলির প্রবেশ নেই।  এত ছাত্র রাজনীতি করে তাহলে জেন এন ইউ ভারতকে কোন ধরনের নেতা উপহার দিল ? যদি ধরেই নিই ছাত্রদের রাজনীতি করার দরকার আছে- দেশের রাজনৈতিক নেতা তুলে আনতে -তাহলে ভারতের রাজনীতিতে জেন এন ইউ এর অবদান, সিতারাম ইয়েচুরি, প্রকাশ কারাত। প্রথম জন চেসেস্কু এবং কিম জং কত বড় কমিনিউস্ট ছিলেন তা প্রমান করতে পিপলস ডেমোক্রেসির পাতায় দস্তার পর দিস্তা লিখেছেন। দ্বিতীয় জন দ্বায়িত্ব নিয়ে ভারতের বাম রাজনীতিকে কবরে পাঠিয়েছেন। যেখানে কেজরি-মাত্র একবছরের মধ্যে একটা পার্টি তৈরী করে দিল্লীতে বিজেপি এবং কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড বানিয়েছে।
 এইত হচ্ছে জেনিইউ বনাম আই আই টি থেকে তৈরী রাজনীতিবিদদের পার্থক্য!!! সিতারাম ইয়েচুরী এবং প্রকাশ কারাত যদি জেন এন  ইউ এর রাজনৈতিক নেতা তৈরীর  উদাহরন হয়-আমি এটাই বলব, জেন ইউ কে যে সাবসিডি দেওয়া হয়, তা যোগমায়া কলেজকে দেওয়া হৌক। তারা তাও একপিস মমতা দেখাতে পারবে।

 ইনফ্যাক্ট ভারতের বামরাজনীতির এই দুর্দশার জন্য জেন এন ইউ সর্বাধিক দায়ী। কারন ওখানে গিয়ে বাম মনোভাবা সম্পন্ন ছেলে মেয়েরা রেজিমেন্টেড বাম হয়ে যাচ্ছে- মুক্তমনের , ক্রিটিক্যাল মাইন্ডের অধিকারি হতে পারছে না। ফলে সেই বাতিল লেনিন নিয়ে লুলুবাবু হয়ে বাকী জীবন কাটাচ্ছে। এতে দেশের বা দেশের বামপন্থার কোনটারই কিছু লাভ হচ্ছে না। বামপন্থায় যে আলটারনেটিভ চিন্তা দরকার -দেশের মাটির সাথে সম্পৃক্ত একটি বাম ধারার দরকার-তার কোন কিছুইত জেন এন ইউ দিতে পারে নি। তাহলে তারা কিসের বাম ইন্টেলেকচুয়াল ? আমি মনে করি তারা ইউজলেস জাঙ্ক। পাতি মেয়ে পটানোর জন্য, একটু মিডিয়া লাইট খাওয়ার জন্য ক্যাম্পাস রাজনীতি করে।

  বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টির রাজনীতি ঢুকিয়ে রাজনৈতিক নেতা তৈরী করা যায় না। কেজরিওয়াল, নীতিশ কেউই সেই অর্থে ছাত্রনেতা ছিলেন না। এবং এই দুজনই বর্তমানে ভারতের সেরা দুই মুখ্যমন্ত্রী।

 পাশাপাশি জেন এন ইউএর বাম নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। বিজেপি যদি এইসব খাঁচার তোতাপাখিদের ও ভয় পায়, বুঝতে হবে, বিজেপির ভিত বলে কিছু নেই-শুধু কাদার ওপরে মাচা বাঁধা। বিশেষত এইসব বামতোতারা যখন দেশের সংবিধানের প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং দেশ বিরোধি শ্লোগানের বিরোধিতা করেছেন, তাদের জেলে আটকে রাখা গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক। এবং যেখানে বাক স্বাধীনতা নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই। ইনফ্যাক্ট তারা দেশ বিরোধি শ্লোগান দিলেও-তাদের ওইভাবে জেলে আটকানো যায় না। কারন আইডিয়াকে আইডিয়া দিয়েই আটকাতে হয়-পুলিশ দিয়ে আইডিওলজি আটকানো যায় না। আমি জানি ভারতের রেজিমেন্টেড বামেরাও বিজেপির মতনই রাজনৈতিক দিক দিয়ে অসহিষ্ণু-কিন্ত কান্টিয়ান লজিক মেনে-এটাই বলা যাক, গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতার শর্ত আনকন্ডিশনাল। বামছাত্র নেতারা লেনিনের মতন ঘৃন্য একজন বাক স্বাধীনতা বিরোধি, খুনী নেতার পূজারী-এসব ঠিক ই । কিন্ত তারা বাক স্বাধীনতার বিরোধি রাজনীতির ধারক বাহক বলে, তাদের বাক স্বাধীনতার অধিকার নেই-এটাও লজিক হতে পারে না।  

Friday, January 29, 2016

স্মার্ট সিটি- পশ্চিম বাংলা নেই

(১)
ভারত সরকার ১০০ টি শহরকে স্মার্ট সিটি প্রোজেক্টে আনতে চাইছে। এর মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০ টি শহরকে তারা  বেছে নিয়েছে প্রথম ধাপে।  টোটাল ৫৪,০০০ কোটির ইনভেস্টমেন্ট। প্রথম কুড়িটা শহরের মধ্যে পশ্চিম বঙ্গের কোন শহর নেই।

  আমি মোটামুটি বুঝছে চাইছি, ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে এটা কতটা হাইপড, কতটা কার্যকরী। প্রথম কুড়িটা শহরের মধ্যে না থাকার জন্য পশ্চিম বঙ্গের কি ক্ষতি ।


(২)
 স্মার্ট সিটি বলতে কি বোঝায় সেটা বোঝার চেষ্টা করি আগে। আই ট্রিপলি , ভারত সরকার, ইউ এন, আমেরিকা সর্বত্র-স্মার্ট সিটির সংজ্ঞা আলাদা বা তেমন কোন সংজ্ঞা নেই। মোদ্দা কথা হচ্ছে এমন শহরের পরিকাঠামো হবে সেন্সর নির্ভর-যাতে ট্রাফিক কনট্রোল, দূষন কন্ত্রোল , সরকারি কাজকর্ম, গারবেজ ডিসপোজাল, ড্রেনেজ সিস্টেম, স্ট্রিট লাইট-সব কিছুতেই সেন্সর নির্ভর অটোমেশন থাকবে। এই পুরো সেন্সর নির্ভর ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমকে পপুলার টার্মে আই ও টী বা ইন্টারনেট ওব থিংস বলা হয়।


 মুশকিল হচ্ছে এর কতটা বাস্তব-কতটা সত্যি? স্মল স্কেলে সিউল, হংকং, ক্যান্সাস সিটি অনেক শহরেই স্মার্ট সিটি নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। কিন্ত অনেক কম পরিসরে-যেমন সিওলে ৩০০,০০০ স্কোয়ার ফিটের ওপরে শহরের দুটো আই টি পার্কে এটা করা হয়েছে। যা শহরের মোট আয়তনের ১%  
 হবে কি না সন্দেহ।

 এই খানেই প্রশ্ন ওঠে এটা কতটা হাইপ-কতটা ট্যাক্স পেয়ারের টাকা নষ্ট।  এই টাকাটা এখানে ব্যয় করা যুক্তি সঙ্গত কি না।

 প্রথমত বলে নেওয়া ভাল, হাইপ কিছুটা আছে। কারন বর্তমানে প্রযুক্তির যা অবস্থা, তাতে একটা শহরের খুব সামান্য অংশই হয়ত স্মার্ট করা সম্ভব হবে। কিন্ত যদি সঠিক ভাবে প্ল্যান করা যায়-তাহলে এই লিমিডেট বাজেটেও অনেক কিছু করা সম্ভব, যা ১০০% শহরবাসীর কাজে লাগতে পারে।

 এবার স্মার্ট সিটির প্রযুক্তি নিয়ে কিছু বলি। সব কিছুই দাঁড়িয়ে আছে যে প্রচুর সস্তার ওয়ারলেস সেন্সর লাগিয়ে ডেটা হল করে স্মার্ট ডিসিশন এবং কন্ত্রোল হবে।  মুশকিল হচ্ছে ওই সস্তার সেন্সরের জায়গাটি ব্যথার। এমনিতে সিঙ্গল সিলিকন বা সেন্সর অন চিপ ( বা সক বলে) এর দৌলতে সেন্সর ইলেকট্রনিক্স খুব সস্তা। কিন্ত সেন্সরে সব থেকে ব্যথার জায়গাটা হল হাউসিং বা মাউন্টিং। এটার পেছনে প্রচুর খরচ যায়।  এই এরিয়াটা ফার্টাইল। প্রতিদিন কিছু না কিছু নতুন প্রযুক্তি আসছে। এছাড়াও সেন্সর ডেটা থেকে ডিশিসন নেওয়াটা সহজ হলেও , সেই নিয়ে কোন কিছু কন্ত্রোল করা এখনো চাপের।

 কিন্ত প্রযুক্তি মানেই প্রতিদিন কিছু না কিছু নতুন আসছে। আজ যা সমস্যা কাল নাও হতে পারে

 (৩)
 ভারতে স্মার্ট সিটি প্রকল্প একটা বড় ব্যপার এটা বুঝলাম ব্যঙ্গালোর আই ও টি নেক্সট ২০১৫।  অনেকগুলো সেশন ছিল -সরকারি কর্তা, আই বিএমের লোকজন প্রচুর স্লাইড দেখাচ্ছিল । এগুলো অবশ্য  সবই প্রায় টোকা-যা বুঝালাম এরাও হাইপেই চলছে। তবে আশার কথা যে অনেক গুলো স্টার্টাপ তৈরী হয়েছে ব্যাঙ্গালোরে যারা বেশ কিছু ফোকাসড এরিয়াতে কাজ করছে। যেমন একটা স্টার্টাপ সিটি লাইটিং নিয়ে কাজ করছে-কি করে এনার্জি সেভ করা যায় বা লাইটগুলোকে বেশীদিন টেকানো যায়। ইনফ্যাক্ট ওদেরকে কিছু সেন্সর আমরা দিচ্ছিও পাইলটের জন্য। আরেকটা কোম্পানী মিউনিসিপ্যাল ওয়েস্ট ডিসপোজাল নিয়ে কাজ করছে।  ভরসার জায়গা এইটাই যে এই ৫৪,০০০ কোটি টাকার ইনভেস্টেমেন্টের জন্য ভারতেই অনেক আধুনিক কোম্পানী তৈরী হবে-  যারা ভারতের সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ করবে। এর থেকে ভাল কিছু হয় না। সুতরাং কিছুটা হাইপ হলেও, এর অনেক ভালো দিক ও আছে।

  স্মার্ট সিটি প্রকল্প সফল হবে যদি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা বুঝে-কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ন দিকে ফোকাস রাখা যায়। যেমন স্ট্রিট লাইটিং, ট্রাফিক কন্ট্রোল বা পল্যুউশন কন্ট্রোল।

(৪)
 পশ্চিম বঙ্গে কোন একটা শহরে শুরু হলে এটা ভাল হত এই কারনে যে এতে কিছু ছেলে চাকরি পেত। বিশেষত সেন্সর মাউন্টিং এর মতন মেকানিক্যাল কাজের জন্য বেশ কিছু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির সুযোগ হত। এছাড়াও পশ্চিম বঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয় গুলি কিছু প্রোজেক্ট করার সুযোগ হারালেন।

 অবশ্যই পশ্চিম বঙ্গের কিছু বামেরা কুতর্ক জুরেছে-এসব করে কি হবে-মিড ডে মিলে বা নেগ্রাতে টাকা ঢালা হৌক।  এগুলো অজ্ঞানের  বিলাপ। দারিদ্রের মূল কারন অপচয় এবং অপবন্টন-সাথে কোরাপশন। এগুলি ঠিক করার শ্রেষ্ঠ উপায়  আওটি। যেমন ধরুন চাষের খরচ বাড়ার মূল কারন সেচের জলের অপব্যবহার। আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটীর আদ্রতা ট্রাক করে স্পেনে ওরা সেচের জলের পরিমান ৯০% কমাতে পেরেছে।  এতে ভারতে শুধু টাকা এবং ইলেক্ট্রিসিটিই বাঁচত না- ভূর্গভস্থ  জলের হালত ও ভাল থাকত।

 স্মার্ট সিটির থেকেও ভারতে বেশি দরকার স্মার্ট কৃষি। তবে এটা নিয়েও ভারত সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও ভারতে জমির পরিমান এত কম- সমবায় পদ্ধতি না শুরু হলে ভারতের কৃষিকে আধুনিক করা খুব মুশকিল। যেমন ধরুন আমেরিকাতে দেখেছি জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন মেশিন দিয়েই  ২০০ একর জমিতে একদিনে বীচ  রোপন করে দিচ্ছে। ভারতে ওই কাজ করতে নুন্যতম ৫০০ ম্যান ডে লাগবে-খরচ প্রায় ১ লাখ টাকার বেশী। ফলে ভারতে কৃষিজ ফসলের দাম উর্ধমুখি। এবং তাতেও চাষিরা আত্মহত্যা করছে-কারন চাষের খরচ এত বেশী যে ফসলে দাম একটু বাড়াতে কোন লাভই নেই। এক্ষেত্রে ভারতের সামনে একমাত্র সমাধান সমবায় এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার-যাতে অনেক কম খরচে বেশী ফসল হবে। চাষীদের জন্য মায়াকান্না কেঁদেত লাভ নেই। ফসলের দাম বেশী হলে, আপনারাই চেঁচাবেন। সুতরাং একমাত্র সমাধান কি করে সমবায় এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষের খরচ  ৯০% কমানো যায়। এতে পরিবেশ ও বাঁচবে।  এবং এই ৯০% রিডাকশন সম্ভব-যদি সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া যায়।

 (৫)
  পশ্চিম বঙ্গের কোন শহর প্রথম কুড়িটা প্রোজেক্টে নেই-কারন তাদের প্রোজেক্ট প্রপোজাল ভাল হয় নি। রাজ্যের কর্ম সংস্কৃতির যা হাল, তাতে এতটা আশা করা বোধ হয় অন্যায়।  সুতরাং এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসাবেই দেখতে হবে।

  এই ব্যর্থতা থেকে বেড়োতে-রাজ্য সরকার এই লাইনের এক্সপার্ট দিয়ে একটা কমিটি তৈরী করুক-তাদের তত্ত্বাবধানে প্রপোজাল তৈরী হৌক।


 


 




Monday, January 25, 2016

ট্যাগানো-চ্যাংরামো এবং সংরক্ষনের অবান্তর গণতন্ত্র

(১)
  গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হচ্ছে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা। প্রত্যেকের জীবনের উদ্দেশ্য কি এক হবে? কখনোই না। সুতরাং মতের ভিন্নতা থাকবে। এবং রামধেনুর মতন এই ডাইভার্সিটিকে ধারন করতে না পারলে কোন গণতন্ত্রই সমৃদ্ধ হবে না।

   ফেসবুকে যেদিকেই দেখি-সর্বত্র অসহিষ্ণুতা।  সংরক্ষনের বিরুদ্ধে মত রাখলেই আপনি কাস্টিস্ট। যেন যারা সংরক্ষনের পক্ষে, তাদের যুক্তিই ১০০% ঠিক। এগুলো ভুল ভাল ধারনা। কোন আর্গুমেন্ট বা কাউন্টার আর্গুমেন্টই ১০০% কারেন্ট হতে পারে না। কারন প্রতিটা আর্গুমেন্টের সাথেই জীবনের উদ্দেশ্য জড়িত এবং সেটা যেহেতু সবার জন্য এক না-মতের ভিন্নতা থাকবেই।

  ভারতের লিব্যারাল এবং রক্ষনশীল গোষ্ঠি -দুটোই অগণতান্ত্রিক-অর্ধশিক্ষিত। সংরক্ষনের বিরুদ্ধে লিখলে কাস্টিস্ট বলে ট্যাগাবে, ৪৯৮ এর মতন কালা আইনের বিরুদ্ধে লিখলে সেক্সিস্ট বলে ট্যাগাবে, মার্কেটের পক্ষে লিখলে নিওলিব্যারাল বলে ট্যাগাবে। একই ভাবে ভারতের কোন ব্যাপারে সমালোচনা করলে আপনি পাকিস্তানপন্থী।  হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করলে আপনি সিকুলার। ইসলামের সমালোচনা করলে আপনি ইসলামোফোবিক।

  মুশকিল হচ্ছে বিরুদ্ধ পক্ষকে যারা এইভাবে ট্যাগাতে ভালোবাসে-আপনি নিশ্চিত ভাবে জানবেন, তাদের ঘটে কিস্যু নাই। ইস্যুভিত্তিক বিতর্ক করার ক্ষমতা নেই বলে ট্যাগাতে ভালোবাসে।

(২)
 রোহিতের মৃত্যুতে রিসার্ভেশন বিতর্ক আবার সামনে আসছে-তার কুৎসিত রূপটাও দেখছি।

  প্রথমেই লিখে রাখি আমি সংরক্ষনের পক্ষে। কিন্ত তা যেন হয় অর্থনৈতিক অবস্থানের পরিপেক্ষিতে। এস সি , এস টিদের সংরক্ষন থাকুক- কিন্ত অবশ্যই যেন তা হয় তাদের অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে। সংরক্ষনের মূল কারন পিছিয়ে পড়া শ্রেণীদের জন্য আপওয়ার্ড মোবিলিটি। সুতরাং শহরের প্রতিষ্ঠিত এস সিদের জন্য সংরক্ষন করে গ্রামের পিছিয়ে থাকা এস সিদের কি লাভ?  আঙুল ফুলে কলাগাছ করা এই রিজার্ভেশন পলিশিতে আসলেই ত,  গরীব দলিতদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা বুঝতে কি পি এই চ ডি করতে হয়? আলটিমেটলি বর্তমানের এস সি পলিসি , দলিতদের মধ্যে বড়জোর 5% এর কাজে আসছে-যাদের টাকা আছে। বাকী ৯5% দলিত, গরীব-তাদের কি লাভ হচ্ছে এই পলিসিতে ?

   ইনফ্যাক্ট এটাত নতুন কিছু না। ওবিসি রিজার্ভেশনের জন্য অর্থনৈতিক ক্রাইটেরিয়া চালু আছে। ২০১৫ সালের নিয়মে, যেসব ওবিসির হাউসহোল্ড ইনকাম ১৫ লাখের বেশী বা ক্লাস ওয়ান বা টু অফিসার-তারা রিজার্ভেশনের আওতাই আসে না। এই আইন এসসি দের জন্যও না আনার ত কিছু দেখি না।

  আমি যেটা লিখছি-সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি কে জি বালকৃষ্ণান-তার একটি রায়ে একই কথা লিখেছেন ( ২০০৮) ঃ

  “Though for the purpose of convenience, the list is based on caste, it cannot be said that backward class has been identified solely on the basis of caste. The only possible objection that could be agitated is that in many of the castes included in this list, there may be an affluent section (creamy layer) which cannot be included in the list of SEBCs.”
He added: “When socially and educationally backward classes are determined by giving importance to caste, it shall not be forgotten that a segment of that caste is economically advanced and they do not require the protection of reservation.”

 যদিও এই রায় ছিল ওবিসিদের নিয়ে, এটাত দলিতদের জন্যও  প্রযোজ্য। 

  এস সি , এস টির মধ্যে এই আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া শ্রেনীটিকে বাদ দেওয়া নিয়ে অনেক মামলা হয়েছে। কিন্ত দলিত শ্রেনী যে সত্যই পিছিয়ে আছে, তার সব থেকে বড় প্রমান এই যে প্রতিটা ক্ষেত্রে, দলিতদের মধ্যে ক্রিমি লেয়ারটা দুধের সর খাওয়ার ধান্দায় বাকী আসল গরীব দলিতদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।

 ২০১৪ সালে রাজস্থান হাইকোর্টে এই নিয়ে পিটিশন মুভ করা হয়--সরকার জবাব দিক কেন ওবিসির ক্রাইটেরিয়া গুলো এস সি, এস টিদের মধ্যেও থাকবে না?  কিন্ত সেক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে রাজনীতিই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  ২০০৬ সালে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি জাস্টিস ওয়াই কে সাভরাওয়ালও সংবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে একই নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যসরকারগুলিকে ""It is made clear that even if the state has compelling reasons, the state will have to see that its reservation provision does not lead to excessiveness so as to breach the ceiling limit of 50 per cent or obliterate the creamy layer of extended reservation indefinitely,"

  (৩)
   এবার আসি দলিতদের বঞ্চনা, সোস্যাল আঊটকাস্টিং ইত্যাদি নিয়ে। যাদবপুরের এক  অধ্যাপক, যিনি ক্লাসে পড়াতে পারেন না, আনন্দবাজারে অনেক কাঁদুনি গেয়েছেন-এস সি বলে তাকে অনেক বঞ্চনা চ্যালেঞ্জের শিকার হতে হয়েছে।

 এগুলো সত্য সন্দেহ নেই। অভিযোগগুলো ততোধিক ফালতু। আমার জানা এমন কেউ নেই-যারা কর্মক্ষেত্রে বা ছাত্র অবস্থায় বুলিং এর শিকার হন নি। কর্পরেট পলিটিক্স ত আরো মারাত্মক। সেখানে সবাই সবার পেছনে লাগে।  আমি ত গ্রাম থেকে এসেছি।  কলেজ লাইফে অনেক বন্ধুই আমার গ্রাম্যতা নিয়ে হাঁসি ঠাট্টা করেছে। ইংরেজি ভাষা জ্ঞান-সব ব্যাপারেই খোঁটা খেয়েছি। তাতে কি ছেঁড়া যায়? এর জন্যে কাউকে এস সি হতে হয় না। কে কি বলল তাতে কি যায় আসে? যে বক্তা মূর্খ, তার মূর্খামি দায়, তার নিজের। আমি ভারতীয় বলে এখানে সাদারা আমার পেছনে লাগে নি? তাতে কি যায় আসে?  যারা পেছনে লেগেছে, অনেকে তারাই পববর্তী কালে আমার ভাল বন্ধু হয়েছে। যে কোম্পানীতেই গিয়েছি-অনেক সাদা লোকই প্রথমে পেছনে লেগেছে।  কিন্ত আস্তে আস্তে প্রত্যেকেই আমি নিজের বৃত্তে এনেছি।  কর্মক্ষেত্রে সন্মান  অর্জন করতে হয়- রিজার্ভেশনের মাধ্যমে ওই ভাবে কাউকে সন্মান দেওয়া সম্ভব না। আমার এক রেড নেকের কথা মনে আছে। আমি ক্যালিফোর্নিয়াতে যখন  প্রথম জয়েন করি, সে আমার বিরুদ্ধে আমাদের জার্মানির হেডকোয়াটারে নালিশ করেছিল। যাইহোক জার্মানরাও গাধা না। আস্তে আস্তে যেটা হল-লোকটা কাজ করত সেলসে-ও দেখলো-ওর সেলস বৃদ্ধি করতে, আমি খুব কাজের লোক! ফলে  তার বাড়িতে এক সাথে বিয়ার খাওয়া থেকে শুরু করে, তার ডিভোর্স ঠেকানোর জন্য মাঠে নামতে হয়। এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিলাম আমরা। ধণতন্ত্র খুব দড়ের জিনিস-এখানে প্রতিটা সম্পর্কই স্বার্থের। ওই ভাবে কাস্টের কারনে কেই কাউকে পেছনে ফেলবে না।

  তবে সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোতে জাত ফাতের সমস্যা থাকতেই পারে । কিন্ত মার্কেটের আগমনে, তা আস্তে আস্তে কেটে যেতে বাধ্য।

 এবার বিবাহের প্রশ্নে আসি। অভিযোগ এস সিদের সাথে  উচ্চবর্নের লোকেরা বিয়ে দিতে চায় না। এই অভিযোগ সঠিক। এর মূল কারন এরেঞ্জড মেরেজ। এই জন্য আমি আইন করে এরেঞ্জড মেরেজ তুলে দেওয়ার পক্ষে।  এরেঞ্জড মেরেজ আরো অনেক কারনেই ক্ষতিকর-সেটা নিয়ে আগেই লিখেছি। কিন্ত তার জন্য চাকরিতে বড়লোক এস সিদের সংরক্ষন?  কোন যুক্তিই যথেষ্ট না।

 (৪)
 বেসরকারি ক্ষেত্রে সংরক্ষনের প্রশ্ন উঠেছে। কারন আগামী দিনে সরকারি চাকরি আস্তে আস্তে অনেক কমে যাবে। সুতরাং এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

 আমেরিকাতে গর্ভমেন্ট ঠিকাদার ( নন-মিলিটারী) দের ক্ষেত্রে কিছুটা সংরক্ষন চালু আছে অন্যভাবে। ওখানে প্রজেক্ট প্রপোজাল মুল্যায়নের সময় পয়েন্ট সিস্টেম থাকে-যে কোম্পানীর মালিকানা কাদের-তাদের মাইনরিটি স্টাটাস কি। এক্ষেত্রে হায়েস্ট স্টাটাস থেকে রেড ইন্ডিয়ান এবং এক্স মিলিটারিদের। কিন্ত তা হয় মালিকানার ভিত্তিতে। ফলে এই ডিসিতে পুরো সিস্টেমটাই  রিগড। রেড ইন্ডিয়ানদের কোম্পানী সামনে রেখে, অন্যরা প্রজেক্ট তোলে। তাতে রেড ইন্ডিয়ান মালিকের লাভ-কাট মানি।

 ভারতে সরকার সেরকম কিছু চালু করতেই পারে-তবে সিস্টেম পুরো দুদিনেই রিগড হয়ে যাবে।

 বেসরকারি ক্ষেত্রে সরকার মোটেও ঠিক করতে পারে না-একজন কোম্পানী কাকে নেবে। প্রতিটা কোম্পানীর নিজস্ব স্ট্রাটেজি থাকে হায়ারিং এ।  আমি নিজে মফঃশহর থেকে উঠে আসা গরীব ছেলে মেয়েদের পছন্দ করি বেশী। এই পক্ষপাতিত্ব যদি ডিসক্রিমিনেশন হয়, মেনে নিতে রাজী আছি।  কারন ওটা আমার ব্যবসার কারনেই দরকার। আমার অভিজ্ঞতা বলে এই ছেলে মেয়েগুলি কাজের হয় বেশী।

 তবে আমি মনে করি, ভারতের প্রোডিউসার ক্লাসগুলিকে উৎসাহ, সরকারি সাহায্য দেওয়া উচিত বেশী।  এদের অনেকেই ওবিসি শ্রেনীর। চাষী, তাঁতি, কুমোর,ছুতোর-এদের জন্য ত সরকার কিছু করলো না-অথচ এরাই গ্রামীন অর্থনীতির ব্যকবোন।
 
 তবে এদের ছেলে মেয়েদের সরকারি চাকরি দেওয়া, অর্থনীতির ক্ষতি করা। দরকার এদের ছেলেমেয়েদের জন্য স্কিল মিশনের, লোনের-যাতে এরা আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর দক্ষ হয়ে, লোনের মাধ্যমে বাপের কারখানাকেই উন্নত করতে পারে।  ভারতের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্ত সেই ধরনের পরিকল্পনা কই?

 অথচ সংরক্ষনের নামে একটা শহুরে এস সি শ্রেনী ঘি খাবে-এটাই হচ্ছে এদের বক্তব্য। এবং এই অবিচারের বিরুদ্ধে বলতে গেলে আপনি হয়ে যাবেন কাস্টিস্ট।